📍 কিশোরগঞ্জ | লোড হচ্ছে...

বিভাগ: সারাদেশ

মোট খবর: 33 টি
শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি, আটক ৪

শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি, আটক ৪

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে ফেলতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন চারজন। তাঁদের মধ্যে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসও রয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে গ্রাফিতিতে কালি লাগিয়ে তা মুছে ফেলার চেষ্টা করলে তাঁদের আটক করে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, গ্রাফিতি মুছে ফেলার সময় পুলিশ তাঁদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। এ নিয়ে বাধা ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক নারী গ্রাফিতিতে কালি ছেটানোর চেষ্টা করলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য তাঁকে বাধা দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই নারী জানান, ‘ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রতিবাদ’ জানাতে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করছিলেন। পুলিশের বাধার মুখে আয়াসের নেতৃত্বে সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে চারজনকে থানায় নিয়ে যায়। শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল খালেক জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। তাঁদের থানায় রাখা হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচা এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে দেয়ালে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা কয়েকজন কালজয়ী ব্যক্তিত্বের গ্রাফিতি আঁকা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যজিৎ রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তবে শুক্রবার ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি ফেসবুক পেজে কয়েকজন ব্যক্তিত্বের গ্রাফিতি আঁকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরে গ্রাফিতিগুলো মুছে ফেলতে যান ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যরা।

১০ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তায় ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ৪০ নারীর

বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তায় ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ৪০ নারীর

সংসারের অভাব-অনটন কাটিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেন অনেক নারী। কিন্তু ইচ্ছা ও কাজের দক্ষতা থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে তাঁদের অনেকেরই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয় না। এমন নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলার ৪০ জন অসচ্ছল নারীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সেলাই মেশিন। এর মাধ্যমে ঘরে বসে আয় করে নিজেদের ও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা। সেলাই মেশিন পেয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন বারহাট্টা উপজেলার মাহামুদা আক্তার। বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে মেশিনটি হাতে পেয়ে তিনি বলেন, ‘সেলাই মেশিনটি আমার কাছে নতুন করে বাঁচার সুযোগ। এখন ঘরে বসে সেলাই করে কিছু আয় করতে পারব। আশা করছি, আমার সন্তানকে ভালোভাবে মানুষ করতে পারব। এই সহযোগিতার জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ।’ বারহাট্টা উপজেলার মাল্টিপারপাস হলরুমে সম্প্রতি আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাহামুদার মতো আরও ১৯ জন অসচ্ছল নারী প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেয়েছেন। তাঁদের হাতে মেশিন তুলে দেন দুই বাংলার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ইমদাদুল হক মিলন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ এস এম গোলাম হোসাইন, ওসি (তদন্ত) শফিকুজ্জামান, প্রেস ক্লাবের সভাপতি শামসউদ্দীন আকন্দ বাবুল, ধর্মপাশা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সেলিম আহম্মেদ, অখিল চন্দ্র পাল, মো. নুরুল আমিন, ফেরদৌস আহম্মদ, মোখলেছুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘সেলাই মেশিন দেওয়ার পেছনে আমাদের মূল উদ্দেশ্য একটিই—যেসব নারী নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান, স্বাবলম্বী হতে চান, কিন্তু অর্থের অভাবে সেলাই মেশিন কিনতে পারেন না, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। বসুন্ধরা শুভসংঘ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিতভাবে সেলাই মেশিন বিতরণ করছে। আমরা চাই, এই মেশিন একজন নারীর হাতে শুধু একটি যন্ত্র হিসেবে না থাকুক, এটি হোক তাঁর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি পথ।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেন, ‘অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সেলাই মেশিন বিতরণের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিন মাস প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের হাতে শুধু একটি মেশিন তুলে দেওয়া হচ্ছে না, বরং তাঁদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীরা ঘরে বসেই কাজ করে আয় করতে পারবেন এবং পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারবেন। বসুন্ধরা গ্রুপের এই কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত।’ অন্যদিকে নেত্রকোনা সদর উপজেলার বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের কার্যালয়ে আরও ২০ জন নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও প্রাবন্ধিক হায়দার জাহান চৌধুরী, নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের ব্যবস্থাপক মৃণাল কান্তি চক্রবর্তী, বসুন্ধরা শুভসংঘ নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি আলপনা বেগম, নিউজ২৪-এর প্রতিনিধি সোহান আহমেদ কাকন, কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি এবাদ হোসেন এবং শুভসংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম টনি প্রমুখ। সেলাই মেশিন পাওয়া নারীদের একজন মিতু আক্তার। তাঁর বাবা নেই। মা বিভিন্ন টেইলার্সে ঘুরে সেলাইয়ের কাজ করে যে আয় করেন, তা দিয়েই চলে সংসার। মিতু নেত্রকোনা সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে মায়ের পাশাপাশি নিজেও কাজ করতে চান তিনি। মিতু বলেন, ‘বাড়িতে সেলাই মেশিন থাকলে মা-মেয়ে দুজনেই কাজ করে ভালো আয় করতে পারব। বসুন্ধরার সহায়তায় প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়েছি। এখন আমাদের সচ্ছলতা আসবে, ইনশাআল্লাহ। অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই বসুন্ধরা গ্রুপকে।’ সেলাই মেশিন পেয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন ইতি রানী দাসও। তাঁর স্বামী ঢাকার একটি গার্মেন্টসে স্বল্প বেতনে কাজ করেন। স্বামীর সীমিত আয়ে সংসারের সব প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে নিজেরও কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন ইতি। বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া সেলাই মেশিন তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের উপকরণ পেয়ে ৪০ নারী এখন নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সেলাইয়ের কাজের মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক সংকট কমানোর পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তেও ভূমিকা রাখতে পারবেন।

১০ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
রুয়াপে অবৈধ দখল ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ, প্রতিকার চান বাসিন্দারা

রুয়াপে অবৈধ দখল ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ, প্রতিকার চান বাসিন্দারা

রাজধানীর উত্তরায় রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে (রুয়াপ) আবাসিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল, মাদক সেবন ও ব্যবসা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ সময়েও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজ শেষ না হওয়া এবং অসম্পূর্ণ অবস্থায় সমাপ্তির নোটিশ দেওয়ায় এলাকাটিতে তদারকির ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি চক্র নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এসবের প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার সকালে রুয়াপের ৬ নম্বর প্রবেশপথের বিপরীতে মানববন্ধন করেন বাসিন্দারা। এতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। তাঁরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন স্থানে দখল, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সন্ধ্যার পর আবাসিক এলাকার বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় ও বহিরাগত তরুণদের আড্ডা বসে। এসব স্থানে মধ্যরাত পর্যন্ত মাদক সেবন চলে। পাশাপাশি একটি চক্রের সহযোগিতায় সেখানে মাদক ব্যবসার বিস্তার ঘটছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘তারা আমাদের হাঁটার জায়গা দখল করতে চায়, এখানকার ময়লা পরিশোধনাগার দখল করে বাজার বসাতে চায়। আমরা এটি হতে দিতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে রুয়াপের ভেতরের এবং বাইরের কয়েকজন মিলে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করতে চায়, আমরা এগুলো চাই না। কোনো প্রকার অবৈধ স্থাপনা ও দখল আমরা এখানে চাই না।’ মানববন্ধন থেকে আবাসিক এলাকার খেলার মাঠ, সবুজায়নের স্থান, সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দখল বন্ধের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, আবাসিক এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বাসিন্দাদের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজউক প্রকল্পটি গ্রহণ করলেও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত ১০ বছর পার হওয়ার পরও এর কাজ শেষ হয়নি। ফলে প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আবাসিক এলাকার বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স, কমিউনিটি সেন্টার, পার্কিং ভবন, সুইমিং পুল ও ব্যায়ামাগার কমপ্লেক্সের কাজ শেষ হয়নি। এ ছাড়া বিভিন্ন ভবনে এখনো বরাদ্দ না দেওয়া ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও দাবি করেছেন বাসিন্দারা। মানববন্ধনে রুয়াপের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সংগঠন ‘নিসর্গ নীলিমা’র উদ্যোক্তা নিলোফার জাহান ববি বলেন, ‘আমরা একটি সরকারি আবাসিক এলাকায় থাকি। এখানে অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজি হচ্ছে। আমরা এসব চাই না। আমরা বসবাসের উপযোগী একটি রুয়াপ চাই।’ রুয়াপের বাসিন্দা কৃষিবিদ শাহীন আনোয়ার বলেন, ‘আমরা সম্মিলিতভাবে এসব অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এখানে দাঁড়িয়েছি। আমরা কোনো অন্যায় মেনে নেব না।’ আরেক বাসিন্দা মানিক মানবিক অভিযোগ করেন, আবাসিক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বিভিন্ন স্থান ও সড়ক দখলের চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে কতিপয় লোক, যারা রুয়াপে বাসিন্দা, তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রুয়াপের বিভিন্ন জায়গা ও রাস্তা দখল করতে চায়। সকালে বাজার বসে, বিকেলে বাজার বসে। জনসমাগমের আশপাশে মাদকের আড্ডা বসে। এসব চলতে দেওয়া যাবে না।’ বাসিন্দাদের দাবি, রাজউকের এই আবাসন প্রকল্পকে বসবাসের উপযোগী রাখতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অসমাপ্ত অবকাঠামোগত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে আবাসিক এলাকার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

১০ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
স্মার্ট সিটি গড়তে আগে সমাধান করতে হবে আবাসন সংকট

স্মার্ট সিটি গড়তে আগে সমাধান করতে হবে আবাসন সংকট

একটি শহর কতটা আধুনিক, তা শুধু উঁচু ভবন, প্রশস্ত সড়ক কিংবা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। একটি শহর তখনই সত্যিকার অর্থে স্মার্ট ও টেকসই হয়ে ওঠে, যখন সেখানে মানুষের জন্য পর্যাপ্ত, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব আবাসনের সুযোগ থাকে। বাংলাদেশের নগরায়ণের বাস্তবতায় আবাসন তাই শুধু একটি নাগরিক সুবিধার বিষয় নয়; এটি হয়ে উঠেছে অন্যতম বড় কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ঢাকার ক্ষেত্রে আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ নতুন হাউজিং ব্যাকলগ তৈরি হচ্ছে। ফলে আবাসন সংকট মোকাবিলায় শুধু ভবন নির্মাণ বাড়ালেই হবে না; পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহের পাশাপাশি সেটিকে কীভাবে স্মার্ট, পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী করা যায়, সেটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নগর উন্নয়নের অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। যুদ্ধবিধ্বস্ত জাপান গত পাঁচ-ছয় দশকে যে অবস্থানে পৌঁছেছে, একইভাবে সিউল ও সিঙ্গাপুরও সীমিত সম্পদ ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য থেকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরে পরিণত হয়েছে। এসব উদাহরণ আমাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। তবে তাদের মডেল সরাসরি অনুসরণ না করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সম্পদের সীমাবদ্ধতা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিজেদের জন্য বাস্তবসম্মত কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। স্মার্ট সিটি ও স্মার্ট আবাসন নিয়ে আমরা বহু বছর ধরে আলোচনা করছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রত্যাশার তুলনায় অগ্রগতি এখনও সীমিত। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি বরং আরও জটিল হয়েছে। তাই এখন শুধু পরিকল্পনা বা নীতির কথা বললে হবে না; বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপের মাধ্যমে আবাসনের সরবরাহ বাড়ানো এবং একই সঙ্গে তার মান উন্নত করার দিকে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে উৎপাদিত মোট এনার্জির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আবাসিক খাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে আবাসিক ভবনগুলোকে যদি আরও স্মার্ট, গ্রিন ও জ্বালানিসাশ্রয়ী করা যায়, তাহলে জাতীয় পর্যায়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এনার্জি সাশ্রয় করা সম্ভব। স্মার্ট আবাসন বলতে কেবল আধুনিক প্রযুক্তি, সোলার প্যানেল কিংবা নানা ধরনের ডিজিটাল গ্যাজেট ব্যবহারকে বোঝানো উচিত নয়। একটি ভবন এমনভাবে নকশা করা, যাতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে, পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমে এবং ভবনের পুরো জীবনচক্রে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন ব্যয় কম থাকে—এটাই স্মার্ট আবাসনের মূল দর্শন হওয়া উচিত। এ জন্য শুরু থেকেই প্যাসিভ ডিজাইন কৌশলের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ভবনের সঠিক ওরিয়েন্টেশন, প্রাকৃতিক আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, তাপ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয় নকশার পর্যায়েই নিশ্চিত করা সম্ভব। রাজউক বা অন্যান্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের এ বিষয়গুলো বাধ্যতামূলক করার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। এর পাশাপাশি সোলার এনার্জি, এনার্জি অডিট, কম বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং পানির চাহিদা কমানোর মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। এগুলোর অনেক কিছুই বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ ছাড়াই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। প্রয়োজন মূলত সঠিক পরিকল্পনা, নীতিগত অগ্রাধিকার এবং কার্যকর বাস্তবায়ন। তবে একটি ভবনকে শুধু ভবনের ভেতরের বৈশিষ্ট্য দিয়ে স্মার্ট বলা যাবে না। সেটির অবস্থানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আবাসিক ভবন পরিবেশবান্ধব হলেও যদি সেটি কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, চিকিৎসা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা থেকে অনেক দূরে হয়, তাহলে বাসিন্দাদের দীর্ঘ পথ যাতায়াত করতে হবে। এতে পরিবহন ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ। অতএব, স্মার্ট আবাসনের পরিকল্পনায় পরিবহন ও অবকাঠামোর বিষয়টিও সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে। মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবা কতটা কাছাকাছি, আবাসিক এলাকা থেকে হেঁটে বা সহজ পরিবহনে প্রয়োজনীয় স্থানে যাওয়া যায় কি না—এসবও একটি টেকসই শহরের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এখানে আরেকটি বড় বিষয় হলো অর্থায়ন। স্মার্ট সিটি ও টেকসই আবাসন বাস্তবায়নে ফাইন্যান্সের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৮৯৮ শতাংশের সমপরিমাণ মর্টগেজ ফাইন্যান্স রয়েছে। বিপরীতে চীনে এ হার প্রায় ৩০ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ায় ৫০ শতাংশেরও বেশি। এই ব্যবধানই দেখিয়ে দেয়, আবাসন ও নগর উন্নয়নের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, শুধু আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা করলেই হবে না; সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি হাউজিং ফাইন্যান্স, মর্টগেজ ব্যবস্থা এবং সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগও বাড়াতে হবে। আবাসন যদি মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়, তাহলে টেকসই নগরায়ণের লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন হবে। সিউল, জাপান কিংবা সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের বড় শিক্ষা হতে পারে—সঠিক নীতি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং বাস্তবসম্মত কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে সীমিত সম্পদ দিয়েও নগর ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। আমাদেরও একইভাবে নিজেদের বাস্তবতার আলোকে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কিছু কাঠামো রয়েছে। আমাদের বিএনবিসি গাইডলাইন আছে, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে কাজ করার জন্য স্রেডার মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আবার এনডিসির আওতায় গ্রিনিং ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর কৌশলও রয়েছে। অর্থাৎ পরিকল্পনা, পরিমাপ ও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি একেবারে নেই—এমন নয়। মূল সমস্যা হচ্ছে বাস্তবায়ন, বড় পরিসরে প্রয়োগ এবং অর্থায়ন। নীতিমালা ও গাইডলাইন থাকলেও সেগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তাই স্মার্ট ও টেকসই আবাসনের ক্ষেত্রে আমাদের প্রথম কাজ হওয়া উচিত পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ নিশ্চিত করা। এরপর সেই আবাসনকে জ্বালানিসাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলা। আবাসন, অর্থায়ন, পরিবহন, অবকাঠামো ও পরিবেশ—এই বিষয়গুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। স্মার্ট নগরায়ণ কোনো বিলাসী ধারণা নয়; এটি ভবিষ্যৎ নগর জীবনের প্রয়োজন। আর সেই ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করতে হলে শুরুতেই আমাদের কৌশলগত ও বাস্তববাদী হতে হবে। পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবায়নের যোগসূত্র এবং আবাসনের সঙ্গে অর্থায়নের সংযোগ যত দ্রুত শক্তিশালী করা যাবে, তত দ্রুতই বাংলাদেশ টেকসই ও বাসযোগ্য নগরায়ণের পথে এগিয়ে যেতে পারবে।

