ফেনীর বন্যা নিয়ন্ত্রণে দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আজ বুধবার দুপুরে ফেনীর পরশুরামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১ হাজার ৫৪২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পটি গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায়।
প্রধানমন্ত্রী দুপুরে পরশুরামে প্রকল্পটির উদ্বোধন করার পর বিকেলে ফুলগাজী পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত একটি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে।
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদী দিয়ে ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা সৃষ্টি করে। এতে প্রতিবারই হাজার হাজার পরিবার দুর্ভোগের মুখে পড়ে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফসলি জমি, পুকুর, বাড়িঘর ও গ্রামীণ সড়ক। দীর্ঘদিন ধরেই ফেনীবাসী বন্যার স্থায়ী সমাধানে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, আর এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে সেই দাবিরই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শিহাব আহমেদ জানান, প্রকল্পের আওতায় ৬৮ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ৮৩ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন, ১১ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ এবং একটি এলিভেটেড টেম্প নির্মাণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্ষা মৌসুমে বন্যার কবল থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, বন্যার পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিল, পরে বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।
তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে। শুরু থেকেই ফেনীবাসী পরশুরামের মুহুরী ও কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণে টেকসই বাঁধ নির্মাণের কাজ সেনাবাহিনী বা বিদেশি ঠিকাদারের মাধ্যমে করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, অতীতে পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও সোনাগাজী উপজেলায় শত শত কোটি টাকার উন্নয়নকাজ হলেও সেসব কাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির কারণে কয়েকটি উন্নয়নকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিশিষ্টজনদের আশঙ্কা, এত বড় একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় চাঁদাবাজি ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হলে বিপুল অঙ্কের এই প্রকল্পটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে রয়েছে জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, লালপোলে ফ্লাইওভার নির্মাণ, একটি মিনি ক্যান্টনমেন্ট প্রতিষ্ঠা এবং জহির রায়হান হল পুনর্নির্মাণ। তবে এসব দাবির ক্ষেত্রে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন



