বিভাগ: বিনোদন
মোট খবর: 16 টি
সিজেপির আন্দোলন ‘দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র’, নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে কঙ্গনা রানাউত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনকে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী ও বিজেপির সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউত। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদের তিনি 'দেশবিরোধী শক্তি' বলেও আখ্যা দিয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দিল্লির বিক্ষোভ ও ধরপাকড় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন কঙ্গনা। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ এখন এই শক্তিগুলোকে চিনতে শুরু করেছে এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে প্রস্তুত হচ্ছে। দেশ রক্ষায় নানা শক্তি কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে যেন সাধারণ নাগরিকের ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলেন কঙ্গনা। হিমাচল প্রদেশের মান্ডি আসনের সংসদ সদস্য কঙ্গনা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন লখনৌতে পৌঁছে, অযোধ্যায় যাওয়ার পথে। তিনি জানান, রামলালার দর্শন ও প্রার্থনার জন্য অযোধ্যার রামমন্দিরে যাবেন। আন্দোলনের পটভূমি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাইছে সিজেপি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সংশোধনের নামে অনেক ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় সমাবেশের ডাক দিয়েছিল দলটি। তবে বিক্ষোভকারীরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই সিজেপির শীর্ষ নেতাদের আটক করে পুলিশ। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন দিল্লিজুড়ে ছয় থেকে সাত হাজার মানুষকে আটক করা হয়, যাঁদের অধিকাংশকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদারে প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ছিল। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষার্থী, আইনজীবী ও রাজনীতিকদের পাশাপাশি চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন।

মিঠুন চক্রবর্তী এখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপদেষ্টা, পাচ্ছেন পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা
রুপালি পর্দার পর এবার প্রশাসনের দায়িত্বে প্রবীণ অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটি সাধারণ কোনো উপদেষ্টার পদ নয়, তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন ক্যাবিনেট মন্ত্রী বা পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদায়। রাজ্যের কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের আইএএস সেল থেকে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। রাজ্যপালের অনুমোদনক্রমে হওয়া এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে এবং পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত বহাল থাকবে। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে। বিষয়টি নতুন হলেও এর ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই। গত সেপ্টেম্বরে কলকাতার নিউ টাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, মিঠুন সরকারের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা হবেন। এবার সেই ঘোষণা আনুষ্ঠানিক রূপ পেল। বহু দশকের অভিনয়জীবনের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় মিঠুন। ২০২১ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন, এর আগে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সদস্য। রাজ্যে এবারই প্রথম সরকারি কাঠামোর ভেতরে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পেলেন তিনি। এই নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন থেকে কেবল সাংস্কৃতিক জগতের তারকা হিসেবেই নয়, রাজ্য সরকারের নীতিনির্ধারণী কাঠামোর অংশ হিসেবেও দেখা যাবে মিঠুন চক্রবর্তীকে।

নানা পাটেকার মারা গেছেন, ৭৫ বছর বয়সে বলিউডের এই কিংবদন্তির বিদায়
বলিউডের প্রবীণ ও জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের গোয়ার ডোনা পাওলা এলাকায় নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভোররাতে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন এই অভিনেতা। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট সিপিআরসহ নানা উপায়ে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হননি। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া নানা পাটেকারের চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু ১৯৭৮ সালে, ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে। চার দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘প্রহার’, ‘তিরঙ্গা’, ‘খামোশি’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো অসংখ্য দর্শকপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছেন। জোরালো অভিনয়, সংলাপ বলার নিজস্ব ভঙ্গি আর ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব তাঁকে বলিউডে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। অভিনয়ের স্বীকৃতিতে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন, ভারত সরকার তাঁকে ভূষিত করেছে পদ্মশ্রী সম্মানেও। তাঁর মৃত্যুর খবরে ভারতীয় চলচ্চিত্রাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী ও ভক্তরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে।

মুক্তির প্রথম দিনেই শতকোটির দ্বারপ্রান্তে অজয় দেবগনের ‘দৃশ্যম ৩’
বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগনের নতুন সিনেমা ‘দৃশ্যম ৩: দ্য কনক্লুশন’ বক্স অফিসে করেছে দুর্দান্ত সূচনা। মুক্তির একদম প্রথম দিনেই শতকোটি রুপির মাইলফলকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে সিনেমাটি। কাঙ্ক্ষিত এই অঙ্ক ছুঁতে না পারলেও উদ্বোধনী দিনের আয় থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেছে, দর্শকদের মধ্যে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির জনপ্রিয়তা এখনো কতটা অটুট। বক্স অফিস পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ২ অক্টোবর মুক্তির পর প্রথম দিনেই ভারতে সিনেমাটি নেট আয় করেছে ৬৬ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে আরও প্রায় ১৫ কোটি রুপি। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রথম দিনেই সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৯৫ কোটি ১০ লাখ রুপিতে। মুক্তির দিন ভারতের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সিনেমাটির মোট ১৫ হাজার ৭৫৯টি শো প্রদর্শিত হয়, যেখান থেকে ভারতীয় বাজারে মোট গ্রস আয় দাঁড়ায় ৮০ কোটি ১০ লাখ রুপি। হিন্দি টুডি শোগুলোতে প্রথম দিনে গড়ে দর্শক উপস্থিতির হার ছিল ৬৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। সকালের দিকে দর্শক উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহে ভিড় বাড়তে থাকে, আর রাতের শোগুলোতে দর্শক উপস্থিতির হার পৌঁছায় সর্বোচ্চ ৭৬ দশমিক ৪৬ শতাংশে। উদ্বোধনী দিনের আয়ের হিসেবে ফ্র্যাঞ্চাইজির আগের দুই কিস্তিকে বেশ বড় ব্যবধানেই পেছনে ফেলেছে ‘দৃশ্যম থ্রি’। এর আগে ‘দৃশ্যম টু’ মুক্তির প্রথম দিনে ভারতে নেট আয় করেছিল ১৫ কোটি ৩৮ লাখ রুপি এবং গ্রস আয় ছিল ১৮ কোটি ১৫ লাখ রুপি। অন্যদিকে ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ‘দৃশ্যম’ সিনেমার উদ্বোধনী দিনের নেট আয় ছিল মাত্র ৫ কোটি ৮৫ লাখ রুপি। অজয় দেবগনের দীর্ঘ ক্যারিয়ারেও এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী দিনের আয়। এর আগে তার অভিনীত ‘সিংহাম এগেইন’ প্রথম দিনে আয় করেছিল ৪৩ কোটি ৭০ লাখ রুপি, ‘সিংহাম রিটার্নস’ আয় করেছিল ৩২ কোটি ৯ লাখ রুপি এবং ‘গোলমাল এগেইন’ আয় করেছিল ৩০ কোটি ১৪ লাখ রুপি। মুক্তির আগেই অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল সিনেমাটি। মোট আটটি শো ডেটের অগ্রিম বুকিংয়ে বিক্রি হয়েছিল ৭৯ কোটি ৭১ লাখ রুপির টিকিট। ব্লক করা আসনগুলো বাদ দিলে কার্যকর অগ্রিম বুকিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৭ কোটি ৭৯ লাখ রুপি। এই শক্তিশালী অগ্রিম বুকিং প্রথম দিনের সামগ্রিক বক্স অফিস সংগ্রহেও বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সিনেমার গল্পে দেখানো হয়েছে, আইনকে ফাঁকি দিয়ে বিজয় সালগাঁওকরের পার পেয়ে যাওয়ার কয়েক বছর পরের ঘটনাপ্রবাহ। পুরোনো সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই তার পরিবারকে ঘিরে আবার শুরু হয় নতুন তদন্ত ও মানসিক চাপ। প্রতিশোধের তাগিদ নিয়ে এই পর্বে ফিরে আসেন মীরা দেশমুখ, আর অন্যদিকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের এক নতুন ও শক্তিশালী কর্মকর্তা বিজয়ের সাজানো অ্যালিবাই ও মানসিক কৌশলের জাল ভেঙে সত্য উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যান। প্রথম দিনেই বিশ্বব্যাপী ৯৫ কোটি ১০ লাখ রুপি আয় করায় শতকোটির মাইলফলক এখন সিনেমাটির একেবারে নাগালের মধ্যে চলে এসেছে। একই সঙ্গে ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ‘দৃশ্যম’ সিনেমার পুরো সময়ের বিশ্বব্যাপী মোট আয়কেও দ্রুতই ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে সিনেমাটি। উল্লেখ্য, প্রথম ‘দৃশ্যম’ সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী মোট আয় করেছিল প্রায় ১১০ কোটি ৪০ লাখ রুপি, যার মধ্যে ভারতে গ্রস আয় ছিল প্রায় ৯০ কোটি ৬৩ লাখ রুপি এবং বিদেশ থেকে এসেছিল ১৯ কোটি ৭৭ লাখ রুপি।

সরকারি ছাড়পত্র পেল সালমান খানের ‘মাতৃভূমি’, জানা গেল মুক্তির তারিখ
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুক্তির জন্য সরকারি ছাড়পত্র পেয়েছে সালমান খান অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘মাতৃভূমি’। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী নভেম্বরেই প্রেক্ষাগৃহে দেখা যেতে পারে সিনেমাটি, সম্ভাব্য মুক্তির তারিখ হিসেবে জানা গেছে ১৩ নভেম্বরের কথা। সিনেমাটি প্রথমে ঘোষণা করা হয়েছিল ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ নামে, পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মাতৃভূমি’। ২০২০ সালে ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে ঘটে যাওয়া সংঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিনেমাটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় আটকে ছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে জানা গেছে, সিনেমার বিষয়বস্তু এবং চীন-সংক্রান্ত প্রসঙ্গ নিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আপত্তি ছিল। পাশাপাশি নয়াদিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যকার সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। এসব কারণেই সিনেমাটিতে কিছু পরিবর্তন আনার প্রয়োজন দেখা দেয় এবং স্বাভাবিকভাবেই এর মুক্তিও পিছিয়ে যায়। ‘মাতৃভূমি’র নতুন ও সংশোধিত সংস্করণ জমা দেওয়ার পর সেটি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলিউড হাঙ্গামা জানিয়েছে, গত সপ্তাহে সিনেমাটিকে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি দেওয়া হয়েছে। সূত্রটির দাবি অনুযায়ী, নির্মাতারা সংশোধিত সংস্করণ জমা দেওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তা পর্যালোচনা করেন, এরপরই মুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি মেলে। এদিকে নির্মাতারা দীপাবলির পরপরই সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সালমান খান নিজেও ১৩ নভেম্বরের তারিখটি এই সিনেমার জন্য বিবেচনা করছেন। ‘মাতৃভূমি’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন অপূর্ব লাখিয়া, যেখানে সালমান খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন চিত্রাঙ্গদা সিং। এ ছাড়া সালমান খানের হাতে বর্তমানে রয়েছে আরও একটি সিনেমা, যা পরিচালনা করছেন ভামশি পেইডিপল্লি। সিনেমাটির নাম এখনো চূড়ান্ত না হলেও আপাতত ‘এসভিসি-৬৩’ নামেই পরিচিত এটি, যেখানে সালমান খানের বিপরীতে অভিনয় করছেন দক্ষিণী তারকা নয়নতারা।

আমি সমাজ বদলাতে আসিনি, মানুষকে আনন্দ দিতে এসেছি: জেমস
গিটার হাতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়া এক তরুণের স্বপ্ন ছিল গানকে ঘিরে। চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিং থেকে শুরু হওয়া সেই পথচলা একসময় তাকে এনে দেয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা। ফারুক মাহফুজ থেকে তিনি হয়ে ওঠেন জেমস—বাংলা রকসংগীতের ভক্তদের কাছে ‘গুরু’। চার দশকের বেশি সময় ধরে তার কণ্ঠ ও গিটারের সুরে মুগ্ধ হয়েছে একাধিক প্রজন্ম। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ৬১ পেরিয়ে ৬২ বছরে পা দিলেন নগর বাউলখ্যাত এই সংগীতশিল্পী। নওগাঁয় জন্ম হলেও জেমসের শৈশব-কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রামে। সেখানেই ব্যান্ডসংগীতের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বাবা বুঝতে পারেন, ছেলের মন অন্যদিকে। একপর্যায়ে বাবার সঙ্গে অভিমান করে গিটার হাতে ঘর ছাড়েন তরুণ জেমস। আশ্রয় নেন চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে। সেখান থেকেই সংগীতজীবনের নতুন অধ্যায়ের শুরু। বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তোলেন ব্যান্ড ‘ফিলিংস’। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ঝাঁকড়া চুল, বাবরি চুলের স্টাইল ও স্বতন্ত্র কণ্ঠ তাকে ধীরে ধীরে বাংলা রকসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পীতে পরিণত করে। ভক্তদের ভালোবাসায় পান ‘গুরু’ উপাধি। জন্মদিন সাধারণত ঘটা করে উদযাপন করেন না জেমস। তবে বিশেষ এই দিনকে সামনে রেখে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলের একটি ক্লাবে নিরিবিলি সময় কাটান তিনি। সেখানে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতায় সংগীতের ভবিষ্যৎ, নতুন প্রজন্মের শিল্পী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং শিল্পের প্রতি ভালোবাসাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন এই রকস্টার। **‘মানুষের এখন পুরো একটি ট্র্যাক শোনারও ধৈর্য নেই’** সংগীতের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করলেও নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতিভা নিয়ে ইতিবাচক জেমস। তার মতে, গান তৈরি ও শোনার ধরন দুটিই বদলে যাচ্ছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় গান যেমন দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, তেমনি বদলে যাচ্ছে শ্রোতাদের মনোযোগের ধরনও। জেমস বলেন, এখন পর্যন্ত তৈরি হওয়া গানগুলোই যদি ভবিষ্যতে নতুন গান তৈরি না-ও হয়, তবু মানুষ আগামী ২০ বছর সেগুলো শুনতে পারবে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের কারণে গান এখন সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। তার মতে, কোনো কিছু বিনামূল্যে সহজে পাওয়া গেলে সেটির প্রতি মানুষের আকর্ষণও অনেক সময় কমে যায়। পাশাপাশি শ্রোতাদের পুরো একটি গান শোনার ধৈর্যও আগের তুলনায় কমেছে। প্রযুক্তির পরিবর্তন মেনে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। এআই এখন নিজেই কোড লিখতে পারছে, ফলে কোডারের প্রয়োজনীয়তা কমে আসছে। তবে কোনো শিল্পমাধ্যম হারিয়ে যাওয়ার অবস্থায় পৌঁছালেও ভালোবাসা ও আবেগের কারণে সেটি অনেক সময় টিকে থাকে। **‘লাভের কথা ভেবে গান তৈরি করা যায় না’** জেমসের কাছে সংগীত শুধু পেশা নয়; এটি আবেগ ও ভালোবাসার বিষয়। তার মতে, শিল্পচর্চার পেছনে নিজের ভেতরের তাগিদই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লাভের হিসাব করে শিল্পের পথে এগোলে হতাশ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেকোনো কাজ পুরোপুরি আবেগ ও ভালোবাসা থেকে করা উচিত। লাভের কথা মাথায় রেখে গান তৈরি করা যায় না। স্বাভাবিকভাবে কোনো কিছু ভালো হলে সেটি ভালো, কিন্তু লাভের প্রত্যাশা নিয়ে শিল্পচর্চা শুরু করলে হতাশ হতে হবে। নতুন প্রজন্মের সংগীতশিল্পীদের প্রতিভা ও আগ্রহেরও প্রশংসা করেছেন জেমস। তার মতে, নতুন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভালো কিছু তৈরি করা গেলে তাতে আপত্তির কারণ নেই। তিনি বলেন, এটি এখন এআইয়ের যুগ। তরুণ সংগীতশিল্পীরা সুন্দর কাজ তৈরির জন্য এআই কিংবা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চাইলে তা করা উচিত। ভালো কোনো নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে কোনো সমস্যা নেই। **‘সংস্কৃতি নদীর মতো’** সংগীত মানুষের জন্য—আনন্দ, অনুভূতি ও নিজেকে প্রকাশের একটি মাধ্যম। তাই গান কোথায় বা কীভাবে গাওয়া হবে, তা নিয়ে অযথা বাধা দেওয়ার পক্ষে নন জেমস। তার মতে, সংস্কৃতিকে নিজের স্বাভাবিক গতিতে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। জেমসের ভাষায়, গান তৈরি হয় মানুষের শোনা ও গাওয়ার জন্য। মানুষ নিজের ইচ্ছেমতো বাজারে কিংবা নদীর ঘাটে গান গাইবে, এতে বাধা দেওয়া উচিত নয়। সংস্কৃতি নদীর মতো; তাকে নিজের গতিতে প্রবাহিত হতে দিতে হবে। সমাজের অনিয়ম বা অসংগতি নিয়ে শিল্পীদের কথা বলার অধিকার রয়েছে বলেও মনে করেন এই শিল্পী। তবে সেটি ব্যক্তির নিজস্ব উপলব্ধি ও সচেতনতা থেকেই আসা উচিত। নিজের অবস্থান তুলে ধরে জেমস বলেন, তিনি একজন বিনোদনকর্মী; সমাজ পরিবর্তন করতে আসেননি, মানুষকে আনন্দ দিতে এসেছেন। সমাজের কল্যাণে বড় কোনো পরিবর্তনের অপেক্ষায় না থেকে প্রত্যেকের নিজ নিজ জায়গা থেকে ভালো কিছু করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তার মতে, সবার জন্য বড় কোনো পরিবর্তনের চিন্তা করার চেয়ে প্রত্যেকে যদি নিজের এবং আশপাশের মানুষের ভালো করার চেষ্টা করেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সমাজের কল্যাণ হবে।

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস আজ
আজ জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে কন্যাশিশুদের অংশগ্রহণের চিত্র পর্যালোচনা করলে একদিকে যেমন লক্ষণীয় অগ্রগতি চোখে পড়ে, তেমনি অন্যদিকে ঝরে পড়ার হার নিয়েও রয়ে গেছে গভীর উদ্বেগ। গত কয়েক বছরে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, বিশেষ করে উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ছেলেদের সঙ্গে মেয়েদের শিক্ষা অংশগ্রহণে লৈঙ্গিক সমতাও অর্জিত হয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে। তবে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে পা রাখলেই এই চিত্র অনেকটাই বদলে যায়। এ পর্যায়ে এসে মেয়েদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে না। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ উপাত্তেও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার এই হারকে এখনো উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপাত্ত অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে ছেলেদের ঝরে পড়ার হার প্রায় ৩০ দশমিক ৬৩ শতাংশ, আর মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৩৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়ে মেয়েদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও মাধ্যমিকে পৌঁছে তাদের একটি বড় অংশ শিক্ষার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। মেয়েদের শিক্ষাজীবন থেকে ছিটকে পড়ার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বাল্যবিবাহ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ অনুযায়ী, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ মেয়েই বাল্যবিবাহের কারণে পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই বাস্তবতায় শুধু মেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, তাদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াও এখন সময়ের জরুরি দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কন্যাশিশুর শিক্ষা শুধু তার একার ভবিষ্যৎ গঠনের বিষয় নয়—এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে একটি পরিবার, সমাজ এবং সবশেষে গোটা দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নও। তাই বিদ্যালয়ে মেয়েদের ভর্তির হার বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধরে রাখা, নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকি থেকে তাদের সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাবারের জন্য নাচতেন, ফুটপাতে ঘুমাতেন মিঠুন চক্রবর্তী: ফারাহ খানের ভ্লগে উঠে এলো কঠিন অতীত
বলিউডের পরিচিত মুখ মিঠুন চক্রবর্তীর ক্যারিয়ার আজ সাফল্যে ভরপুর। চার দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ পেয়েছেন একাধিক সম্মাননা। তবে এই সাফল্যের জায়গায় পৌঁছানোর পথটা মোটেও সহজ ছিল না। ক্যারিয়ারের একদম শুরুর দিকে খাবারের বিনিময়ে পার্টিতে নাচতে হয়েছে তাকে, এমনকি কখনো কখনো রাত কাটাতে হয়েছে খোলা ফুটপাতেই—এমনটাই জানিয়েছেন এই অভিনেতা নিজেই। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি পরিচালক ফারাহ খানের ইউটিউব ভ্লগে অতিথি হয়ে নিজের জীবনের শুরুর দিকের নানা কথা তুলে ধরেন মিঠুন চক্রবর্তী, আর সেখানেই বেরিয়ে আসে তার সংগ্রামের সেই অজানা গল্প। ফারাহ খান জানান, তার চাচা কে কে শুক্লা চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখতেন, আর সেই সূত্র ধরেই মিঠুনের পরিবারের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। ফারাহর ভাষ্যমতে, মিঠুনের বাবা বিভিন্ন পার্টিতে নাচতেন এবং এর বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক না নিয়ে শুধু খাবার নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। তার মতে, মিঠুনকেও তখন পার্টিতে ডেকে নেওয়া হতো, কারণ তিনি খুব ভালো নাচতে পারতেন। নাচের বিনিময়ে তিনিও কোনো টাকা নিতেন না, শুধু রাতের খাবারের সুযোগ পেতেন। ফারাহ খানের মন্তব্য, অনেকেই সহজেই নিজের জীবনের কঠিন সময়কে ‘সংগ্রাম’ বলে অভিহিত করেন, কিন্তু মিঠুনের সেই সময়ের অভিজ্ঞতা ছিল তার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন। নিজের সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, তার সংগ্রাম ছিল প্রচলিত অর্থে ‘সংগ্রামেরও বাইরে’ কিছু একটা। তিনি জানান, জীবনের কঠিনতম সময়ে তাকে রাস্তায় ও ফুটপাতেই ঘুমাতে হয়েছে। তার ভাষায়, কখনো কখনো হাঁটতে হাঁটতে এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়তেন যে ফুটপাতেই ঘুমিয়ে পড়তেন এবং ঘুম ভাঙার পর নিজেকে সেই ফুটপাতেই খুঁজে পেতেন। এমনকি কয়েকবার খোলা বাগানেও রাত কাটাতে হয়েছে বলে জানান তিনি। ফারাহ খান আরও বলেন, একজন জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করে মিঠুন চক্রবর্তীর মতো এত বড় তারকায় পরিণত হওয়ার নজির চলচ্চিত্র জগতে খুব বেশি নেই। উল্লেখ্য, মিঠুন চক্রবর্তীর প্রকৃত নাম গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী। ১৯৭৬ সালে পরিচালক মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক ঘটে তার, আর এই সিনেমার জন্যই তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান অর্জন করেন। এরপর ‘সুরক্ষা’ সিনেমার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার জনপ্রিয়তার এক নতুন অধ্যায়। আশির দশকে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’, ‘ড্যান্স ড্যান্স’, ‘পেয়ার ঝুকতা নেহি’, ‘কসম পয়দা করনে ওয়ালে কি’ এবং ‘কমান্ডো’র মতো একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। চার দশকেরও বেশি সময়ের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে হিন্দি, বাংলা ও বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষা মিলিয়ে ৩৫০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা ও ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত আছেন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেতা। ২০২৪ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ সম্মাননায় ভূষিত করে এবং একই বছর ভারতীয় চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারও। তবে তার এই দীর্ঘ ও ঝলমলে ক্যারিয়ারের পেছনে যে কঠিন সময় ও অনিশ্চয়তা লুকিয়ে ছিল, ফারাহ খানের ভ্লগে উঠে আসা এই গল্পই নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এলো মিঠুন চক্রবর্তীর জীবনের সেই সংগ্রামমুখর শুরুর অধ্যায়কে।

হ্যালোইনে নেটফ্লিক্সে আসছে ‘দ্য কনজ্যুরিং’-এর প্রথম ভিডিও গেম
জনপ্রিয় ভৌতিক সিনেমা ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘দ্য কনজ্যুরিং’ এবার পা রাখতে যাচ্ছে গেমিং দুনিয়ায়। এই প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নিয়ে তৈরি হচ্ছে একটি স্বতন্ত্র ভিডিও গেম, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য কনজ্যুরিং: আনস্পোকেন’। আগামী অক্টোবরে হ্যালোইন মৌসুমকে সামনে রেখে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে গেমটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এতে অশুভ শক্তির মুখোমুখি হয়ে পৈশাচিক রহস্য উন্মোচনের মূল দায়িত্ব থাকবে খোদ খেলোয়াড়ের হাতে। গেমটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একটি শোকাহত পরিবার এবং ‘রেড লায়ন ইন’ নামের একটি রহস্যময় সরাইখানাকে কেন্দ্র করে। সেখানে ঘটতে থাকা নানা অলৌকিক ও ভুতুড়ে ঘটনার তদন্ত করা এবং বিভিন্ন ভৌতিক সংকেত খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হবে খেলোয়াড়কে। নেটফ্লিক্স নিশ্চিত করেছে, এটি একটি ক্লাউড গেম হওয়ায় সরাসরি টেলিভিশনেও খেলা যাবে। তবে গেমটি ঠিক কীভাবে খেলতে হবে বা এর নির্দিষ্ট মুক্তির তারিখ কবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে প্রথম ‘দ্য কনজ্যুরিং’ সিনেমার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয় এই ভৌতিক ফ্র্যাঞ্চাইজির। এরপর ‘অ্যানাবেল’ ও ‘দ্য নান’-এর মতো একাধিক সিনেমার মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পরিধি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এর আগে জনপ্রিয় গেম ‘ফোর্টনাইট’-এ কনজ্যুরিং ফ্র্যাঞ্চাইজির কিছু বিশেষ অভিজ্ঞতা যুক্ত করা হলেও, পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজিকে কেন্দ্র করে নির্মিত এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভিডিও গেম। হরর বা ভৌতিক ঘরানার ভক্তদের জন্য এই নতুন ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা এক আলাদা মাত্রার রোমাঞ্চ যোগ করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জায়েদ খানের পাঠানো টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালেন অসুস্থ রিফাত চৌধুরী
কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কবি ও অভিনেতা রিফাত চৌধুরী। তার চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিত্রনায়ক জায়েদ খান ১০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন—এমন খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয় নানা আলোচনা। তবে শুরুতে এই আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও পরবর্তীতে জানা যায়, সত্যিই টাকা পাঠিয়েছিলেন জায়েদ খান। তবে শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ গ্রহণ করেননি রিফাত চৌধুরী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রিফাত চৌধুরী জানিয়েছিলেন, জায়েদ খান তাকে কোনো আর্থিক সহযোগিতা করেননি, এমনকি তার জন্য টাকা পাঠানো হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও কেউ তাকে জানায়নি বলে দাবি করেন এই কবি ও অভিনেতা। এরপর জানা যায়, রিফাত চৌধুরীর চিকিৎসার জন্য এক সাংবাদিকের কাছে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন জায়েদ খান। তবে ওই সাংবাদিক টাকা রিফাতের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে জায়েদ তার চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি ও বিরক্তি প্রকাশ করেন রিফাত চৌধুরী নিজেই। শুক্রবার রাতে এ প্রসঙ্গে রিফাত চৌধুরী জানান, তিনি শুনেছিলেন জায়েদ খান একজনের মাধ্যমে তার জন্য কিছু টাকা পাঠিয়েছেন, কিন্তু সেই অর্থ তার কাছে কেউ পৌঁছে দেননি। এমনকি টাকা পাঠানোর বিষয়ে তাকে আগে থেকে কিছু জানানোও হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরপর শনিবার জায়েদ খানের পাঠানো সেই ১০ হাজার টাকা রিফাত চৌধুরীর কাছে পৌঁছে দিতে গেলে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন রিফাত চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে পা ও কোমরের সমস্যার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অনিদ্রা ও অতিরিক্ত দুর্বলতায় ভুগছেন তিনি। হাসপাতালে ভর্তির পর শুরুতে শয্যা না পেয়ে বেশ কয়েক দিন মেঝেতেই থাকতে হয়েছিল তাকে। পরে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে একটি কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। আশির দশক থেকে কবিতা লেখা ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত রিফাত চৌধুরী। ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আলিঙ্গনের নাম’। দীর্ঘ চার দশকের সাহিত্যজীবনে তার মোট ২৯টি বই প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিনয়েও নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছেন তিনি। নাটক ‘সিক্সটি নাইন’-এ ‘জাতীয় কাকা’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পান রিফাত চৌধুরী। এ ছাড়া ‘ব্যাচেলর’ ও ‘মেহেরজান’-এর মতো সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তিনি। বর্তমানে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন আছেন রিফাত চৌধুরী। সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নাটক পরিচালনায়ও মনোযোগ দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা নিয়ে আরও তদন্ত প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি ভিকটিম হয়েছেন—এটি পুলিশ দেখেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে তার মতে, ঘটনাটি নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। এ ঘটনায় জিডি বা মামলা করার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে এবং শিগগিরই মামলা হতে পারে বলেও জানান তিনি। রোববার দুপুরে সচিবালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, শনিবার রাতে সালমান মুক্তাদিরের একটি স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যার পর ফেসবুক লাইভে এসে এ বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেন তিনি। এতে সালমান মুক্তাদির বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা খুবই স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন এবং বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল হিসেবে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ ছিল, চাঁদা না দেওয়ার কারণেই তার স্টুডিওতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফেসবুক লাইভে অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত সালমান মুক্তাদির কোনো মামলা দায়ের করেননি। এমনকি তিনি নিজেই বলেছেন, তার কাছে কেউ সরাসরি চাঁদা দাবি করেনি এবং চাঁদা চাইলে তিনি তা দিতেন। ফলে সুনির্দিষ্টভাবে কার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে, তা এখনো চিহ্নিত করা যায়নি বলে জানান তিনি। ঘটনাস্থল সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, ঘটনাটি ঘটেছে মানিকদী নামাপাড়া এলাকায়, যা ক্যান্টনমেন্ট থানার অন্তর্গত। সেখানে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে—একপক্ষে রয়েছে একটি বিল্ডার প্রতিষ্ঠান, অন্যপক্ষে একজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা। প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ওই অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার পক্ষে কিছু লোক রাতের অন্ধকারে জায়গাটি দখলে নিতে যায়, আর সেখানেই ভাঙচুরের এই ঘটনা ঘটে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ওই স্থাপনার মধ্যেই সালমান মুক্তাদিরের একটি টিনশেড স্থাপনা ছিল, যেখানে সম্ভবত বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরির কাজ চলত এবং সেই স্থাপনাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভাঙচুর হয়েছে। মন্ত্রী জানান, ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যে একটি প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, তবে বিস্তারিত জানতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এখনো সালমান মুক্তাদিরের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে তার ফেসবুক লাইভে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যকে ঘিরে এরই মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সবশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, এই ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা, কিছু দেশীয় অস্ত্রসহ আরও বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

সৌরভ গাঙ্গুলির বায়োপিক ‘দাদা’র শুটিং করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ক্রিকেট মাঠ, শাস্তির মুখে ক্লাব
শুটিং শুরু হতে না হতেই বিতর্কের মুখে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলিকে নিয়ে নির্মিত বায়োপিক ‘দাদা’। লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস মাঠের একটি বিখ্যাত মুহূর্ত পুনর্নির্মাণ করতে গিয়ে ইংল্যান্ডের লেস্টারশায়ারের গ্রেস রোড গ্রাউন্ডের পিচ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যার জেরে শাস্তির মুখে পড়েছে স্থানীয় কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব লেস্টারশায়ার। জানা গেছে, সম্প্রতি গ্রেস রোড গ্রাউন্ডে সৌরভের বায়োপিকের কয়েকটি দৃশ্যের শুটিং হয়। তবে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার মাত্র চার দিন আগে টানা শুটিংয়ের আয়োজন করায় প্রথম থেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, শুটিং চলাকালে তীব্র গরমের মধ্যেও মাঠ ও পিচ ঢেকে রাখার অনুমতি পাননি সংশ্লিষ্ট গ্রাউন্ডসম্যানরা। মাঠের প্রধান গ্রাউন্ডসম্যান ক্যালাম লেউইন এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, শুটিং শেষ হওয়ার পর মাঠের বেহাল দশা দেখতে পান তিনি। অতিরিক্ত তাপে পিচে ফাটল দেখা দেয়, আর পরবর্তীতে সেখানে খেলা শুরু হলে বল অস্বাভাবিক ও অসমানভাবে বাউন্স করতে থাকে, যা খেলোয়াড়দের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই ঘটনায় আইসিবি ও ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে লেস্টারশায়ার ক্লাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ডিসিপ্লিনারি কমিটি। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ওই ম্যাচে অর্জিত ১৯ পয়েন্ট কেটে নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ৮ পয়েন্ট জরিমানা করা হয়েছে ক্লাবটিকে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ৫ হাজার ইউরোর আর্থিক জরিমানাও। কমিটির ভাষ্যে উঠে এসেছে, মাঠের অবস্থা সঠিকভাবে রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি দায় বর্তায় ক্লাবটির ওপর। তবে একই সঙ্গে সিনেমার প্রযোজনা দল ও আয়োজকদের দায়িত্বহীনতাও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছে কমিটি। ক্রিকেটের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে খোদ ক্রিকেট মাঠই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এই ঘটনা নিয়ে ক্রীড়া ও চলচ্চিত্র—দুই অঙ্গনেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। উল্লেখ্য, সৌরভ গাঙ্গুলির ৫৪তম জন্মদিনে প্রকাশ্যে আসে ‘দাদা’ সিনেমার অফিশিয়াল পোস্টার, যেখানে লর্ডসের ব্যালকনিতে সৌরভের জার্সি খুলে উদ্যাপনের সেই বিখ্যাত মুহূর্তটি পুনর্নির্মাণ করতে দেখা যায় অভিনেতা রাজকুমার রাওকে। সিনেমায় সৌরভ গাঙ্গুলির চরিত্রে অভিনয় করছেন রাজকুমার রাও, আর তাঁর স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলির ভূমিকায় রয়েছেন তানিয়া মানিকতলা। সৌরভের মা-বাবার চরিত্রে দেখা যাবে অপরাজিতা আঢ্য ও শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে, আর তাঁর ভাই স্নেহাশিস গাঙ্গুলির চরিত্রে অভিনয় করছেন রাহুল দেব বসু। বিক্রমাদিত্য মোটওয়ানের পরিচালনায় নির্মিত এই সিনেমাটি মুক্তির আগেই নানা কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

লিভার ক্যানসারে না ফেরার দেশে বলিউড অভিনেতা মুশতাক খান, শোকের ছায়া ইন্ডাস্ট্রিতে
চলে গেলেন বলিউডের পরিচিত মুখ, প্রবীণ অভিনেতা মুশতাক খান। দীর্ঘদিন ধরে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার ভারতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই অভিনেতা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। খবর ইন্ডিয়া টুডের। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে একে শোকবার্তা ও শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন অভিনয়জগতের অনেক পরিচিত মুখ ও চলচ্চিত্র নির্মাতারা। দীর্ঘ চার দশকের অভিনয়জীবনে মুশতাক খান বলিউডে নিজের একটি স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন। ১৯৮০ সালে ‘অ্যালবার্ট পিন্টো কো গুস্সা কিঁউ আতা হ্যায়’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন এই গুণী শিল্পী। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘আশিকি’, ‘দিল হ্যায় কি মানতা নেহী’, ‘হম হ্যায় রাহি প্যায়ার কে’, ‘হেরা ফেরী’, ‘মুঝসে শাদি করোগী’, ‘ওয়েলকাম’, ‘ওয়ান্টেড’, ‘ওহ মাই গড’, ‘স্ত্রী’, ‘গদর ২’ এবং ‘স্ত্রী ২’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় সিনেমা। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও বিশেষ করে কমেডি ও পার্শ্বচরিত্রে তাঁর সাবলীল অভিনয় তাঁকে দর্শকদের কাছে আলাদাভাবে পরিচিত করে তোলে। ছোট ছোট চরিত্রেও অভিনয়ের মুনশিয়ানায় তিনি বারবার নজর কেড়েছেন সমালোচক ও দর্শক উভয় মহলেই। মুশতাক খানের মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন অভিনেতা সানি দেওল, রাজপাল যাদব, সঞ্জয় মিশ্র, পরিচালক আনিস বাজমি এবং কৌতুক অভিনেতা সুনীল পালসহ ইন্ডাস্ট্রির আরও অনেকে। এছাড়া রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে তাঁকে—আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও তাঁর মৃত্যুতে শোকবার্তা দিয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সিনেমায় নিজের অবদান রেখে যাওয়া এই অভিনেতাকে স্মরণ করছেন তাঁর সহকর্মী ও ভক্তরা। বলিউডের কমেডি ও পার্শ্বচরিত্র অভিনয়ের ইতিহাসে মুশতাক খানের নাম দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা।

অভিনেতা রিফাত চৌধুরীর পাশে দাঁড়ালেন জায়েদ খান
অসুস্থ অভিনেতা ও কবি রিফাত চৌধুরীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। রিফাতের অসুস্থতার খবর সামনে আসার পর তাঁর চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেন এই অভিনেতা। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই রিফাত চৌধুরীকে আর্থিক সহায়তা পাঠান জায়েদ খান। সমকালের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জায়েদ খান বলেন, শিল্পীর পাশে শিল্পীর দাঁড়ানোটাই স্বাভাবিক নিয়ম বলে মনে করেন তিনি, আর সেই জায়গা থেকেই সাধ্যমতো রিফাত চৌধুরীর পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তিনি প্রত্যাশা করেন, আরও অনেকে এই গুণী অভিনেতা ও কবির পাশে দাঁড়াবেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এর আগে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিফাতের অসুস্থতার বিষয়টি সবার নজরে আনেন এবং তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। চঞ্চল জানান, আর্থিক সংকটের কারণে রিফাতের সঠিক চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে, তাই তাঁর পরিচিতজন, সহকর্মী, ভক্ত ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি। এই আহ্বানের পর অভিনয় শিল্পী সংঘও রিফাত চৌধুরীর পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এবার একই উদ্যোগে যুক্ত হলেন জায়েদ খানও। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পা ও কোমরের সমস্যায় ভুগছেন রিফাত চৌধুরী, ঠিকমতো হাঁটাচলাও করতে পারছেন না তিনি। গত ১৪ তারিখে তাঁকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শুরুর দিকে হাসপাতালের মেঝেতেই দিন কাটাতে হয়েছিল তাঁকে, পরে একটি বেডের ব্যবস্থা হয়। পরবর্তীতে তাঁর এই দুরবস্থার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তাঁকে একটি কেবিনে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

হিন্দি ‘দৃশ্যম’ থামছে তৃতীয় কিস্তিতেই, অজয় দেবগনের সঙ্গে নতুন সংযোজন জয়দীপ-প্রকাশ রাজ
জনপ্রিয় থ্রিলার ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘দৃশ্যম’-এর মালয়ালম ও হিন্দি সংস্করণ এখন দুই ভিন্ন পথে এগোচ্ছে। মোহনলাল অভিনীত মূল মালয়ালম সিরিজটি ভবিষ্যতে চতুর্থ কিস্তির দিকে এগোনোর ইঙ্গিত দিলেও হিন্দি সংস্করণ আর না বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এর নির্মাতা অভিষেক পাঠক। অজয় দেবগন অভিনীত ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’ আগামী ২ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটি ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরিচালক নিশ্চিত করেছেন, এই তৃতীয় কিস্তিই হবে হিন্দি ‘দৃশ্যম’-এর শেষ অধ্যায়—এরপর ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আর ফেরানোর পরিকল্পনা নেই তাদের। এই শেষ পর্বেও কেন্দ্রীয় চরিত্র বিজয় সালগাঁওকর হিসেবে ফিরছেন অজয় দেবগন। তার সঙ্গে প্রথম দুই কিস্তির পরিচিত মুখ টাবু, শ্রিয়া সরণ ও রজত কাপুরও নিজ নিজ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নতুন সংযোজন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে যুক্ত হয়েছেন জয়দীপ আহলাওয়াত ও প্রকাশ রাজ, যাদের উপস্থিতি ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। চলতি বছরের শুরুতেই দুই ভাষার ছবির গল্পগত ভিন্নতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরিচালক জিতু জোসেফের হাতে মালয়ালম ‘দৃশ্যম ৩’ গড়ে উঠেছে আবেগঘন পারিবারিক ড্রামা হিসেবে, আর অভিষেক পাঠক হিন্দি সংস্করণকে সাজিয়েছেন একেবারে ভিন্ন ধাঁচের রোমাঞ্চকর পারিবারিক থ্রিলার হিসেবে। পরিচালকের ভাষ্যে, মালয়ালম দল হয়তো এমন এক চিত্রনাট্য পেয়েছে যা ভবিষ্যতেও টেনে নেওয়া যায়, কিন্তু হিন্দি ছবির ক্ষেত্রে গল্পকে অযথা দীর্ঘায়িত না করে অর্থপূর্ণ সমাপ্তিতে নিয়ে যাওয়াই যুক্তিযুক্ত মনে করেছেন তারা। সিনেমার এই চূড়ান্ত সমাপ্তি স্পষ্ট করতেই বদলানো হয়েছে নামও। শুরুতে ছবিটির নাম ‘দৃশ্যম ৩’ থাকলেও পরে তা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’। পরিচালকের মতে, এই সমাপ্তি সিক্যুয়েলের সুযোগ রাখার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সচেতন সৃজনশীল সিদ্ধান্তের ফল। তার ভাষ্যে, একটি গল্পকে অযথা টেনে নষ্ট না করে সময়মতো সুন্দরভাবে শেষ করাই একজন দায়িত্বশীল নির্মাতার কাজ, যাতে দর্শকরা এই পর্বেই একটি তৃপ্তিদায়ক সমাপ্তি খুঁজে পান।

ভয়াবহ বন্যার সময় অপু বিশ্বাস ছিলেন নেপালে
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মধ্যেও নিরাপদে আছেন বলে জানা গেছে ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। বর্তমানে তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’ এর শুটিংয়ের জন্য সেখানে অবস্থান করছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে এই সিনেমাটির পুরো টিম রয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে নেপালের ভোটেকোশি নদীতে হড়পা বান নেমে উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েক শ বিদেশি পর্যটকসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নেপালে থাকা বাংলাদেশি শিল্পীদের নিয়ে দেশে থাকা ভক্ত ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন অপু বিশ্বাস। তিনি জানান, ভূমিকম্প ও বন্যার খবর প্রকাশের পর থেকেই অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী, ভক্ত, সাংবাদিক, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজন ফোন ও বার্তার মাধ্যমে তাঁদের খোঁজ নিচ্ছেন। অপু বলেন, নেপালে আকস্মিক ভূমিকম্প ও বন্যায় শত শত বিদেশি পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যেই ‘শিকার’ সিনেমার পুরো টিম নেপালে অবস্থান করছে। দুর্যোগের খবর শোনার পর সবাই তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যোগাযোগ করছেন। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, সবার ভালোবাসা, উদ্বেগ ও আন্তরিকতার জন্য তিনি হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞ। মহান আল্লাহর রহমতে ‘শিকার’ সিনেমার পুরো টিম নিরাপদ স্থানে রয়েছে এবং সবাই সুস্থ ও ভালো আছেন।