📍 কিশোরগঞ্জ | লোড হচ্ছে...

বিভাগ: আন্তর্জাতিক

মোট খবর: 18 টি
রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ১২, আহত ৩০৯, মৃতদের মধ্যে ২ বাংলাদেশি

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ১২, আহত ৩০৯, মৃতদের মধ্যে ২ বাংলাদেশি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০৯ জন, যাঁদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শনিবারের (১০ অক্টোবর) এই হামলার পর বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং দুজন বাংলাদেশি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিশরের একজন করে নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। যেভাবে ঘটল হামলা এপির সূত্রে জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টার্মিনাল ৩ ও ৪-এর কমপ্লেক্সে। এরপর পুরো বিমানবন্দর খালি করে ফেলা হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ৪০১ নম্বর গেটে আঘাত হানতে এবং লোকজনকে আহত হতে তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। তাঁর ভাষায়, তখন সবাই দৌড়াচ্ছিল। রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এক ডজনেরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত বিমানবন্দরের দিকে যেতে দেখা গেছে। জিএসিএ বলছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, যাত্রীবাহী টার্মিনালে হামলায় বেসামরিক যাত্রী ও বিমানবন্দরের কর্মী হতাহত হয়েছেন। তিনি একে "পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ" বলে অভিহিত করেছেন এবং হামলার জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। একই দিন দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়েছে বলে জানিয়েছে জোট। দায় স্বীকার ও এ সপ্তাহের আগের হামলা হুথি মিডিয়া অফিসের প্রধান হামলার পর এক্সে লিখেছেন, তারা রিয়াদ বিমানবন্দর "বন্ধ করে দিয়েছে"। এ সপ্তাহে এটি ছিল কিং খালিদ বিমানবন্দরে তৃতীয় হামলা। বৃহস্পতিবারের হামলায় একজন বিমানচালকসহ তিন সৌদি নাগরিক নিহত হন এবং একটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৬ ও ৭ অক্টোবর আবহা ও কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলায় আরও তিনজন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ৩৬ জন আহত হন। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং নিশ্চিত করেছেন, নিহতদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিক। হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে কি না, এমন প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি তাঁরা খতিয়ে দেখবেন এবং খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিজেকে "গভীরভাবে মর্মাহত" বলে জানিয়ে হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়েছেন এবং অবিলম্বে এ ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। মিশর, ফিলিস্তিন ও কাতারও হামলার নিন্দা করেছে। সৌদি আরবে থাকা পশ্চিমা দূতাবাসগুলো নিজ নাগরিকদের রিয়াদ বিমানবন্দর এড়িয়ে চলতে বলেছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের পরামর্শ, বিমানবন্দর নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত এলাকাটি এড়িয়ে চলতে হবে। কুয়েত এয়ারওয়েজসহ বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় এয়ারলাইন্স রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে আসা ফ্লাইট বাতিল করেছে। ফ্লাইটরাডারের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদগামী সব ফ্লাইট হয় বাতিল হয়েছে, নয়তো অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংঘাতের পটভূমি ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কাছ থেকে হুথিদের ক্ষমতা দখল ঠেকাতে আরব দেশগুলো একত্র হয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গঠন করে। বছরের পর বছর বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়, সৃষ্টি হয় বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট। ২০২২ সালে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হয়, কিন্তু জুলাই থেকে সেই অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়তে শুরু করে। হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে "সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা" ঘোষণা করেছে এবং লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে। তাদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে চলা সৌদি অবরোধ এবং রাজধানী সানার বিমানবন্দরে বিমান হামলার প্রতিশোধ নিচ্ছে তারা। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী সম্প্রতি লোহিত সাগরের তীরবর্তী কৌশলগত এলাকা দখল করেছে, যার মধ্যে বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মোখা বন্দরও আছে। ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনী বলছে, তারা প্রণালীর দক্ষিণ প্রান্ত "সুরক্ষিত" করেছে।

১১ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
দিল্লিতে সিজেপির আন্দোলনে সংহতি জানাতে গিয়ে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

দিল্লিতে সিজেপির আন্দোলনে সংহতি জানাতে গিয়ে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তরুণদের আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করেছে পুলিশ। সাংসদদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে বসার পর তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের পাঁচ সংসদ সদস্য দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম ও সাকেত গোখলেকেও আটক করা হয়। [সূত্র](turn382084search0) ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই দিল্লিতে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে বের হওয়ার সময় বাধার মুখে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দিল্লির ১৮৩ সাউথ অ্যাভিনিউয়ে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে বিক্ষোভে যোগ দিতে বের হতে চাইলে পুলিশ তাঁকে বাধা দেয়। পরে বাইরে যেতে না পেরে তৃণমূলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে সাউথ অ্যাভিনিউয়ের একটি বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান ও ধরনা শুরু করেন তিনি। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে জানান, দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে না দেওয়ায় তিনি দলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে বাড়ির সামনের সড়কে অবস্থান নেন। এর পরই তাঁদের আটক করে পুলিশ। আটকের আগে অবস্থানস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা কর্মসূচিতে যোগ দিতে বের হয়েছিলাম। জেন-জি আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কিন্তু সিজেপির ছেলেদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বহু নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কাউকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আমরা সবসময় ছাত্র ও যুব সমাজের পাশে আছি।’ তিনি আরও জানান, যন্তর মন্তরে যেতে বাধা দেওয়া হলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাসস্ট্যান্ডেই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের বাসে তুলে দীর্ঘক্ষণ শহরের বিভিন্ন সড়কে ঘোরানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও কেরালার নেতা পিনারাই বিজয়নের সঙ্গেও পুলিশ একই আচরণ করেছে এবং তাঁকে দুই ঘণ্টা ধরে রাস্তায় ঘোরানো হয়েছে।

১০ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে ক্ষমতা: পাকিস্তানে সামরিক শাসনের বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত

সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে ক্ষমতা: পাকিস্তানে সামরিক শাসনের বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত

ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সংবিধান বাতিল, রাজনীতিকদের গ্রেপ্তার এবং সেনাবাহিনীর হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক যাত্রা বড় ধরনের ধাক্কা খায়। ইস্কান্দার মির্জার ঘোষিত সামরিক শাসন শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের ক্ষমতাকেই কেড়ে নেয়। আর জেনারেল আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠা পায় দীর্ঘ এক সামরিক কর্তৃত্বের ধারা, যার প্রভাব দেশটির রাজনীতি ও রাষ্ট্রকাঠামোয় সুদূরপ্রসারী হয়ে ওঠে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র ১১ বছরের মাথায়, ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর দেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর নেমে আসে বড় বিপর্যয়। প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা সংবিধান বাতিল করেন, পার্লামেন্ট ভেঙে দেন এবং সামরিক আইন জারি করেন। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বহু রাজনীতিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এভাবেই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার সম্ভাবনা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। এই ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনায় মির্জার সহযোগী ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খান। পরবর্তী সময়ে নিজের স্মৃতিকথায় আইয়ুব জানান, ১৯৫৪ সাল থেকেই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের আকাঙ্ক্ষা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার অংশ হয়ে উঠেছিল। তখন তিনি সেনাপ্রধানের পাশাপাশি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া রাজনীতিকদের প্রতি মির্জা ও আইয়ুব—দুজনেরই ছিল অবজ্ঞার মনোভাব। ১৯৫৯ সালের শুরুর দিকে পাকিস্তানে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সেই নির্বাচন দেশটিকে প্রতিবেশী ভারতের মতো সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারত। কিন্তু ক্ষমতালোভী মির্জা ও আইয়ুব রাজনীতিকদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব ছেড়ে দিতে প্রস্তুত ছিলেন না। অথচ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রায় নয় বছর পর, ১৯৫৬ সালে, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, চৌধুরী মোহাম্মদ আলী, আইয়ুব খুরোসহ দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার প্রচেষ্টায় একটি সংবিধান প্রণীত হয়েছিল। সেই সংবিধানের মধ্য দিয়েই সংসদীয় সরকারব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হয়। এর আগে গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন ইস্কান্দার মির্জা। ১৯৫৬ সালের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। ব্রিটিশ ওয়েস্টমিনস্টার ধারার আদলে প্রণীত ওই সংবিধানে সংসদীয় শাসনব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল। প্রত্যাশা ছিল, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠবে। কিন্তু ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর মির্জা নিজেই সেই সংবিধান বাতিল করেন, যে সংবিধানের ভিত্তিতে তিনি প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দেয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক আলোচনা, দর-কষাকষি ও সমঝোতার মাধ্যমে গড়ে ওঠা সাংবিধানিক কাঠামো এক ঘোষণাতেই ভেঙে পড়ে। মির্জার ক্ষমতার খেলায় আইয়ুবের উত্থান সামরিক আইন জারির পর ইস্কান্দার মির্জা জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করেন। এই সিদ্ধান্তের মধ্যে ছিল ক্ষমতার এক নির্মম পরিহাস। নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে গিয়ে মির্জা এমন একজন সেনাপ্রধানকে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসেন, যিনি অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করবেন। মির্জা ও আইয়ুব—দুজনই ছিলেন ক্ষমতার হিসাব-নিকাশে দক্ষ। তবে শেষ পর্যন্ত আইয়ুবের সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক কৌশলের কাছে মির্জা পরাজিত হন। সামরিক শাসন জারির পর মির্জা একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেন। সেই মন্ত্রিসভায় স্থান পান লারকানার বিদেশে শিক্ষিত তরুণ আইনজীবী জুলফিকার আলী ভুট্টো। মির্জার ছেলে হুমায়ুন মির্জার বন্ধু ভুট্টো মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়ে এতটাই উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন যে প্রেসিডেন্টকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি এমন মন্তব্যও করেছিলেন, যা রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তাঁর ধারণা ছিল, ইতিহাসে মির্জাকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর চেয়েও মহান ব্যক্তি হিসেবে স্মরণ করা হবে। কিন্তু সামরিক শাসন ঘোষণার পরের ২০ দিন মির্জা ও আইয়ুবের মধ্যে ক্ষমতার টানাপোড়েন বাড়তে থাকে। আইয়ুব যে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে আইয়ুব ও তাঁর অনুগত কর্মকর্তারা মির্জাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে কতটা অজ্ঞ ছিলেন, তা পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে প্রকাশ পায়। জেনারেল বুরকি, কে এম শেখ, মুসা ও ইয়াহিয়া খানসহ আইয়ুবের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, একই রাষ্ট্রে দুজনের হাতে ক্ষমতা থাকতে পারে না। ফলে মির্জাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকে করাচিতে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইয়াহিয়া খানও। সেখানে মির্জাকে বন্দুকের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এরপর তাঁকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদ মির্জাসহ বিমানে করে কোয়েটায় পাঠানো হয়। নাহিদ এর আগে তেহরানে পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত একজন ইরানি নৌ-কর্মকর্তাকে বিয়ে করেছিলেন। কয়েক দিন পর মির্জা ও নাহিদকে লন্ডনে নির্বাসনে পাঠানো হয়। জীবনের বাকি সময় তিনি বিদেশেই কাটান; পাকিস্তানে আর ফিরতে পারেননি। ২৭ অক্টোবর থেকে পাকিস্তানের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা চলে আসে আইয়ুব খানের হাতে। তিনি একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নতুন মন্ত্রিসভায় সামরিক কর্মকর্তাদের প্রাধান্য ছিল, যদিও কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তিকেও রাখা হয়েছিল। তরুণ ভুট্টোও দ্রুত নিজের অবস্থান পাল্টে আইয়ুবের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, তার প্রাথমিক ইঙ্গিত এই ঘটনাতেই দেখা যায়। আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখলের পর পাকিস্তানের বিচার বিভাগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ মুনিরের নেতৃত্বাধীন উচ্চ আদালত ‘প্রয়োজনীয়তার তত্ত্ব’ বা ডকট্রিন অব নেসেসিটি প্রয়োগ করে সামরিক শাসন ও ক্ষমতা দখলকে আইনি বৈধতা দেওয়ার পথ তৈরি করে। এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের পক্ষে একটি বিতর্কিত দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়। বিচারপতি মুনির এর আগেও একই ধরনের বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন। ১৯৫৪ সালে গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ গণপরিষদ ভেঙে দিলে স্পিকার মৌলভি তমিজউদ্দিন খান এর বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। কিন্তু মুনিরের নেতৃত্বাধীন আদালত সেই চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দেয়। তখনও ‘প্রয়োজনীয়তার তত্ত্ব’ ব্যবহার করা হয়েছিল। চার বছর পর আইয়ুবের ক্ষমতা দখলের ক্ষেত্রেও একই বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হয়। মুনির আইয়ুবের ক্ষমতা গ্রহণকে ফরাসি ও রুশ বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ক্ষমতা দখল এবং ওই বিপ্লবগুলোর ঐতিহাসিক চরিত্র এক ছিল না। ফলে বিচার বিভাগের এই অবস্থান সাংবিধানিক শাসনের পরিবর্তে সামরিক কর্তৃত্বকে শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করে। ক্ষমতায় বসেই আইয়ুব খান পাকিস্তানকে নিজের রাজনৈতিক পরীক্ষাগারে পরিণত করেন। ১৯৫৯ সালে তাঁর সরকার ইলেকটিভ বডিজ ডিসকোয়ালিফিকেশন অর্ডিন্যান্স বা ইবিডিও জারি করে। এর মাধ্যমে রাজনীতিকদের একটি বড় অংশকে নির্বাচনী রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দুর্বল করে প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর শাসনব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কোনো যুদ্ধে বিশেষ বীরত্ব প্রদর্শনের প্রেক্ষাপট ছাড়াই আইয়ুব নিজেকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করেন। তাঁর শাসনের প্রথম চার বছর পাকিস্তান সরাসরি সামরিক আইনের অধীনে পরিচালিত হয়। ১৯৬২ সালে নতুন সংবিধান প্রণয়নের পর সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হলেও প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নতুন সংবিধানের মাধ্যমে আইয়ুব নিজের ক্ষমতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। সর্বজনীন ভোটাধিকারের পরিবর্তে মাত্র ৮০ হাজার সদস্যের একটি নির্বাচকমণ্ডলীর মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়। এই নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যদের বলা হতো ‘বেসিক ডেমোক্র্যাটস’। তাঁরাই প্রেসিডেন্ট এবং অন্যান্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্বাচনে অংশ নিতেন। পাকিস্তানে একটি জাতীয় পরিষদ এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি প্রাদেশিক পরিষদ গঠন করা হলেও এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা সীমিত ছিল। গভর্নর নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষমতাও প্রেসিডেন্টের হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। ফলে প্রাদেশিক প্রশাসনও আইয়ুবের রাজনৈতিক ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। পূর্ব পাকিস্তানে জেনারেল আজম খান ও গোলাম ফারুকের মতো ব্যক্তিদের নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় ক্ষমতার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন আবদুল মোনেম খান। তিনি ছিলেন স্বল্পপরিচিত বাঙালি আইনজীবী এবং আইয়ুবের ঘনিষ্ঠ সমর্থক। পশ্চিম পাকিস্তানে কালাবাগের নবাব মালিক আমির মোহাম্মদ খান বেশ কয়েক বছর গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন। পরে সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসর নেওয়া জেনারেল মোহাম্মদ মুসা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। পরবর্তী সময়ে নবাবকে তাঁর এক ছেলে হত্যা করেন। ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে প্রচার করা হয়েছিল। বেসামরিক রাজনীতিকের পরিচয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় আইয়ুব খান মুসলিম লীগকে বিভক্ত করেন। দলটির একটি অংশকে নিয়ে তিনি গঠন করেন কনভেনশন মুসলিম লীগ। এর মাধ্যমে তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি করেন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পাশাপাশি দলীয় রাজনীতির ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। আইয়ুবের শাসনের দশ বছরে পাকিস্তানে এমন একটি বেসামরিক-সামরিক ক্ষমতাকাঠামো গড়ে ওঠে, যা রাজনৈতিক দল ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দেয়। প্রশাসনের একাংশ এবং সংবাদমাধ্যমের একটি অংশের তোষামোদও তাঁর শাসনকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তোলে। তাঁর স্মৃতিকথা ‘ফ্রেন্ডস নট মাস্টার্স’ বা ‘প্রভু নয়, বন্ধু’ অন্যের হাতে লিখিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। ১৯৬৩ সালে মোহাম্মদ আলী বগরার মৃত্যুর পর জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। আইয়ুব সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান দ্রুত ঘটতে থাকে। ১৯৬৫ সালে আইয়ুব ও ভুট্টোর নেতৃত্বে পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধের পরিণতিতে দুই দেশই চাপে পড়ে এবং ১৯৬৬ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর সঙ্গে আইয়ুব খান তাসখন্দ ঘোষণা প্রাথমিকভাবে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হয়। ভুট্টো ঘোষণাটিতে একটি ‘গোপন ধারা’ রয়েছে বলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি সরকার থেকে বেরিয়ে আসেন এবং একসময় যাঁর রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁর উত্থান ঘটেছিল, সেই আইয়ুব খানের বিরুদ্ধেই প্রচার শুরু করেন। ভুট্টোর এই অবস্থান পরিবর্তন পাকিস্তানের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির একটি উল্লেখযোগ্য দিক। আইয়ুবের মন্ত্রিসভায় তাঁর প্রবেশ যেমন ক্ষমতাসীনদের প্রতি আনুগত্যের পরিচয় বহন করেছিল, তেমনি পরবর্তী সময়ে সরকারের বিরোধিতা তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথ প্রশস্ত করে। আইয়ুব খানের শাসনামলে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ভাষা আন্দোলন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চনা এবং কেন্দ্রীয় শাসনের কর্তৃত্ববাদী আচরণ বাঙালির মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতিতে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতায় পরিণত হন। শেখ মুজিবকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। সরকারের লক্ষ্য ছিল, এই মামলার মাধ্যমে মুজিবের রাজনৈতিক জীবন শেষ করে দেওয়া এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দমন করা। কিন্তু ফল হয় উল্টো। আগরতলা মামলা পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক প্রতিবাদের জন্ম দেয়। শেখ মুজিবের প্রতি জনসমর্থন বাড়তে থাকে এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। যে মামলা দিয়ে তাঁকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত আইয়ুববিরোধী আন্দোলনকে তীব্র করে তাঁর পতনের পথ তৈরি করে। আইয়ুবের সমর্থকেরা তাঁকে এশিয়ার চার্লস দ্য গলের সমতুল্য নেতা হিসেবে তুলে ধরতে চাইতেন। তাঁর শাসনকালকে বলা হতো ‘উন্নয়নের দশক’। কিন্তু উন্নয়নের এই প্রচারণার আড়ালে দুই পাকিস্তানেই গণতান্ত্রিক অধিকার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং ক্ষমতার জবাবদিহি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছিল। বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তানে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ তাঁর শাসনের গ্রহণযোগ্যতাকে ক্রমশ দুর্বল করে দেয়। ১৯৬৯ সালের শুরুতে আইয়ুব খান গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়েন। আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করতে তিনি বাধ্য হন। শেখ মুজিবুর রহমানকে রাওয়ালপিন্ডিতে গোলটেবিল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর আগে খান আবদুল ওয়ালি খান ও ভুট্টোকে গ্রেপ্তার করা হলেও আন্দোলনের চাপে তাঁদেরও মুক্তি দিতে হয়। এই ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে দেয়, সামরিক শক্তি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা আইয়ুবের শাসনব্যবস্থা গণআন্দোলনের মুখে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। ১৯৬৯ সালের মার্চে আইয়ুব খান ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও তিনি গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখেননি। ১৯৬২ সালের সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় পরিষদের স্পিকার আবদুল জব্বার খানের হাতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব যাওয়ার কথা থাকলেও আইয়ুব সেই পথ অনুসরণ করেননি। পরিবর্তে তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের হাতে ক্ষমতা তুলে দেন। ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই আবার সামরিক আইন জারি করেন। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানে গণতন্ত্রের পরিবর্তে সামরিক শাসনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। এক সামরিক শাসকের বিদায়ের পর আরেক সামরিক শাসকের আগমন প্রমাণ করে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকটের মূলে ছিল শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন নয়; বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় সামরিক বাহিনীর প্রভাব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা। ইস্কান্দার মির্জা ও আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখল পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। মির্জা লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটান। সেখানে তাঁকে শেষ পর্যন্ত একটি রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপকের কাজ করতে হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তিনি নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। ১৯৬৯ সালের নভেম্বরে লন্ডনে তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু ইয়াহিয়া খান তাঁর মরদেহ পাকিস্তানে সমাহিত করার অনুমতি দেননি। ফলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে তেহরানে দাফন করেন। অন্যদিকে, ১৯৭৪ সালের এপ্রিলে আইয়ুব খান মারা যান অনেকটা বিস্মৃত ও উপেক্ষিত অবস্থায়। যে ক্ষমতা ধরে রাখতে তিনি পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই ক্ষমতাও তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে স্থায়ী করতে পারেনি। ১৯৫৮ সালের অক্টোবরের সামরিক অভ্যুত্থান পাকিস্তানের ইতিহাসে একটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক প্রবণতার সূচনা করে। পরবর্তী সময়ে দেশটি আরও তিন দফা সামরিক শাসনের মুখোমুখি হয়—জেনারেল ইয়াহিয়া খান, জেনারেল জিয়াউল হক এবং জেনারেল পারভেজ মোশাররফের শাসনামলে। আইয়ুব খান ক্ষমতা দখলের দুই বছর পর নিজেকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করেছিলেন। আর পাকিস্তানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় জেনারেল আসিম মুনিরকে সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট বেসামরিক সরকারের উদ্যোগে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করা হয়েছে। পাকিস্তানের ইতিহাসে বারবার সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণ, সংবিধানের স্থগিতকরণ এবং বেসামরিক রাজনীতির ওপর হস্তক্ষেপ একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনে: গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করলে তা কি দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে? ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনা এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিণতি দেখায়, সামরিক শক্তির মাধ্যমে সাময়িকভাবে ক্ষমতা সংহত করা সম্ভব হলেও তা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, সাংবিধানিক শাসন ও জনগণের রাজনৈতিক অধিকারকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে। পাকিস্তানের পরবর্তী ইতিহাস সেই সংকটেরই ধারাবাহিক প্রতিফলন।

১০ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
গুরুগ্রামের বাসা থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ

গুরুগ্রামের বাসা থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ

জনপ্রিয় ভারতীয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক কনটেন্ট নির্মাতা ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছে গুরুগ্রাম পুলিশ। হরিয়ানার গুরুগ্রামে নিজের বাসা থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। শনিবার (১০ অক্টোবর) হিন্দুস্তান টাইমসকে এ তথ্য জানিয়েছে গুরুগ্রাম পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, আগে থেকে জারি করা নির্দেশনা ও বিধিনিষেধ না মানায় তাঁকে আটক করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত একটি গণবিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল রাঠির। কিন্তু সেখানে রওনা হওয়ার আগেই গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর ‘কেন্দ্রীয় বিহার সোসাইটি’ আবাসিক এলাকায় তাঁর বাসায় হাজির হন পুলিশ সদস্যরা। এরপর সেখান থেকেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। গত কয়েক দিন ধরে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভ ও ককরোচ জনতা পার্টির সমাবেশ ঘিরে কড়া প্রশাসনিক নজরদারি চলছে। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে বড় জমায়েত ঠেকাতে যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন এনসিআর এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি আছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইন অমান্য ও জনসমাগম প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই রাঠিকে আটক করা হয়েছে।

১০ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৬: বিজয়ী নাভানেথেম নাভি পিল্লাই

নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৬: বিজয়ী নাভানেথেম নাভি পিল্লাই

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টার পর নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক আইনের শাসন সমুন্নত রাখার অবদানের জন্য তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। কে এই নাভি পিল্লাই পিল্লাই ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী বিচারক। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দায়িত্বও সামলেছেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন এবং রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সভাপতি ছিলেন। মনোনয়ন ও আলোচনা এ বছর শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মনোনীত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি ছিল বিভিন্ন সংগঠন। সম্ভাব্য প্রাপকের আলোচনায় ছিল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, সুদানে জরুরি উদ্ধারকাজে নিয়োজিত দল, ইউক্রেনে শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আদালত। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দীর্ঘদিন ধরে এই পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। আগের বিজয়ীরা গত বছর এই পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশটিতে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য দীর্ঘ লড়াই এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও গণতন্ত্রের পক্ষে অবিচল থাকার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে সম্মানিত করা হয়। ২০২৪ সালে পুরস্কার পায় জাপানের পরমাণু অস্ত্রবিরোধী সংগঠন নিহন হিদানকিয়ো। হিরোশিমা ও নাগাসাকির পরমাণু হামলায় বেঁচে যাওয়া মানুষদের নিয়ে গড়া এই তৃণমূল আন্দোলন পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের জন্য কাজ করছে। ২০২৩ সালে বিজয়ী হন ইরানের নার্গিস মোহাম্মাদি। ইরানে নারীদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই এবং সবার জন্য মানবাধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে অবদানের জন্য তিনি এই পুরস্কার পান। ২০২২ সালে যৌথভাবে পুরস্কার পান বেলারুশের মানবাধিকারকর্মী আলেস বিলিয়াতস্কি, রাশিয়ার মানবাধিকার সংস্থা মেমোরিয়াল এবং ইউক্রেনের মানবাধিকার সংস্থা সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ।

৯ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
আগামী ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ সফরে আসছেন জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফরিদা শহীদ

আগামী ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ সফরে আসছেন জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফরিদা শহীদ

সরকারের আমন্ত্রণে আগামী ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ সফরে আসছেন জাতিসংঘের শিক্ষার অধিকারবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফরিদা শহীদ। তিনি আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে। সফরকালে সবার জন্য মানসম্মত, সমতাভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আজীবন শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের বর্তমান অগ্রগতি, বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো খতিয়ে দেখবেন ফরিদা শহীদ। বিশেষ করে বৈষম্যহীনভাবে মানসম্মত সরকারি শিক্ষায় প্রবেশাধিকার এবং শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের বিষয়গুলোই তার এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশে অবস্থানকালে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, শিক্ষা খাতে কর্মরত অন্যান্য কর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন তিনি। সফর শেষে বাংলাদেশের শিক্ষার অধিকার-সংক্রান্ত সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন ফরিদা শহীদ। আগামী ২০২৭ সালের জুন মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে বাংলাদেশ সফর-সংক্রান্ত এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

৭ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
ইরান সংশ্লিষ্ট হুমকির আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র

ইরান সংশ্লিষ্ট হুমকির আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি হুমকির আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যের একটি ঘাঁটি থেকে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি এই তথ্য জানান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিমানগুলো রাখা হয়েছিল আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে, যা ইউরোপে মার্কিন বোমারু বিমান মোতায়েনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের একটি স্থান। সম্প্রতি ইরানে চালানো মার্কিন হামলায় এসব বিমানই ব্যবহার করা হয়েছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত সপ্তাহে এই ঘাঁটির কাছেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে পাঁচজন ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস এই ঘাঁটিকে একটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছিল। সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, তাদের ধারণা ছিল সেখানে একটি সম্ভাব্য হুমকি রয়েছে, আর তাই বিমানগুলো সেখানে রেখে দেওয়ার কোনো যুক্তি তিনি খুঁজে পাননি। তার ভাষায়, বিমান সরিয়ে নিতে খুব সামান্যই খরচ হয়, তাই হুমকি পাওয়ার পর সেগুলো সরিয়ে নেওয়াই তাদের সাধারণ অনুশীলন, যা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। যারা এই হুমকি দিয়েছে, তাদের সম্পর্কে তারা অবগত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এসব ব্যক্তির সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না—জানতে চাইলে ট্রাম্প সংক্ষেপে বলেন, তাদের সংযোগ ইরানের সঙ্গেই থাকবে। এর আগে সোমবার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, সতর্কতার অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এই বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে। তার ভাষ্যে, তারা কিছুটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই মনে করেন, ইরানি রাষ্ট্র গত ৪৯ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে যে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে আসছে, তারা এবারও সে ধরনের কিছুরই চেষ্টা করছে। তাই এ বিষয়ে তারা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে আছেন বলে জানান তিনি। তবে ভিন্ন সুর শোনা গেছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কণ্ঠে। তিনি বলেন, বোমারু বিমান হঠাৎ সরিয়ে নেওয়া এবং সন্দেহভাজন ইরানি চক্রান্তের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তার মতে, পেন্টাগন সব সময়ই প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সামরিক সম্পদ পুনর্বণ্টন করে থাকে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী বলেও মন্তব্য করেন রুবিও। এদিকে ঘটনার অনেক দিক এখনো স্পষ্ট না হলেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম মন্তব্য করেছেন, কোনো চক্রান্ত সত্যিই থাকলে তার পেছনে ইরানের সমর্থন থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তবে ইরান এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করা তথাকথিত সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দেওয়ার মধ্যেই ইরানের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যায় এবং এক্ষেত্রে ভুল জায়গায় দোষারোপ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

৬ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেল

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেল

২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞান বা ফিজিওলজিতে নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছেন কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান ও গেয়র্গ নাগেল। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিক্স-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে এ বছরের চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল অ্যাসেম্বলির সেক্রেটারি-জেনারেল থমাস পার্লম্যান বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেলের গবেষণার ফলে আলো ব্যবহার করে জীবন্ত মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। তাদের কাজের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অপটোজেনেটিক্স বর্তমানে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নোবেল কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এই গবেষণার ভিত্তি তৈরি হয় ১৯৯০-এর দশকে পিটার হেগেম্যানের শৈবালের আলো শনাক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে। পরে গেয়র্গ নাগেলের গবেষণায় আলো-সংবেদনশীল আয়ন চ্যানেল চ্যানেলরোডপসিন-২ শনাক্ত হয়। কার্ল ডেইসেরথ পরবর্তী সময়ে এই প্রযুক্তি স্তন্যপায়ী প্রাণীর স্নায়ুকোষে প্রয়োগ করেন এবং ২০০৬ সালে ‘অপটোজেনেটিক্স’ শব্দটি প্রচলিত হয়। অপটোজেনেটিক্সের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষকে আলো দিয়ে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করা যায়। ফলে স্মৃতি, অনুভূতি, আচরণসহ মস্তিষ্কের বিভিন্ন কার্যক্রমে কোন স্নায়ুকোষ কী ভূমিকা রাখে, তা আরও নির্ভুলভাবে গবেষণা করা সম্ভব হয়েছে। ২০২৬ সালের এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার, যা তিন বিজয়ীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। ১৯০১ সাল থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়ে আসছে। ২০২৬ সালের পুরস্কারটি এ বিভাগে মোট ১১৭তম নোবেল পুরস্কার। প্রথা অনুযায়ী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নোবেল পুরস্কারের বিভিন্ন বিভাগের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পুরস্কারের পর পর্যায়ক্রমে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি এবং অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

৫ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, হাসপাতালে নেওয়া হলো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারীকে

দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, হাসপাতালে নেওয়া হলো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারীকে

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় বিরল এক ঘটনা ঘটেছে। দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যু হয়নি। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৮টার দিকে ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে দুই দফা ইনজেকশন দেওয়ার পরও তিনি জীবিত থাকায় নির্ধারিত প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়। পাইকের আইনজীবী জানিয়েছেন, তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইককে পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ দেওয়া হয়েছিল। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের জন্য নির্ধারিত কক্ষের পর্দা দুইবার বন্ধ করা হয়। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদেরও চলে যেতে বলা হয়। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া চলার সময় পাইকের আইনজীবীরা জরুরি ভিত্তিতে তা বন্ধের আবেদন করেন। তাদের আবেদনে বলা হয়, পাইক অচেতন হয়ে পড়লেও তার হৃদস্পন্দন চলছিল এবং তিনি নাক ডাকছিলেন। পাইকের একজন আইনজীবী বিবিসিকে জানান, ৫০ বছর বয়সী ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ১৯৯৬ সালে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ওই সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর। তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। সমস্যাগ্রস্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য পরিচালিত একটি কর্মপ্রশিক্ষণ শিবিরে তাদের সঙ্গে স্লেমারের পরিচয় হয়েছিল। পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই চলছিল। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দেয়। এপি জানিয়েছে, টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দফায় দেওয়া ওষুধে বন্দির মৃত্যু না হলে দ্বিতীয় দফায় ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত ওষুধের সিরিঞ্জ প্রস্তুত রাখা হয়। তবে দ্বিতীয় দফার ওষুধ দেওয়ার পরও বন্দি জীবিত থাকলে পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে ওই প্রটোকলে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঠিক কী ঘটেছিল তা বের করতে সমন্বিত তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচনা করা হবে। গভর্নর আরও জানিয়েছেন, এ বছর টেনেসিতে নির্ধারিত সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড আর কার্যকর করা হবে না।

১ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
জিম্বাবুয়েতে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৬, মৃতদের মধ্যে ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়োও

জিম্বাবুয়েতে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৬, মৃতদের মধ্যে ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়োও

জিম্বাবুয়ের মারোন্দেরা জেলায় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দেশটির আলোচিত ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো এবং তার স্ত্রী লুসি মুতেকেও রয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসি নিউজ। বুধবার রাজধানী হারারের দক্ষিণ-পূর্বে মারোন্দেরা জেলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, হেলিকপ্টারটিতে চারজন যাত্রী ও দুজন ক্রু সদস্য ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই হেলিকপ্টারটিতে আগুন ধরে যাওয়ায় আরোহীদের মরদেহ পুড়ে যায়। পুলিশের মুখপাত্র পল নিয়াথি জানান, মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ার কারণে শুরুতে পরিচয় শনাক্তের কাজ কিছুটা সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে জেডবিসি নিউজ পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে উইকনেল চিভায়ো ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। জিম্বাবুয়ে সরকারের মুখপাত্র নিক মাংগোয়ানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, এই দুর্ঘটনায় কেউ বেঁচে নেই বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। নিহত ৪৩ বছর বয়সী ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো, তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান এবং ইসওয়াতিনির রাজা তৃতীয় মসওয়াতিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক নেতার সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করতেন।

১ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
‘খুব শিগগিরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ’: ট্রাম্প

‘খুব শিগগিরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ’: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ সমাপ্তির কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি উল্লেখ করেননি। একই সঙ্গে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও নিজের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছেন তিনি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দেশটির জনগণের উদ্দেশে ২৫ পৃষ্ঠার একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই চিঠিতে মার্কিন ভোটারদের ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরোধিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও চলমান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এবং বিদেশের যুদ্ধে মার্কিন সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করতেও ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। উল্লেখ্য, এসব বক্তব্য ইরানের সামরিক বাহিনীর নিজস্ব দাবি ও রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই এসেছে। যুদ্ধের উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে কিছুটা পুনরুদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে। বাণিজ্যিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের গড়ের প্রায় ৭৭ শতাংশের সমান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি সরবরাহপথে তেল পরিবহনের এই বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাণিজ্যে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও নৌপথটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। জাহাজ চলাচল ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানও পরস্পরবিরোধী। ইরান প্রণালিটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নৌপথটি সচল রাখতে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যেই ধীরে ধীরে বাড়ছে প্রণালিটি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ। এদিকে সংঘাতের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা আলাদাভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান, তবে সেই প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। সব মিলিয়ে একদিকে ট্রাম্পের যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশাবাদ, অন্যদিকে আইআরজিসির মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া রাজনৈতিক বার্তা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার—এই তিনটি বিষয় মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যুদ্ধ শেষ হওয়া নিয়ে আশাবাদী বক্তব্য শোনা গেলেও এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিয়ে এখনো যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
দক্ষিণ আফ্রিকায় একের পর এক নারীর মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক

দক্ষিণ আফ্রিকায় একের পর এক নারীর মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক

দক্ষিণ আফ্রিকায় ধারাবাহিকভাবে নারীদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক। দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১১ জন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি নতুন করে আরও একজন নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের সবগুলো একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ইকুরহুলেনি পৌর এলাকার একটি খোলা মাঠ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের টহলরত গাড়ির কর্মীরা মরদেহটি প্রথম দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার ব্রেন্ডা মুরিদিলি বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিহত নারীর পরিচয়, বয়স কিংবা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এর একদিন আগে শনিবার একই পৌর এলাকার একটি কবরস্থানের কাছ থেকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় আরেক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাদেশিক পুলিশপ্রধান টমি মথোমবেনি জানান, ওই নারীকে সম্ভবত পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত করা হবে। শনিবারের এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ফলে ধারাবাহিক এই হত্যাকাণ্ডগুলোর ঘটনায় বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকা সন্দেহভাজনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়া নবম নারীর মরদেহের ঘটনায় দুই নারীকে হত্যার অভিযোগে দুজনকে ইতিমধ্যে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার পেছনে সম্পর্কসংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। তবে প্রাদেশিক পুলিশপ্রধান মথোমবেনির ভাষ্যে, নবম হত্যাকাণ্ডটি একেবারে আলাদা একটি ঘটনা বলেই তদন্তকারীদের ধারণা, যদিও বাকি কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সংযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে কিছু মিল খুঁজে পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ মেলেনি যা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দায়ী। জানা গেছে, ইকুরহুলেনি এলাকায় জুলাই ও আগস্ট মাসে মাত্র ছয় কিলোমিটারের মধ্যে তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর চলতি মাসের শুরুতে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে একই এলাকা থেকে আরও ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শনিবারের মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত নিহত সব নারীর বয়স ছিল ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনকে সম্পূর্ণ বা আংশিক নগ্ন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে উদ্ধার হওয়া প্রথম মরদেহটির ক্ষেত্রে ওই নারীকে নগ্ন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল এবং তার শরীর তার দিয়ে বাঁধা ছিল। পরে তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা দীর্ঘদিনের একটি গুরুতর সমস্যা এবং বিশ্বে নারী হত্যার হারের দিক থেকেও দেশটির অবস্থান সবচেয়ে উদ্বেগজনকদের মধ্যে অন্যতম। শনিবার দশম নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। তিনি বলেন, ধারাবাহিকভাবে নারী হত্যার এই ঘটনাগুলো দেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় অক্টোবরের শেষে বা নভেম্বরের শুরুতে: গাম্বিয়া

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় অক্টোবরের শেষে বা নভেম্বরের শুরুতে: গাম্বিয়া

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার রায় আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে অথবা নভেম্বরের শুরুতে ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী দাউদা এ. জালো। বেসরকারি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ২৪-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলায় অপরাধ প্রমাণে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) বিপুল পরিমাণ সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে গাম্বিয়া। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের পরও বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী দেশ কার্যকরভাবে এগিয়ে না আসায় মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর উদ্যোগ নেয় পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১৯ সালে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ওআইসিভুক্ত দেশ গাম্বিয়া। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার মূল শুনানি চলতি বছরের জানুয়ারিতে শেষ হয়। গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল দাউদা এ. জালো জানান, শুনানিতে রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের সরাসরি আদালতে হাজির করে তাদের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট ছবি, জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদন, বেসরকারি সংস্থার রিপোর্ট ও বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্যসহ নানা ধরনের প্রমাণও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার ভাষায়, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বেশ শক্তিশালী এবং রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের সরাসরি বক্তব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রামাণ্য নথিও এতে যুক্ত হয়েছে। মূল শুনানি গত জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার পর গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী জানান, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই মামলাটির রায় ঘোষণা হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন, আর সেটি অক্টোবরের শেষ দিকে অথবা নভেম্বরের শুরুতে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রায়ে মিয়ানমারকে গণহত্যার জন্য দায়ী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের মিয়ানমারের নিজস্ব আইনের আওতায় বিচারের নির্দেশও আদালত দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, বিপুল পরিমাণ প্রমাণ উপস্থাপন করায় তারা আশাবাদী যে আদালত গাম্বিয়ার সঙ্গে একমত হবে এবং মিয়ানমারকে গণহত্যার জন্য দায়ী সাব্যস্ত করবে। রোহিঙ্গাদের জন্য একাধিক প্রতিকারের দাবিও জানিয়েছে গাম্বিয়া, যার মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, নিজ নিজ ভিটেমাটিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার, হারানো সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের সুযোগ এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অধিকার। গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আরও মত দেন, মিয়ানমার যদি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের এই রায় না মানে, তাহলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে আইসিজের এই রায়কে একটি শক্তিশালী আইনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
শর্ত মানলে সাত দিনেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব

শর্ত মানলে সাত দিনেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তার ভাষ্যমতে, এই প্রস্তাব স্বাক্ষরিত হলে সাত দিনের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। স্থানীয় সময় শুক্রবার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আরাঘচি জানান, প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ হলে চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন প্রস্তাবে যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো গত জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই আগে থেকে উল্লেখ ছিল। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানের এই প্রস্তাব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা চলমান রয়েছে, যেখানে পারমাণবিক ইস্যুও গুরুত্ব পাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন স্থাপনার ওপর ব্যাপক পাল্টা হামলা চালায় এবং একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিও বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হতো। ইরান এটি বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও দামে অস্থিরতা দেখা দেয়। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও চলমান অস্থিরতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই যুদ্ধ কীভাবে বন্ধ করা যায়, সে বিষয়েও তার ওপর চাপ বাড়ছে। নতুন প্রস্তাব প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যেতে পারে এবং সাত দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। তবে এই প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন কী পদক্ষেপ নেবে, তা সম্পূর্ণভাবে তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠিক কোন কোন শর্ত পূরণ করতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ইরানি এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষায়, মার্কিনিদের যেসব শর্তের কথা জানানো হয়েছে, তার সবই ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে আগে থেকেই উল্লেখ আছে, নতুন কোনো শর্ত যোগ করা হয়নি। গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ওই সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছিল, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবে না। পাশাপাশি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধেরও কথা ছিল সেখানে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রণালিটি ঘিরে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনায় বসারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে দুই পক্ষ ফের হামলা ও পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ে। এরপর হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায় ইরান, যার পক্ষ থেকে বলা হয়, অনুমোদনবিহীন রুট ব্যবহার করার কারণেই এসব জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এর পাল্টা জবাবে হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করে, যার ফলে ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখলেন শি জিনপিং, বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখলেন শি জিনপিং, বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফরে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গতকাল বুধবার স্ত্রী ও চীনের ফার্স্টলেডি পেং লি ইউয়ানকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। স্থানীয় সময় বিকেলে ওয়াশিংটনের অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে তাদের বহনকারী উড়োজাহাজ। সেখানে শি জিনপিং ও পেং লি ইউয়ানকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। এ সময় মার্কিন শিশুরা তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়, লাল গালিচার দুই পাশে দাঁড়িয়ে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার। সামরিক ব্যান্ডে বেজে ওঠে দুই দেশের জাতীয় সংগীত, সঙ্গে ছিল ২১ বার তোপধ্বনি ও যুদ্ধবিমানের মহড়া। চীনা প্রেসিডেন্ট দম্পতিকে স্বাগত জানাতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই সফরের দিকে নজর রয়েছে গোটা বিশ্বের। শি জিনপিংকে একজন মহান নেতা আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, তার এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি। জবাবে লিখিত বক্তব্যে মার্কিন জনগণের প্রতি চীনা জনগণের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান শি জিনপিং। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই মহৎ জাতি, আর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে দুই দেশের স্বার্থ গভীরভাবে জড়িত। তার মতে, দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হওয়া উচিত—চীনের জাতীয় পুনরুত্থান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ফের শক্তিশালী করার লক্ষ্য একে অপরের পরিপন্থী নয়, বরং এগুলো একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব এবং তাতে গোটা বিশ্বই উপকৃত হবে। চলতি বছরের মে মাসে ট্রাম্পের চীন সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে যে কৌশলগত স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল, তার প্রসঙ্গ টেনে শি জিনপিং বলেন, দুই দেশের উচিত এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তোলা যেখানে সহযোগিতা হবে মূল ভিত্তি, প্রতিযোগিতা থাকবে সংযত এবং মতপার্থক্য থাকবে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে। এভাবেই বিশ্বের দুই বৃহৎ শক্তির সঠিক সহাবস্থানের পথ তৈরি সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে বিশ্ব পরিস্থিতি বদলালেও চীন-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহাসিক ভিত্তি অটুট রয়েছে, আর দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রত্যাশাও অপরিবর্তিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গভীর মতবিনিময়ের পাশাপাশি দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন শি জিনপিং। সফর শেষে যৌথ প্রচেষ্টায় ফলপ্রসূ ফল আসবে বলে আশা প্রকাশ করে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের কল্যাণ বৃদ্ধি এবং বিশ্ব শান্তির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
জাতিসংঘে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: চুক্তি নয়তো ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি

জাতিসংঘে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: চুক্তি নয়তো ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান ইস্যুতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অধিবেশনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস বা ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার বিকল্প তার হাতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে রণহুঙ্কার দিলেও তেহরানের সঙ্গে নতুন সমঝোতায় পৌঁছানোর রাস্তা যে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, সেটিও তুলে ধরেছেন তিনি। ভাষণে ট্রাম্প সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি আসলে কোন পথটি বেছে নেবেন? ইরানকে এমন সুযোগ দেওয়া হবে কি না যাতে তারা পুনর্গঠিত হয়ে আগের চেয়েও শক্তিশালী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, নাকি দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে—সে বিষয়ে তাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক চাপের কারণেই তেহরান আজ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হয়েছে, যা তার ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ নীতির বড় সাফল্য। কঠোর বক্তব্যের আড়ালে অবশ্য পর্দার পেছনের কূটনীতি থেমে নেই। জানা গেছে, অধিবেশনের ফাঁকেই মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মধ্যস্থতায় প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী পরোক্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নেন, যা সংঘাতের মাঝেও কিছুটা হলেও সম্ভাবনার দুয়ার খোলা রাখছে। ইরান ইস্যু ছাড়াও বিশ্বমঞ্চে একাধিক আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে শিগগিরই একটি কূটনৈতিক সমাধান আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসারে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র নেতৃত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা হবে। এ সময় এআই-এর বদলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ পরিভাষা ব্যবহারের পক্ষে যুক্তি দেন তিনি। বক্তব্যের শেষাংশে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বৈশ্বিক কাঠামোর চেয়ে নিজ দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সামরিক শক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। ভাষণে কিউবা সরকারকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দিলে ক্ষোভ প্রকাশ করে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন কিউবার প্রতিনিধিরা। কূটনৈতিক এই দৌড়ঝাঁপের মাঝে যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষ করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা নিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গেও একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি সংলাপের ভারসাম্য বজায় রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন কোন পথে হাঁটেন, তাতেই আটকে আছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতির নজর।

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ: সমস্যার চেয়ে বড় হয়ে উঠছে দায় চাপানোর রাজনীতি

পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ: সমস্যার চেয়ে বড় হয়ে উঠছে দায় চাপানোর রাজনীতি

পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ নতুন কোনো সমস্যা নয়। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বছরের পর বছর ধরে জঙ্গি হামলা, বিচ্ছিন্নতাবাদ, সামরিক অভিযান ও রাজনৈতিক সহিংসতা চলছে। এসবের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। তাই সন্ত্রাসবাদের দায় কোনো নির্দিষ্ট প্রদেশ, জাতিগোষ্ঠী বা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সমস্যার প্রকৃত কারণকে আড়াল করতে পারে। মরিয়ম নওয়াজের বক্তব্যের পেছনে পাঞ্জাবের একটি বাস্তব নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকতে পারে। বিভিন্ন সময় জঙ্গি ও অপরাধী চক্র প্রাদেশিক সীমান্ত ব্যবহার করে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। তবে কোনো অঞ্চলের ভেতর দিয়ে জঙ্গিদের চলাচল করা আর সেই অঞ্চলের মানুষকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে এক করে দেখা—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া, বেলুচিস্তান, সিন্ধ ও পাঞ্জাব—প্রতিটি প্রদেশেরই নিজস্ব রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বাস্তবতা রয়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিবাদ ও সামরিক অভিযানের বড় ধরনের চাপ বহন করে আসছে। বেলুচিস্তানে রয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদ, রাজনৈতিক অসন্তোষ, সম্পদ বণ্টন নিয়ে বিরোধ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ। ফলে কোনো একটি প্রদেশকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ সমস্যার শিকড় শুধু বর্তমানের জঙ্গি তৎপরতায় সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নীতিতে বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনকে একভাবে দেখা হয়নি—এমন অভিযোগ বহু বছর ধরে রয়েছে। কিছু সংগঠনকে কৌশলগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, আবার অন্য সংগঠনগুলো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। ভারত ও কাশ্মীরকেন্দ্রিক বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এমন দ্বৈত নীতির অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক বা কৌশলগত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পর সেটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সব সময় সম্ভব হয় না। সময়ের সঙ্গে এসব সংগঠন নিজেদের লক্ষ্য ও স্বার্থ অনুযায়ী পরিচালিত হতে পারে। তখন তারা যে রাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থে একসময় ব্যবহৃত হয়েছিল, সেই রাষ্ট্রের জন্যই নিরাপত্তা হুমকি হয়ে উঠতে পারে। লস্কর-ই-তাইয়েবা ও জইশ-ই-মোহাম্মদের মতো সংগঠনের উত্থানও কোনো প্রাদেশিক সীমান্তের আকস্মিক ঘটনা নয়। এসব সংগঠন এমন একটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিবেশে বিকশিত হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি এক ছিল না। পাকিস্তানের বর্তমান সন্ত্রাসবাদ সংকট বুঝতে হলে এই ইতিহাসকে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। পাকিস্তানের বর্তমান সংকটের সঙ্গে ১৯৭১ সালের ইতিহাসের সরাসরি তুলনা করা না হলেও ওই সময়ের ঘটনাগুলো থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য ক্রমে প্রকট হয়। জনসংখ্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব দেখতে পায়নি। সামরিক ও আমলাতান্ত্রিক কাঠামোয় পশ্চিম পাকিস্তানের প্রভাব ছিল বেশি। অর্থনৈতিক বৈষম্যও অসন্তোষ বাড়ায়। পূর্ব পাকিস্তান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল। এসব বৈষম্য ধীরে ধীরে রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে শক্তিশালী করে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও সেই নির্বাচনের ফল অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত হওয়া এবং রাজনৈতিক সমাধানে ব্যর্থতার পর পরিস্থিতি দ্রুত সংঘাতের দিকে যায়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। এই ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—শুধু শক্তি প্রয়োগ করে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও সমান মর্যাদা নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রের ভেতরে অবিশ্বাস বাড়তে থাকে। পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন। কোনো প্রদেশের জনগণকে জঙ্গি বা বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা যেমন অন্যায়, তেমনি একটি অঞ্চলের রাজনৈতিক অসন্তোষকে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখা সমস্যাটিকে আরও জটিল করতে পারে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মানুষ জঙ্গি নন। বেলুচিস্তানের সাধারণ মানুষও সেখানে সক্রিয় কোনো সশস্ত্র সংগঠনের সমার্থক নন। একইভাবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক নীতির দীর্ঘ ইতিহাসের দায় সাধারণ পাঞ্জাবিদের ওপরও চাপানো যায় না। রাষ্ট্রের নীতি ও সাধারণ মানুষের পরিচয় এক বিষয় নয়—এই পার্থক্যটি পাকিস্তানের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পাকিস্তানের সামনে সবচেয়ে বড় নীতিগত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কি একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হবে? কোনো সংগঠন বিদেশি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালালে তাকে সহনীয় হিসেবে দেখা হবে, আর একই ধরনের সংগঠন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরলে তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করা হবে—এমন নীতি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে পারে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নিতে হলে সংগঠনটির লক্ষ্য বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং তার সহিংস কর্মকাণ্ড ও আইনের অবস্থানকে বিবেচনায় নিতে হবে। সব ধরনের সশস্ত্র উগ্রবাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে একই আইনি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োগ করাই টেকসই পথ। পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান প্রয়োজন হতে পারে। জঙ্গি নেটওয়ার্ক ধ্বংস, অর্থায়নের উৎস বন্ধ, অস্ত্র সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি। তবে শুধু সামরিক ব্যবস্থা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিশ্চিত করা কঠিন। এর পাশাপাশি প্রয়োজন রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, কার্যকর ফেডারেল কাঠামো, ন্যায়সংগত অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং প্রাদেশিক পর্যায়ে জনগণের আস্থা অর্জন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, তাহলে বিচ্ছিন্নতা ও অবিশ্বাসের জায়গা সংকুচিত হতে পারে। পাকিস্তানের ইতিহাস দেখিয়েছে, রাজনৈতিক সংকটকে শুধু নিরাপত্তার সমস্যা হিসেবে দেখলে তার সমাধান দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ১৯৭১ সালের অভিজ্ঞতা তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। পাঞ্জাবে অন্য প্রদেশ থেকে জঙ্গিদের প্রবেশের ঘটনা থাকলে সেটি অবশ্যই নিরাপত্তা সংস্থার জন্য উদ্বেগের বিষয়। কিন্তু প্রাদেশিক সীমান্তকে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের মূল কারণ হিসেবে দেখলে সমস্যার গভীরতর দিকগুলো উপেক্ষিত থাকবে। পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ কোনো এক প্রদেশের তৈরি সমস্যা নয়। এর পেছনে রয়েছে জঙ্গি নেটওয়ার্ক, দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা নীতি, রাজনৈতিক বঞ্চনা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, দুর্বল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় কৌশলের জটিল ইতিহাস। তাই সমাধানের পথও প্রাদেশিক বিভাজনে নয়। পাকিস্তানের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো—সব নাগরিককে সমান মর্যাদা দেওয়া, সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একই নীতি গ্রহণ করা এবং রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠন করা। একটি রাষ্ট্র শুধু তার সীমান্ত রক্ষা করেই নিরাপদ হয় না; নাগরিকদের আস্থাও অর্জন করতে হয়। পাকিস্তানের জন্য ১৯৭১ সালের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটাই।

৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
আমেরিকা কঠিন করল আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ

আমেরিকা কঠিন করল আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ

যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে বিধিনিষেধ জারি করেছে। ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট কিছু ইন্টার্নশিপের অনুমোদন সীমিত করতে নিজ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি নির্দেশ জারি করেছে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন। সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে, এই নির্দেশনা না মানলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন বাতিল হতে পারে। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা সিপিটির অনুমোদন বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। সিপিটির আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাঁদের পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে ইন্টার্নশিপ বা প্রশিক্ষণমূলক কাজে অংশ নিতে পারেন। তবে আমেরিকার কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষ্য, সম্প্রতি দেওয়া কিছু অনুমোদন প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। নিয়ম অনুযায়ী, প্রশিক্ষণটি কোনো প্রতিষ্ঠিত পাঠ্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেই কেবল সিপিটির অনুমোদন দেওয়া যায়।

২৯ আগস্ট, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →