বিভাগ: লাইফস্টাইল
মোট খবর: 11 টি
মানুষের সম্পদ কেড়ে নেওয়া সম্পর্কে কোরআনের নির্দেশনা
সমাজে মানুষের নিরাপত্তা শুধু তার জীবনের নিরাপত্তার নাম নয়; তার উপার্জন, সম্পদ, সম্মান এবং স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকারও এর অন্তর্ভুক্ত। যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ভয় দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে, হুমকি দিয়ে সম্পদ কেড়ে নেয় কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, তখন তা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর অন্যায় নয়—সমাজের শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতার ওপরও সরাসরি আঘাত। এ কারণেই ইসলাম সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জুলুম ও মানুষের অধিকার হরণের মতো কর্মকাণ্ডকে অত্যন্ত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির পদ্ধতি ভিন্ন হলেও উভয়ের ভিত্তি একই—ভয় সৃষ্টি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অন্যের অধিকার কেড়ে নেওয়া। সন্ত্রাস মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে, আর চাঁদাবাজি মানুষের সম্পদ ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানে। ইসলাম এমন কোনো সমাজব্যবস্থাকে সমর্থন করে না, যেখানে শক্তিশালী বা প্রভাবশালী কেউ দুর্বল মানুষের ওপর অন্যায়ভাবে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে। পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি নিষিদ্ধ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার প্রতি ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। সমাজে এমন কোনো কর্মকাণ্ডের সুযোগ নেই, যার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় কিংবা শান্তি ও শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি এ ধরনের অপরাধের অন্যতম উদাহরণ। এগুলোর মাধ্যমে ব্যক্তি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি সামগ্রিকভাবে সমাজেও ভয়, অস্থিরতা ও অবিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। কোরআনে পৃথিবীতে ফ্যাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টি করতে নিষেধ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করতে চেয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭৭) সুতরাং সমাজে আতঙ্ক, বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ড ইসলামের শান্তি ও ন্যায়ভিত্তিক আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ গ্রহণ নিষিদ্ধ ইসলাম মানুষের সম্পদের অধিকারকে অত্যন্ত মর্যাদা দিয়েছে। বৈধ ব্যবসা, শ্রমের বিনিময় কিংবা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সম্পদ অর্জন করা বৈধ। কিন্তু ভয়ভীতি, হুমকি, প্রভাব, বলপ্রয়োগ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কারো কাছ থেকে অর্থ বা সম্পদ নেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ কোরো না।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৮) চাঁদাবাজি এই নিষেধাজ্ঞার একটি সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কারণ চাঁদাবাজির মাধ্যমে একজনের সম্পদ তার স্বেচ্ছাসম্মতি ছাড়া ভয় বা চাপ প্রয়োগ করে আদায় করা হয়। ফলে এটি শুধু একটি সামাজিক অপরাধ নয়; ইসলামের দৃষ্টিতেও এটি অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভোগ করার শামিল। মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের মর্যাদা ইসলামে মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মানকে পবিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। একজন মানুষ অন্যায়ভাবে অন্যের জীবন, সম্পদ কিংবা মর্যাদার ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারে না। চাঁদাবাজি মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত করার পাশাপাশি অনেক সময় তার সম্মান, সামাজিক অবস্থান ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। বিদায় হজের ভাষণে রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের জীবন ও সম্পদের মর্যাদা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন—‘তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য হারাম (মর্যাদাপূর্ণ), যেমন তা হারাম (মর্যাদাপূর্ণ) তোমাদের এই দিনে, তোমাদের এই মাসে এবং তোমাদের এই শহরে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১২১৮) এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়, একজন মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত। জুলুমের পরিণতি ভয়াবহ সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মূলে রয়েছে জুলুম। একজন সন্ত্রাসী যখন ভয় দেখিয়ে মানুষের নিরাপত্তা নষ্ট করে কিংবা তার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে, তখন সে জুলুম করে। একইভাবে চাঁদাবাজ যখন হুমকি বা প্রভাব খাটিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে, তখন সেও জুলুমের পথ অবলম্বন করে। ইসলাম জুলুমের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা দিয়েছে। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই জুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকারসমূহে পরিণত হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৭৪১) দুনিয়ায় ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা ভয় দেখিয়ে অন্যায়ভাবে সুবিধা নেওয়া সাময়িকভাবে সম্ভব হলেও এর পরিণতি আখিরাতে অত্যন্ত কঠিন। অন্যায়ভাবে অর্থ আদায়কারীদের ব্যাপারে সতর্কতা মানুষের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে অর্থ আদায়কে ইসলাম অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছে। হাদিসে অন্যায়ভাবে মানুষের কাছ থেকে অর্থ বা শুল্ক আদায়কারী ব্যক্তিকে ‘সাহিবু মাক্স’ বলা হয়েছে। এ ধরনের ব্যক্তির ব্যাপারেও রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কতা প্রদান করেছেন। একজন তাওবাকারী নারী সাহাবির ঘটনা প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহ.) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, নবী (সা.) বলেছেন, ‘সে এমন তাওবা করেছে যে একজন মাক্স গ্রহণকারীও যদি এমন তাওবা করত, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হতো।’ (মুসলিম, হাদিস : ৪৩২৪) হাদিসে ‘সাহিবু মাক্স’ বলতে অন্যায়ভাবে মানুষের কাছ থেকে অর্থ বা শুল্ক আদায়কারী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। এতে বোঝা যায়, মানুষের ওপর অন্যায় আর্থিক বোঝা চাপানো ইসলামে কতটা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। মানুষের অধিকার নষ্ট করলে শুধু তাওবা যথেষ্ট নয় চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে শুধু আল্লাহর হক নয়, বান্দার হকও জড়িত। কেউ যদি অন্যায়ভাবে কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ বা সম্পদ গ্রহণ করে, তাহলে শুধু মুখে তাওবা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সম্ভব হলে অন্যায়ভাবে নেওয়া অর্থ বা সম্পদ প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির অধিকার আদায় করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রতি তার সম্মান বা অন্য কিছুতে কোনো জুলুম ও অন্যায় করে থাকে, তাহলে সেদিন আসার আগেই সে যেন আজই তার নিকট হতে (ক্ষমা চাওয়া অথবা প্রতিশোধ দেওয়ার মাধ্যমে) নিজেকে মুক্ত করে নেয়।’ (বুখারি, হাদিস : ২৪৪৯, ৬৫৩৪; তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৯) এই নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়, মানুষের অধিকার নষ্ট করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অন্যায়ভাবে অর্জিত অর্থ বা সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাওয়া তাওবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ জরুরি সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি কোনো সুস্থ সমাজের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। সন্ত্রাস মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে, আর চাঁদাবাজি মানুষের সম্পদ ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়। এর ফলে সমাজে ভয়, অবিশ্বাস, অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়তে থাকে। একসময় এসব অপরাধ সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশকেও দুর্বল করে দেয়। ইসলাম মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তাই জুলুম, ভয়ভীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং অন্যের অধিকার হরণের মতো কর্মকাণ্ড থেকে ব্যক্তি ও সমাজকে মুক্ত রাখা সবার দায়িত্ব। ন্যায়, সততা, পারস্পরিক সম্মান এবং মানুষের অধিকার সংরক্ষণের মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও কল্যাণময় সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

ঢাকার আবাসন সংকটে টেকসই সমাধান হতে পারে গ্রিন বিল্ডিং
ঢাকায় একটি বাসা পাওয়া এখন শুধু মাথা গোঁজার জায়গা খোঁজার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, বিদ্যুৎ-পানির খরচ, পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য নগর রেখে যাওয়ার প্রশ্ন। কম দামে একটি ফ্ল্যাট কিনলেই আবাসন সাশ্রয়ী হয়ে যায় না। সেই ভবনে বসবাস করতে গিয়ে যদি বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যায়, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ে কিংবা প্রতিদিন কর্মস্থলে যেতে দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়, তাহলে সেই আবাসনের প্রকৃত খরচও বেড়ে যায়। বুড়িগঙ্গার তীরের একটি বাণিজ্যকেন্দ্র থেকে ধীরে ধীরে ঢাকার বিস্তার আজকের বিশাল মহানগরে। ১৬১০ সালে মোগল বাংলার রাজধানী হওয়ার পর থেকে শহরটি নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হিসেবে ঢাকা এখন শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মানুষের বসবাসের চাহিদা। এই বাস্তবতায় ঢাকার আবাসন পরিকল্পনায় এখন শুধু বেশি ভবন নির্মাণ নয়, বরং নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্যকর ও দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। ৫ অক্টোবর বিশ্ব বসতি দিবস। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’। এই প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আবাসন মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের পাশাপাশি নগর পরিকল্পনা, অর্থনীতি ও পরিবেশের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। তাই ঢাকার আবাসন সংকট মোকাবিলায় সবুজ ও সাশ্রয়ী ভবন নির্মাণের ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে। আবাসনের সাশ্রয় বিচার করতে শুধু ফ্ল্যাটের বিক্রয়মূল্য বা মাসিক ভাড়া বিবেচনা করলে চলবে না। বিদ্যুৎ, পানি, রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং যাতায়াতের খরচও এর সঙ্গে যুক্ত। কর্মস্থল থেকে অনেক দূরে কম ভাড়ার বাসা নিলে প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যয় সেই সাশ্রয়কে অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। একইভাবে অপরিকল্পিত ভবনে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা না থাকলে অতিরিক্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়, বাড়ে বিদ্যুৎ বিল। এ কারণে ভবন নির্মাণের শুরু থেকেই ‘জীবনচক্র ব্যয়’ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। একটি ভবন নির্মাণে কত টাকা খরচ হলো, সেটিই তার পুরো অর্থনৈতিক চিত্র নয়। বরং ভবনটি ব্যবহার করার পরবর্তী ১০, ২০ বা ৩০ বছরে বিদ্যুৎ, পানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতে কত ব্যয় হবে, সেটিও হিসাবের মধ্যে আনতে হবে। কম প্রাথমিক ব্যয়ের ভবন সব সময় যে সাশ্রয়ী হবে, এমন নয়। বরং শুরুতেই কিছুটা পরিকল্পিত বিনিয়োগ করে ভবনের শক্তি ও পানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো গেলে দীর্ঘ মেয়াদে পরিবারের ব্যয় কমানো সম্ভব। ওয়ার্ল্ড গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের বিভিন্ন গবেষণা পর্যালোচনাতেও সবুজ ভবনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়টি উঠে এসেছে। আমাদের দেশে এখনও অনেকের ধারণা, গ্রিন বিল্ডিং বা পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ মানেই বড় অঙ্কের অতিরিক্ত ব্যয়। বাস্তবে সবুজ ভবনের অনেক কার্যকর ব্যবস্থা এমন, যেগুলো নির্মাণের নকশা পর্যায়েই অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং এর জন্য সব সময় ব্যয়বহুল প্রযুক্তির প্রয়োজন হয় না। ভবনের সঠিক অভিমুখ নির্ধারণ, জানালার যথাযথ বিন্যাস, প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার, ছায়া তৈরির ব্যবস্থা এবং স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য উপযুক্ত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো শুরু থেকেই বিবেচনায় নিলে ভবনের কার্যকারিতা বাড়ে। এতে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু বাড়তি বিনিয়োগ হলেও পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ, পানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমতে পারে। তাই সবুজ ভবনকে কেবল পরিবেশ রক্ষার বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না। এটি একই সঙ্গে পরিবারের ব্যয় কমানো এবং ভবনের অর্থনৈতিক কার্যকারিতা বাড়ানোর একটি উপায়। বাংলাদেশের জলবায়ু, দুর্যোগঝুঁকি, স্থানীয় নির্মাণসামগ্রী এবং আর্থসামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই) তৈরি করেছে HBRI-DESH Framework। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি বা ইউএনইপির বৈশ্বিক কর্মসূচির আওতায় জাতিসংঘ প্রকল্প সেবা কার্যালয় (ইউএনওপিএস) এতে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। DESH-এর পূর্ণরূপ Design for Environment and Sustainable Habitats। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া, দুর্যোগের ঝুঁকি, স্থানীয় উপকরণের প্রাপ্যতা এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে এই কাঠামোতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নকশা ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে DESHboard সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কাঠামোটি কীভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করা যায়, সে বিষয়টিও ইউএন-হ্যাবিট্যাট পর্যালোচনা করছে। অর্থাৎ বাংলাদেশে সবুজ ভবন মূল্যায়নের জন্য দেশীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কাঠামো ইতোমধ্যেই রয়েছে। এখন প্রয়োজন সেটির ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করা। রাজধানীর ভবিষ্যৎ আবাসন পরিকল্পনায় রাজউকের সংশোধিত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সনদসহ নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী সবুজ ভবনের জন্য সর্বোচ্চ ০.৫ অতিরিক্ত এফএআর পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এফএআর বা Floor Area Ratio হলো জমির আয়তনের তুলনায় ভবনের মোট গণনাযোগ্য মেঝের আয়তনের অনুপাত। সাশ্রয়ী আবাসনের ক্ষেত্রেও ড্যাপে রয়েছে বিশেষ সুযোগ। অপরিকল্পিত এলাকায় A3—অ্যাপার্টমেন্ট ও ফ্ল্যাট বাড়ি এবং A6—সাশ্রয়ী আবাসনের মিশ্র ব্যবহারে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ০.৫ অথবা ০.৭৫ অতিরিক্ত এফএআর পাওয়া যেতে পারে। প্রথম বিকল্পের জন্য অন্তত ১০ কাঠা জমিতে নির্ধারিত আয়তনের পাঁচটি ইউনিট এবং দ্বিতীয় বিকল্পের জন্য অন্তত ২০ কাঠা জমিতে মোট ফ্লোর স্পেসের ৫ শতাংশ সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। দুটি বিকল্পের মধ্যে যেকোনো একটি প্রযোজ্য হবে। এ ধরনের নীতিগত সুবিধা ডেভেলপার ও ভবনমালিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবাসন প্রকল্প পরিকল্পনার সময় এসব সুযোগের অর্থনৈতিক সুবিধা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা দরকার। সবুজ আবাসনের আলোচনা শুধু নতুন ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। ঢাকায় বিপুলসংখ্যক পুরোনো ভবন রয়েছে। সেসব ভবনে প্রয়োজনীয় সংস্কার বা রেট্রোফিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। ভবনের ধরন ও প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী HBRI-DESH Framework-এর মাধ্যমে মূল্যায়ন করা যেতে পারে। পাশাপাশি EDGE কিংবা LEED-এর মতো আন্তর্জাতিক সবুজ ভবন সনদায়ন পদ্ধতিও বিবেচনা করা সম্ভব। পুরোনো ভবনকে আরও দক্ষ করে তোলা অনেক ক্ষেত্রে নতুন ভবন নির্মাণের তুলনায় সম্পদ ও পরিবেশ—উভয় দিক থেকেই কার্যকর হতে পারে। গ্রিন বিল্ডিং এমনভাবে পরিকল্পনা ও নির্মাণ করা হয়, যাতে ভবনের পুরো জীবনচক্রে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব যতটা সম্ভব কম থাকে। এর মাধ্যমে শক্তি ও পানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো, নির্মাণসামগ্রীর কার্যকর ব্যবহার এবং ভবনের অভ্যন্তরে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ মহানগরে এর গুরুত্ব আরও বেশি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের বাড়তি চাহিদা, বিদ্যুতের ব্যবহার, বায়ুদূষণ এবং নগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির মতো সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব ভবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতি বছর রাজউকের আওতাধীন এলাকায় প্রায় ১০ হাজার ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মাত্র ১০ শতাংশ ভবনও যদি গ্রিন বিল্ডিং হিসেবে নির্মিত হয়, তাহলে ঢাকার সবুজ আবাসন ব্যবস্থায় তা বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রচলিত নির্মাণ পদ্ধতির তুলনায় জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তির প্রাথমিক ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে বেশি হতে পারে। ডেভেলপার, ভবনমালিক ও ক্রেতাদের মধ্যেও সবুজ নির্মাণ সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। তাই দক্ষ পেশাজীবী তৈরির পাশাপাশি এফএআর প্রণোদনা এবং কম সুদের ঋণের মাধ্যমে খাতটিকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। বড় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোর রয়েছে নকশা প্রণয়ন, ক্রয়ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা। তারা চাইলে মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য নির্মিত আবাসন প্রকল্পেও সবুজ নির্মাণের বাস্তব উদাহরণ তৈরি করতে পারে। একইভাবে সরকারি আবাসন, স্কুল, হাসপাতাল ও সরকারি-বেসরকারি অফিস ভবন নির্মাণেও শুধু নির্মাণ ব্যয় নয়, পুরো জীবনচক্রের ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কোনো প্রকল্পে প্রাথমিক বিনিয়োগ কত ছিল এবং ব্যবহারকালীন সময়ে বিদ্যুৎ-পানি ও রক্ষণাবেক্ষণে কত সাশ্রয় হয়েছে—এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য তা কার্যকর উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও অন্যান্য অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে। সবুজ ও সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য উপযোগী ঋণ, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন এবং সহনীয় কিস্তির ব্যবস্থা করা গেলে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বাড়তি প্রাথমিক ব্যয়ের বাধা কমানো সম্ভব। বাংলাদেশ ব্যাংকও নীতিগতভাবে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন ভবনের পাশাপাশি পুরোনো ভবনের শক্তি ও সম্পদ ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে সংস্কারকাজের জন্যও অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। ঢাকার ভবিষ্যৎ নগরপরিকল্পনায় তরুণদের চিন্তা ও সৃজনশীলতাও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে রাজউক, ইউএনওপিএস ও ইউএনইপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘কার্বন কনশাস আরবান ডিজাইন আইডিয়া কম্পিটিশন’ শিক্ষার্থীদের টেকসই জনপরিসর নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। স্থানীয় ও পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ, সবুজায়ন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং সবার জন্য ব্যবহারযোগ্য জনপরিসর নিয়ে শিক্ষার্থীদের নানা ধারণা দেখিয়েছে—টেকসই নগর গড়ে তুলতে সব সময় ব্যয়বহুল প্রযুক্তিই একমাত্র সমাধান নয়। স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, দীর্ঘস্থায়ী এবং সহজে রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য নকশার মাধ্যমেও সীমিত সম্পদে কার্যকর নগরপরিসর তৈরি করা সম্ভব। এসব ধারণার ব্যয়, কারিগরি বাস্তবতা ও নির্মাণযোগ্যতা যাচাই করে বাস্তব প্রকল্পে প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। রাজউক ও ইউএনওপিএসের এ ধরনের সহযোগিতা তাই প্রশংসার দাবি রাখে। Global Status Report for Buildings and Construction 2025-2026-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সালে বিশ্বে যে ভবনসমষ্টি থাকবে, তার প্রায় অর্ধেক এখনো নির্মিত হয়নি। দ্রুত নগরায়ণের পথে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটি যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি একটি বিরাট সুযোগও। কারণ আজ যে ভবনের নকশা করা হচ্ছে, সেটি হয়তো আগামী ৫০ বা তারও বেশি বছর মানুষের ব্যবহারেই থাকবে। সেই ভবন কতটা বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে, কত পানি খরচ করবে, পরিবেশে কতটা প্রভাব ফেলবে এবং সেখানে বসবাসকারী মানুষের মাসিক ব্যয় কত হবে—তার বড় অংশই নির্ধারিত হবে আজকের নকশা ও নির্মাণ সিদ্ধান্তে। তাই ঢাকার আবাসন নীতিতে এখন থেকেই সবুজ নকশা, জীবনচক্র ব্যয়, দেশীয় মূল্যায়ন কাঠামো, প্রণোদনা, সাশ্রয়ী অর্থায়ন এবং বাস্তব উদাহরণ তৈরিকে গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো ভবনগুলোকেও দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। আবাসনকে সত্যিকার অর্থে সাশ্রয়ী করতে হলে শুধু নির্মাণের সময়ের খরচ কমালেই হবে না; বসবাসের পুরো সময়ের ব্যয় কমাতে হবে। পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের অর্থনৈতিক সাশ্রয়—দুটিকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর পথগুলোর একটি হলো সবুজ নির্মাণ। ঢাকার ভবিষ্যৎ আবাসন তাই শুধু বেশি ভবনের ভবিষ্যৎ নয়; এটি হতে হবে কম ব্যয়ের, কম কার্বনের, স্বাস্থ্যকর এবং মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা আবাসনের ভবিষ্যৎ। সবুজ ভবনই হতে পারে সাশ্রয়ী আবাসনের টেকসই ভিত্তি।

বসুন্ধরা সিটির ২২ বছর পূর্তিতে দিনভর বর্ণিল আয়োজন
২২ বছরের পথচলা পূর্ণ করেছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় শপিং ও লাইফস্টাইল গন্তব্য বসুন্ধরা সিটি শপিং মল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনভর নানা আয়োজন, ফ্যাশন শো, তারকাদের অংশগ্রহণে ফ্ল্যাশমব এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর ছিল শপিং মলের লেভেল-১ অ্যাট্রিয়াম। দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন পায় উৎসবের আমেজ। গতকাল দুপুর ২টায় বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় বিভিন্ন বিনোদনমূলক কর্মসূচি। এর মধ্যে ছিল আকর্ষণীয় ফ্যাশন শো, সেলিব্রিটি ফ্ল্যাশমব এবং শিল্পীদের মনোজ্ঞ পরিবেশনা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন শেখ এহসান রেজা (অব.)। এ সময় তিনি বসুন্ধরা সিটির ২২ বছরের পথচলায় ক্রেতা, ব্র্যান্ড পার্টনার, ব্যবসায়িক সহযোগী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, শুরু থেকেই বসুন্ধরা সিটিকে এমন একটি আধুনিক শপিং ও লাইফস্টাইল গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য ছিল, যেখানে কেনাকাটার পাশাপাশি পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে মানুষ আনন্দঘন সময় কাটাতে পারবেন। ক্যাপ্টেন শেখ এহসান রেজা আরও জানান, গত ২২ বছরে ক্রেতাদের আস্থা, ভালোবাসা ও সহযোগিতায় বসুন্ধরা সিটি একটি বিশেষ সামাজিক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও আধুনিক সেবা, নতুন ব্র্যান্ড, উন্নত সুযোগ-সুবিধা এবং আকর্ষণীয় আয়োজনের মাধ্যমে ক্রেতাদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য রয়েছে। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সেলিব্রিটি ফ্ল্যাশমব ও ফ্যাশন ফেস্ট। জনপ্রিয় তারকা বিদ্যা সিনহা মিম, সাবিলা নূর, তমা মির্জা ও জিয়াউল রোশানের অংশগ্রহণে বিশেষ ফ্ল্যাশমব দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি করে। পাশাপাশি আলিফা ডান্স টিমের প্রাণবন্ত পরিবেশনাও দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দেয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অংশগ্রহণে মোট ১০টি ফ্যাশন শোর আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে ক্লাবহাউস, ফ্রিল্যান্ড, ক্যাপশন, ইনফিনিটি, দুবাই বোরকা, শিশু পরিবহন, স্টানিং বাই শাহাদ, জোইস, আর্টফিট, ইরানি বোরকা ও সি স্কাইসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড অংশ নেয়। দীর্ঘ ২২ বছরের যাত্রায় ক্রেতা, ব্র্যান্ড পার্টনার, ব্যবসায়িক সহযোগী, শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সর্বস্তরের দর্শনার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বসুন্ধরা সিটি কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন ও বিশেষ আয়োজনের টাইটেল স্পন্সর ছিল রেইজ বাংলাদেশ। আর পাওয়ার্ড বাই পার্টনার হিসেবে ছিল ইকিউব। তাদের সহযোগিতায় পুরো আয়োজন আরও বর্ণিল ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে বদল আসছে নীতিমালায়, রাত্রিযাপন নিয়ে নতুন ভাবনা
কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও ভ্রমণসংক্রান্ত বর্তমান বিধিনিষেধে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে পর্যটকদের রাত্রিযাপন এবং দ্বীপে ভ্রমণের সময়সীমা নিয়ে নতুন করে ভাবা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেন্টমার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবিদ ও পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, দ্বীপটির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেই নতুন গাইডলাইন তৈরি করা হবে। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেন্টমার্টিনের পরিবেশ, প্রতিবেশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য পর্যটকদের ভ্রমণে ১২টি নির্দেশনা জারি করেছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ওই বিধিনিষেধের কারণে গত এক বছরে দ্বীপের পর্যটন ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাদের ভাষ্য, পর্যটক কমে যাওয়ায় জীবিকার প্রয়োজনে কিছু মানুষ গাছ কাটার পাশাপাশি অবাধে মাছ ধরার মতো কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। এ কারণে সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বিদ্যমান বিধিনিষেধ দ্রুত শিথিল বা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগের ১২ দফা নির্দেশনার মধ্যে যেসব বিধিনিষেধ যৌক্তিক, সেগুলো রাখা হতে পারে। সেন্টমার্টিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। দ্বীপটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের আকর্ষণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন কয়েক হাজার পর্যটক সেখানে যাতায়াত করতেন। পর্যটকদের থাকার সুবিধার জন্য দ্বীপটিতে গড়ে উঠেছে বহু হোটেল ও রিসোর্ট। সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহিম জিহাদীর তথ্য অনুযায়ী, দ্বীপে প্রায় ১৫০টি আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে অন্তত পাঁচ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা ১২ দফা বিধিনিষেধে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে নির্দিষ্টসংখ্যক পর্যটককে রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আর নভেম্বর মাসে শুধু দিনের বেলায় দ্বীপ ঘুরে দেখার সুযোগ ছিল, রাতে থাকার অনুমতি ছিল না। বর্তমান সরকার এই ব্যবস্থাকে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। বিশেষ করে রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ছয়-সাত ঘণ্টা ভ্রমণ করে সেন্টমার্টিন গিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করে আবার একই সময় ধরে কক্সবাজারে ফিরে আসা পর্যটকদের জন্য স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থা নয়। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু একমত হয়েছেন। আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং পর্যটকদের রাত্রিযাপনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। ট্যুর অপারেটরদের সংগঠনও সেন্টমার্টিনে রাত কাটানোর বিধিনিষেধ পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছে। বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রাফিউজ্জামান বলেন, রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটকদের মধ্যে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আগ্রহ কমেছে। কক্সবাজার থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে একজন পর্যটক মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য দ্বীপে যাবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপনের সুযোগ রয়েছে। তবে রাত কাটাতে পারবেন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক। এ জন্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পর্যটকদের পাস দেওয়া হয়। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই নিয়মেই সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত চলছে। নীতিমালায় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত নির্ধারিত দুই হাজারের বেশি পর্যটক সেখানে গিয়ে রাত্রিযাপন করতে পারবেন না। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটিতে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা গড়ে উঠেছে। হঠাৎ করে বিধিনিষেধ আরোপের কারণে পর্যটন ব্যবসায় এর প্রভাব পড়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। তবে পর্যটকের সংখ্যা কিংবা ভ্রমণের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, কোন সময় থেকে কোন সময় পর্যন্ত পর্যটকরা সেন্টমার্টিনে যেতে পারবেন, কতজন পর্যটক রাত্রিযাপন করতে পারবেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা কী এবং পরিবেশগত সীমাবদ্ধতা কতটুকু—এসব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে শুনানি বা বৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার পর আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নতুন গাইডলাইন দেওয়া হবে। এতে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দ্বীপের বাসিন্দাদের স্বার্থও বিবেচনায় রাখা হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি, আগে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত ছয় মাস সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ ছিল। পরে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হলে তারা সেটি পরিবর্তন করে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটন চালুর দাবি জানান। তবে পরিবেশবিদদের কেউ কেউ স্থানীয়দের এই দাবির সঙ্গে একমত নন। পরিবেশবিদ মো. শামসুদ্দোহা মনে করেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের যাতায়াতের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। তার মতে, পর্যটনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা উচিত এবং সেটি তিন মাসের বেশি হওয়া উচিত নয়। আগের বিধিনিষেধে সেন্টমার্টিনে আলোকসজ্জাসহ বারবিকিউ পার্টি, রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো এবং শব্দ সৃষ্টি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এ ছাড়া দ্বীপের কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ কিংবা কেনাবেচা এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ বিভিন্ন জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করাও নিষিদ্ধ ছিল। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ মোটরচালিত যানবাহন চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ফয়েজুল ইসলাম মনে করেন, এসব বিধিনিষেধ পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। তার দাবি, পর্যটক কমে যাওয়ায় দ্বীপের মানুষের পর্যটননির্ভর কাজ কমেছে। ফলে কেউ কেউ গাছ কেটে বিক্রি করছেন এবং জীবিকার জন্য অবাধে মাছ ধরছেন, যা পরিবেশের ওপর আরও চাপ তৈরি করছে। অন্যদিকে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকার কথা জানিয়েছে। পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের সুরক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়। তিনি জানান, নতুন ব্যবস্থায় প্লাস্টিক ও সিঙ্গেল-ইউজ পলিথিন নিয়ন্ত্রণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। পর্যটকরা যাতে এসব সামগ্রী নিয়ে দ্বীপে যেতে না পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পরিবেশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কোস্টগার্ড সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এসব সামগ্রী পরীক্ষা করে জাহাজ ছাড়ার ব্যবস্থাও করা হবে। নতুন নীতিমালায় সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা এবং পর্যটন ব্যবসার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখার কথা জানিয়েছে সরকার।

বিকেলের আড্ডায় চটজলদি বানিয়ে নিন স্বাস্থ্যকর নাস্তা
সারাদিনের কর্মব্যস্ততার মাঝে বিকেলটা যেন একটু আলাদা। অফিস থেকে ফিরে হোক কিংবা বাসাতেই কাটুক দিনের এই সময়টা—চায়ের কাপের সঙ্গে মুখরোচক কিছু না হলে যেন আড্ডাটাই জমে না। তবে সমস্যা হলো, বাজারের ভাজাপোড়া বা তেলেভাজা নাস্তা প্রতিদিন খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো নয়। তাই ঘরে বসেই অল্প সময়ে তৈরি করা যায়, এমন কিছু স্বাস্থ্যকর অথচ সুস্বাদু নাস্তার কথা জেনে রাখা জরুরি। ছোলা-মুড়ির স্বাস্থ্যকর মাখা মুড়ি মাখা বাঙালির চিরচেনা বিকেলের নাস্তা, তবে একটু বুদ্ধি খাটিয়ে এটিকে আরও পুষ্টিকর করে তোলা যায়। সেদ্ধ ছোলার সঙ্গে মুড়ি, শসা, টমেটো, পেঁয়াজ কুচি এবং সামান্য বিট লবণ ও লেবুর রস মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যায় একটি প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ নাস্তা। তেল ছাড়াই এই খাবার তৈরি করা যায় বলে এটি হজমেও সহায়ক এবং পেট ভরা রাখে দীর্ঘ সময়। ওটস দিয়ে তৈরি চটজলদি চাট ওটসকে শুধু সকালের নাস্তার জন্যই ভাবা হলেও বিকেলের হালকা নাস্তা হিসেবেও এটি দারুণ কার্যকর। শুকনো ওটস হালকা ভেজে নিয়ে তার সঙ্গে কাটা শসা, টমেটো, পেঁয়াজ ও ধনেপাতা মিশিয়ে বানানো যায় একটি সুস্বাদু ওটস চাট। ওপরে সামান্য বিট লবণ ও লেবুর রস ছড়িয়ে দিলে স্বাদ বেড়ে যায় বহুগুণ। এতে থাকা ফাইবার শরীরকে দীর্ঘসময় সতেজ রাখতে সাহায্য করে। স্প্রাউট বা অঙ্কুরিত ডালের সালাদ অঙ্কুরিত মুগ বা ছোলার ডাল পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার। এর সঙ্গে কুচি করা গাজর, শসা ও টমেটো মিশিয়ে সামান্য লেবুর রস ও গোলমরিচ গুঁড়া ছিটিয়ে দিলেই তৈরি হয়ে যায় একটি সহজ অথচ পুষ্টিকর সালাদ। এতে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলের সঙ্গে দইয়ের মিশ্রণ মিষ্টি কিছু খেতে ইচ্ছা করলে চিনিযুক্ত খাবারের বদলে বেছে নেওয়া যায় দই ও মৌসুমী ফলের মিশ্রণ। কলা, আপেল বা পেঁপের মতো ফল কেটে টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যায় একটি স্বাস্থ্যকর ডেজার্ট জাতীয় নাস্তা। এতে থাকা প্রোবায়োটিক হজমে সহায়তা করার পাশাপাশি শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিনও সরবরাহ করে। ভুট্টা বা মিষ্টি আলুর সিদ্ধ ভর্তা সেদ্ধ করা ভুট্টা বা মিষ্টি আলুর সঙ্গে সামান্য মরিচ গুঁড়া, বিট লবণ ও লেবুর রস মিশিয়ে বানানো যায় একটি সহজ ভর্তা জাতীয় নাস্তা। ফাইবারসমৃদ্ধ এই খাবার শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতেও সহায়ক। উপরের নাস্তাগুলো তৈরিতে সময় লাগে খুবই কম, উপকরণও সহজলভ্য। তেলে ভাজা বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের তুলনায় এসব নাস্তা শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী এবং পুষ্টিগুণেও ভরপুর। তাই বিকেলের আড্ডায় পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে একটু ভিন্ন স্বাদের অথচ স্বাস্থ্যকর কিছু উপভোগ করতে চাইলে এই খাবারগুলো হতে পারে চমৎকার একটি বিকল্প।

শীত আসার আগেই ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
আবহাওয়ায় এখন থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। সকাল-সন্ধ্যায় হালকা ঠান্ডা হাওয়া, বাতাসে কমে আসা আর্দ্রতা—সব মিলিয়ে ত্বকেও শুরু হয়ে যায় বদলের প্রক্রিয়া। গ্রীষ্ম বা বর্ষায় যে ত্বক তেলতেলে বা সতেজ থাকে, শীত ঘনিয়ে এলে সেই একই ত্বক হঠাৎ করেই টান টান, রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে উঠতে শুরু করে। তাই ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীত পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই ত্বকের যত্নে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। নইলে ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের সমস্যাও বাড়তে থাকে। ময়েশ্চারাইজার বদলানোর সময় এখনই গরমকালে হালকা, পানিভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলেও শীতের শুরুতেই তা বদলে ফেলা উচিত। এই সময় থেকে একটু ভারী ও ক্রিমভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার শুরু করা ভালো, যা ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। গোসলের পর ত্বক সামান্য ভেজা অবস্থাতেই ময়েশ্চারাইজার লাগালে তা আরও ভালোভাবে শোষিত হয়। অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল এড়িয়ে চলুন শীত আসছে মানেই অনেকে গরম পানিতে গোসল করার অভ্যাস শুরু করে দেন। তবে অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের স্বাভাবিক তেল স্তর নষ্ট করে ফেলে, যার ফলে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই কুসুম গরম পানি ব্যবহার করাই ভালো, আর গোসলের সময়ও খুব বেশি দীর্ঘ না করাই শ্রেয়। ঠোঁট ও হাত-পায়ের যত্নেও দিতে হবে গুরুত্ব শীতের শুরুতেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে ঠোঁট, হাত ও পায়ের ত্বকে। ফাটা ঠোঁট এড়াতে এখন থেকেই ভালো মানের লিপবাম ব্যবহার শুরু করা যেতে পারে। একইভাবে হাত-পায়ের জন্য বেশি পুষ্টিকর ও ঘন ক্রিম ব্যবহার করলে পরবর্তীতে ত্বক ফাটার সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। সানস্ক্রিন বাদ দেওয়া যাবে না শীতকালে রোদের তীব্রতা কম মনে হলেও ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি ঠিকই সক্রিয় থাকে। তাই সূর্যের আলো থেকে ত্বককে সুরক্ষা দিতে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। অনেকেই শীতে এই ধাপটি এড়িয়ে যান, যা পরবর্তীতে ত্বকে কালচে দাগ বা অকালবার্ধক্যের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস বজায় রাখুন শীতে অনেকের পানি পানের পরিমাণ কমে যায়, কারণ এই সময় তেষ্টা কম অনুভূত হয়। কিন্তু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ভেতর থেকে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি তরমুজ, শসার মতো পানিসমৃদ্ধ ফল ও সবজি খাদ্যতালিকায় রাখলেও উপকার মেলে। এক্সফোলিয়েশনেও আনতে হবে ভারসাম্য শীতে ত্বকের মৃত কোষ জমে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়, তাই সপ্তাহে এক বা দুইবার হালকা এক্সফোলিয়েশন করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ঘষামাজা করলে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তাই এই ক্ষেত্রে মাত্রা বজায় রাখা জরুরি। শীত আসার আগে থেকেই ত্বকের যত্নে এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো নিয়মিত মেনে চললে ঠান্ডার মৌসুমেও ত্বক থাকবে কোমল, সতেজ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। শুধু শীত এসে পড়ার পর তড়িঘড়ি যত্ন শুরু না করে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়াটাই ত্বক ভালো রাখার আসল চাবিকাঠি।

অলসতা কাটিয়ে কাজে গতি আনতে সকালের ৮টি কার্যকর অভ্যাস
সকালটা কেমন কাটবে, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে সারাদিনের কর্মক্ষমতা। ঘুম থেকে উঠেই যদি শরীর ভারী লাগে, মনে অলসতা কাজ করে, তাহলে সেই রেশ থেকে যায় দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত। উল্টোদিকে সকালের কয়েকটি ছোট অভ্যাস বদলে দিতে পারে গোটা দিনের কর্মদক্ষতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অলসতা কোনো স্থায়ী চরিত্র নয়—এটি অনেকাংশেই দৈনন্দিন রুটিনের ফসল। তাই রুটিনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই কাজের গতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন আটটি কার্যকর সকালের অভ্যাসের কথা, যা অলসতা কাটিয়ে কাজে মনোযোগ ও গতি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পর সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল না দেখা ঘুম ভাঙার পরই বিছানায় শুয়ে মোবাইল ফোন হাতে নেওয়ার অভ্যাস আজকাল প্রায় সবার মধ্যেই দেখা যায়। কিন্তু এই অভ্যাস মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করে দেয় এবং দিনের শুরুতেই মনোযোগ নষ্ট করে। সকালে উঠে প্রথম আধা ঘণ্টা মোবাইল থেকে দূরে থাকলে মন অনেকটাই স্থির থাকে এবং দিনের কাজের পরিকল্পনা করাও সহজ হয়ে যায়। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের প্রাকৃতিক ছন্দ বা বায়োলজিক্যাল ক্লককে সুস্থির রাখে। ছুটির দিনেও যদি এই সময়ের বড় ধরনের হেরফের না হয়, তাহলে সারা সপ্তাহজুড়েই শরীর একই ছন্দে চলতে পারে, যার ফলে সকালে উঠতে কষ্ট কম হয় এবং অলসতা অনেকটাই কমে আসে। হালকা শরীরচর্চা বা স্ট্রেচিং ঘুম ভাঙার পর শরীরের পেশি অনেকটাই আড়ষ্ট থাকে। এই অবস্থায় কয়েক মিনিটের হালকা স্ট্রেচিং বা সাধারণ ব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়, যার প্রভাবে শরীর সহজেই সতেজ অনুভব করে। দীর্ঘ সময় জিমে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, মাত্র পাঁচ থেকে দশ মিনিটের হালকা নড়াচড়াই যথেষ্ট। পর্যাপ্ত পানি পান করা সারারাত ঘুমানোর সময় শরীর থেকে একধরনের পানিশূন্যতা তৈরি হয়। ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস পানি পান করলে শরীরের ভেতরের কার্যক্রম সচল হয়ে ওঠে এবং ক্লান্তি বা ঝিমুনি ভাব অনেকটাই কেটে যায়। এই সাধারণ অভ্যাসটি শরীরকে দ্রুত কর্মক্ষম করে তুলতে সাহায্য করে। দিনের কাজের একটি ছোট তালিকা তৈরি করা সকালে ওঠার পরপরই সেদিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করলে মনের মধ্যে একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা তৈরি হয়। কোন কাজটি আগে করতে হবে, কতটা সময় লাগবে—এসব আগে থেকে ঠিক থাকলে কাজ শুরু করতে দ্বিধা বা গড়িমসি অনেকটাই কমে যায়। সকালের নাশতা এড়িয়ে না যাওয়া ব্যস্ততার অজুহাতে অনেকেই সকালের নাশতা বাদ দিয়ে দেন, যা দিনের শুরুতেই শরীরকে দুর্বল করে দেয়। পুষ্টিকর একটি নাশতা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে এবং মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। ফলে কাজে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয় এবং অলসতা কম অনুভূত হয়। সবচেয়ে কঠিন কাজটি আগে শুরু করা দিনের শুরুতে মস্তিষ্ক তুলনামূলক সতেজ ও সক্রিয় থাকে। তাই দিনের সবচেয়ে কঠিন বা গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সকালেই শুরু করার পরামর্শ দেন উৎপাদনশীলতা বিশেষজ্ঞরা। এতে কাজটি সহজে এগিয়ে নেওয়া যায় এবং বাকি দিনের চাপ অনেকটাই কমে যায়। ছোট ছোট বা কম গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো পরের দিকে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। সূর্যের আলোতে কিছুক্ষণ সময় কাটানো সকালের সূর্যের আলো শরীরের ভেতরের ঘুম-জাগরণ চক্র বা সার্কাডিয়ান রিদমকে সঠিকভাবে সচল রাখতে সাহায্য করে। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে কিংবা বারান্দায় কয়েক মিনিট সূর্যের আলোয় সময় কাটালে মন সতেজ হয়ে ওঠে এবং শরীরও কর্মক্ষম অনুভব করে। এই অভ্যাস ঘুমের মানও উন্নত করতে সহায়ক বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। ধারাবাহিকতাই মূল চাবিকাঠি উপরের অভ্যাসগুলো একদিনে সব একসঙ্গে রপ্ত করার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিন একটি বা দুটি অভ্যাস চর্চা করলেই ধীরে ধীরে তা রুটিনের অংশ হয়ে উঠবে। শুরুতে কিছুটা কঠিন মনে হলেও কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক চেষ্টায় শরীর ও মন নিজে থেকেই এই নতুন রুটিনের সঙ্গে মানিয়ে নেবে। ফলাফল হিসেবে সকালের অলসতা কমে আসার পাশাপাশি সারাদিনের কর্মদক্ষতা ও মনোযোগেও দেখা যাবে ইতিবাচক পরিবর্তন। সবশেষে বলা যায়, সকালের অভ্যাসই মূলত নির্ধারণ করে দেয় সারাদিন কতটা প্রাণবন্ত ও কর্মক্ষম থাকা যাবে। তাই দিনের শুরুটা সঠিকভাবে সাজাতে পারলে অলসতাকে পেছনে ফেলে কাজে গতি আনা মোটেই কঠিন কিছু নয়।

পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর ৮টি কার্যকরী উপায়
সামনে পরীক্ষা কিংবা ক্লাসের পড়া, অথচ বই খুললেই যেন গোটা পৃথিবীর অলসতা এসে ভর করে। মাত্র ১০ মিনিট পড়ার পরই মোবাইলের নোটিফিকেশন চেক করা কিংবা অজান্তেই অন্য চিন্তায় হারিয়ে যাওয়া—এই সমস্যায় ভোগেননি এমন শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। বর্তমান ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া ও শর্ট ভিডিওর প্রভাবে মানুষের মনোযোগের স্থায়িত্ব বা অ্যাটেনশন স্প্যান অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী ঘণ্টার পর ঘণ্টা বইয়ের সামনে বসে থেকেও প্রত্যাশিত ফল পান না। তবে বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের মতে, দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু ছোট পরিবর্তন আনলেই পড়ার টেবিলে মনোযোগ কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক পড়াশোনায় একাগ্রতা বাড়ানোর কার্যকর আটটি উপায়। নির্দিষ্ট পড়ার পরিবেশ তৈরি করুন মনোযোগ ধরে রাখার প্রথম শর্তই হলো সঠিক পরিবেশ। বিছানায় শুয়ে-বসে পড়ার অভ্যাস থাকলে তা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। ঘরের একটি নির্দিষ্ট কোণ বা টেবিল বেছে নিন, যেখানে কোলাহল কম এবং জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। অপ্রয়োজনীয় বইপত্র বা জিনিসপত্র টেবিলে জমিয়ে রাখলে তা মনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে এবং পড়ায় অনীহা বাড়িয়ে দেয়। স্মার্টফোন ও নোটিফিকেশন থেকে দূরে থাকুন পড়াশোনায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় মোবাইল ফোন। পড়তে বসার আগে ফোন সাইলেন্ট করে অন্য ঘরে রেখে আসা কিংবা ডু নট ডিস্টার্ব মোড চালু রাখা যেতে পারে। পড়ালেখার প্রয়োজনে ফোন ব্যবহার করতে হলে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখাই ভালো। পড়ার নির্ধারিত সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে না ঢোকাই বুদ্ধিমানের কাজ। পোমোডোরো টেকনিক কাজে লাগান একটানা দুই-তিন ঘণ্টা পড়ার চেষ্টা না করে ছোট বিরতি নিয়ে পড়াই বেশি কার্যকর। এ জন্য বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত পোমোডোরো টেকনিক ব্যবহার করা যেতে পারে, যেখানে ২৫ মিনিট পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ার পর নেওয়া হয় পাঁচ মিনিটের একটি ছোট বিরতি। এভাবে চারটি সাইকেল শেষ হলে ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের একটি বড় বিরতি নেওয়া যায়। এই পদ্ধতিতে মস্তিষ্ক সহজে ক্লান্ত হয় না এবং পড়ার আগ্রহও দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে। মুখস্থ না করে লিখে পড়ার অভ্যাস গড়ুন শুধু চোখ দিয়ে পড়লে খুব দ্রুতই মন অন্যদিকে সরে যায়। তাই পড়ার সময় হাতে কলম বা হাইলাইটার রাখা ভালো। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আন্ডারলাইন করা বা সংক্ষিপ্ত নোট আকারে লিখে রাখলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, ফলে মনোযোগ অন্য কোথাও হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ কমে যায়। নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করুন “আজ সারা রাত পড়ব”—এমন অস্পষ্ট পরিকল্পনার বদলে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করা উচিত, যেমন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি অধ্যায়ের নির্দিষ্টসংখ্যক প্রশ্নের উত্তর তৈরি করা। লক্ষ্য স্পষ্ট থাকলে মস্তিষ্ক একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদ অনুভব করে, যা মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক। পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন ক্লান্ত মস্তিষ্ক কখনো পড়া মনে রাখতে পারে না। পড়ায় মনোযোগ অনেকাংশে নির্ভর করে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর। তাই প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে পুষ্টিকর খাবার, শাকসবজি ও পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন, কারণ পানিশূন্যতা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। অন্যকে বুঝিয়ে বলার মাধ্যমে নিজে শেখা কঠিন কোনো বিষয় স্থায়ীভাবে মনে রাখার একটি কার্যকর উপায় হলো তা অন্য কাউকে শিখিয়ে দেওয়া বা নিজে নিজে বলে অনুশীলন করা। পড়া বিষয়টি বন্ধুকে বুঝিয়ে বলা কিংবা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে শিক্ষক ভেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলে নিজের জানার ঘাটতি সহজেই চোখে পড়ে এবং পড়াটি মাথায় আরও ভালোভাবে গেঁথে যায়। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও মেডিটেশন করুন প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা উচিত। নিয়মিত শরীরচর্চা মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, যা স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া প্রতিদিন কয়েক মিনিট চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মেডিটেশন করলে মানসিক ক্লান্তি অনেকটাই দূর হয়। পড়াশোনায় মনোযোগ একদিনে তৈরি হয় না, এটি ধারাবাহিক অনুশীলনের বিষয়। একসঙ্গে সব কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা না করে প্রতিদিন এক-দুটি অভ্যাস রপ্ত করার চেষ্টা করাই ভালো। নিজের একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চললে দ্রুতই পড়াশোনায় একাগ্রতা ফিরে আসবে এবং তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পরীক্ষার ফলেও।

কম খরচে শীতের ফ্যাশন: বাজেটে থেকেই স্টাইলিশ জ্যাকেট, হুডি ও সোয়েটার পরার সহজ উপায়
হালকা হিমেল হাওয়া জানান দিচ্ছে শীতের আগমনের কথা। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় দৈনন্দিন পোশাকের ধরনও। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের কাছেই শীত মানে যেন স্টাইলিশ পোশাকের এক আলাদা উৎসব। তবে অনেকের মনেই একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খায়—সীমিত বাজেটের মধ্যে থেকেও কীভাবে ট্রেন্ডি ও স্টাইলিশ শীতের পোশাক পরা সম্ভব? দামি ব্র্যান্ডের পোশাক না কিনেও শুধু সঠিক নির্বাচন আর একটু স্মার্ট স্টাইলিংয়ের মাধ্যমেই পাওয়া যায় প্রফেশনাল ও এলিগেন্ট লুক। চলুন জেনে নেওয়া যাক বাজেটের মধ্যে থেকে জ্যাকেট, হুডি ও সোয়েটার দিয়ে নিজেকে কীভাবে সাজিয়ে তোলা যায়। বাজেটে ডেনিম বা বোম্বার জ্যাকেটের লুক শীতের ফ্যাশনে জ্যাকেটের কদর সবসময়ই আলাদা। কম খরচে আকর্ষণীয় লুক পেতে বেছে নেওয়া যায় ডেনিম বা বোম্বার জ্যাকেট। সাধারণ এক রঙের—সাদা বা কালো—টি-শার্টের ওপর একটি ডেনিম জ্যাকেট চাপালে বেশ ক্যাজুয়াল ও স্মার্ট লুক তৈরি হয়। এক্ষেত্রে নতুন হাই-এন্ড ব্র্যান্ডের পেছনে খরচ না করে ভালো মানের লোকাল মার্কেট বা বাজেট শপ থেকে নেভি ব্লু, অলিভ গ্রিন বা ডার্ক গ্রের মতো ক্লাসিক রঙের জ্যাকেট কেনা যেতে পারে, যা বছরজুড়ে প্রায় সব ধরনের আউটফিটের সঙ্গেই সহজে মানিয়ে যায়। হুডিতে স্মার্ট ও ক্যাজুয়াল স্টাইল তরুণ প্রজন্মের কাছে শীতের সবচেয়ে প্রিয় পোশাকের একটি হুডি। পড়াশোনা, আড্ডা কিংবা ভ্রমণ—যেকোনো ক্ষেত্রেই হুডির আরাম অতুলনীয়। হুডির ওপর একটি ক্যাজুয়াল ব্লেজার বা জ্যাকেট চাপিয়ে নিলে তৈরি হয় বেশ চমৎকার একটি স্ট্রিট স্টাইল লুক। বাজেট ঠিক রাখতে সিম্পল ও সলিড রঙের হুডি—যেমন অফ-হোয়াইট, মেরুন বা বোতল সবুজ—বেছে নেওয়াই ভালো, কারণ প্রিন্টেড হুডির তুলনায় এসব রঙ বিভিন্ন জিন্স বা ট্রাউজারের সঙ্গে সহজে মেলানো যায়, ফলে একই হুডি দিয়ে বারবার নতুন লুক তৈরি করা সম্ভব হয়। হুডেড সোয়েটার ও নিটওয়্যারে আরামদায়ক লুক হালকা ও আরামদায়ক পোশাক যাদের পছন্দ, তাদের জন্য হুডেড সোয়েটার বা ক্রু-নেক নিটেড সোয়েটার একটি চমৎকার বিকল্প। হালকা রঙের শার্টের ওপর সোয়েটার বা হুডেড সোয়েটার পরলে তৈরি হয় শালীন ও প্রফেশনাল একটি লুক, যা অফিস কিংবা ক্যাম্পাস—দুই জায়গার জন্যই মানানসই। এর সঙ্গে একটি সুন্দর স্কার্ফ বা মাফলার যোগ করলে সাধারণ আউটফিটেও চলে আসে প্রিমিয়াম একটা ছোঁয়া। সাশ্রয়ী ফ্যাশনের কিছু জরুরি পরামর্শ কম খরচে সেরা স্টাইল ধরে রাখতে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। প্রথমত, কালো, গ্রে, বেজ, ডেনিম ব্লু বা নেভি ব্লুর মতো নিরপেক্ষ রঙ বেছে নেওয়া উচিত, কারণ এগুলো প্রায় সব পোশাকের সঙ্গেই সহজে মানিয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, পোশাকের দাম যতই হোক, ফিটিং ঠিক না থাকলে তা কখনোই ভালো দেখায় না—তাই বাজেটের পোশাক কেনার পর নিজের শরীরের গড়ন অনুযায়ী তা মানানসই করে নেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া স্নিকার্স বা বুট জুতা এবং একটি মানানসই ব্যাগ পুরো লুকে যোগ করতে পারে বাড়তি মাত্রা। শীতের ফ্যাশন মানেই বাড়তি খরচের বিষয় নয়। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে সঠিকভাবে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করলেই সীমিত বাজেটের মধ্যে থেকেও আকর্ষণীয় ও ট্রেন্ডি লুক তৈরি করা সম্ভব।

গাড়ি কিনবেন বা বিক্রি করবেন? যেতে পারেন আইসিসিবির ‘সুপারসেলে’
জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) উদ্বোধন করা হয়েছে ‘সুপারসেল কারবাজার’। উইজার্ড শোবিজ ও আইসিসিবির যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া এই বাজারে এক জায়গায় বিভিন্ন ধরনের গাড়ি কেনাবেচার সুযোগ পাবেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান অতিথি হিসেবে কারবাজারটির উদ্বোধন করেন তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) মহাসচিব রিয়াজ রহমান, উইজার্ড শোবিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান রাসেল এবং আইসিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম এম জসীম উদ্দীন। এ ছাড়া দেশের অটোমোবাইল খাতের ব্যবসায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গাড়ি ও বাইকিং কমিউনিটির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান বলেন, নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত যানবাহন এক জায়গায় দেখার ও যাচাই করার সুযোগের পাশাপাশি সহজ ফাইন্যান্সিং সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে ‘সুপারসেল কারবাজার’ ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও সুবিধাজনক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠবে। আয়োজকদের ভাষ্য, আধুনিক ও নিরাপদ পরিবেশে গাড়ি কেনাবেচার সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে গাড়ির মালিক ও সম্ভাব্য ক্রেতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হলে দেশের অটোমোবাইল বাজার আরও গতিশীল হবে। কারবাজারটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, গাড়ি কেনার পাশাপাশি ক্রেতারা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারবেন। অটো লোন, গাড়ি ফাইন্যান্সিংসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা সম্পর্কে তাঁরা জানতে পারবেন। এতে গাড়ি কেনার প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ও সুবিধাজনক হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। প্রতি শুক্রবার আইসিসিবি প্রাঙ্গণে বসবে ‘সুপারসেল কারবাজার’। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে কার্যক্রম। সেখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের গাড়ি দেখার পাশাপাশি পছন্দের গাড়ি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে ক্রেতাদের জন্য। অন্যদিকে গাড়ি বিক্রি করতে আগ্রহী মালিকেরা সম্ভাব্য ক্রেতাদের সামনে তাঁদের গাড়ি উপস্থাপন করতে পারবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে ‘সুপারসেল কারবাজার’ রাজধানীর গাড়িপ্রেমী ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় অটোমোবাইল মার্কেটপ্লেস হয়ে উঠবে।

স্বাবলম্বী হচ্ছেন সুন্দরবনের হাজারো নারী
সুন্দরবনের প্রান্তিক জনপদে একসময় যেখানে জীবিকার সীমাবদ্ধতা ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা, সেখানে আজ আশার নতুন আলো জ্বালাচ্ছে নারীদের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ‘প্রেরণা’। সংস্থাটির উদ্যোগে নারীর ক্ষমতায়ন, টেকসই জীবিকা এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে এক সুতোয় গেঁথে এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন-সংলগ্ন অঞ্চলের অনেক পরিবার দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কর্মসংস্থানের সংকটে জীবনযাপন করেছে। এসব চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নারীদের ওপর। তবে ‘প্রেরণা’র সহায়তায় অনেক নারী এখন বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। কেউ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কেউ হস্তশিল্পী, আবার কেউ পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবারের আয়ের নতুন পথ তৈরি করেছেন। একসময় সুন্দরবনের কোলঘেঁষা লোকালয়ে নারীদের জীবন ছিল বাল্যবিবাহ, নিরাপদ পানির অভাব, স্বাস্থ্যসেবার সংকট ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ঘেরা। ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা আর সামাজিক বৈষম্য ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। সেই বাস্তবতা বদলে দিতে ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠন প্রেরণা নারী উন্নয়ন সংস্থা। প্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পা গোস্বামী বলেন, ‘পরিবর্তনের জন্য কাজ করা নারীদের অনেক সময় শুধু কাজ দিয়েই নয়, ব্যক্তিগত মর্যাদাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, সত্য, সততা এবং মানুষের আস্থা কোনো অপপ্রচারের চেয়ে অনেক বড়। প্রেরণার পথচলা হাজারো নারীর স্বপ্ন ও সংগ্রামের গল্প। যত বাধাই আসুক, সুন্দরবনের মানুষ এবং নারীর অধিকারের জন্য আমাদের এই পথচলা থামবে না।’ তিনি বলেন, ‘যারা পরিবর্তনের জন্য কাজ করেন, তাদের পথ কখনো সহজ হয় না। একজন নারী নেতৃত্বে থাকলে অনেক সময় তার মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং তাকে পিছনে টেনে রাখার চেষ্টা হয়। তবু আমি বিশ্বাস করি—সত্য, সততা মানুষের বাধার চেয়ে অনেক বড় শক্তি। সেই বিশ্বাস নিয়েই আমরা মানুষের জন্য কাজ করেছি, করছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব।’