📍 কিশোরগঞ্জ | লোড হচ্ছে...

বিভাগ: শিক্ষা

মোট খবর: 9 টি
শিক্ষাখাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ এবার, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষাখাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ এবার, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষাখাতে বাজেট ধাপে ধাপে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ বছরই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাসের বই পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার, যেখানে কোনো শিশুই শিক্ষাবঞ্চিত থাকবে না। কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞানকে অপরিহার্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাদানের কৌশল পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। তার ভাষায়, প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সহায়ক শক্তি হিসেবে দেখতে চায় সরকার। এই লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ এবং বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, নতুন সিলেবাস অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক পাবে শিক্ষার্থীরা, আর তারা যেন বইবিমুখ হয়ে না পড়ে, সে জন্য শিখন পদ্ধতিতে আনন্দময় শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলো আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষকতা পেশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষকতাকে কখনো উপায়হীন বিকল্প পেশা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। মেধাবীরা যেন শিক্ষকতাকে নিজেদের পছন্দের শীর্ষ তালিকায় রাখেন, সেভাবেই ভবিষ্যতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষকদের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

৫ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
পড়াশোনা সহজ করতে শিক্ষার্থীদের জন্য দরকারি ৫টি মোবাইল অ্যাপ

পড়াশোনা সহজ করতে শিক্ষার্থীদের জন্য দরকারি ৫টি মোবাইল অ্যাপ

বর্তমান প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের যুগে কেবল বই-খাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে স্মার্টফোনের সঠিক ব্যবহারে পড়াশোনাকে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক করে তোলা সম্ভব। প্রতিদিনের রুটিন তৈরি করা, ক্লাসের গুরুত্বপূর্ণ নোট নেওয়া কিংবা পড়ার সময় মোবাইলের নোটিফিকেশনে মনোযোগ নষ্ট হওয়া বন্ধ করা—এসব কাজের জন্যই এখন রয়েছে বেশ কয়েকটি কার্যকর মোবাইল অ্যাপ। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন পড়াশোনার গতি ও দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক এমন পাঁচটি সেরা অ্যাপের তথ্য তুলে ধরা হলো। নোট নেওয়া ও তালিকা তৈরির জন্য গুগল কিপ পড়াশোনা বা ক্লাসের প্রয়োজনীয় বিষয় দ্রুত লিখে রাখার জন্য গুগল কিপ বেশ কার্যকর একটি অ্যাপ। ক্লাসে শিক্ষক গুরুত্বপূর্ণ কিছু বললে তা দ্রুত টাইপ করে কিংবা ভয়েস রেকর্ড করে সংরক্ষণ করা যায় এই অ্যাপে। পাশাপাশি প্রতিদিনের পড়ার তালিকা তৈরি করে কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিক চিহ্ন দিয়ে চেক করার সুবিধাও এতে আছে। যেকোনো ডিভাইসেই এটি সহজে সিংক্রোনাইজ করা যায়, ফলে ফোন নষ্ট বা হারিয়ে গেলেও তথ্য হারানোর ঝুঁকি থাকে না। মনোযোগ ধরে রাখতে ফরেস্ট অ্যাপ পড়তে বসলেই বারবার সোশ্যাল মিডিয়া বা নোটিফিকেশন দেখতে ইচ্ছা করে—এমন সমস্যার সহজ সমাধান দিতে পারে ফরেস্ট অ্যাপ। অ্যাপটি চালু করে নির্দিষ্ট সময় (যেমন ২৫ বা ৫০ মিনিট) সেট করলে ফোনে একটি ভার্চুয়াল গাছের চারা রোপণ হয়। সেই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অন্য কোনো অ্যাপে না ঢুকে মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে গাছটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে, আর পড়া রেখে ফেসবুক বা গেমে ঢুকলেই গাছটি মরে যায়। এই গেমধর্মী ফিচারটি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। ইংরেজি শেখার জন্য ডুওলিঙ্গো আন্তর্জাতিক বই পড়া, উচ্চশিক্ষা কিংবা আইইএলটিএস প্রস্তুতির জন্য ইংরেজিতে ভালো দখল থাকা জরুরি। ডুওলিঙ্গো অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় দিয়ে খেলার ছলে নতুন শব্দ, ব্যাকরণ ও বাক্য গঠন শেখা সম্ভব। রঙিন ইন্টারফেস ও সহজ কুইজের কারণে অ্যাপটি সব বয়সী শিক্ষার্থীর কাছেই বেশ জনপ্রিয়। অল-ইন-ওয়ান স্টাডি প্ল্যানার নোশন হাইস্কুল বা কলেজ শিক্ষার্থীদের সব বিষয়ের সিলেবাস, ক্লাস রুটিন, অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার তারিখ এবং পরীক্ষার সময়সূচি একসঙ্গে গুছিয়ে রাখার জন্য নোশন একটি দারুণ অ্যাপ। এতে বিভিন্ন রঙে নিজের মতো করে সাজানো স্টাডি প্ল্যানার বা রুটিন তৈরি করা যায়, যা পড়াশোনাকে অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত করে তোলে। নোট ও বইয়ের ডিজিটাল কপি তৈরিতে ক্যামস্ক্যানার সহপাঠীর কাছ থেকে নোট সংগ্রহ করা বা বইয়ের নির্দিষ্ট পাতার ছবি তুলে রাখা শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক কাজের অংশ। ক্যামস্ক্যানার অ্যাপ দিয়ে খাতা বা বইয়ের ছবি তুললে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার ও প্রফেশনাল মানের পিডিএফ ফাইলে রূপান্তরিত হয়ে যায়। এর ফলে যেকোনো সময় মোবাইল স্ক্রিনেই স্পষ্টভাবে পড়া যায়, আর প্রয়োজনে প্রিন্ট করাও হয়ে ওঠে অনেক সহজ।

২ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ পাবেন প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জন: শিক্ষামন্ত্রী

১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ পাবেন প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জন: শিক্ষামন্ত্রী

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জনকে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। যারা এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়োগ পাবেন না, তাদের বিষয়েও পরবর্তী সময়ে কাজ করা হবে বলে জানান তিনি। সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির এক সভায় এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জন বাকি রয়েছেন এবং তারা আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ পাবেন। যারা এই সময়ের মধ্যে নিয়োগ পাবেন না, তাদের নিয়েও আলাদাভাবে কাজ করা হবে বলে জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায় ১০ লাখ ৬৯ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। যথাযথভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তারা কাজ শুরু করেছিলেন এবং এ পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৮৫৪ জনের চূড়ান্ত আবেদন তাদের কাছে এসেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (ডিপিও) কার্যালয় থেকে নিয়োগপত্র ইস্যু করার সময় দেখা গেছে, অনেকের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং কেউ কেউ ইতিমধ্যে নিজেদের ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন, যা পর্যায়ক্রমে তারা হালনাগাদ করে জানাচ্ছেন। মন্ত্রী জানান, এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগিয়ে চলছে এবং প্রার্থীদের ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্যও যথাসময়ে পাওয়া যাচ্ছে। যাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি, তাদের বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ প্রসঙ্গে এর আগেও শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়টি যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে প্রতিশোধের প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে প্রতিশোধের প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ। ফিফা আসিয়ান কাপে গ্রুপের সেরা দুইয়ে জায়গা করে নেওয়ার সমীকরণ সামনে রেখে আজ হামজা চৌধুরীদের প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর। র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৩৩ ধাপ এগিয়ে আছে তারা। গত এক বছরে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশ দলের। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার আত্মবিশ্বাসী ও আগ্রাসী ফুটবল উপহার দিতে চান কোচ টমাস ডুলি। গতকাল জাকার্তায় অনুশীলন শেষে তিনি স্পষ্ট করেই বলেন, ম্যাচ জেতার ব্যাপারে তার কোনো দ্বিধা নেই এবং প্রতিপক্ষের র‍্যাংকিং নিয়ে তিনি মোটেও ভাবছেন না। তার ভাষায়, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আগের দুটি ম্যাচই ছিল যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ—একটিতে ২-১ এবং অন্যটিতে ১-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে খেলোয়াড়, সমর্থক ও গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া থেকে তার মনে হয়েছে, ওই দুই ম্যাচেই আসলে জেতার সুযোগ ছিল দলের, আর যেসব গোল হজম করতে হয়েছিল, তা মূলত নিজেদের ভুলেরই ফল। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার এগোতে চান ডুলি। তার ভাষ্যে, শুরু থেকেই খেলোয়াড়দের বলা হয়েছে মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে হবে এবং মাঠে আরও আত্মবিশ্বাসী ও আগ্রাসী হতে হবে। প্রতিপক্ষ র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকলেও নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবলটাই খেলার তাগিদ দেন তিনি। উল্লেখ্য, গত বছর জুনে ঢাকায় এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে গোলকিপার ও রক্ষণের ভুলে সিঙ্গাপুরের কাছে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। এরপর প্রতিপক্ষের মাঠে অনুষ্ঠিত ফিরতি লেগে দারুণ খেলেও পেনাল্টির গোলে হার মানতে হয়েছিল দলটিকে। সেই দুই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন মিডফিল্ডার শমিত শোম। তার ভাষায়, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুইবার হারের পর এবার প্রতিশোধ নেওয়ার একটা তাগিদ আছে দলের মধ্যে, আর এখনই এর জন্য উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন তিনি। আগের দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতা থেকে প্রতিপক্ষের শক্তি সামলানো এবং দুর্বলতা কাজে লাগানোর বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান কানাডাপ্রবাসী এই ফুটবলার। মালয়েশিয়া ম্যাচের হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন শমিত শোম। তার নিজের মূল্যায়নে, সেই ম্যাচে তার পারফরম্যান্স ভালো হয়নি এবং দল হিসেবেও আরও ভালো করার সুযোগ ছিল। তবে সেই হতাশা পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ভালো কিছু করার প্রত্যয় জানান তিনি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিল বাংলাদেশকে, যেখানে নিচ থেকে বল নিয়ে ওপরে ওঠার তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দলটি। এবার সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ভিন্ন এক বাংলাদেশকে দেখতে চান কোচ ডুলি। তিনি বলেন, মাঝমাঠ শক্ত রাখা হলেও পুরোপুরি রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার পক্ষে নন তিনি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দলের যে খেলার ধরন দেখা গিয়েছিল, তা তার একেবারেই পছন্দ হয়নি বলে জানান তিনি, আর এবার আরও সামনে এগিয়ে খেলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করার তাগিদ দেন। মালয়েশিয়া ম্যাচের সেই বিবর্ণতা পেছনে ফেলে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে নতুন এক বাংলাদেশকে দেখা যায় কি না, তার উত্তর মিলবে মাঠেই। আজ বিকেল ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি, যা সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
এআই একশ কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে, সতর্ক করলেন বিল গেটস

এআই একশ কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে, সতর্ক করলেন বিল গেটস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যদি অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা একশ কোটির বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। শুক্রবার এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। গেটসের ভাষায়, ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে সর্বাধুনিক এআই প্রযুক্তির সম্মিলিত ব্যবহার এমন এক ধরনের ধ্বংসাত্মক শক্তি তৈরি করতে পারে, যার নজির মানব ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি। তার মতে, এআই নিঃসন্দেহে এমন ঘটনা ঘটানোর ক্ষমতা রাখে, যা একশ কোটি মানুষের প্রাণহানির কারণ হতে পারে। তবে এই মাত্রার বিপর্যয় ঘটবেই—এমন নিশ্চয়তা তিনি দেননি, বরং বলেছেন এটি শতভাগ নিশ্চিত নয়। তার কথায়, এত শক্তিশালী কোনো প্রযুক্তি এর আগে কখনো অসৎ উদ্দেশ্যধারী কোনো ব্যক্তির হাতে পড়েনি, আর এখানেই মূল উদ্বেগের জায়গা। এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ছেড়ে না দিয়ে সরকারগুলোকে এ বিষয়ে শক্তিশালী আইন তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন গেটস। তার মতে, প্রযুক্তির যে গতিতে বিকাশ ঘটছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, রাজনীতিকদের এই আলোচনায় সম্পৃক্ত করে নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা মজবুত করতে হবে। এতে করে সংশ্লিষ্টদের কাজের চাপ কিছুটা বাড়বে ঠিকই, তবে এতে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের গতি থমকে যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গেটসের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন এআই এজেন্টের আচরণ ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। এর আগে ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান ও অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইও এআই প্রযুক্তির ওপর আরও শক্তিশালী সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছিলেন। এর আগেও গেটস সতর্ক করেছিলেন যে এআই একদিকে যেমন মানবসমাজে বড় ধরনের সমতা আনতে পারে, তেমনি এটি বৈষম্যের অন্যতম বড় উৎসও হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জীবাণু-সন্ত্রাসের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, দুষ্কৃতকারীরা যদি ওপেন-সোর্স এআই ব্যবহার করে জৈবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে তা বিশ্বব্যাপী গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তুরিং ইনস্টিটিউটের রিপোর্টেও একই ধরনের সতর্কতা গেটসের এই মন্তব্যের কিছুদিন আগেই ব্রিটেনের অ্যালান টুরিং ইনস্টিটিউট একটি প্রতিবেদনে গোটা বিশ্বকে সতর্ক করেছিল। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল—ফ্রন্টিয়ার এআই আসন্ন সময়ে বিশ্বাসযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করছে, যার জন্য প্রয়োজন ব্যবহারিক গবেষণা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ, সামগ্রিক ব্যবস্থার যাচাই ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। প্রতিবেদনে বলা হয়, এআইয়ের সক্ষমতা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সীমা ছাড়িয়ে গেলে তা বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অতি বুদ্ধিসম্পন্ন এআইয়ের আবির্ভাবের সম্ভাবনাকে বাস্তবসম্মত বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। এতে আরও বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ কাজে ও জ্ঞানের নিরিখে এআই মানুষকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, আর এআই নিজস্ব কৌশল তৈরি করতে সক্ষম হলে তার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ কার্যকর নাও থাকতে পারে। প্রতিবেদনটিতে শুধু তথ্য পরিবেশ বা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ঝুঁকির কথাই নয়, এআই দিয়ে রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়। অ্যানথ্রপিকের সাবেক কর্মীদেরও একই শঙ্কা অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করার পর সংস্থাটির সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন দাবি করেছিলেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদই এআইয়ের কারণে মানবজাতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। প্রতিষ্ঠানটির অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্স বিভাগের প্রধান ইভান হাবিঙ্গারও আগামী এক দশকের মধ্যে এমন ঘটনার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলে মন্তব্য করেছেন। এর আগে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই ফ্রন্টিয়ার এআইয়ের উন্নয়নে সাময়িক বিরতি, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে মূল্যায়ন, অভিন্ন নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং চীনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এআইয়ের সম্ভাব্য বিপর্যয়ের ইঙ্গিত এর আগে দিয়েছেন খোদ ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যানও। এমনকি ধনকুবের ইলন মাস্কও এআইয়ের অগ্রগতির গতি কমিয়ে আনার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো বিল গেটসের নামও, যিনি এই ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরলেন। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম। শনিবার রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই নিয়োগের আগে অধ্যাপক নূরুল ইসলাম ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩’-এর ১১(১) ধারার ক্ষমতাবলে জাবির উপাচার্য পদে পদায়ন করা হয়েছে। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের সময়সীমা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি আগে আসবে, সেই মেয়াদ পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন ও ভাতাদি পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী উপাচার্য পদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করবেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এই নিয়োগ আদেশ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবেন বলেও উল্লেখ রয়েছে সেখানে।

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
এইচএসসির ফল কবে প্রকাশ হতে পারে, জানা গেল সম্ভাব্য তারিখ

এইচএসসির ফল কবে প্রকাশ হতে পারে, জানা গেল সম্ভাব্য তারিখ

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষা প্রশাসন। ফল চূড়ান্ত করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি জানান, নভেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই ফল ঘোষণার লক্ষ্য নিয়ে সার্বিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। তিনি আরও জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কিছু বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় সেখানে লিখিত পরীক্ষা শেষ হতে কিছুটা বাড়তি সময় লেগেছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ নিশ্চিত করতে সেখানে অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য সময়সীমার মধ্যেই সব বোর্ডের ফল একযোগে প্রকাশ করা সম্ভব হয়। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ জুলাই একযোগে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট, আর ব্যবহারিক পরীক্ষার সূচি ছিল ১৫ আগস্টের মধ্যে। তবে দুর্যোগের কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষাগুলো নতুন করে সাজিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল ঢাকা বোর্ডে—৩ লাখ ৩৯৩ জন। এ ছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
‘বাংলা হলো সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিভাগ’—অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক

‘বাংলা হলো সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিভাগ’—অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক

‘বাংলা এমন একটি বিভাগ, যেখানে তোমরা মরে গিয়েও বেঁচে থাকতে পারবে’—এমন মন্তব্য করেছেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক। তিনি বলেছেন, মাতৃভাষা বাংলার প্রতি ভালোবাসা থেকেই এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের যাত্রার শুরু থেকেই বাংলা বিভাগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলা শুধু একটি বিষয় নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতার অন্যতম ভিত্তি। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আশুলিয়া নিজস্ব ক্যাম্পাসের আয়েশা মেমোরিয়াল হলে বাংলা বিভাগের অ্যালামনাই, নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক বলেন, ‘মাতৃভাষা বাংলা। এই বাংলাকে আমি ভালোবাসি। আর সেই ভালোবাসা থেকেই এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের যাত্রার শুরু থেকেই বাংলা বিভাগকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি।’ নিজের দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমি যখন বাংলাদেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করি, তখন দেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনগত ভিত্তিই তৈরি হয়নি। আমি ১৯৮৮ সাল থেকে এ বিষয়ে চেষ্টা করেছি। পরে ১৯৯২ সালে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়।’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ফাইল যখন তৈরি করছি, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার অনেক সহকর্মী আমাকে বলেছিলেন—আপনার মাথা কি খারাপ হয়েছে? আপনি কি পাগল হয়েছেন?’ ‘আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেন? তারা বললেন, আপনি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় করতে চান, আবার সেখানে বাংলা বিভাগও রাখতে চান! এই দুটো কি একসঙ্গে যায়?’ অধ্যাপক সাদেক বলেন, ‘আমি বললাম, কেন যাবে না? তখন তারা বলেছিলেন, বাংলা বিভাগে তো তারাই পড়ে, যারা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় না। বাংলা পড়বে গরিব মানুষ।’ এই ধারণার সঙ্গে তিনি একমত হননি উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি তাদের সঙ্গে একমত হইনি। আমি বাংলা বিভাগকে কখনো সেভাবে দেখিনি। আমি মনে করি, বাংলায় তারাই পড়বে, যাদের যোগ্যতা আছে, যাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি আছে, যারা নিজেদের চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতাকে ধরে রাখার চেষ্টা করে, যাদের সাহস আছে নিজের স্বপ্নকে অনুসরণ করার।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলেছিলাম—বাংলা হলো সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিভাগ। আমি যদি পাগল হই, পাগলই হব। আপনারা আমাকে পাগল বলতে পারেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম, বাংলা বিভাগ ছাড়া এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ হবে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন থেকেই এখানে বাংলা বিভাগ আছে এবং থাকবে।’ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলা বিভাগ এমন একটি জায়গা, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু একটি একাডেমিক ডিগ্রি অর্জন করবে না; বরং নিজেদের চিন্তা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাবে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে একজন মানুষ তার শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে এবং নিজের সৃষ্টির মাধ্যমে দীর্ঘদিন মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে পারে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেন এবং বিভাগের শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। বাংলা ভাষা শুধু কথার বাহন নয়, বাঙালির আত্মপরিচয়েরও অনিবার্য ঠিকানা—এই চেতনাকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বাংলা বিভাগের অ্যালামনাই, নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, প্রফেসর ড. এ. এস. এম. ইকবাল হুসাইন এবং অ্যালামনাই অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর হানিফ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রিটা আশরাফ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ঘোষণা করা হয় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বাংলা বিভাগের অ্যালামনাই কমিটি। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন প্রাক্তন ছাত্র ও সাংবাদিক রনজক রিজভী, সহসভাপতি শাহীন আলম, সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আহমেদ রিপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক কুলসুমা আক্তার ও মাহমুদুল হাসান। এছাড়া রোকেয়া খাতুন কোষাধ্যক্ষ, তানিয়া আক্তার প্রচার সম্পাদক এবং জামিলুর রহমান সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। কমিটির সদস্যরা হলেন হোসাইন আহমেদ, এম. এ. হাবিব পলাশ ও সাদ্দাম হোসেন রুবেল। নতুন কমিটির মাধ্যমে বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও দৃঢ় করা এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অ্যালামনাইদের সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে অ্যালামনাইদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন নবনির্বাচিত সভাপতি রনজক রিজভী। পরে অতিথিরাও বক্তব্য রাখেন। বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রিটা আশরাফ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, অ্যালামনাই কার্যক্রম এবং নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ পর্বে অ্যালামনাই সদস্যদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। প্রাক্তনদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়ার মুহূর্তে বর্তমানের সঙ্গে অতীতের এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন যেন আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। মধ্যাহ্ন বিরতির পর শুরু হয় নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান। নৃত্য, গান, কবিতা ও অভিনয়ের নানা পরিবেশনায় শিক্ষার্থীরা তুলে ধরেন বাঙালির হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বহুমাত্রিক রূপ। চর্যাপদের প্রাচীন সুর থেকে লোকজ সংস্কৃতি, বাঙালির জীবন ও মাটির গন্ধ—সবকিছুই উঠে আসে বিভিন্ন পরিবেশনায়। কখনও গান, কখনও নৃত্য, কখনও কবিতার ছন্দে মঞ্চ হয়ে ওঠে বাংলার মানুষের চিরচেনা উঠোন। অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক ভাষায় পল্লীকবির কবিতা আবৃত্তিও ছিল বিশেষ আকর্ষণ। আঞ্চলিক ভাষার সহজ-সরল উচ্চারণে যেন বাংলার মাটির নিজস্ব গন্ধ মিশে যায় পুরো আয়োজনের আবহে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক তাজুল ইসলাম। কখনও তিনি আবির্ভূত হন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বেশে, কখনও বাউল, কখনও ফোক গানের শিল্পী, আবার কখনও রক গায়কের ভূমিকায়। এছাড়া সুর, কণ্ঠ, অঙ্গভঙ্গি ও অভিনয়ের বৈচিত্র্যে তিনি তুলে ধরেন চরমোনাইয়ের ওয়াজ মাহফিল, ওয়াজের পরিবেশনা এবং হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষের পরিবেশনার স্বতন্ত্র ভঙ্গিও। একই কবিতা ও কথাকে ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আঙ্গিকে উপস্থাপন করে তিনি দর্শকদের যেমন আনন্দ দেন, তেমনি ভাবিয়েও তোলেন। একটি কবিতা পরিবেশক, সুর, উচ্চারণ ও উপস্থাপনার ভঙ্গি বদলে কীভাবে ভিন্ন মাত্রা পেতে পারে—তাজুল ইসলামের এই পরিবেশনা যেন তারই জীবন্ত উদাহরণ হয়ে ওঠে। মুহূর্তে মুহূর্তে বদলে যায় মঞ্চের রং, অথচ অটুট থাকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির মূল সুর। পুরো আয়োজনেই ছিল গতানুগতিকতার বাইরে যাওয়ার প্রয়াস। নবীন বরণ মানেই শুধু ফুল দিয়ে বরণ, আর বিদায় মানেই কেবল আবেগঘন বক্তব্য—এমন চেনা ছকের বাইরে গিয়ে বাংলা বিভাগ আয়োজনটিকে সাজিয়েছে সাহিত্য, সংস্কৃতি, অভিনয় ও সৃজনশীলতার বহুমাত্রিক সমন্বয়ে। ফলে পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই ছিল বৈচিত্র্য। কখনও হাসি, কখনও আবেগ, কখনও বিস্ময়, আবার কখনও শেকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার অনুভূতি—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে বাংলা বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের এক মিলনমেলা। অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রিটা আশরাফ। আয়োজন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক তাজুল ইসলাম, প্রভাষক নিয়াম ঠাকুর ও প্রভাষক সিনথিয়া জাহান বিথুন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রভাষক তাজুল ইসলাম ও প্রভাষক সিনথিয়া জাহান বিথুন। সবশেষে সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় জমকালো এই আয়োজন। গান থেমে যায়, মঞ্চের আলো নিভে আসে; কিন্তু থেকে যায় কিছু মুখ, কিছু স্মৃতি, কিছু উচ্চারণ। বাংলা বিভাগের এই আয়োজন যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়—ভাষা কেবল পাঠ্যবিষয় নয়; ভাষা মানুষকে তার শেকড়ের কাছে ফিরিয়ে নেয়, প্রজন্মকে প্রজন্মের সঙ্গে যুক্ত করে। আর সেই শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকেই মানুষ তার চিন্তা, সৃষ্টিশীলতা ও কর্মের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে।

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
প্রকাশ হলো ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি

প্রকাশ হলো ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি

২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা ১৪ মার্চ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষার মাধ্যমে এ পরীক্ষা শুরু হয়ে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে ১৫ এপ্রিল। প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ সময়সূচি চূড়ান্ত করার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তা অনুমোদন দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি জানান, ১৪ মার্চ থেকে শুরু হয়ে এপ্রিলে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে। সময়সূচি অনুযায়ী, ১৪ মার্চ বাংলা প্রথম পত্র, ১৬ মার্চ বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ১৮ মার্চ ইংরেজি প্রথম পত্র এবং ২১ মার্চ ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হবে। এছাড়া ২৫ মার্চ গণিত, ৪ এপ্রিল রসায়ন, পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং ব্যবসায় উদ্যোগ, ৮ এপ্রিল হিসাববিজ্ঞান, ১৩ এপ্রিল জীববিজ্ঞান ও অর্থনীতি এবং ১৫ এপ্রিল ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা পরীক্ষা নেওয়া হবে। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ২২ এপ্রিলের মধ্যে সকল বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে নম্বর অনলাইনে পাঠাতে হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টায় নিজ নিজ কেন্দ্রে এ পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে সংগীত বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের নিজ দায়িত্বে বাদ্যযন্ত্র ও শনাক্তকারী শিক্ষকসহ নির্ধারিত পরীক্ষার দিন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। ব্যবহারিক পরীক্ষায় আলাদা খাতা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করতে হবে। বহুনির্বাচনী ও সৃজনশীল বা রচনামূলক অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক প্রতিটি অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে। পরীক্ষার অন্তত সাত দিন আগে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে বা সাথে আনতে পারবেন না। তবে পরীক্ষার্থীরা সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর সাত দিনের মধ্যে অনলাইনে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে, যার বিস্তারিত নিয়ম পরবর্তীতে সংবাদপত্রে ও ওয়েবসাইটে জানানো হবে। সূত্র- আমার সংবাদ

৩০ আগস্ট, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →