বিভাগ: স্বাস্থ্য
মোট খবর: 10 টি
সকালে গরম পানি পান করা উপকারী নাকি ক্ষতিকর?
শীতকালে ঠান্ডা পানি পান করতে অনেকেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাই এ সময় হালকা কুসুম গরম পানিই বেশি পছন্দ করেন অনেকে। তবে সকালে খালি পেটে গরম পানি পান করা কতটা উপকারী, আর এতে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা আছে কি না—এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানি পান করা সাধারণত ক্ষতিকর নয়। বরং পরিমিত পরিমাণে এবং সহনীয় তাপমাত্রায় পান করলে এর কিছু উপকারও মিলতে পারে। তবে পানি অতিরিক্ত গরম হলে কিংবা একসঙ্গে বেশি পরিমাণে পান করলে অস্বস্তি বা অন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। গরম পানি পানের সম্ভাব্য উপকারিতা হজমে সহায়তা করে- সকালে হালকা গরম পানি পান করলে পাকস্থলী সক্রিয় হতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও এটি কিছুটা উপকারী হতে পারে। শরীরের বর্জ্য নিষ্কাশনে সহায়তা করে-পর্যাপ্ত পানি পান শরীরের স্বাভাবিক বর্জ্য নিষ্কাশন প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে সহায়তা করে। রক্ত সঞ্চালনে সহায়ক- হালকা গরম পানি শরীরে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে- শীতের সকালে কুসুম গরম পানি শরীরকে আরামদায়ক উষ্ণতা দিতে পারে। গলা আরাম দিতে সহায়ক- গরম পানি গলা আরাম দিতে এবং কফ জমার সমস্যা কিছুটা কমাতে সহায়তা করতে পারে। কখন গরম পানি ক্ষতিকর হতে পারে? অতিরিক্ত গরম হলে- ফুটন্ত বা খুব বেশি গরম পানি পান করলে গলা ও খাদ্যনালিতে জ্বালা কিংবা ক্ষত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গ্যাস্ট্রিক বা আলসার থাকলে- অতিরিক্ত গরম পানি পাকস্থলীতে অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। একসঙ্গে বেশি পানি পান করলে- হঠাৎ করে অনেকটা পানি পান করলে বমি ভাব বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিরাপদে যেভাবে পান করবেন- সকালে পান করার জন্য হালকা গরম বা কুসুম গরম পানি বেছে নেওয়াই ভালো। একবারে ২০০ থেকে ২৫০ মিলিলিটার বা এক গ্লাস পানি যথেষ্ট। দ্রুত পান না করে ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করা উচিত। চাইলে পানিতে ২ থেকে ৩ ফোঁটা লেবুর রসও যোগ করা যেতে পারে। তবে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে লেবুর রস না দেওয়াই ভালো।

৮ ঘণ্টা ঘুমই কি সবার জন্য যথেষ্ট? মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার আসল উপায় জানালেন নিউরোলজিস্ট
মস্তিষ্কের সুস্থতা শুধু স্মৃতিশক্তি বা বয়সের সঙ্গেই সম্পর্কিত নয়। ঘুম, মানসিক চাপ, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং নিয়মিত মানসিক চর্চার মতো দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব বিশেষভাবে স্মৃতি ও মনোযোগে সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন নিউরোলজিস্ট ও নিউরোসায়েন্টিস্ট ডা. ফায়ে বেগেটি। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ভিশন অব হেলথ’ পডকাস্টে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন ডা. বেগেটি। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কাজের চাপ, মানসিক উদ্বেগ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের ঘাটতি মস্তিষ্কের জন্য বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী চাপ ক্ষতি করতে পারে স্মৃতিশক্তির স্বল্পমেয়াদি মানসিক চাপ অনেক সময় সতর্কতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ মস্তিষ্কের আবেগ, স্মৃতি ও মনোযোগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ডা. বেগেটির ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কারণে কিছু মানুষের স্মৃতি ও মনোযোগে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা পরবর্তীতে স্মৃতিভ্রংশের আশঙ্কা তৈরি করে। এর সঙ্গে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রার পরিবর্তনও সম্পর্কিত বলে জানান তিনি। আট ঘণ্টা ঘুম সবার জন্য প্রযোজ্য নয় অনেকের ধারণা, প্রতিদিন ঠিক আট ঘণ্টা ঘুমই সবার জন্য আদর্শ। তবে ডা. বেগেটির মতে, ঘুমের প্রয়োজনীয়তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে—কারও ছয় বা সাত ঘণ্টা ঘুমেই পর্যাপ্ত বিশ্রাম হয়ে যেতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে দশ বা এগারো ঘণ্টা পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে। তার পরামর্শ, প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা, কারণ এতে শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম সঠিক থাকতে সাহায্য করে। সম্ভব হলে সকালে কিছুটা সময় প্রাকৃতিক আলোতে কাটানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি—বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট বাইরে থাকলে তা শরীরের ঘুম-জাগরণ চক্র ঠিক রাখতে সহায়ক হতে পারে। প্রতিদিন অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার পরামর্শ অ্যালকোহল মস্তিষ্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রভাব ফেলতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী সেরিবেলাম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে যুক্ত প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স। ডা. বেগেটি অ্যালকোহলকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন অল্প পরিমাণ অ্যালকোহল গ্রহণও মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এটি নিয়মিত অভ্যাসের বদলে মাঝেমধ্যে গ্রহণ করাই তুলনামূলক নিরাপদ। মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখার গুরুত্ব বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে নতুন কিছু শেখার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন কোনো ভাষা শেখা, ছবি আঁকা, নতুন দক্ষতা অর্জন, শখের কাজ করা এবং নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখার মতো কর্মকাণ্ড মস্তিষ্ককে মানসিকভাবে সতেজ ও সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে। এই ধরনের মানসিক চর্চা ‘কগনিটিভ রিজার্ভ’ তৈরি করতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো একক অভ্যাসই ডিমেনশিয়া প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দেয় না বলে স্পষ্ট করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত মানসিক চর্চা মস্তিষ্কের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলো একা কোনো রোগ প্রতিরোধের গ্যারান্টি দেয় না। সবশেষে ডা. বেগেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করিয়ে দিয়েছেন—সুস্থ থাকার চেষ্টা যেন নিজেই নতুন করে মানসিক চাপের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। তার ভাষায়, মস্তিষ্কের যত্ন নেওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো জীবনকে ভালোভাবে উপভোগ করা, প্রতিটি বিষয় নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা নয়।

অক্টোবরে খাবারের তালিকায় রাখুন যেসব খাবার, মিলবে নানা উপকার
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে আবহাওয়া যেমন বদলে যায়, তেমনি পরিবর্তন আসে খাবারের ধরনেও। অক্টোবর মাসে শরৎ বিদায়ের পথে, সামনে হেমন্ত। এ সময় গরম ও বৃষ্টির প্রভাব কমে গিয়ে ধীরে ধীরে হালকা শীতের অনুভূতি তৈরি হয়। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সময়ে অনেকের সর্দি, কাশি, ফ্লু কিংবা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শরীর সুস্থ ও সতেজ রাখতে এ সময়ের মৌসুমি খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। অক্টোবর মাসে কোন খাবারগুলো উপকারী হতে পারে, তা জেনে নেওয়া যাক। মিষ্টি কুমড়া ও কুমড়ার বীজ অক্টোবরের খাদ্যতালিকায় মিষ্টি কুমড়া রাখা যেতে পারে। এতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে কুমড়ার বীজে রয়েছে জিংক ও ম্যাগনেশিয়াম। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। সাইট্রাস ফল অক্টোবরের সময়ে কমলালেবু, পাতিলেবু ও বাতাবি লেবুর মতো বিভিন্ন সাইট্রাস ফল পাওয়া যায়। এসব ফলে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। ঋতু পরিবর্তনের সময় ভিটামিন সি শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি শ্বেত রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরকে লড়তে সহায়তা করে। আপেল ও নাশপাতি শরৎ থেকে হেমন্তে যাওয়ার এই সময়ে আপেল ও নাশপাতিও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। দুই ধরনের ফলেই দ্রবণীয় আঁশ রয়েছে। এই আঁশ হজমে সহায়তা করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। পালংশাক ও শীতকালীন শাকসবজি অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে বাজারে পালংশাক, মুলাশাক ও সরিষাশাকের মতো সবুজ শাকসবজি পাওয়া যেতে শুরু করে। পালংশাকে রয়েছে আয়রন, ফোলেট ও ক্যালসিয়াম। এসব পুষ্টি উপাদান রক্তশূন্যতা দূর করতে, হাড়ের শক্তি ধরে রাখতে এবং শরীরে শক্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে। আদা, রসুন ও হলুদ আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় রান্নায় আদা, রসুন ও হলুদের ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে। এসব উপাদানে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে। কাঁচা আদা ও কাঁচা হলুদ খাওয়া কিংবা রান্নায় রসুনের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে শরীরের উষ্ণতা বজায় রাখা এবং গলার খুসখুসে ভাব বা কাশির সমস্যা উপশমে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। ওটস অক্টোবরের হালকা ঠান্ডা সকালে নাশতায় ওটস রাখা যেতে পারে। এটি আঁশযুক্ত খাবার হওয়ায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরে স্থায়ী শক্তি জোগায়। ফলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক। যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন অক্টোবরে কিছু খাবার এড়িয়ে চলার বিষয়েও সতর্ক থাকা দরকার। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময়ে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি, আইসক্রিম বা কোমল পানীয় পান করলে গলা ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা বাড়তে পারে। গলাব্যথা, টনসিল বা সাইনাসের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া রাস্তার পাশের খোলা খাবার, ফুচকা বা চটপটি খাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এসব খাবারে ধুলাবালি ও জীবাণু মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। একইভাবে বাসি খাবারে ফাঙ্গাস তৈরি হতে পারে, যা খেলে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া কিংবা পেটের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পায়ের যেসব লক্ষণে লুকিয়ে থাকতে পারে লিভারের সমস্যা
শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার। প্রোটিন তৈরি, পুষ্টি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং শরীর থেকে বিভিন্ন বর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লিভারের কার্যক্ষমতা কোনো কারণে কমে গেলে তার প্রভাব পড়তে পারে শরীরের বিভিন্ন অংশে। এমনকি কখনো কখনো পায়ের পাতা, গোড়ালি বা ত্বকেও দেখা দিতে পারে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এসব লক্ষণ শুধু লিভারের রোগের কারণেই হয় না—অন্য অনেক শারীরিক সমস্যার কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই এসব লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে সিদ্ধান্তে না পৌঁছে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে অ্যালবুমিন নামের একটি প্রোটিনের উৎপাদন কমে যেতে পারে। এর ফলে শরীরে তরলের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পা, পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে পানি জমে ফুলে যেতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পেরিফেরাল এডিমা বলা হয়। তবে হৃদযন্ত্র, কিডনি বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতার কারণেও পা ফুলে যেতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। পায়ের তলায় চুলকানি কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই পায়ের পাতা বা শরীরের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে চুলকানি থাকলে তা লিভারের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে কোলেস্টেসিসের মতো অবস্থায় পিত্তের উপাদান রক্তে জমতে শুরু করে, যা এই চুলকানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পায়ে ঝিনঝিন বা অসাড়তা পায়ে বারবার ঝিনঝিন করা, জ্বালাপোড়া বা অসাড়তার অনুভূতি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। ডায়াবেটিস, স্নায়ুর সমস্যা কিংবা শরীরে পুষ্টির ঘাটতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগের সঙ্গেও এ ধরনের উপসর্গের সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই এটিকে শুধু লিভারের রোগের নির্দিষ্ট লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ত্বক বা নখ হলদেটে হয়ে যাওয়া লিভারের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলে শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে জন্ডিস দেখা দিতে পারে। এর ফলে ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যেতে পারে, এমনকি কখনো কখনো নখেও দেখা যেতে পারে হলদেটে ভাব। প্রাকৃতিক আলোতে এই পরিবর্তনটি তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট বোঝা যায়। লাল বা বাদামি দাগ পায়ের ত্বকে হঠাৎ অস্বাভাবিক লাল বা বাদামি দাগ দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। তবে এ ধরনের দাগের পেছনে রক্তসঞ্চালনজনিত সমস্যা কিংবা ত্বকের অন্য কোনো রোগও থাকতে পারে। তাই শুধু এই দাগ দেখেই লিভারের রোগ নিশ্চিত হওয়া যায় না। স্পাইডার অ্যানজিওমাস ত্বকের ওপর ছোট ছোট রক্তনালির জাল বা মাকড়সার জালের মতো লালচে দাগকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় স্পাইডার অ্যানজিওমা। দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগে এই ধরনের দাগ দেখা যেতে পারে। তবে এমন দাগ থাকা মানেই যে লিভারের সমস্যা হয়েছে, বিষয়টি এমন নয় বলে জানান চিকিৎসকরা। চিকিৎসক অনুজ পাহুজার মতে, পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা কারণেও এমনটা হতে পারে, কখনো কখনো এটি লিভারের সমস্যার সঙ্গেও সম্পর্কিত থাকে। তার ব্যাখ্যায়, লিভার যখন পর্যাপ্ত অ্যালবুমিন তৈরি করতে পারে না, তখন শরীরে তরল জমে পা ফুলে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পা বা পায়ের পাতায় এসব পরিবর্তনের পাশাপাশি চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, সহজে রক্তপাত হওয়া কিংবা শরীরে পানি জমে যাওয়ার মতো অন্যান্য উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরীক্ষার মাধ্যমে লিভারের প্রকৃত কার্যকারিতা যাচাই করে নেওয়া সম্ভব। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু পায়ের একটি লক্ষণ দেখেই কখনো লিভারের রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। শরীরে কোনো দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা না করে সবসময় একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে খাদ্যাভ্যাসে যেসব পরিবর্তন জরুরি
মাইগ্রেন একটি জটিল স্নায়বিক সমস্যা, যা কখনো কয়েক ঘণ্টা আবার কখনো কয়েক দিন পর্যন্ত ভোগাতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এই যন্ত্রণা চলতে থাকলে শরীর ও মন—দুটোই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এই সমস্যার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এর কোনো স্থায়ী বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে মাইগ্রেনের তীব্রতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঋতু পরিবর্তনের সময়—কখনো ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি, আবার কখনো চড়া রোদের মধ্যে—মাইগ্রেনের সমস্যায় নাজেহাল হন অনেকেই। প্রচণ্ড মাথাব্যথা, সঙ্গে বমি বমি ভাব কিংবা মাথার একপাশ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে গোটা মাথায় ছড়িয়ে পড়া তীব্র যন্ত্রণা, কখনো কখনো জ্বরও—এসব উপসর্গ মাইগ্রেনে আক্রান্তদের কাছে বেশ পরিচিত। কারো ক্ষেত্রে এই ব্যথা কয়েক ঘণ্টায় সেরে গেলেও অনেকের ক্ষেত্রে তা কয়েক দিন ধরে ভোগায়, যা শরীরকে ধীরে ধীরে কাবু করে ফেলে। এই মুহূর্তে মাইগ্রেনের এমন কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, যা এটিকে সম্পূর্ণভাবে দূর করতে পারে। তবে জীবনধারায় কিছু পরিবর্তন এবং খাদ্যতালিকায় কিছু নির্দিষ্ট খাবার যোগ করলে এই যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করা কিছুটা সহজ হয়ে উঠতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করুন শরীরের অনেক সমস্যার সমাধান লুকিয়ে থাকে পানিতেই। মাইগ্রেনের একটি সাধারণ কারণ হতে পারে শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন। তাই মাইগ্রেনের ব্যথা এড়াতে প্রতিদিন নিয়ম করে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, দিনে অন্তত চার থেকে পাঁচ লিটার পানি পান করার চেষ্টা করা উচিত। কলা খাওয়ার অভ্যাস গড়ুন দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলে অনেক সময় হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়, যা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং তা থেকে মাইগ্রেনের ব্যথাও শুরু হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পেতে একটি কলা খাওয়া যেতে পারে। ম্যাগনেসিয়ামে ভরপুর এই ফল দ্রুত শরীর সতেজ করে তুলতে সাহায্য করে এবং মাইগ্রেনের সম্ভাবনাও কিছুটা কমিয়ে দেয়। বাদাম রাখুন খাদ্যতালিকায় বাদামে থাকা ম্যাগনেসিয়াম মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের সমস্যা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তাই কাজের ফাঁকে মাঝেমধ্যে কাঠবাদাম, কাজুবাদাম বা আখরোটের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। তেলযুক্ত মাছ খান নিয়মিত ইলিশ, রুই, কাতলা কিংবা পমফ্রেটের মতো মাছে থাকে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। খাদ্যতালিকায় নিয়মিত এই ধরনের মাছ রাখলে মাথাব্যথার সমস্যা থেকে কিছুটা মুক্তি মিলতে পারে বলে জানান পুষ্টিবিদরা। শাক ও তাজা ফল খাওয়া জরুরি তাজা ফল ও শাকসবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বিশেষ করে পালংশাকে থাকে ভিটামিন বি৬, বি১২, ফলিক অ্যাসিড ও ম্যাগনেসিয়াম। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এসব উপাদান মাইগ্রেনের সমস্যা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এই ধরনের শাক রাখা যেতে পারে। আদা চায়ে চুমুক দিন মাইগ্রেন শুরু হলে প্রায়ই বমি বমি ভাব ও শরীরে অস্বস্তি দেখা দেয়। এই সমস্যা কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে আদা চা। আদায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক গুণ মাইগ্রেনের সঙ্গে লড়াইয়ে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এসব খাবার ছাড়াও ডার্ক চকলেট, ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার এবং গ্রিন টি, পুদিনা চা বা ক্যামোমাইল চায়ের মতো পানীয়ও মাইগ্রেনের ব্যথা উপশমে সহায়ক হতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মাইগ্রেনের তীব্রতা কমাতে খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে কারো দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কফি শুধু ঘুম তাড়ায় না, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গেও আছে সম্পর্ক: গবেষণা
সকালের এক কাপ কফি অনেকের দিনের শুরুটা সহজ করে দেয়। কেউ পান করেন ঘুম কাটাতে, কেউ আবার স্রেফ স্বাদ ও অভ্যাসের কারণে। তবে কফির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় কফি পানের সময়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি একটি গবেষণা প্রকাশ করে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্কের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। প্রায় ১০ বছর ধরে অংশগ্রহণকারীদের অনুসরণ করেছিলেন গবেষকরা। গবেষণায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৫২ শতাংশ নিয়মিত কফি পান করতেন। এদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ মূলত সকালে কফি পান করতেন, আর ১৬ শতাংশ দিনের বিভিন্ন সময়ে কফি পানের অভ্যাস রাখতেন। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যারা ভোর ৪টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কফি পান করতেন, তাদের যেকোনো কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি কফি না খাওয়া মানুষদের তুলনায় ১৬ শতাংশ কম ছিল। একই দলের মধ্যে হৃদরোগজনিত কারণে মৃত্যুর ঝুঁকিও দেখা গেছে ৩১ শতাংশ কম। তবে যারা দিনের বিভিন্ন সময়ে কফি পান করতেন, তাদের ক্ষেত্রে এমন কোনো স্পষ্ট সম্পর্ক খুঁজে পাননি গবেষকরা। কফি খেলেই কি স্বাস্থ্য ভালো থাকবে? এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা দরকার—গবেষণাটি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি যে কফি পান করলেই স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। বরং এতে কফি পানের সময় এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে একটি সম্পর্কের আভাস মিলেছে মাত্র। কফি খাওয়ার পরিমাণ, খাদ্যাভ্যাসের ধরন, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুমের রুটিন এবং সামগ্রিক জীবনযাপন—এসবই মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধু কফি পানের অভ্যাসের ভিত্তিতে কারো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দিনে কত কাপ কফি নিরাপদ? এনডিটিভির প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, কিছু গবেষণায় নিয়মিত কফি পানকারীদের মধ্যে বিষণ্নতা ও লিভার-সংক্রান্ত কিছু সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। তার মতে, দিনে দুই কাপ পর্যন্ত কফি পান করা মানুষদের মধ্যে শক্তি, উদ্যম ও মানসিক সন্তুষ্টির মাত্রাও তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তবে এসব পর্যবেক্ষণকে কফির সরাসরি স্বাস্থ্য উপকারিতার প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয় বলে সতর্ক করেছেন তিনি। বিশেষ করে কফিতে চিনি, ক্রিম বা বাড়তি ক্যালরি যোগ করলে এর সামগ্রিক প্রভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া কফিতে থাকা ক্যাফেইন অনেকের ক্ষেত্রে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও তৈরি করতে পারে। তাই একজনের জন্য উপযুক্ত কফির পরিমাণ ও পান করার সময় আরেকজনের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে। সব মিলিয়ে এই গবেষণা কফিপ্রেমীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে—শুধু কতটা কফি পান করা হচ্ছে তা নয়, বরং ঠিক কখন তা পান করা হচ্ছে, সেটিও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হতে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

হার্ট অ্যাটাকের ৪ নীরব লক্ষণ: গ্যাস বা দুর্বলতা ভেবে অবহেলা করবেন না যেসব উপসর্গ
বুকে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়া—হার্ট অ্যাটাক বলতে সাধারণত এসব লক্ষণের কথাই মাথায় আসে অনেকের। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সব হার্ট অ্যাটাক এমন স্পষ্ট সংকেত দিয়ে আসে না। কখনো কখনো তা আসে বদহজম, গ্যাস কিংবা সাধারণ অস্বস্তির ছদ্মবেশে, যা মানুষ সহজেই এড়িয়ে যান। অথচ এই ধরনের সাধারণ মনে হওয়া উপসর্গও হতে পারে হৃদযন্ত্রের বিপদ সংকেত। তাই গ্যাস বা সাময়িক দুর্বলতা ভেবে অবহেলা না করে হার্ট অ্যাটাকের এই নীরব লক্ষণগুলো সম্পর্কে সবার জানা দরকার। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি বেশি দেখা যায়। হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা শরীর দিয়ে ঠান্ডা ঘাম বের হওয়াকে অনেকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, মানসিক চাপ বা সাধারণ দুর্বলতা মনে করে পাত্তা দেন না। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এগুলোই হতে পারে হৃদরোগের প্রাথমিক সতর্কবার্তা। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারীদের মধ্যে দেখা যাওয়া হার্ট অ্যাটাকের এমন কয়েকটি কম পরিচিত লক্ষণ নিয়ে একটি ভিডিওতে বিস্তারিত জানিয়েছেন চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ। বুকে চাপ বা এক ধরনের অস্বস্তি হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণগুলোর একটি হলো বুকের মাঝ বরাবর ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তির অনুভূতি। তবে এটি সব সময় তীব্র বা কাটাকাটা ব্যথার মতো হয় না—অনেক সময় মনে হতে পারে বুক ভারী হয়ে আছে, কেউ যেন চেপে ধরে রেখেছে, কিংবা বুক ভরে থাকার মতো একটা অনুভূতি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অস্বস্তি শুধু বুকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। নারীদের ক্ষেত্রে প্রায়ই এই ব্যথা চোয়াল, ঘাড়, এক বা দুই হাত, পিঠ, এমনকি পেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে অনেকেই এটিকে হৃদরোগ না ভেবে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা মনে করে ভুল করেন। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট কাজের চাপ বা শারীরিক পরিশ্রমের পর শ্বাস নিতে একটু কষ্ট হওয়া স্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু বিশ্রামে থাকা অবস্থায় কিংবা সামান্য পরিশ্রমেই হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে, বিশেষত অন্য কোনো উপসর্গের সঙ্গে একসঙ্গে দেখা দিলে, বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা ছাড়াই কেবল শ্বাসকষ্ট নিয়েই হার্ট অ্যাটাক শুরু হতে পারে, যা রোগীর জন্য সহজে বোঝা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব বা মাথা ঝিমঝিম করা হঠাৎ শরীর দিয়ে ঠান্ডা ঘাম বের হওয়া, বমি বমি ভাব, বমি হয়ে যাওয়া কিংবা মাথা হালকা ঝিমঝিম করার মতো অনুভূতিও নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে দেখা দিতে পারে। এই উপসর্গগুলো প্রায়ই ফ্লু, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, মানসিক চাপ বা শুধু শরীর দুর্বল লাগা বলে ভুল বোঝা হয়। ডা. কুনাল সুদের মতে, এসব লক্ষণ যদি হঠাৎ করে এবং কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দেখা দেয়, তাহলে বিশেষভাবে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কারণ নারীদের হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ পুরুষদের তুলনায় অনেক সময় অনেক বেশি সূক্ষ্ম ও অস্পষ্ট হয়ে থাকে, যা সহজে ধরা পড়ে না। অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা এই তিনটি উপসর্গের পাশাপাশি চিকিৎসকরা আরও একটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেন—তা হলো হঠাৎ করে দেখা দেওয়া তীব্র ক্লান্তি বা অবসাদ, যার সঙ্গে কোনো স্পষ্ট শারীরিক পরিশ্রমের সম্পর্ক থাকে না। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের আগে কয়েক দিন ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করার নজির দেখা যায়, যা অনেকেই সাধারণ ঘুমের ঘাটতি বা কাজের চাপ ভেবে এড়িয়ে যান। সতর্ক থাকাই শ্রেয় এই লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি দেখা দিলেই যে তা অবশ্যই হার্ট অ্যাটাক, বিষয়টি এমন নয়। একই ধরনের উপসর্গ আরও অনেক সাধারণ শারীরিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। তবে এসব লক্ষণ হঠাৎ শুরু হলে, বিশেষ করে একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে, দেরি না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সেবা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। শরীরের এই ধরনের ইঙ্গিতগুলোকে গুরুত্ব সহকারে দেখাই হতে পারে সময়মতো একটি বড় বিপদ এড়ানোর চাবিকাঠি।

সকালে খালি পেটে যেসব খাবার খেলে সারাদিন থাকবেন সতেজ ও কর্মক্ষম
শরীরকে সতেজ ও সারাদিন কর্মক্ষম রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাদের চেয়ে পুষ্টিগুণকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর সকালে খালি পেটে কী খাওয়া হচ্ছে, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে সারাদিনের শারীরিক সুস্থতা ও শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যে, সকালে নির্দিষ্ট কিছু খাবার গ্রহণ করলে শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের হয়ে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় শক্তি। মধু মেশানো হালকা গরম পানি দিনের শুরুতে এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে মধু মিশিয়ে পান করা শরীরের জন্য বেশ উপকারী একটি অভ্যাস। এতে থাকা বিভিন্ন খনিজ উপাদান, ভিটামিন ও উৎসেচক শরীরের ভেতরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সহায়তা করে এবং হজমশক্তি বাড়ায়। যাদের লেবুতে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয় না, তারা চাইলে এই পানীয়তে সামান্য লেবুর রসও মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে শরীরে ভিটামিন সি-র জোগানও কিছুটা বাড়ে। সারারাত ভেজানো কাঠবাদাম সকালের নাশতায় ভেজানো কাঠবাদাম বা আমন্ড রাখা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। রাতভর পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খোসা ছাড়িয়ে খেলে বাদামের পুষ্টিগুণ শরীরে সহজে শোষিত হয়। প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ই ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ এই বাদাম ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি সারাদিন শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি জুগিয়ে যায়। নিয়মিত অভ্যাসে এটি হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে। প্রোটিনসমৃদ্ধ ডিম সকালের খাদ্যতালিকায় সেদ্ধ ডিম বা হালকা তেলে ভাজা ডিম রাখা যেতে পারে। ডিমে থাকা উচ্চমাত্রার প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে ঘন ঘন খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। এ ছাড়া ডিমে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পেশি গঠন ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখে। ওটস ও কলার মিশ্রণ প্রোটিন ও আঁশ বা ফাইবারের চমৎকার উৎস হলো ওটস। গরম পানিতে বা দুধে ওটস ও পাকা কলা মিশিয়ে পরিজ তৈরি করে খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় থাকে। এই খাবার রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতেও বেশ কার্যকর বলে জানান পুষ্টিবিদরা। স্বাদ বাড়াতে ওপরে কিছু কাজু বা কাঠবাদামের কুচি ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। চাইলে সামান্য দারুচিনি গুঁড়াও যোগ করা যায়, যা স্বাদের পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। তাজা মৌসুমী ফল সকালে উপোস ভাঙতে বা খালি পেটে তাজা ফল খাওয়া অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর একটি অভ্যাস। ফলে থাকা প্রচুর পরিমাণ আঁশ, প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পানি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। তাই প্রতিদিনের নাশতায় অন্তত একটি বাটি মৌসুমী ফল রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কেন সকালের নাশতা গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘ সময় ধরে খালি পেটে থাকার পর শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়, যার প্রভাবে ক্লান্তি ও মনোযোগে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ কারণে সকালের নাশতা বাদ না দিয়ে সঠিক পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে সারাদিন শরীর সতেজ থাকে এবং কাজের ক্ষেত্রেও মনোযোগ ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়। তবে ব্যক্তিভেদে শারীরিক অবস্থা ভিন্ন হতে পারে বলে কোনো নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস অনুসরণের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

প্রতিদিন মাথা ব্যথা হচ্ছে? জীবনযাত্রার যে অভ্যাসগুলো এর পেছনে দায়ী হতে পারে
দিনভর কাজের চাপ শেষে বাসায় ফিরেও স্বস্তি নেই—মাথা ব্যথায় কাবু অনেকেই। কখনো আবার অফিসে কাজের মাঝপথেই মাথা ব্যথা এমন তীব্র হয়ে ওঠে যে কাজ করাই কঠিন হয়ে পড়ে। যাদের এই সমস্যা নিয়মিত দেখা দেয়, তাদের মনে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা জাগে—এটা কি কোনো গুরুতর অসুখের লক্ষণ? তবে নিউরোলজিস্ট ডা. অতমপ্রীত সিং বলছেন, বারবার মাথা ব্যথা হওয়া মানেই সব সময় জটিল কোনো রোগ নয়। বরং আধুনিক জীবনযাপনের কিছু সাধারণ অভ্যাসই এর পেছনে বড় কারণ হতে পারে—বিশেষ করে যাদের মাইগ্রেনের প্রবণতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এসব অভ্যাসের প্রভাব আরও স্পষ্ট। যেসব অভ্যাসে বাড়তে পারে মাথা ব্যথা অনিয়মিত ঘুম: দেরি করে ঘুমাতে যাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া বা প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস মাথা ব্যথার একটি বড় কারণ। ডা. সিংয়ের মতে, ঘুমের এই অনিয়ম মস্তিষ্কের ব্যথা সামলানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে, যার ফলে মাইগ্রেনে আক্রান্তদের মাথা ব্যথা আরও ঘন ঘন হতে পারে। সপ্তাহজুড়ে কম ঘুমিয়ে ছুটির দিনে তা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও সবসময় কার্যকর সমাধান নয়। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা: ফোন-কম্পিউটার ছাড়া এখনকার জীবন ভাবাই কঠিন, কিন্তু টানা অনেকক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে চাপ পড়ে এবং একই ভঙ্গিতে বসে থাকার কারণে ঘাড়-কাঁধের পেশিতে টান তৈরি হয়। এভাবে দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে কাজ করা মানুষদের মধ্যে চাপজনিত মাথা ব্যথা দেখা দিতে পারে। তাই মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া এবং সঠিক ভঙ্গিতে বসার পরামর্শ দিয়েছেন এই চিকিৎসক। অনিয়মিত খাবার: ব্যস্ততার কারণে নাশতা বাদ দেওয়া, দুপুরের খাবার দেরি করে খাওয়া বা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার অভ্যাস অনেকের মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণও কারো কারো ক্ষেত্রে ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে। আবার হঠাৎ ক্যাফেইন বন্ধ করলেও মাথা ব্যথা শুরু হতে পারে বলে জানান তিনি। যেভাবে চেনা যাবে নিজের ট্রিগার কোন অভ্যাসের পর মাথা ব্যথা বাড়ছে, তা বুঝতে কয়েকদিন একটি ডায়েরি রাখা যেতে পারে—কখন ব্যথা শুরু হয়েছে, তার আগে কী খাওয়া হয়েছে, কতক্ষণ ঘুম হয়েছে, স্ক্রিনে কতক্ষণ সময় গেছে বা মানসিক চাপ ছিল কি না, এসব নোট করে রাখলে সম্ভাব্য কারণ শনাক্ত করা সহজ হয়। তবে ডা. সিং সতর্ক করে বলেছেন, মাথা ব্যথা যদি প্রায় প্রতিদিন হতে থাকে, ধীরে ধীরে তীব্রতা বাড়ে, কিংবা আগে কখনো অনুভব না করা নতুন ধরনের ব্যথা শুরু হয়—তাহলে শুধু জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে বসে না থেকে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বসুন্ধরায় আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল প্রকল্প, চলছে শেয়ার বিক্রি
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘বসুন্ধরা মেডিকেল সিটি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (টিবিজি) ও এস রহমান প্রপার্টিজের অংশীদারত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলার উদ্বোধন করেন তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আধুনিক স্থাপত্য ও বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান বলেন, বসুন্ধরা এলাকায় ১ হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নত ও সমন্বিত চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষও এই স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো থেকে উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, এস রহমান প্রপার্টিজের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ এই চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকল্পটিতে মোট ২ হাজার শেয়ার রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। হাসপাতালের শেয়ারের পাশাপাশি মেডিকেল শপ ও চিকিৎসকদের চেম্বারেও বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে। এস রহমান প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান এস এম শহীদুর রহমান বলেন, হাসপাতাল প্রকল্পের শেয়ার ছাড়াও মেডিকেল শপ ও ডক্টরস চেম্বারে বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। মেলা উপলক্ষে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ছাড় ও সহজ কিস্তির সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবায় ছাড় এবং গাড়ি পার্কিংয়ের মালিকানার সুযোগও থাকছে। শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো গাড়ি জেতার সুযোগ রাখার কথাও জানিয়েছে আয়োজকেরা। মেলা প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থী ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য খোলা থাকবে। ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইসিসিবিতে গিয়ে আগ্রহীরা প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। এ ছাড়া প্রকল্পের বিষয়ে জানতে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কার্যালয়ে যোগাযোগ করা যাবে। উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জেসিএক্স বিজনেস টাওয়ারের ১২ তলায় অবস্থিত। প্রকল্প-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য এস রহমান প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান এস এম শহীদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। যোগাযোগ নম্বর ০১৩১৮-১৬০৬৫৫ এবং ই-মেইল contact@srahmanproperties.com। উদ্যোক্তারা বলছেন, বসুন্ধরা মেডিকেল সিটি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে প্রকল্পের বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের শেয়ার, মালিকানা, কিস্তি, সুবিধা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের শর্তাবলি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।