৮ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
গুলশান-বারিধারার ৭০-৮০ শতাংশ বাড়িতে নেই প্রয়োজনীয় সেপটিক ব্যবস্থা: গৃহায়ন মন্ত্রী

গুলশান-বারিধারার ৭০-৮০ শতাংশ বাড়িতে নেই প্রয়োজনীয় সেপটিক ব্যবস্থা: গৃহায়ন মন্ত্রী

দেশের অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনতে বড় শহর থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবন নির্মাণে স্থাপত্য, কাঠামোগত ও বৈদ্যুতিক পরিকল্পনাকে সমন্বিত করে অনুমোদন এবং নির্মাণ শেষে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এ কথা জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, নগর ও আবাসন ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে এরই মধ্যে বেশ কিছু কাজ শুরু হয়েছে। এখন চেষ্টা করা হচ্ছে আর্কিটেকচার, স্ট্রাকচারাল এবং ইলেক্ট্রো প্ল্যানিং—সবকিছু সমন্বিতভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনার আওতায় আনার। তিনি বলেন, কোনো ভবনের নকশা অনুমোদনের পর সেটি নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ভবনের অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ডিজাইনারদের মাধ্যমে ভবনটি অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে কি না, তা প্রত্যয়ন করার ব্যবস্থা করা হবে। জাকারিয়া তাহের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় গত সাত মাস ধরে নগর উন্নয়ন ও আবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কিছু কাজ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের দেওয়া প্রস্তাবগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী , আরবান ডেভেলপমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইউডিডি) প্রথমবারের মতো ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের কাজ করা হবে। শুরুতে মেট্রোপলিটন শহরগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরপর বড় শহর থেকে উপজেলা পর্যন্ত প্রতিটি এলাকার জন্য বাস্তবভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রতিটি এলাকার প্রয়োজন ও সম্ভাবনা বিবেচনা করে কোথায় কী ধরনের স্থাপনা, আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা কিংবা অন্যান্য ব্যবহার হবে—তা নির্ধারণ করে জোনিং করা হবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেকটা একটি লক্ষ্যবস্তুতে চারটি তীর ছোড়ার মতো। কোনো একটি হয়তো লক্ষ্যে লাগতে পারে। কিন্তু পরিকল্পিত উন্নয়নের ক্ষেত্রে এভাবে এগোনোর সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতেই কাজ করতে হবে। এ কারণেই ইউডিডিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি এ বিভাগকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সঠিক পরিকল্পনার জন্য পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশের সর্বশেষ জনশুমারি অনেক আগের। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি, জনসংখ্যা, বসতি, আবাসন ও নগরায়ণের প্রকৃত চিত্র জানতে নতুন করে একটি উপযুক্ত শুমারি করা প্রয়োজন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে। ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজধানীর ধানমন্ডিসহ রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় রাজউকের মাধ্যমে ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর বাইরে অনেক এলাকায় অনুমোদিত পরিকল্পনা ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ভবন চিহ্নিত করার কাজ চলছে। রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা ও হাতিরঝিল এলাকার পরিবেশ নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ছয়বার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও জানান জাকারিয়া তাহের। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, গুলশান, বনানী ও বারিধারায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০টি বাড়িঘর রয়েছে। এর মধ্যে আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাড়িতে নির্মাণের সময় যে সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল থাকার কথা ছিল, তা করা হয়নি। একইভাবে অনেক নামিদামি ডেভেলপার ভবন নির্মাণ করলেও বর্জ্য পরিশোধনের জন্য স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা এসটিপির ব্যবস্থা করেননি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করার পাশাপাশি গুলশান, বনানী ও বারিধারা সোসাইটির সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব বৈঠকে রাজউক চেয়ারম্যান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নিয়েছেন। জাকারিয়া তাহের বলেন, গুলশান ও বারিধারার মতো এলাকাগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষায়িত এলাকা। এসব এলাকার লেকের পানি ও পরিবেশ ঠিক রাখা সম্ভব না হলে সারাদেশের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা আরও কঠিন হবে। তিনি বলেন, নগর উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনাও পাওয়া যাচ্ছে। জনগণ থেকে নির্বাচিত সরকার দেশের কল্যাণে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর কোনো পরামর্শ পেলে তা গ্রহণে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। নগর ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে নতুন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠনের কথাও জানান জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, রাজউকের আদলে গত সাত মাসে ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও বরিশালে নতুন ছয়টি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে আরও চারটি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ছিল। পর্যায়ক্রমে বগুড়াসহ অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, কোনো এলাকায় ডেভেলপমেন্ট অথরিটি না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনকেই নকশা অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে কার্যকর চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকাতেও এর উদাহরণ রয়েছে। বসিলাসহ কিছু এলাকায় ইউনিয়ন পর্যায় থেকে ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এসব বিষয়কে একটি সামগ্রিক আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত নকশা ছাড়া নির্মিত ভবন কিংবা অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মিত স্থাপনার বিষয়েও নতুন বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে বলে জানান তিনি। আগামী এক মাসের মধ্যে সেটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। বিধিমালা অনুমোদিত হলে ভবন নির্মাণ ও তদারকির আইন আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জাকারিয়া তাহের বলেন, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ব্যাপকভাবে আবাসন নিশ্চিত করতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে ৩০ বছর মেয়াদি মর্টগেজ সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ব্যবস্থা ছাড়া বৃহৎ পরিসরে আবাসন নিশ্চিত করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত এগিয়ে এলে সরকার সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি। বেসরকারি আবাসন খাতের নীতিমালা নিয়েও পরিবর্তন আনার কথা বলেন জাকারিয়া তাহের। তিনি জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে নতুন নীতিমালা করা হয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি আবাসন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পরিকল্পনা ও শর্তের মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। আগের কাজ যথাযথভাবে হয়েছে কি না, তার ওপরও পরবর্তী পরিকল্পনা অনুমোদনের বিষয়টি নির্ভর করবে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধে বেসরকারি আবাসন খাতকেও আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। ঢাকার বাসযোগ্যতা প্রসঙ্গে জাকারিয়া তাহের বলেন, বাসযোগ্যতার দিক থেকে বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। ফলে রাজধানীকে বাসযোগ্য করতে সরকারকে একসঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে। তবে অতিরিক্ত জনঘনত্বের কারণে কাজটি সহজ নয়। যথাযথ পরিকল্পনার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া এ উদ্যোগ সফল করা কঠিন। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, গত ৫ অক্টোবর বসতি দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীও বাংলাদেশের আবাসন বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন। উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে। জাকারিয়া তাহের বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পরিবেশ রক্ষা, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং জনবান্ধব আবাসন নীতি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণও জরুরি। মানুষের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এনে সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখলে পরিকল্পিত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

৮ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: আজ প্রতীক বরাদ্দ, মাঠে ৫ দলের ৫ প্রার্থী

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: আজ প্রতীক বরাদ্দ, মাঠে ৫ দলের ৫ প্রার্থী

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক হাতে পাওয়ার পরই শুরু হবে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। সেই সময়সীমা পার হওয়ার পর এখন এই আসনে লড়াইয়ে আছেন পাঁচটি দলের পাঁচ প্রার্থী। তাঁরা হলেন: বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক বিএনপির ভেতরের প্রার্থিতা নিয়েও একটি পরিবর্তন এসেছে। দলটির পক্ষ থেকে শুরুতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। এর ফলে মির্জা ফয়সল আমিনই এখন বিএনপির একমাত্র প্রার্থী। তাঁকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

৮ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
সালমানের বক্তব্যে অসঙ্গতি, তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি

সালমানের বক্তব্যে অসঙ্গতি, তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি

সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এখন আর কেবল একটি স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর কিংবা ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁর একের পর এক বক্তব্য, বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসা এবং সর্বশেষ টকশোতে সরকারের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ফলে হামলার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ কী, তাঁর অভিযোগের ভিত্তি কতটা নির্ভরযোগ্য এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো পক্ষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সালমান মুক্তাদির একজন পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর। সম্প্রতি তাঁর ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’তে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপর থেকেই ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল, হামলার প্রকৃত কারণ কী এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো পক্ষের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না—এসব নিয়ে সমাজমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সালমানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। হামলার পর তিনি ফেসবুক লাইভে এসে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে তাঁর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই বক্তব্য থেকে সরে আসেন। সোমবার রাতে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দিনের ‘ঠিকানা’ টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি আবারও বিষয়টি নিয়ে বিস্ফোরক বক্তব্য দেন এবং সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। টকশোতে সালমানের বক্তব্যের ধরনও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাঁর কাছে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা ধরনের কাগজপত্র ও তথ্য রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেন এবং সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি নিজে পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করেছেন এবং তাঁর সব অর্থ বৈধ। বাংলাদেশে থাকবেন না বলেও তিনি জানান। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—সালমান কেন একই ঘটনা নিয়ে ভিন্ন সময়ে ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন? প্রথমে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলার পর পরে কেন তিনি সেই অবস্থান পরিবর্তন করলেন? আবার সর্বশেষ টকশোতে কেন এতটা দৃঢ় অবস্থান নিলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর বের করতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। সালমান নিজেও বলেছেন, তদন্তের স্বার্থে সরকার চাইলে তাঁকে তলব করতে পারে। তাঁর বক্তব্যের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য, নথি বা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া দরকার। কারণ যাচাই না করে লাখো মানুষের সামনে একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হলে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ক্ষমতায় আসার মাত্র সাত মাসের মধ্যে বিএনপির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত ও ঘটনাটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সালমান মুক্তাদিরকে জিজ্ঞাসাবাদের কয়েকটি কারণ সামনে আসে। প্রথমেই যাচাই করা দরকার, সালমান মুক্তাদিরের তোলা চাঁদাবাজির অভিযোগের ভিত্তি কী এবং এর পক্ষে তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা প্রমাণ আছে কি না। হামলার পর ফেসবুক লাইভে সালমান দাবি করেছিলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ ছিল, চাঁদা না দেওয়ার কারণেই তাঁর স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, সালমানের বক্তব্য অনুযায়ী তাঁর কাছে কেউ সরাসরি চাঁদা দাবি করেনি এবং চাঁদা চাওয়া হলে তিনি তা দিয়ে দিতেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফলে একই ঘটনা সম্পর্কে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য কেন সামনে এসেছে, সেটি পরিষ্কার করা জরুরি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে চাওয়া হতে পারে—কোন তথ্যের ভিত্তিতে তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছিলেন, কার কাছ থেকে তথ্য পেয়েছিলেন এবং অভিযোগটির পক্ষে তাঁর কাছে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হামলার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা। এখন পর্যন্ত পুলিশ ও প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাটি মূলত সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওকে লক্ষ্য করে সংঘটিত হয়নি। ঢাকার ইসিবি চত্বরের পাশে ওই জমি নিয়ে আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিউ গিনি প্রপার্টিজ ও একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। জমির মালিকানা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে। এই বিরোধের জেরেই আবাসন প্রকল্পে হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই হামলার সময় প্রকল্প এলাকায় থাকা সালমানের টিনশেড স্টুডিওও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এখানে আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। বিতর্কিত জমিতে স্টুডিও নির্মাণের আগে সালমান মুক্তাদির জমি ও মালিকানা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করেছিলেন কি না, তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিরোধ সম্পর্কে জানতেন কি না এবং কোনো পক্ষ তাঁকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তে পরিষ্কার হওয়া দরকার। তৃতীয়ত, মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া নিয়েও যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার উত্তর প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে বলেছিলেন, সালমান মুক্তাদির সমাজমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করলেও থানায় কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা করেননি। এর বিপরীতে সালমান দাবি করেন, হামলার রাতেই তিনি ভোররাত পর্যন্ত থানায় অবস্থান করে মামলা করার আবেদন করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ প্রথমে মামলা নেয়নি। পরে মন্ত্রীর বক্তব্যের পর মামলা গ্রহণ করা হয়। এখানে ঘটনার রাতে থানায় আসলে কী ঘটেছিল, সালমান কখন থানায় গিয়েছিলেন, কী অভিযোগ করেছিলেন এবং এজাহারে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে থানার নথি, মামলা দায়েরের সময় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য মিলিয়ে দেখা হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে। চতুর্থত, সালমান মুক্তাদিরের সমাজমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তিনি একজন প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এবং তাঁর বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে। ফলে তাঁর বক্তব্য খুব অল্প সময়ের মধ্যে বড় একটি জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে যায়। এ কারণে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে তাঁকে সমাজমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সালমানের বক্তব্যের কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা রাজনৈতিক পরিবেশে কোনো নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি কোনো তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করে প্রচার করেছেন কি না, করে থাকলে তার কারণ কী—তাও তদন্তের বিষয় হতে পারে। তবে এটিও মনে রাখা দরকার, সালমান মুক্তাদির এ ঘটনায় একজন ভুক্তভোগী। তাঁর স্টুডিওতে হামলা হয়েছে, মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সামগ্রী ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ রয়েছে। একজন ভুক্তভোগী হিসেবে তাঁর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্য, রাজনৈতিক অভিযোগ এবং হামলার প্রকৃত নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটনের স্বার্থে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা তদন্তপ্রক্রিয়ারই অংশ হতে পারে। তিনি কোনো তৃতীয় পক্ষের হয়ে কাজ করেছেন কি না, কিংবা অন্য কোনো পক্ষ তাঁর বক্তব্য বা অবস্থানকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও তদন্তের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব। এদিকে সালমান মুক্তাদিরের অর্থের উৎস নিয়েও অনুসন্ধান চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্টেলিজেন্ট বিভাগ তাঁর ব্যাংক হিসাব, অ্যাকাউন্ট খোলার কাগজপত্র এবং লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে। সালমান অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁর সব অর্থ বৈধ ও সাদা। এ ছাড়া তাঁর শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের ব্যবসার কয়েকটি গুদাম শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগে সিল করে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে সালমান ও তাঁর শ্বশুর উভয়েই দাবি করেছেন, তাঁদের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক নেই। সব মিলিয়ে সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি এখন শুধু একটি হামলার তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁর অভিযোগের ভিত্তি, বক্তব্যের পরিবর্তন, জমি ও রাস্তা নিয়ে বিরোধ, মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া, সমাজমাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের প্রভাব এবং অর্থনৈতিক বিষয়—সবগুলো দিক পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। তাই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সেটিকে শুধু কোনো রাজনৈতিক অভিযোগের কারণে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে না দেখে পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তাঁর কাছে থাকা নথি, তথ্য ও বক্তব্য তদন্তের অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। এতে হামলার প্রকৃত কারণ যেমন স্পষ্ট হতে পারে, তেমনি তাঁর তোলা রাজনৈতিক অভিযোগের ভিত্তিও পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

৭ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
বসুন্ধরায় ফিলিং স্টেশন নেই, তেল আনতেই খরচ হচ্ছে বাড়তি তেল

বসুন্ধরায় ফিলিং স্টেশন নেই, তেল আনতেই খরচ হচ্ছে বাড়তি তেল

রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে একের পর এক নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা গড়ে উঠলেও সেই অনুপাতে বাড়েনি জ্বালানি সরবরাহের অবকাঠামো। ফলে ৩০০ ফিট সড়ক ও পূর্বাচলসংলগ্ন আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের গাড়িতে জ্বালানি নিতে যেতে হচ্ছে কয়েক কিলোমিটার দূরের ফিলিং স্টেশনে। এতে শুধু অতিরিক্ত সময় ও অর্থই ব্যয় হচ্ছে না, জ্বালানি নিতে যাওয়া-আসার পথে তৈরি হচ্ছে বাড়তি যান চলাচল। এর প্রভাব পড়ছে কুড়িল, খিলক্ষেতসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও। ৩০০ ফিট সড়কসংলগ্ন একটি আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজের গাড়িতে জ্বালানি নিতে নিয়মিত কুড়িল কিংবা বিমানবন্দর সড়কের ফিলিং স্টেশনে যান। তাঁর ভাষ্য, গাড়িতে কয়েক লিটার জ্বালানি নিয়ে তেল আনতে বের হলেও যাওয়ার পথেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘দুই দিন আগে গাড়িতে কয়েক লিটার তেল নিয়ে তেল আনতে বের হয়েছিলাম। যেতে যেতেই অর্ধেক তেল শেষ হয়ে যায়। কোনো কারণে যদি তেল নিতে না পারতাম, তাহলে হয়তো বাকি তেলও শেষ হয়ে রাস্তায় আটকে থাকতে হতো। আশপাশে পর্যাপ্ত ফিলিং স্টেশন থাকলে এত দূরে যেতে হতো না।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুড়িল থেকে ৩০০ ফিট সড়ক হয়ে পূর্বাচল প্রকল্পের আগ পর্যন্ত বসুন্ধরা, পুলিশ হাউজিং সোসাইটি, নৌবাহিনী, স্বদেশ স্বর্ণালী, স্বদেশ সানভ্যালি, ইউনাইটেডসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ বসবাস করছেন। এসব এলাকার বাসিন্দাদের গাড়ির জ্বালানি সংগ্রহ করতে তুলনামূলকভাবে দূরের ফিলিং স্টেশনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অন্যদিকে গুলশান-তেজগাঁও লিংক রোড থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় একাধিক ফিলিং স্টেশন রয়েছে। ফলে রাজধানীর এক অংশে ফিলিং স্টেশনের ঘনত্ব বেশি থাকলেও পূর্বাঞ্চলের দ্রুত সম্প্রসারিত আবাসিক এলাকাগুলোতে চাহিদার তুলনায় জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা কম বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বাসিন্দাদের দাবি, এসব এলাকায় পর্যাপ্ত ফিলিং স্টেশন না থাকায় প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহনকে শুধু জ্বালানি সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে একদিকে জ্বালানি খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান কর্মঘণ্টা। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় যান চলাচলের কারণে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যানজটও বাড়ছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংগ্রহের জন্য এ এলাকার কোনো কোনো গাড়িকে কুড়িল পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারের বেশি, খিলক্ষেত পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার এবং জলসিঁড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। ফলে জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে যে পরিমাণ জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে, তার একটি অংশ কার্যত তেল আনতেই খরচ হয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাতায়াতে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ও লাগছে। এ পরিস্থিতির প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত গাড়িতে সীমাবদ্ধ নয়। গণপরিবহন, পণ্যবাহী যান, রাইড শেয়ারিংয়ের গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনও জ্বালানি সংগ্রহের জন্য এসব সড়কে বাড়তি চলাচল করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পূর্ব ঢাকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় তিন থেকে চার লাখ যানবাহনের চলাচল হতে পারে। সে সময় স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকলে অতিরিক্ত যান চলাচলের চাপ আরও বাড়বে। মহাখালী বাস ডিপো পুরোপুরি স্থানান্তর হলে এ চাপ আরও বাড়তে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অতিরিক্ত যান চলাচলের আর্থিক ও পরিবেশগত প্রভাবও কম নয়। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন ৫০ হাজার যানবাহন যদি জ্বালানি সংগ্রহের জন্য গড়ে অতিরিক্ত ৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে, তাহলে দিনে মোট অতিরিক্ত চলাচল দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার। একটি যানবাহনে প্রতি কিলোমিটারে গড়ে ০.১০ থেকে ০.১২ লিটার জ্বালানি খরচ হলে এই অতিরিক্ত চলাচলের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার থেকে ৪২ হাজার লিটার অতিরিক্ত জ্বালানি প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত ফিলিং স্টেশন না থাকায় শুধু যানজট ও কর্মঘণ্টার ক্ষতিই হচ্ছে না, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানিও অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে এর আর্থিক মূল্যও উল্লেখযোগ্য অঙ্কে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত জ্বালানি পোড়ানোর ফলে কার্বন নিঃসরণ ও বায়ুদূষণ বাড়ছে। যানবাহনের বাড়তি চাপের কারণে শব্দদূষণের মাত্রাও বাড়তে পারে। ফলে বিষয়টি কেবল জ্বালানি সংগ্রহের সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও যানজটের বিষয়ও যুক্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিশেষ আদেশের মাধ্যমে নতুন ফিলিং স্টেশন স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে একই সময়ে এলপিজি স্টেশন স্থাপনের কার্যক্রম চালু রাখা হয়। তাদের দাবি, ওই সময় নতুন ফিলিং স্টেশন স্থাপনের সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায় পরবর্তী সময়ে দ্রুত সম্প্রসারিত আবাসিক এলাকাগুলোর জ্বালানি চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। একদিকে নতুন নতুন আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে, জনসংখ্যা বেড়েছে এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যাও বেড়েছে। অন্যদিকে এসব এলাকার ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পর্যাপ্ত ফিলিং স্টেশন স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে এখন দূরের স্টেশনগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এ অবস্থায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলোর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত সমীক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সমীক্ষার মাধ্যমে যানবাহনের সংখ্যা, জনসংখ্যা, ভবিষ্যৎ আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ এবং সড়কের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে অন্তত দুই থেকে তিনটি উপযুক্ত স্থানে পরিকল্পিত ফিলিং স্টেশন স্থাপন করা প্রয়োজন। তবে স্টেশন স্থাপনের ক্ষেত্রে অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত ছাড়পত্র, নগর পরিকল্পনা, সড়কের ধারণক্ষমতা, যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা এবং অপেক্ষমাণ গাড়ির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), রাজউক, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ অফিসার হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে ফিলিং স্টেশন স্থাপন করা হলে জ্বালানি নিতে দূরে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। এতে অপ্রয়োজনীয় যান চলাচল, জ্বালানি ও অর্থের অপচয় এবং মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া কমানো সম্ভব হবে।’ ইউনাইটেড সিটি এলাকার বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানি সংগ্রহের জন্য অহেতুক যানবাহন চলাচল কমানো গেলে কুড়িল-খিলক্ষেত এলাকার ওপর বাড়তি চাপ কমবে। একই সঙ্গে বায়ু ও শব্দদূষণও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।’ তিনি বলেন, ‘পূর্ব ঢাকার এ অঞ্চলে দ্রুত আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ ঘটছে। ভবিষ্যতে যানবাহন ও জ্বালানির চাহিদা আরও বাড়বে। তাই এখনই ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা দরকার।’ এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় নতুন পেট্রোলপাম্প অনুমোদনের কার্যক্রম একটি বিশেষ অফিস আদেশের মাধ্যমে বন্ধ রাখা হয়েছে। ২০১৯-২০ সালের দিকে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছিল। তিনি জানান, নতুন পেট্রোলপাম্প ও ফিলিং স্টেশন অনুমোদনের জন্য সরকার বিপিসির কাছে একটি খসড়া নীতিমালা চেয়েছে। এর আগে বিপিসির পক্ষ থেকে একটি খসড়া নীতিমালা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সেটি আবার বিপিসির কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিপিসির ওই কর্মকর্তা বলেন, খসড়া নীতিমালা নিয়ে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এটি যাচাই-বাছাইয়ের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই নীতিমালা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে। তাঁর মতে, নতুন ফিলিং স্টেশন অনুমোদন বন্ধ থাকার এটিই মূল কারণ। নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের বসবাস ও প্রয়োজনের ভিত্তিতেই নগর অবকাঠামোর পরিকল্পনা করতে হয়। পরিকল্পনায় সমন্বয় না থাকলে পরবর্তী সময়ে এর নেতিবাচক প্রভাব বাসিন্দাদেরই বহন করতে হয়। তিনি বলেন, ‘মানুষের বসবাস বাড়ছে; কিন্তু সেই অনুপাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না বা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মানুষকে অন্য এলাকায় যেতে হচ্ছে এবং এতে ওই এলাকাগুলোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।’ সংশ্লিষ্টদের মতে, পূর্ব ঢাকার দ্রুত সম্প্রসারিত আবাসিক এলাকার ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে এখনই জ্বালানি সরবরাহের অবকাঠামো পরিকল্পনা করা জরুরি। তা না হলে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য বাড়তি পথ পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা যেমন অব্যাহত থাকবে, তেমনি যানজট, জ্বালানি অপচয় ও পরিবেশদূষণের চাপও আরও বাড়তে পারে।

৬ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে সেলাই মেশিন পেলেন জীবনসংগ্রামে হার না-মানা ২০ নারী

বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে সেলাই মেশিন পেলেন জীবনসংগ্রামে হার না-মানা ২০ নারী

নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক সংকটে পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন মরিয়ম আক্তার রিয়ার। গৌরীপুরের স্থানীয় একটি মাদরাসায় আলিম পড়ছেন তিনি। বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। কৃষিকাজের সীমিত আয়ে সংসারের ব্যয় মেটানো যেখানে কঠিন, সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করে পরিবারকে সহযোগিতা করার ইচ্ছা থেকেই সেলাই শেখার উদ্যোগ নেন রিয়া। তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নতুন সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে রিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি সেলাই মেশিন। এখন পড়াশোনার পাশাপাশি ঘরে বসে সেলাইয়ের কাজ করে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর। পরিবারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎও গড়ে তুলতে পারবেন বলে আশাবাদী রিয়া। রিয়ার মতো কাকলী রানী দাসের জীবনেও এই সেলাই মেশিন এসেছে নতুন আশার বার্তা নিয়ে। মা-বাবাকে হারিয়েছেন তিনি। পাঁচ ভাই-বোনের পরিবারে একজন ছাড়া বাকি সবাই বেকার। দীর্ঘদিন ধরে অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে আসা কাকলীর জন্য ঘরে বসে কাজ করে আয় করার সুযোগটি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া সেলাই মেশিনের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখতে পারবেন তিনি। মরিয়ম ও কাকলীর জীবনের গল্প আলাদা হলেও তাঁদের প্রত্যাশা এক—অভাবের কাছে পরাজিত না হয়ে নিজের শ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎকে বদলে দেওয়া। তিন মাসের প্রশিক্ষণের পর হাতে পাওয়া সেলাই মেশিন তাঁদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নতুন একটি দরজা খুলে দিয়েছে। সম্প্রতি গৌরীপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জীবনসংগ্রামে এগিয়ে চলা ২০ জন অসচ্ছল নারীর হাতে সেলাই মেশিন ও একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। সেলিম আল রাজের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শংকর ঘোষ পিলু। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও শুভসংঘ প্রধান ইমদাদুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার, গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. হারুনুর রশিদ, গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলী আকবর আনিছ, গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বেগ ফারুক আহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি কাজী আব্দুল্লাহ আল আমান, সাবেক আহ্বায়ক রইছ উদ্দিন, নান্দাইলের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান কামু, গৌরীপুর লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক পলাশ আজহারসহ আরও অনেকে। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার উদ্যোগটি সময়োপযোগী। একটি সেলাই মেশিন একজন নারীর আত্মনির্ভরতার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে তাঁরা ঘরে বসে আয় করার সুযোগ পাবেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার বলেন, অসচ্ছল নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার উদ্যোগটি মহৎ ও প্রশংসনীয়। একটি সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটি একজন নারীর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এবং পরিবারের পাশে থাকার সুযোগ তৈরি করে। প্রশিক্ষণের পর তাঁদের হাতে মেশিন তুলে দেওয়ায় উদ্যোগটি আরও অর্থবহ হয়েছে। প্রধান অতিথি ইমদাদুল হক মিলন বলেন, দরিদ্র পরিবারের নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে শুধু সেলাই মেশিন দেওয়া নয়, এর মাধ্যমে তাঁদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে একজন নারী যেমন নিজের পরিবারের জন্য আয় করতে পারেন, তেমনি সমাজ ও দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বসুন্ধরা শুভসংঘ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিকতার শিক্ষা দেয়। সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে মেশিন হাতে পাওয়া ২০ নারীর জন্য এ উদ্যোগ তাই কেবল একটি উপহার পাওয়ার ঘটনা নয়; বরং দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করার এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ে তোলার একটি নতুন সম্ভাবনার সূচনা।

৩ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
মালয়েশিয়াগামী ৬৫ জনকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার, আটক ১১

মালয়েশিয়াগামী ৬৫ জনকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার, আটক ১১

মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে প্রতারণার শিকার ৬৫ জনকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ (বানৌজা) খালিদ বিন ওয়ালিদ। এ ঘটনায় একটি বোটসহ মানব পাচারকারী চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিয়মিত টহলের সময় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়। সেন্টমার্টিন লাইট হাউজ থেকে আনুমানিক ৮১ মাইল দূরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত এফভি ক্রিস্টাল-১ নামের একটি বোট সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় একটি ভাসমান কাঠের বোট দেখতে পায়। পরে সেটিকে সহায়তা করতে এগিয়ে গেলে বোটে থাকা কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জানানো হয়। খবর পেয়ে সেন্টমার্টিন ও আশপাশের এলাকায় টহলরত বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান বোটটি উদ্ধার করে। বোটটির ভেতরে পানি ঢুকতে থাকায় নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় খাবার ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জনকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করে আটক করা হয়। বাকি ৬৫ জন মালয়েশিয়ায় যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা অপহরণ করে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রেখেছিল বলে জানা গেছে। পরে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে নেওয়া হচ্ছিল। উদ্ধার করা বোটটি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল। আটক ব্যক্তিদের ও জব্দ করা বোটটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নৌবাহিনীর এই অভিযানে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের আটক করার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কাও এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকির মধ্যে ছিল। দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ৭৬ জনের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানব পাচার ও চোরাচালান দমন এবং সমুদ্রে সংঘটিত অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

২ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি সংঘর্ষ, একই পরিবারের ৪জনসহ নিহত ৭

ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি সংঘর্ষ, একই পরিবারের ৪জনসহ নিহত ৭

ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় বাস ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ঢাকা থেকে জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস আকুয়া বাইপাস সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় জামালপুর থেকে আসা একটি সিএনজি অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের চাপায় সিএনজিটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকার দড়ি হামিদপুর গ্রামের রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫০), তাঁর মা রাশিদা বেগম (৭০), মেয়ে মর্জিনা (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনাল (৫)। তাঁরা গাজীপুরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। নিহত অপর তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ চালান। পরে নিহতদের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উভয় যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে কেউ কাউকে সাইড দিতে না পারায় সংঘর্ষটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর বাসটি আটক করা হলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁরা মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে বাস চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণে আকুয়া বাইপাস সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

২ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
আগামী অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনের বাস্তবায়ন শুরু: ত্রাণমন্ত্রী

আগামী অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনের বাস্তবায়ন শুরু: ত্রাণমন্ত্রী

কারিগরি সমীক্ষার কাজ শেষ হলে আগামী অর্থবছর থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তিস্তা নদীর দুই পাড়ে বসবাসকারী প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসবে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা প্রশাসনের নতুন ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রযন্ত্রকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় এখনো অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সরকার কাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণ ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি করা সম্ভব। কুড়িগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, জেলার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর পাশাপাশি সরকারের প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়বে বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা পরিষদ প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

১ অক্টোবর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
ফেনীর বন্যা নিয়ন্ত্রণে দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ফেনীর বন্যা নিয়ন্ত্রণে দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আজ বুধবার দুপুরে ফেনীর পরশুরামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১ হাজার ৫৪২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পটি গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায়। প্রধানমন্ত্রী দুপুরে পরশুরামে প্রকল্পটির উদ্বোধন করার পর বিকেলে ফুলগাজী পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত একটি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদী দিয়ে ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা সৃষ্টি করে। এতে প্রতিবারই হাজার হাজার পরিবার দুর্ভোগের মুখে পড়ে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফসলি জমি, পুকুর, বাড়িঘর ও গ্রামীণ সড়ক। দীর্ঘদিন ধরেই ফেনীবাসী বন্যার স্থায়ী সমাধানে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, আর এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে সেই দাবিরই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শিহাব আহমেদ জানান, প্রকল্পের আওতায় ৬৮ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ৮৩ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন, ১১ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ এবং একটি এলিভেটেড টেম্প নির্মাণ করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্ষা মৌসুমে বন্যার কবল থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, বন্যার পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিল, পরে বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে। শুরু থেকেই ফেনীবাসী পরশুরামের মুহুরী ও কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণে টেকসই বাঁধ নির্মাণের কাজ সেনাবাহিনী বা বিদেশি ঠিকাদারের মাধ্যমে করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, অতীতে পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও সোনাগাজী উপজেলায় শত শত কোটি টাকার উন্নয়নকাজ হলেও সেসব কাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির কারণে কয়েকটি উন্নয়নকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিশিষ্টজনদের আশঙ্কা, এত বড় একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় চাঁদাবাজি ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হলে বিপুল অঙ্কের এই প্রকল্পটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে রয়েছে জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, লালপোলে ফ্লাইওভার নির্মাণ, একটি মিনি ক্যান্টনমেন্ট প্রতিষ্ঠা এবং জহির রায়হান হল পুনর্নির্মাণ। তবে এসব দাবির ক্ষেত্রে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
সাংবাদিকদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়: মাগুরা প্রশাসন

সাংবাদিকদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়: মাগুরা প্রশাসন

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা থেকে সাংবাদিকদের বের হয়ে যেতে বলা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের ভাষ্যমতে, সভার শৃঙ্খলা এবং নির্ধারিত কার্যসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থেই সেদিন বক্তব্য দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক। সোমবার উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স রুমে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদের উপস্থিতিতে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম, স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, পরিচয় পর্ব চলাকালে সভার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থেই বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক। তবে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কোনো অসম্মানজনক মন্তব্য করেননি বা কাউকে জোরপূর্বক সভা ত্যাগের নির্দেশও দেননি বলে দাবি করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। প্রশাসনের একটি সূত্র আরও জানায়, সভার নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী আমন্ত্রিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেই আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়ে কথা বলেছিলেন জেলা প্রশাসক। পরবর্তীতে এই বক্তব্য ভুল ব্যাখ্যা বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিতর্কের জন্ম দিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসক সব সময় গণমাধ্যমবান্ধব মনোভাব পোষণ করেন এবং সাংবাদিকদের তথ্য জানার অধিকার ও পেশাগত দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। সভার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা মূলত ভুল বোঝাবুঝি থেকেই হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া সাংবাদিকদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসন ও গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করলে জনস্বার্থ আরও ভালোভাবে নিশ্চিত হয়, আর ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। সভায় অংশ নেওয়া কয়েকজন উপস্থিত ব্যক্তি জানান, জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে জেলার উন্নয়ন, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতও গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন বলে জানান তারা। এদিকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি হিসেবেই দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গণমাধ্যম ও প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় থাকলে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আরও কার্যকরভাবে সমাধান করা সম্ভব। উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ চলতি বছরের ৪ জুন মাগুরা জেলার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি জেলার বিভিন্ন উপজেলা পরিদর্শন এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তদারকির কাজ করে আসছেন।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
সাভারে ১৭ একর বনভূমির জমিতে রিসোর্ট, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

সাভারে ১৭ একর বনভূমির জমিতে রিসোর্ট, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

সাভারের ছোট কালিয়াকৈর এলাকার কামালপুরে প্রায় ১৭ একর বনভূমিকে ঘিরে ‘এগ্রো ট্যুরিজম ও রিসোর্ট’ নামে একটি প্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উদ্যোক্তাদের প্রচারণায় প্রকল্পটিকে আকর্ষণীয় ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ হিসেবে তুলে ধরা হলেও জমির ব্যবহার, প্রকল্পের অনুমোদন, পরিবেশগত প্রভাব এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রকল্পের পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করে অভিযোগ উঠেছে, বনভূমি ও আশপাশের কৃষিজমি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে তা ভূমি ব্যবহার, বন সংরক্ষণ ও পরিবেশগত বিধিবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। একই সঙ্গে প্রকল্পের আর্থিক কাঠামো ও বিনিয়োগকারীদের মালিকানা-সংক্রান্ত বিষয়েও স্পষ্টতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পের জন্য যে প্রায় ১৭ একর জমি ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে, তার বড় অংশ বন বিভাগের জমি বা বনভূমির আওতাভুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে। এ ধরনের সরকারি বনভূমি বাণিজ্যিক রিসোর্ট, পর্যটনকেন্দ্র কিংবা ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও সরকারি নীতিমালা কীভাবে অনুসরণ করা হয়েছে—সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বন বিভাগের জমি লিজ বা চুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারের কথা বলা হলেও সেই চুক্তির ধরন, মেয়াদ, শর্ত এবং বাণিজ্যিক রিসোর্ট পরিচালনার অনুমোদন কতটা বৈধ—তা স্পষ্ট নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো সরকারি বনভূমি নির্দিষ্ট শর্তে ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও সেই অনুমতিকে ভিত্তি করে ব্যক্তিগত মালিকানা বা স্থায়ী বাণিজ্যিক অধিকার সৃষ্টি হয় না। চুক্তির শর্ত লঙ্ঘিত হলে কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদন বাতিল করলে জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রকল্পে বিনিয়োগ করা অর্থও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। প্রকল্পের আওতায় রিসোর্ট ও কটেজ নির্মাণের জন্য আশপাশের ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমি কেনা বা ব্যবহার করার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। কৃষিজমি বাণিজ্যিক ও আবাসিক স্থাপনায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভূমি ব্যবহার নীতি ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। উর্বর কৃষিজমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণের ফলে একদিকে কৃষি উৎপাদনের জমি কমতে পারে, অন্যদিকে স্থানীয় পরিবেশ ও ভূমির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাভারের বিরুলিয়া ও আশপাশের বন বিটসংলগ্ন এলাকায় বনাঞ্চল, কৃষিজমি ও জলাধারভিত্তিক একটি স্থানীয় পরিবেশব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে বড় পরিসরে পর্যটন কার্যক্রম চালু হলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শব্দদূষণ, পানি ব্যবহারের চাপসহ বিভিন্ন কারণে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে পরিবেশসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা। প্রকল্পের প্রচারণায় সীমিত সংখ্যক শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা বলা হলেও মোট প্রকল্প ব্যয়, শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার, লভ্যাংশ বণ্টন, জমির ব্যবহারাধিকার এবং প্রকল্প ব্যর্থ হলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে যে জমির ওপর প্রকল্পের মূল অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেটি যদি লিজ বা অন্য কোনো অস্থায়ী ব্যবহারের অধিকারে থাকে, তাহলে বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত মালিকানা কীভাবে নিশ্চিত হবে—এ প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। বনভূমির মালিকানা বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের সুযোগ না থাকলে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন ও চুক্তির ওপর। কোনো পর্যায়ে সেই অনুমোদন বাতিল হলে বা জমি পুনরুদ্ধার করা হলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ারের মূল্য কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, তার সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো থাকা জরুরি। প্রকল্পটির পক্ষে স্থানীয় কৃষক ও কৃষির সঙ্গে পর্যটনকে যুক্ত করে অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরির কথা বলা হলেও বাস্তবে কৃষিজমি ও বনভূমির ওপর স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠলে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। একটি প্রকৃত এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্পে কৃষি, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা। কিন্তু বন ও কৃষিজমির ওপর বাণিজ্যিক স্থাপনা, কটেজ ও পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠলে সেটি স্থানীয় কৃষি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। পর্যটকের অতিরিক্ত উপস্থিতি, যানবাহনের চাপ, শব্দ, বর্জ্য এবং পানি ব্যবহারের পরিমাণ বাড়লে স্থানীয় কৃষিকাজ ও গ্রামীণ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত ছাড়পত্র, প্রয়োজনীয় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA), ভূমি ব্যবহারের অনুমোদন এবং বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না—এ বিষয়গুলোও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বনভূমি ও কৃষিজমির সংযোগস্থলে বড় আকারের পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রকল্পটির সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার আইনগত পদক্ষেপের মুখে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এতে শুধু উদ্যোক্তা নয়, প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিনিয়োগকারীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। সব মিলিয়ে সাভারের কামালপুরে প্রস্তাবিত এগ্রো ট্যুরিজম ও রিসোর্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে জমির প্রকৃত মালিকানা ও ব্যবহারাধিকার, বন বিভাগের অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র, কৃষিজমির ব্যবহার পরিবর্তনের বৈধতা, প্রকল্পের মোট বিনিয়োগ কাঠামো এবং শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার—এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া জরুরি। বিশেষ করে বনভূমির ওপর প্রকল্পের অধিকার যদি লিজ বা সীমিত ব্যবহারের মধ্যে থাকে, তাহলে সেই জমির ওপর বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত হবে, সেটি লিখিত ও আইনসম্মতভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র, ভূমি ব্যবহারের বৈধতা এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষার সুস্পষ্ট কাঠামো নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পটিকে ঘিরে থাকা ঝুঁকিগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ও বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, অনুমোদন ও চুক্তিপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
বেলার আইনি পদক্ষেপে কক্সবাজারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত: মীর শাহে আলম

বেলার আইনি পদক্ষেপে কক্সবাজারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত: মীর শাহে আলম

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইনি বাধা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আদালতের শরণাপন্ন হয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত সড়ক প্রকল্পটি বেলার মামলার পর আদালতের নির্দেশনায় বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি। শনিবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন মীর শাহে আলম। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার দেশের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি ঠিকানা। এটিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়াও চলছে। কক্সবাজারের পর্যটন ও উন্নয়ন বিকশিত হতে না দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘পুরো কক্সবাজারকে নিয়ে সরকার বিপদের মধ্যে আছে।’ তিনি বলেন, সরকার যখনই কক্সবাজার শহরকে সুন্দর ও আধুনিকভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেয়, তখনই একটি সংস্থা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসে। তাঁর প্রশ্ন, ‘এমন হলে কক্সবাজার শহরকে সাজাব কিভাবে?’ মীর শাহে আলমের অভিযোগ, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি তা ব্যবহার করে উন্নয়নকাজ বারবার বাধাগ্রস্ত করছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত তীর ধরে হোটেল রামাদার সামনে দিয়ে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প। প্রায় ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছিল। কাজ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) পরিবেশ ও বালিয়াড়ি রক্ষার বিষয়টি সামনে এনে আপত্তি জানায়। বেলার পক্ষ থেকে বলা হয়, সমুদ্রসৈকত ও পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকায় সড়ক নির্মাণ পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে বেলা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে মামলার শুনানি শেষে আদালত স্থানীয় সরকারসহ পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে সড়ক নির্মাণকাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এরপর থেকে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, এ ধরনের আইনি বাধার কারণে কক্সবাজারের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন কঠিন হয়ে পড়ছে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ তুলে মীর শাহে আলম বলেন, সমুদ্রতীরের ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না—এমন বিধিনিষেধ রয়েছে। আবার সমুদ্রতীর থেকে ৫০০ মিটার দূরে গিয়ে শুধু একতলা ভবন নির্মাণের নির্দেশনাও রয়েছে। তিনি বলেন, পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এলেও তাঁদের থাকার জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ পাওয়া যায় না। পর্যটন নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কিন্তু একের পর এক আইনি বাধা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে। এর আগে শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শন করেন মীর শাহে আলম। এ সময় তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
বসুন্ধরার সহায়তায় নান্দাইলে ২০ নারীর স্বপ্নপূরণের যাত্রা

বসুন্ধরার সহায়তায় নান্দাইলে ২০ নারীর স্বপ্নপূরণের যাত্রা

ময়মনসিংহের নান্দাইলে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় এবং বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ২০ জন অসচ্ছল ও পিছিয়ে পড়া নারীর হাতে বিনা মূল্যে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে। তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে এসব নারীর হাতে জীবিকা নির্বাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে মেশিনগুলো তুলে দেওয়া হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে নান্দাইল উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলন। সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগাপ্লুত নেছাইবা বলেন, তাঁর বাবা স্কুল-কলেজের সামনে আমড়া, তেঁতুলসহ বিভিন্ন ধরনের আচার বিক্রি করে সংসার চালান। সীমিত আয়ে মা ও তিন ভাই-বোনসহ পাঁচ সদস্যের পরিবারের খরচ চালাতে বাবাকে অনেক কষ্ট করতে হয়। এখন নিজের হাতে সেলাইয়ের কাজ করে আয় করে বাবার পাশে দাঁড়াতে চান তিনি। স্থানীয় একটি মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নেছাইবা বলেন, সেলাই মেশিনটি তাঁর কাছে শুধু একটি যন্ত্র নয়, বরং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি নতুন সুযোগ। বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে এই সহায়তা পাওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নেছাইবার মতো বুশরার জীবনেও সেলাই মেশিনটি নতুন আশার বার্তা নিয়ে এসেছে। দিনমজুর আব্দুস সাত্তারের মেয়ে বুশরার সংসারে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকট চলছে। অর্থের অভাবে তাঁর পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সেলাইয়ের কাজ কিছুটা জানা থাকলেও নিজস্ব মেশিন কেনার সামর্থ্য ছিল না তাঁর। সেলাই মেশিন হাতে পাওয়ার পর বুশরা বলেন, ‘টাকার অভাবে আমার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সেলাইয়ের কাজ জানলেও মেশিন ছাড়া কিছুই করতে পারছিলাম না। আজ শুভসংঘ আমাকে নতুন জীবন দিল। এখন নিজের পায়ে দাঁড়াব, পড়াশোনাও চালাব। দেখি আর আমাকে ঠেকায় কে।’ আয়োজকরা জানান, নেছাইবা ও বুশরার মতো আরও ১৮ জন নারী এই কর্মসূচির আওতায় সেলাই মেশিন পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ বিধবা, কেউ স্বামী পরিত্যক্তা, আবার কেউ দরিদ্র পরিবারের সন্তান। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এসব নারীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে প্রথমে তিন মাসের নিবিড় সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে কাটিং, ডিজাইন ও আধুনিক সেলাইয়ের বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেকের হাতে বিনা মূল্যে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা ঘরে বসেই পোশাক তৈরি ও সেলাইয়ের মাধ্যমে আয় করতে পারেন। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন তাঁদের পরিবারের আর্থিক চাপ কমবে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। অনুষ্ঠানে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত, ওসি (তদন্ত) মো. মোজহিদুল ইসলাম, নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, যুগ্ম আহ্বায়ক বাবু পল্লব রায়, বিএনপি নেতা হাসনাত মাহমুদ তালহা, সাংবাদিক এনামুল হক বাবুলসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, সুধীজন, সাংবাদিক এবং বসুন্ধরা শুভসংঘের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিজানুর রহমান লিটন বলেন, নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেলাই মেশিন বিতরণের মাধ্যমে বসুন্ধরা শুভসংঘ অসহায় পরিবারগুলোর নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি নারীদের পরনির্ভরশীলতা কমাতে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, সাময়িক ত্রাণ বা আর্থিক সহায়তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব নয়। দরিদ্র মানুষকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলে তাঁদের হাতে কাজের উপকরণ পৌঁছে দেওয়াই টেকসই উন্নয়নের কার্যকর পথ। বসুন্ধরা শুভসংঘ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। তিনি বলেন, বিতরণ করা সেলাই মেশিনগুলো কেবল যন্ত্র নয়; এগুলো ২০টি পরিবারের জন্য আয়ের সুযোগ তৈরি করবে এবং নারীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথকে আরও সহজ করবে। প্রশিক্ষণ নেওয়া নারীরা জানান, তিন মাসের প্রশিক্ষণে তাঁরা বিভিন্ন ধরনের পোশাকের কাটিং, ডিজাইন ও সেলাইয়ের আধুনিক পদ্ধতি শিখেছেন। এখন তাঁরা নিজেরা পোশাক তৈরি করার পাশাপাশি আশপাশের মানুষের পোশাক সেলাই করে আয় করতে পারবেন। এতে তাঁদের পরিবারের আর্থিক সহযোগিতা করার সুযোগ তৈরি হবে। সেলাই মেশিন হাতে অনুষ্ঠানের হলরুম থেকে বের হওয়ার সময় নারীদের মুখে ছিল স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ। তাঁদের কাছে এই মেশিন যেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তা ও বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে নেওয়া এই কর্মসূচি নান্দাইলের অসচ্ছল নারীদের কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
দুপুরের আগে ৩ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

দুপুরের আগে ৩ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

দুপুর ১টার মধ্যে দেশের তিন অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে একই সময়ে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। শনিবার সকালে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কুষ্টিয়া, খুলনা ও যশোর অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষ্যমতে, শনিবার সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই সতর্কতা কার্যকর থাকবে।

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
বরিশালে  দু'দিনের চলচ্চিত্র উৎসব শুরু

বরিশালে  দু'দিনের চলচ্চিত্র উৎসব শুরু

ইএসডি ফিল্ম সোসাইটির আয়োজনে বরিশালে দু'দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব শুর হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল ৪টায় বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে  উৎসবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সভাপতি ডা. জহিরুল ইসলাম কচি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরউল্লাহ, চলচ্চিত্র পরিচালক মুহাম্মদ কাইয়ুম ও খন্দকার সুমন এবং অভিনেতা হায়দার আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল চলচ্চিত্র উৎসব বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক এস এম সাব্বির নেওয়াজ সাগর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইএসডি ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি জসিম উদ্দিন ইমন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ইএসডি ফিল্ম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম। উদ্বোধন শেষে 'বনলতা এক্সপ্রেস' সহ কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রদর্শণ করা হয়। উৎসবের অংশ  হিসেবে শনিবার সকাল ১১ টায় বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে চলচ্চিত্র বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেলে একই স্থানে ৪টি  চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
বেগমগঞ্জে সেতুর কাজে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগে দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

বেগমগঞ্জে সেতুর কাজে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগে দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিং তৈরিতে নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার এবং নিম্নমানের কাজের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে তাঁদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সেতু নির্মাণে নির্ধারিত সামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বরখাস্তকালীন সময়ে বিধি অনুযায়ী তাঁরা খোরাকি/ভরণপোষণ ভাতা পাবেন। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স হক ট্রেডার্স’। গত ২১ সেপ্টেম্বর এলজিইডির সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ার, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নির্মাণাধীন সেতুটি যৌথভাবে পরিদর্শন করেন। এ সময় সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাইয়ের কাজে গুরুতর অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরিদর্শনকারীরা দেখতে পান, ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাই অত্যন্ত নিম্নমানের এবং কাজটি অনুমোদিত নকশা ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী করা হয়নি। একই সঙ্গে সেতুর রেলিং নির্মাণে ব্যবহৃত রডের গুণগত মান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নোয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল, বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম এবং কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিনকে পৃথক চারটি চিঠি দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুই প্রকৌশলীর কাছে অনিয়মের বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব অর্থায়নে ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজ দ্রুত সংশোধনের জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে এলজিইডির নোয়াখালী জেলার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীনকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন দাখিল করতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
সেতুর ফুটপাত ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ, এলজিইডির কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

সেতুর ফুটপাত ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ, এলজিইডির কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্লাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যসহকারী হাসমত আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তার বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সেতুর নির্মাণকাজে নির্ধারিত মানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে দুর্নীতির অভিযোগে প্রচলিত চাকরিবিধি অনুযায়ী হাসমত আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে সাময়িক বরখাস্তের সময় বিধি অনুযায়ী তিনি খোরাকি ভাতা পাবেন। এলজিইডি সূত্র জানায়, গ্রামীণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। যৌথভাবে কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইউনুছ আল মামুন’ ও ‘মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ’। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ পরবর্তীতে বাড়ানো হয়। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি সেতুটির ফুটপাতের স্লাব ঢালাইয়ের সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। বিষয়টি দেখে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গত রোববার রাতে নির্মাণকাজে বাধা দেন। একই সঙ্গে ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সেতুর নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রী নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। পরে বিষয়টি তদন্তে উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণাধীন সেতুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এর পরই সংশ্লিষ্ট কার্যসহকারী হাসমত আলীর বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
আফতাবনগর-বনশ্রী যাতায়াতে স্বস্তি, উদ্বোধন হলো ফুটওভার ব্রিজ

আফতাবনগর-বনশ্রী যাতায়াতে স্বস্তি, উদ্বোধন হলো ফুটওভার ব্রিজ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অর্থায়ন ও উদ্যোগে রামপুরা খালের ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত আফতাবনগর-বনশ্রী সংযোগকারী ফুটওভার ব্রিজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আফতাবনগরে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে ব্রিজটি নগরবাসীর চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। নতুন এই ফুটওভার ব্রিজ চালুর ফলে রামপুরা খালের দুই পাড়ে অবস্থিত ঘনবসতিপূর্ণ আফতাবনগর ও বনশ্রী আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতদিন খালের এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যেতে পথচারীদের বেশ কিছুটা ঘুরে যেতে হতো। ফলে সময় ও ভোগান্তি—দুটিই বাড়ত। এখন সরাসরি খাল পারাপারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় দুই এলাকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন চলাচল আরও সহজ হবে। ডিএনসিসি প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন সংযোগের ফলে পথচারীদের প্রতিদিনের যাতায়াতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় সাশ্রয় হতে পারে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, আফতাবনগর ও বনশ্রী এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে এই সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই ব্রিজ নগর উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে দীর্ঘদিন সাক্ষ্য বহন করবে। তিনি আরও বলেন, “আফতাবনগর এবং বনশ্রী আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সংযোগ স্থাপন। এই ব্রিজ নির্মাণের ফলে এখন থেকে নাগরিকদের যাতায়াতে সময় বাঁচবে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট, যা নগরবাসীর জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। আমরা নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ করতে ও জনদুর্ভোগ কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা ও যানজট নিরসনে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, উন্নয়ন কার্যক্রম শুধু পদচারী পারাপারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। রামপুরা খালের ওপর আরও দুটি স্টিল ব্রিজ নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এসব ব্রিজ দিয়ে ভারী যানবাহনও চলাচল করতে পারবে। মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ভবিষ্যতে রাজধানীতে মেট্রোরেল (এমআরটি) প্রকল্পের কাজ শুরু হলে প্রধান সড়কগুলোতে যানজটের চাপ বাড়তে পারে। সে সময় নির্মিত ও প্রস্তাবিত ব্রিজগুলো বিকল্প বা ‘বাইপাস রুট’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার মতে, এসব বিকল্প সংযোগ চালু হলে রামপুরা-বাড্ডা সংলগ্ন প্রধান সড়কগুলোর ওপর যানবাহনের চাপ কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আফতাবনগর ও বনশ্রী এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
গণশুনানিতে মানুষের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছেন গাজীপুরের ডিসি

গণশুনানিতে মানুষের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছেন গাজীপুরের ডিসি

সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ ও নানা দুর্ভোগের কথা সরাসরি শুনে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে জনসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশেষ গণশুনানি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায়, দুস্থ, নিগৃহীত ও বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত মানুষ এখানে সরাসরি জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের কথা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি যেসব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব, সেগুলোর বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদেরও দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা। ফলে নানা দুশ্চিন্তা ও হতাশা নিয়ে গণশুনানিতে আসা অনেক মানুষই সমাধানের আশ্বাস ও সহযোগিতা নিয়ে স্বস্তি ফিরে পাচ্ছেন। বুধবারের গণশুনানিতে উঠে আসছে গাজীপুরের সাধারণ মানুষের জীবনের নানা বাস্তব সমস্যা। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক সংকট, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ, ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা, সরকারি ভাতা, কর্মসংস্থান, বকেয়া বেতন এবং স্থানীয় অবকাঠামোগত নানা দাবি। পঙ্গু বাবার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চাইতে গণশুনানিতে আসেন পোশাক শ্রমিক সানিয়া আক্তার। তার পরিস্থিতি শুনে জেলা প্রশাসক তাকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। অন্যদিকে, টঙ্গীর ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত অসহায় বৃদ্ধা সামসুন্নাহারের চিকিৎসার জন্যও তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। গণশুনানিতে শুধু চিকিৎসা বা আর্থিক সমস্যাই নয়, পারিবারিক ও সামাজিক নানা সমস্যার কথাও উঠে আসে। স্বামী মারা যাওয়ার পর ভাসুর ও আত্মীয়দের কারণে গৃহহীন ও নানা অন্যায়ের শিকার হন বিধবা হালিমা আক্তার। তার দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সদর সার্কেলের এসিল্যান্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। জমি অধিগ্রহণের বিল, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বিভিন্ন কারখানার বকেয়া বেতন আদায়, সড়ক সংস্কারসহ নানা জনদুর্ভোগের বিষয়ও গণশুনানিতে তুলে ধরছেন নাগরিকরা। এ ছাড়া কোনো কোনো এলাকায় নতুন ভূমি অফিস ও হাসপাতাল স্থাপনসহ স্থানীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবিও জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হচ্ছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক বিভাগ, প্রতিবন্ধী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ত্রাণসহ সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমের সুবিধা যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ তার নিজের অধিকার বুঝে পাবে। প্রতিদিন এই মানুষগুলোর মুখের দিকে তাকালে মনে হয়, তাদের জন্য কিছু করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” তার এই বক্তব্যে গণশুনানির মূল উদ্দেশ্যই প্রতিফলিত হয়েছে—প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমানো এবং সরকারি সেবাকে আরও সহজলভ্য করা। সঠিক ব্যবস্থাপনা, আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার সমন্বয়ে নিয়মিত গণশুনানি পরিচালনার মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগের একটি কার্যকর ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। গাজীপুরে নিয়মিত গণশুনানির এই উদ্যোগকে মাঠ প্রশাসনের জন্য একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা যেতে পারে। জেলা প্রশাসক সরকারের নির্বাহী প্রতিনিধি হিসেবে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সমাজের দুর্বল, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সমস্যার প্রতিও কার্যকরভাবে নজর দিতে পারেন। দেশের অন্যান্য জেলাতেও নিয়মিত ও কার্যকর গণশুনানি জোরদার করা হলে প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমবে এবং নাগরিকরা সরকারি সেবা ও সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও সহজ সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে সরকারি তহবিল, বিভিন্ন ভাতা, চিকিৎসা সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা যাতে প্রকৃত দুস্থ ও প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছে, সেদিকেও জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। মানুষের কথা শোনা, সমস্যার গুরুত্ব বিবেচনা করা এবং সম্ভব ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার এই সংস্কৃতি দেশের বিভিন্ন জেলায় কার্যকরভাবে চালু হলে প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে পারে। আর সেই পথ ধরেই মানুষের অধিকার ও সরকারি সেবা নিশ্চিত করার একটি আরও মানবিক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
জ্বালানি তেলের দাম আর বাড়বে না, সুযোগ পেলে কমানো হবে: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

জ্বালানি তেলের দাম আর বাড়বে না, সুযোগ পেলে কমানো হবে: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

জ্বালানি তেলের দাম আর বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বরং বর্তমান দামের চেয়ে তা কমানো হবে। বুধবার ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও সুধীজনদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে জেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি জ্বালানি তেলের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে এসব মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তেলের দামে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হলে সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। মূলত এই পাচার ঠেকাতেই বাধ্য হয়ে দাম সমন্বয় বা বৃদ্ধি করতে হয়েছিল বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে এবং দেশের ভেতরের পরিস্থিতিও অনুকূলে এলে দাম আবার সমন্বয় করা হবে। এমন সুযোগ তৈরি হলে আগের তুলনায় দাম কমানোরও আশ্বাস দেন তিনি।

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
পাহাড়ের ১০০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ

পাহাড়ের ১০০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অসচ্ছল নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পাঁচটি উপজেলার ১০০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। প্রশিক্ষণ শেষে এসব নারীর প্রত্যেককে একটি করে সেলাই মেশিন দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা হিসেবে দুটি করে গাছের চারাও দেওয়া হয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন বিতরণের ধারাবাহিকতায় বান্দরবানেও এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। লামা উপজেলা থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে আলীকদম, বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি এবং সর্বশেষ রুমা উপজেলায় সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। পাঁচ উপজেলায় মোট ১০০ অসচ্ছল নারী এ সহায়তা পেয়েছেন। সম্প্রতি রুমা উপজেলার মুনলাই পাড়া কালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় শেষ পর্বের অনুষ্ঠান। দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে সেখানে পৌঁছে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতিনিধিরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের ২০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. জাবেদ রাউজান, রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ের পরিচালক নাইন্দিয়া থেরসহ স্থানীয় পাড়াপ্রধান ও বিএনপির নেতারা। পাহাড়ঘেরা রুমা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। অভাব-অনটনের মধ্যেও অনেক নারী সংসারের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পাওয়াকে নতুন আয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ে বেড়ে ওঠা নাইউচিং মার্মাও তাঁদের একজন। ছোটবেলাতেই মা-বাবাকে হারানো নাইউচিং অনাথ আশ্রমেই পড়াশোনা করেছেন। প্রশিক্ষণের পর সেলাই মেশিন পেয়ে তিনি এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। নাইউচিং মার্মা বলেন, ‘ছোট থেকে অনাথ আশ্রমেই বড় হয়েছি। এই সেলাই মেশিন আমার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস আরও বাড়িয়ে দিল।’ একই অনুষ্ঠানে সেলাই মেশিন পেয়েছেন চাময়া ম্রো। তাঁর বাবা মেনয়াং ম্রো মারা গেছেন এবং মা মানসিকভাবে অসুস্থ। দুই বোন মিলে জুম চাষ করে সংসারের ব্যয় চালানোর পাশাপাশি চাময়া বান্দরবান সরকারি কলেজে অনার্সে পড়াশোনা করছেন। নতুন সেলাই মেশিন তাঁর জন্য আয়ের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করেন তিনি। চাময়া ম্রো বলেন, ‘এটি আমার জন্য নতুন আয়ের পথ তৈরি করবে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে। বসুন্ধরাকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’ রুমা থানার ওসি মানস বড়ুয়া বলেন, দুর্গম অঞ্চলের অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন বিতরণ একটি মানবিক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নারীরা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারবেন। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানান তিনি। উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. জাবেদ রাউজান বলেন, সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন বিতরণের মাধ্যমে নারীরা দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি হচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজকল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ের পরিচালক নাইন্দিয়া থের বলেন, দুর্গম এলাকার অসচ্ছল নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নারী ও কিশোরীরা দক্ষতা অর্জন করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন এবং পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন। বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন সহায়তার মাধ্যমে ইতোমধ্যে তিন হাজারের বেশি নারী স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বান্দরবানের পাঁচ উপজেলার ১০০ নারীকে প্রশিক্ষণ ও মেশিন দেওয়ার কার্যক্রমও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
নান্দাইলের জামতলা বাজারে মাদক ব্যবসা ও জুয়া বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

নান্দাইলের জামতলা বাজারে মাদক ব্যবসা ও জুয়া বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুশুলী ইউনিয়নের জামতলা বাজারে জুয়া ও মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আসরের নামাজের পর মুশুল্লী ইউনিয়নের সর্বসাধারণের আয়োজনে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের জামতলা বাজারে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যুবদল নেতা আল আমিনের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, নান্দাইল মডেল থানার ওসি তদন্ত মুজাহিদুল ইসলাম, মুশুল্লী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক ফোরকান উদ্দিন ফোরকান, সদস্য সচিব উমর ফারুক মাস্টার, নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল হক বাবুল, কালের কণ্ঠের ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি রবিউল আলম ফরাজী, জামতলা বাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিশিষ্ট সমাজসেবক রবিউল ইসলাম রবিন, মারুফ হাসান, এনামুল হকসহ অনেকেই। বক্তারা বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। মাদকের কারণে তরুণ প্রজন্ম বিপথগামী হওয়ার পাশাপাশি নানা সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাই মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন আরও জোরদার করার কথা বলেন বক্তারা। তাঁরা আরও বলেন, মুসুলী ইউনিয়নে মাদক ব্যবসা ও জুয়া বন্ধ না হলে, প্রয়োজনে আগামীতে কঠোর কর্মসূচী দেওয়া হবে। এসময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
বাঞ্ছারামপুরে ৪২৬ নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় নতুন উদ্যোগ

বাঞ্ছারামপুরে ৪২৬ নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় নতুন উদ্যোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দরিদ্র নারীদের আয়মূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করেছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন। সোমবার দুপুরে উপজেলার জগন্নাথপুর আধুনিক মিলনায়তনে আয়োজিত ৮৪তম ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে ৪২৬ জন নারীকে মোট ৮০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান এবং বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী উপকারভোগীদের হাতে ঋণের অর্থ তুলে দেন। বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন ২০০৫ সাল থেকে বাঞ্ছারামপুরে সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ফাউন্ডেশনের এই কার্যক্রম বাঞ্ছারামপুরের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী নবীনগর ও কুমিল্লার হোমনা উপজেলাতেও বিস্তৃত হয়েছে। গত ২১ বছরে তিন উপজেলার ১০১টি গ্রামের প্রায় ৩১ হাজার দরিদ্র নারী এ ঋণ কার্যক্রমের আওতায় এসেছেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। ঋণ পাওয়া নারীদের কয়েকজন জানান, তাঁরা হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন, কৃষিকাজসহ বিভিন্ন আয়মূলক কাজে ঋণের অর্থ ব্যবহার করছেন। এতে পরিবারের আয় বাড়ার পাশাপাশি তাঁদের নিজেদেরও আর্থিক সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। দুর্গারামপুর গ্রামের কুলসুম জানান, তিনি এর আগে তিনবার বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন থেকে ঋণ নিয়ে হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালন করেছেন। প্রতিবারই লাভ করেছেন। তবে মেয়ের বিয়ে ও ছেলের পড়াশোনার খরচে সেই অর্থ ব্যয় হয়ে যায়। এবার চতুর্থবার ঋণ নিয়ে আবারও আয়মূলক কাজে বিনিয়োগ করতে চান তিনি। আসাদনগর গ্রামের পারভীন আক্তার বলেন, কয়েক বছর ধরে তিনি ফাউন্ডেশনটির কাছ থেকে সুদমুক্ত ঋণ নিচ্ছেন। পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে তাঁর ঋণ নেওয়া শুরু হয়েছিল। এবার তিনি ২০ হাজার টাকা পেয়েছেন। কৃষিকাজ ও হাঁস-মুরগি পালন করে তিনি পরিবারে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন। পাড়াতলি গ্রামের মোমেনা আক্তার এবারসহ পাঁচবার ঋণ পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ঋণের অর্থ দিয়ে গরু-ছাগল পালন করে পরিবারের আয় বাড়াতে পেরেছেন। আসাদনগর গ্রামের হালিমা বলেন, তিনি ঋণের টাকা স্বামীর অটোরিকশার দোকানে বিনিয়োগ করেছেন। দোকানের লাভ থেকে ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়াচ্ছেন। এতে তাঁদের সংসারে আর্থিক স্বস্তি এসেছে। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান বলেন, উচ্চ সুদের ঋণ দরিদ্র মানুষের জন্য অনেক সময় দারিদ্র্যের চক্র আরও জটিল করে তোলে। ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সুদমুক্ত ঋণ কার্যক্রম দরিদ্র মানুষকে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। তিনি বলেন, তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ এই ঋণ ব্যবস্থা উপকারভোগীদের অর্থ আয়মূলক কাজে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয়। ফলে তাঁরা তাৎক্ষণিক ঋণ পরিশোধের চাপ ছাড়াই ব্যবসা বা অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করতে পারেন। বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, সুদ ও সার্ভিস চার্জ ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের মাধ্যমে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন একটি মানবিক উদ্যোগের দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এ কার্যক্রমের মাধ্যমে তিন উপজেলার প্রায় ৩১ হাজার নারী স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ঋণের অর্থ বৈধ ও আয়মূলক কাজে ব্যবহার করতে হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি ঋণগ্রহীতাদের প্রতি আহ্বান জানান। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণের পাশাপাশি বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগও এলাকার দরিদ্র মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। অনেক নারী প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রেও বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তা রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. চাঁনমিয়া সরকার। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ডিজিএম মাইমুন কবির, ডেপুটি ম্যানেজার মোশাররফ হোসেন, শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
মাদকের টাকায় বাড়ি-গাড়ি, টঙ্গীতে সক্রিয় একাধিক নারী

মাদকের টাকায় বাড়ি-গাড়ি, টঙ্গীতে সক্রিয় একাধিক নারী

রাজধানীর কাছাকাছি অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধা এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা—সব মিলিয়ে গাজীপুরের টঙ্গী দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা হিসেবে পরিচিত। টঙ্গীর হাজীর মাজার, ব্যাংক মাঠ, কেরানীরটেক, এরশাদ নগরসহ বিভিন্ন বস্তিতে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব এলাকায় ছোট-বড় মাদক কারবারিদের পাশাপাশি নারীদের একটি অংশও সক্রিয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মাদক বিক্রির নেটওয়ার্ক। তাঁদের সহযোগী হিসেবে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় আরও অনেক নারী কাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তির বাসিন্দা মোমেলা বেগমকে বড় মাদক কারবারিদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। গাঁজা দিয়ে শুরু করে পরে ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবার কারবারে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মোমেলা বেগমের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বাড়ি, জমি ও যানবাহন রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গত বছরের ২ নভেম্বর তাঁকে ইয়াবা ও হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। ব্যাংক মাঠ বস্তির আরেক আলোচিত নারী মাদক কারবারি ময়না খাতুন। তাঁর বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। ময়নার মেয়ে নার্গিস ও পুত্রবধূ রোজীর বিরুদ্ধেও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। ময়না খাতুনের ভাই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও ইয়াবা পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানা গেছে। ময়নার ছেলে তাজুল ইসলাম তাজুর বিরুদ্ধেও মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মাদক কারবারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থে গাজীপুর ও মাদারীপুরে সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে। টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তিতে ‘বড় আপা’ নামে পরিচিত আফরিনা আক্তারকেও স্থানীয়ভাবে বড় মাদক কারবারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আগে ফেনসিডিলের পাইকারি কারবার এবং বর্তমানে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে তাঁর স্বামী ও ভাই সহযোগিতা করেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। কেরানীরটেক বস্তিতে সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে কুলসুমের বিরুদ্ধে। একসময় আর্থিকভাবে অসচ্ছল থাকলেও মাদক কারবারের মাধ্যমে তাঁর সম্পদ বেড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। রেলওয়ের জায়গা দখল করে মাদক বিক্রির স্থান তৈরির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তাঁর বোন নার্গিসকে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। একই এলাকার আরেক নারী কারবারি হিসেবে কারিমা বেগমের নামও উঠে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। গত ১৮ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিনের মাদক কারবারের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টঙ্গীর বাইরে গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর ও লক্ষ্মীপুরা এলাকাতেও নারী মাদক কারবারিদের তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে। কাশিমপুরের নয়াপাড়া এলাকার ডালিয়া বেগমের জীবনযাত্রায় কয়েক বছরের ব্যবধানে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে স্থানীয়রা জানান। আগে অন্যের বাড়িতে কাজ করলেও বর্তমানে ওই এলাকায় তাঁর পরিবারের একাধিক বাড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে। লক্ষ্মীপুরা এলাকার তাহমিনা ও আশাকেও মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এসব নারী একা নন; তাঁদের ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আরও অনেক নারী ও পুরুষ কাজ করেন। কেউ মাদক সংগ্রহ, কেউ পরিবহন, আবার কেউ খুচরা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. বেলায়াত হোসেন বলেন, মহানগরের বিভিন্ন বস্তিতে মাদক কারবার বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। গত আট মাসে এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং অনেক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, সম্প্রতি কিছু বস্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় কয়েকটি মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। টঙ্গীকে মাদকমুক্ত করতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বস্তিতে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হলেও স্থানীয়দের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মাদকের সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি কারবারের অর্থের উৎস, পৃষ্ঠপোষকতা এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
বান্দরবানে ৪০ অসচ্ছল নারী পেলেন প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন

বান্দরবানে ৪০ অসচ্ছল নারী পেলেন প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন

সবুজ পাহাড় আর আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে বান্দরবানের প্রত্যন্ত জনপদে বসবাস করা মানুষের জীবন সহজ নয়। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, সীমিত কর্মসংস্থান এবং কৃষিনির্ভর জীবিকার কারণে অনেক পরিবারকে প্রতিনিয়ত নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বহু পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস জুম চাষ। কিন্তু প্রকৃতি ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল এই আয়ে সারা বছর সংসারের প্রয়োজন মেটানো কঠিন। এই বাস্তবতার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে পরিবারের নারী ও শিক্ষার্থীদের ওপর। সংসারের সীমিত আয় দিয়ে খাবার, চিকিৎসা ও পড়াশোনার খরচ মেটাতে গিয়ে অনেকেরই নিজের জন্য আলাদা কোনো আয়ের সুযোগ থাকে না। অথচ তাঁদের অনেকেরই রয়েছে কাজ শেখার আগ্রহ এবং নিজের আয় দিয়ে পরিবারকে সহযোগিতা করার স্বপ্ন। এমন কিছু স্বপ্নবাজ নারীর পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। সংগঠনটির উদ্যোগে বান্দরবানের আলীকদম ও সদর উপজেলার ৪০ জন অসচ্ছল নারীকে তিন মাসব্যাপী বিনা মূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি করে সেলাই মেশিন। ফলে প্রশিক্ষণ নেওয়া নারীদের জন্য দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি আলীকদম ও বান্দরবান সদর উপজেলা হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা, বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহেদ পারভেজ, বান্দরবান জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল হক বাচ্চু, বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামানসহ স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হতে চান চামমুম আলীকদম উপজেলার মারানপাড়ার চামমুম ম্রোর জীবন কেটেছে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে। তিন ভাই ও আট বোনের বড় পরিবারের এই তরুণী বর্তমানে আলীকদম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা রেংকাই ম্রো জুম চাষ করেন। তাঁর আয় দিয়েই পরিবারের এত সদস্যের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হয়। বড় পরিবারের কারণে ছোটবেলা থেকেই অভাবের বাস্তবতা দেখেছে চামমুম। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় নিজের প্রয়োজনের খরচ মেটানোর জন্যও তাকে পরিবারের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে একটি কাজ শেখার সুযোগ খুঁজছিল চামমুম। সেলাই প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর সেই সুযোগ তৈরি হয়েছে। শুধু প্রশিক্ষণ নয়, বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি সেলাই মেশিনও পেয়েছে সে। চামমুমের ভাষায়, পরিবারের সদস্য অনেক। বাবার জুম চাষের আয় দিয়ে সংসারের সব প্রয়োজন মেটানো কঠিন। সেলাই শেখার সুযোগ পেয়ে সে খুশি। এখন পড়াশোনার পাশাপাশি সেলাই করে নিজের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহযোগিতা করতে চায়। তার কাছে সেলাই মেশিনটি কেবল একটি যন্ত্র নয়; নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি সুযোগ। বাবার অসুস্থতার মধ্যেও থামেনি লাইজুর পড়াশোনা আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের লাইজু আক্তারের জীবনেও অভাব ও দায়িত্বের চাপ কম নয়। লামা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী ছয় বোনের একজন। প্রায় ১৩ বছর আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে লাইজুর বাবা প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। এরপর থেকেই পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। বাবার নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের বড় বোনদেরই সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়। বড় বোনদের সহযোগিতায় লাইজুর পড়াশোনা চলছে। তবে নিজের সব প্রয়োজনের জন্য পরিবারের দিকে তাকিয়ে থাকতে চায় না সে। তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের কিছু খরচ চালায়। এর মধ্যেই সেলাই শেখার সুযোগ পায় লাইজু। তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে একটি সেলাই মেশিনও পেয়েছে সে। এখন টিউশনের পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করে আয় করার পরিকল্পনা করছে। লাইজু মনে করে, বাবার অসুস্থতার কারণে পরিবারের ওপর যে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, নিজের আয় দিয়ে তার কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন তার। মাসিংচিংয়ের স্বপ্ন পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বান্দরবান সদর উপজেলার রেনীং পাড়ার মাসিংচিং মার্মাও সেলাই মেশিন পাওয়া ৪০ নারীর একজন। লোটাস শিশু সদন আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর বাবা থোয়াইচিংনু মার্মা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি হিসেবে কর্মরত। দুই বোনের পরিবারে সীমিত আয়ের মধ্যেই তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি একটি দক্ষতা অর্জনের ইচ্ছা ছিল মাসিংচিংয়ের। সেলাই প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর এখন নিজের একটি মেশিনও রয়েছে তার হাতে। এই মেশিন ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আয় করতে চায় সে। নিজের পড়াশোনার খরচে সহযোগিতা করার পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে মাসিংচিং। মায়ের অনুপস্থিতিতে মেসাইনুর লড়াই বান্দরবান সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেসাইনু মার্মার জীবনেও রয়েছে সংগ্রামের গল্প। তাঁর মা অনেক আগেই মারা গেছেন। বাবা সাবাই উ মার্মা কৃষিকাজ করে সংসার চালান। বাবার সীমিত আয়ের ওপর নির্ভর করেই মেসাইনুর পড়াশোনা চলছে। পরিবারের আর্থিক বাস্তবতা তাঁকে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি একটি কাজ শেখার সুযোগকে তিনি নিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন। তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পাওয়ায় এখন সেই দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সেলাই করে আয় করে বাবার আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতে চান মেসাইনু। শ্যামলীর পরিবারেও স্বচ্ছলতার অপেক্ষা এই উদ্যোগের আরেক উপকারভোগী শ্যামলী তঞ্চঙ্গ্যা বান্দরবান সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাবা কদম তঞ্চঙ্গ্যা খুব বেশি আয় করতে পারেন না। পরিবারের ব্যয় মেটাতে এনজিওতে কর্মরত ভাইয়ের আয়ের ওপরও নির্ভর করতে হয় তাঁদের। এই বাস্তবতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন শ্যামলী। ভবিষ্যতে নিজের আয়ে পরিবারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছা তাঁর। সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন পাওয়ার পর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি পথ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারলে পরিবারে আর্থিকভাবে অবদান রাখা সম্ভব হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর। প্রশিক্ষণের সঙ্গে মেশিন, তাই তৈরি হলো কাজের সুযোগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু সেলাই মেশিন বিতরণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই সেটি দীর্ঘমেয়াদে কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। এ কারণে মেশিন দেওয়ার আগে নারীদের তিন মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁরা সেলাইয়ের মৌলিক কাজ শেখার পাশাপাশি মেশিন ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন। আয়োজকদের মতে, সীমিত আয়ের পরিবার, কর্মসংস্থানের অভাব এবং সংসারের নানা দায়িত্বের কারণে অনেক নারী আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পান না। তাঁদের একটি ব্যবহারিক দক্ষতা শেখানোর পাশাপাশি সেই দক্ষতা কাজে লাগানোর উপকরণ দেওয়া হলে নিজেদের আয়ের পথ তৈরি করা সহজ হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, প্রান্তিক অঞ্চলের নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন দেওয়ার উদ্যোগ সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে পারবেন। বান্দরবান সদর থানার ওসি মো. শাহেদ পারভেজও উদ্যোগটির প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, প্রত্যন্ত এলাকার নারীদের বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন দেওয়া তাঁদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথে সহায়তা করবে। বান্দরবান জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল হক বাচ্চু বলেন, শুধু মেশিন বিতরণ নয়, তার আগে তিন মাসের বিনা মূল্যের প্রশিক্ষণ দেওয়াটিও গুরুত্বপূর্ণ। এতে উপকারভোগীরা মেশিন ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করেছেন। ফলে সেলাই মেশিন তাঁদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যম হতে পারে। বসুন্ধরা শুভসংঘ বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি উয়ই সিং মার্মা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের অনেক নারী নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কাজের সুযোগ পান না। তাঁদের দক্ষ করে তুলতে পারলে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। একটি মেশিন, একটি পরিবারের নতুন সম্ভাবনা সেলাই মেশিন পাওয়া ৪০ নারীর বড় একটি অংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর। তাঁদের মধ্যে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও রয়েছেন। কারও বাবা জুম চাষ করেন, কারও বাবা কৃষিকাজ করেন, আবার কারও পরিবারে অসুস্থতা বা সীমিত আয়ের কারণে সংসার চালানোই কঠিন। তাঁদের প্রত্যেকের গল্প আলাদা হলেও স্বপ্ন প্রায় একই—পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, নিজের প্রয়োজনের কিছুটা নিজে মেটানো এবং সুযোগ পেলে পরিবারকে সহযোগিতা করা। সেলাই মেশিন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ এখনো সীমিত। এমন উদ্যোগ যদি ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে শুধু কয়েকটি পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন নয়, নারীদের মধ্যে আত্মনির্ভরতার মানসিকতাও আরও শক্তিশালী হবে। চামমুম, লাইজু, মাসিংচিং, মেসাইনু কিংবা শ্যামলী—প্রত্যেকের হাতে এখন একটি করে সেলাই মেশিন। তাঁদের কাছে এটি কেবল একটি উপহার নয়। কারও কাছে এটি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অবলম্বন, কারও কাছে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ, আবার কারও কাছে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রথম পুঁজি। পাহাড়ের কঠিন বাস্তবতার মধ্যে তাই এই ৪০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন পৌঁছে দেওয়া যেন নতুন এক সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা কতটা এগিয়ে যেতে পারবেন, তা সময়ই বলবে। তবে শুরুটা হয়েছে—নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে।

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
নদী ভাঙনে কষ্টে থাকা মানুষের পাশে এবিজি ফাউন্ডেশন

নদী ভাঙনে কষ্টে থাকা মানুষের পাশে এবিজি ফাউন্ডেশন

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় ৩ শতাধিক মানুষের মধ্যে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন্ডেশন। বুধবার বিকেলে চকহরিচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার নদীভাঙনকবলিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির উদ্যোগে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ শতাধিক মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার চকহরিচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে ২৫ কেজি করে চাল তুলে দেওয়া হয়। খাদ্য সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরের সহধর্মিণী শায়লা কবীর। খাদ্য সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু, যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ ইকবাল রনি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল, দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আব্দুস সালাম এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি লোকমান হোসেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শায়লা কবীর বলেন, অসহায় মানুষের পাশে সব সময় থাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবিজি ফাউন্ডেশনের মানবিক সহায়তা শুধু মানিকগঞ্জে সীমাবদ্ধ নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও এ ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
মেঘনা নদী গিলে খাচ্ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, তদন্ত প্রতিবেদনে ভয়াবহ চিত্র

মেঘনা নদী গিলে খাচ্ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, তদন্ত প্রতিবেদনে ভয়াবহ চিত্র

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে মেঘনা গ্রুপের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। প্রায় দুই বছর ধরে সরেজমিন তদন্ত শেষে ১২ সদস্যের কমিটি একটি প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেঘনা গ্রুপের সাতটি প্রতিষ্ঠান নদীর প্রায় ২৪১ দশমিক ২৭ একর জমি দখল করেছে। এর মধ্যে ৮৪ দশমিক ৭৭ একর জমিতে বিভিন্ন স্থাপনা ও মূল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ৫ দশমিক ৫ একর জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে সড়ক। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, দখল করা নদীর জমি দ্রুত উদ্ধার করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নদী রক্ষায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. আলাউদ্দিন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে জেলা প্রশাসন নদীর জমি উদ্ধারে ব্যবস্থা নেবে। তদন্ত কমিটি ২০১৯ সালের অক্টোবরে কাজ শুরু করে। পরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে তদন্ত কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য বাধাগ্রস্ত হয়। এরপর আবার তদন্ত শুরু করা হয়। কমিটির সদস্যরা সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যের বাজার, হোসেনপুর ও পিরোজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চর রমজান, সোনাউল্লাহ, পূর্ব দামোদরদী, পশ্চিম দামোদরদী, দুধঘাটা, টেঙ্গরচর, ছয়হিস্যা, নরসুলদী, আষাঢ়িয়ারচর ও ঝাউচর এলাকায় নদীর জমি ভরাট করে মেঘনা গ্রুপের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়। কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনের সময় মেঘনা পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস, সুগার রিফাইনারি, ফ্রেশ সুগার, কেমিক্যাল কারখানা, ফ্রেশ সিমেন্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করে। এসব স্থাপনার কয়েকটি নদীর মূল ভূমি, তীরবর্তী এলাকা ও প্লাবনভূমির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মেঘনা নদীর শাখা মারাখালী নদীর উত্তর ও দক্ষিণ অংশের তীর থেকে নদীর ভেতরে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত দখলের অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে। বিভিন্ন এলাকায় নদীর জমি ভরাট করে সীমানাপ্রাচীর, স্থাপনা ও জেটি নির্মাণের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, নদীর জমি ভরাটের কারণে মেঘনা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি নদী ও আশপাশের জলাভূমির পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং নিম্নাঞ্চলের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তদন্ত প্রতিবেদনে ভূমি রেকর্ডের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ভূমি অফিসের বক্তব্য অনুযায়ী, সিএস রেকর্ডে মেঘনা গ্রুপের দখলে থাকা অনেক জমিকে নদীর জমি হিসেবে দেখানো হয়েছে। আরএস রেকর্ডে কিছু জমি খাস হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার পর তা অন্যের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী সরকারের নির্ধারিত অংশের অর্থ পরিশোধের বিধান রয়েছে। কিছু জমির ক্ষেত্রে এ বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে তদন্ত কমিটি। মেঘনা গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জেটি রয়েছে এবং এসবের জন্য বিআইডব্লিউটিএর অনুমতির বিষয়ও তদন্ত প্রতিবেদনে এসেছে। তবে নদীর জমিতে স্থাপিত দুটি জেটির লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি বলে বিআইডব্লিউটিএর বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ ছাড়া মেঘনা গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে। নদীর জমি বা প্লাবনভূমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং সেখান থেকে তরল বর্জ্য নদীতে পড়লে তা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। নদীর জমি উদ্ধার ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তদন্ত কমিটি ১২টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে দ্রুত নদীর জমি চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নদী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার বিষয় রয়েছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিবেদনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মেঘনা নদী দখল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে নদীর দখলমুক্তকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি। তবে এ বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে সভা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। সোনারগাঁ উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ইতিমধ্যে মদিনা গ্রুপের দখলে থাকা নদী ও নদীতীরবর্তী সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দখলের বিষয়ও তালিকাভুক্ত করে নদীর জমি উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

৩১ আগস্ট, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
রংপুরে ৪ খুন: ডোপ টেস্টে মাদক মেলেনি সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের শরীরে

রংপুরে ৪ খুন: ডোপ টেস্টে মাদক মেলেনি সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের শরীরে

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। তাদের শরীরে মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এর ফলে চার খুনের আগে আসামিরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন—পুলিশের তদন্তে উঠে আসা সেই দাবিকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের একটি দল। আসামিদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারাগারেই নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে ডোপ টেস্টের জন্য টেকনোলজিস্ট পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কাছে অনুরোধ জানায় ডিবি। অনুমতি পাওয়ার পর রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে যায় ডিবির দল। রংপুর মেডিকেল কলেজের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, ‘ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ইউরিন স্পেসিমেন বা প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে নমুনাগুলো ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে তাদের মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আসামিদের ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়। টেকনোলজিস্টকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে গিয়ে তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মাদক সেবনের প্রমাণ মেলেনি।’ গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা, ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলায় এবং বাধা দেওয়ায় প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। পুলিশ আরও দাবি করে, হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন। গ্রেপ্তারের পর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। একই ঘটনায় দুই সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এখন ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসায় হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিদের মাদক সেবনের দাবি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। যদিও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডোপ টেস্টের ফলাফল দিয়ে পুরো হত্যাকাণ্ডের তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনাস্থলের আলামত, আসামিদের জবানবন্দি, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য ফরেনসিক ও পারিপার্শ্বিক তথ্যও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হবে। চার খুনের মতো চাঞ্চল্যকর মামলায় পুলিশের বক্তব্য ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে এই পার্থক্য তদন্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং আসামিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে এখন নজর রয়েছে। সূত্র- ইনডিপেন্ডেট টিভি অনলাইন।

৩১ আগস্ট, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে চড়, কারাগারে সেই নয়ন

পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে চড়, কারাগারে সেই নয়ন

মাগুরা শহরে এক পুলিশ কনস্টেবলকে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় মারার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি নাইমুজ্জামান নয়নকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২৮ আগস্ট বিকেলে শহীদ স্মৃতি চত্বর এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে একটি ওয়ার্কশপে যাওয়ার সময় কনস্টেবল মো. ইমরান হোসাইনের সঙ্গে কয়েকজনের বাগবিতণ্ডা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সদর হাসপাতালের সামনে তার পথরোধ করে মারধর, সরকারি কাজে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়। মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত কনস্টেবল ইমরান হোসাইন সদর থানায় মামলাটি করেন। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৮৬, ৩৪১, ৩৩২, ৩৫৩ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে বসে থাকা পুলিশ সদস্যকে নাইমুজ্জামান নয়ন চড় মারছেন। অন্য একটি ভিডিওতে তাকে পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নিতে এবং আশপাশের লোকজনকে ঘটনাস্থলে আসতে বলতে দেখা যায়। সেখানে থাকা পুলিশের দুই সহকারী উপপরিদর্শক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সড়কে যান চলাচল নিয়ে বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। মাইক্রোবাসকে সাইড না দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়। অভিযোগের বিষয়ে নাইমুজ্জামান নয়ন বলেন, যানজটে আটকে থাকা অবস্থায় ওই পুলিশ সদস্যকে সাইড দিতে বারবার হর্ন দিয়েও সাড়া না পেয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে তাকে একটি থাপ্পড় দেন এবং এটিকে নিজের ভুল বলে স্বীকার করেন। মায়ের অসুস্থতা ও মানসিক চাপের কারণেও তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি বলে দাবি করেন। ঘটনার পর নয়নকে থানায় নেওয়া হলেও তখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। পরে মামলার তদন্তের একপর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র- আমার সংবাদ

৩০ আগস্ট, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →