বিভাগ: রাজনীতি
মোট খবর: 6 টি
বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মেরুকরণ, আলোচনায় জামায়াত
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন কিছু সময় আসে, যখন একটি ব্যক্তির বক্তব্য, আরেকজনের আচরণ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টও আর একক কোনো ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয় না। সময়, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান বিবেচনায় এসব ঘটনা বৃহত্তর কোনো রাজনৈতিক বয়ানের অংশ হিসেবে আলোচনায় আসে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ এখন এমনই এক সংবেদনশীল সময় অতিক্রম করছে বলে মনে করেন সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহসান হাবিব বরুন। তাঁর বিশ্লেষণে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যখন নতুন করে সংস্কার, জবাবদিহি ও আইনের শাসনের কাঠামো শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, তখন জনপরিসরে ঘটে যাওয়া প্রতিটি আলোচিত ঘটনাই আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। প্রশ্ন উঠছে—এসব কি নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে? এই প্রেক্ষাপটে লেখক মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকে পাশাপাশি রেখে বিশ্লেষণ করেছেন। দুজনের পেশা, রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্র আলাদা হলেও তাঁদের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো কীভাবে জনমনে রাষ্ট্র ও সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করছে, সেটিই লেখাটির অন্যতম প্রধান বিষয়। লেখক শুরুতেই স্বীকার করেছেন, দেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কাস্টমস, সিভিল এভিয়েশনসহ বিভিন্ন সংস্থার কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ, লাগেজ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, ইমিগ্রেশন জটিলতা এবং যাত্রী হয়রানির মতো সমস্যা নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী যাত্রীদের অভিজ্ঞতায় এসব সমস্যা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে লেখকের মত। লাগেজ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে হয়রানি এবং বিমানবন্দরকেন্দ্রিক চোরাচালান বা অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগও জনপরিসরে রয়েছে। সুতরাং বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি থাকলে তা দূর করা সরকারের দায়িত্ব—এ বিষয়ে লেখকের অবস্থান স্পষ্ট। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মানের একটি বিমানবন্দর শুধু অবকাঠামো দিয়ে তৈরি হয় না; সেখানে যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, জবাবদিহি এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা বা অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ কীভাবে করা হবে—সেখানেই তিনি ভিন্ন একটি প্রশ্ন তুলেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি-সংকটকে কেন্দ্র করে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের বিরোধের ঘটনা ইতোমধ্যে মামলা ও গ্রেপ্তার পর্যন্ত গড়িয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে মামলা হয়েছে; পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয় এবং রিমান্ডেও নেওয়া হয়। লেখকের মতে, বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ বা অভিযোগ থাকার অধিকার একজন নাগরিকের অবশ্যই আছে। কিন্তু সেই অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রেও আইনের সীমা ও সামাজিক শিষ্টাচার মানা জরুরি। কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে গায়ে হাত তোলার হুমকি দেওয়া, ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার কথা বলা কিংবা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন আচরণ করা কোনো গ্রহণযোগ্য প্রতিবাদ-পদ্ধতি হতে পারে না—এমনটাই মনে করেন লেখক। তাঁর দৃষ্টিতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো লিখিত অভিযোগ, তদন্ত, প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে আদালতের আশ্রয় নেওয়া। এই প্রসঙ্গে তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরা কয়েকজন জামায়াত নেতার বিমানবন্দর-অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন। লেখার দাবি, তাঁরা বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি প্রকাশ করেন। লেখকের মতে, পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেয়। তাঁর বিশ্লেষণে, এ দুটি পদ্ধতির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে—একটি প্রাতিষ্ঠানিক অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়ার পথ, অন্যটি তাৎক্ষণিক ক্ষোভ ও ক্ষমতা প্রদর্শনের পথ। আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে নেওয়ার সময় তাঁর আচরণ নিয়েও লেখক প্রশ্ন তুলেছেন। পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদ, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছুড়ে ফেলা কিংবা আদালত প্রাঙ্গণে আক্রমণাত্মক বক্তব্যের মতো ঘটনাকে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে দেখেছেন। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণ করবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া। কারণ অভিযোগ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির নিজের ব্যাখ্যা—সবকিছু যাচাই করেই একটি পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব। লেখকের আরও দাবি, আখতারুজ্জামানের দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিএনপির সঙ্গে তাঁর অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পর্কে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁর প্রকাশ্য অবস্থান—এসবকে তিনি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। লেখাটিতে বিষয়টিকে কেবল একজন ব্যক্তির আচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। লেখকের মতে, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় ব্যক্তি কিংবা অন্য কোনো পাবলিক ফিগারের আচরণ দ্রুতই বৃহত্তর সমাজে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য ও আচরণ অনুসরণ করে। ফলে একজন পরিচিত ব্যক্তির উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য বা আইনবহির্ভূত আচরণ অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবেও একটি নির্দিষ্ট সামাজিক মনোভাব তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে জনপরিসরে যাঁদের দৃশ্যমান প্রভাব রয়েছে, তাঁদের বক্তব্য ও আচরণে দায়িত্বশীলতা থাকা প্রয়োজন বলে লেখক মনে করেন। লেখাটির একটি অংশে ইসলামের নৈতিক শিক্ষা এবং রাজনৈতিক আচরণের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। কোরআনে সংযম, ক্ষমাশীলতা, সুন্দর ভাষায় কথা বলা এবং উত্তেজনা পরিহারের যে শিক্ষা রয়েছে, তার সঙ্গে প্রকাশ্য রাজনৈতিক আচরণের সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন বলে লেখক মত দিয়েছেন। এই জায়গা থেকেই তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, কোনো রাজনৈতিক দল যদি নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আইনের শাসনের কথা বলে, তাহলে সেই দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণেও তার প্রতিফলন থাকা প্রত্যাশিত। আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর জামায়াতে ইসলামীর প্রতিক্রিয়াকেও লেখক এই প্রেক্ষাপটে বিচার করেছেন। তাঁর দাবি, দলটি তাঁর আচরণের নিন্দা না করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। লেখকের মতে, এ অবস্থান দলটির ঘোষিত নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটি আলোচনার বিষয়। অন্যদিকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহও লেখায় আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় তাঁর ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনাটির তদন্ত চলছে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে ঘটনাটিকে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে সালমান মুক্তাদির নিজে ঘটনাটিকে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ওই হামলার সঙ্গে চাঁদাবাজির সম্পর্ক পাওয়ার কথা তারা বলেনি; তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। এই ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যই ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করেছে। লেখকের বিশ্লেষণে, সালমান মুক্তাদিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য ও অতীত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় সালমানের অবস্থান ছিল কৌশলী এবং এর আগে সরকারের বিভিন্ন নীতির পক্ষে তাঁর বক্তব্যের নজির রয়েছে। তবে এসব রাজনৈতিক অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বক্তব্য, সময়কাল ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন—এটিও গুরুত্বপূর্ণ। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর পাশাপাশি তাঁর শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের মালিকানাধীন ফু-ওয়াং ক্লাবকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে অভিযান ও অনিয়মের অভিযোগের কথাও লেখায় এসেছে। লেখকের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুল্ক ফাঁকি, অবৈধভাবে মদ সংরক্ষণ, অনুমোদনহীন ক্যাসিনোসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। এছাড়া সাবেক ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ নিয়েও লেখায় অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি ক্ষেত্রে তদন্ত, সরকারি নথি ও আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পৃথকভাবে সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির সঙ্গে কারও যোগাযোগ থাকাই অপরাধের প্রমাণ নয়—এই মৌলিক পার্থক্যটিও জনআলোচনায় থাকা দরকার। আহসান হাবিব বরুনের বিশ্লেষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—তিনি আখতারুজ্জামান রঞ্জন ও সালমান মুক্তাদিরের ঘটনাকে একই বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, একদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ এবং অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ—এই দুটি বিষয় পাশাপাশি রাখলে রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরির একটি বয়ান তৈরি হতে পারে। তবে এই দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি সমন্বয় বা উদ্দেশ্যগত যোগসূত্র রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে আরও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। লেখক মূলত ঘটনাগুলোর রাজনৈতিক তাৎপর্য বিশ্লেষণ করেছেন। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যে রাজনৈতিক বয়ান তৈরির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে, লেখক সেটিও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, দেশের ভেতরে ও বিদেশে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তি, সাংবাদিক ও ইউটিউবার বিভিন্ন ঘটনা নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন। তবে রাজনৈতিক বক্তব্য, সমালোচনা এবং অপপ্রচারের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণের জন্য তথ্য যাচাই জরুরি। কোনো বক্তব্য সরকারের সমালোচনা করলেই সেটিকে অপপ্রচার বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি যাচাইহীন তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। লেখায় জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও বিস্তর আলোচনা রয়েছে। লেখকের মতে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক এবং এনসিপির সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের মিল—এসব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। জামায়াতে ইসলামী বিএনপির বিরোধিতায় গিয়ে পতিত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কোনো কৌশলগত সমঝোতার দিকে যাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নও লেখক তুলেছেন। তবে এ ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার অভিযোগের পক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়া উচিত নয়। লেখকের সতর্কতা হলো, জামায়াত যদি রাজনৈতিক স্বার্থে এমন কোনো সমঝোতার পথে যায়, যার ফলে তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে দলটির জন্য তা রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, জামায়াতে ইসলামীর উচিত নির্বাচিত ও সংস্কারকামী সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা এবং একই সঙ্গে গঠনমূলক বিরোধী অবস্থান থেকে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা। দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি, অনিয়ম, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে—এমন বাস্তবতা লেখক তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, এসব সমস্যা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের জন্য সময় প্রয়োজন। এই জায়গায় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের বিরোধিতা না করে কোথায় সহযোগিতা করা প্রয়োজন এবং কোথায় কঠোর সমালোচনা দরকার—সেই পার্থক্য তৈরি করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও লেখক বাস্তবভিত্তিক ও জনসম্পৃক্ত রাজনীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নেয় না—দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, নিরাপত্তা, সুশাসন ও নাগরিক অধিকারও তাদের রাজনৈতিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। লেখায় বিএনপির রাজনৈতিক ভিত্তি নিয়েও লেখক নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সামাজিক বাস্তবতায় বিএনপির দীর্ঘদিনের সংগঠন ও জনভিত্তি রয়েছে। ফলে দলটিকে অপ্রাসঙ্গিক করে দেওয়ার যেকোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। অন্যদিকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক দলটির রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে আলাদা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে লেখক মনে করেন। এ কারণে দুই দলের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ঐতিহাসিক অবস্থানকে একইভাবে বিচার না করে পৃথক প্রেক্ষাপটে দেখা প্রয়োজন—এটাই তাঁর বিশ্লেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন ও সালমান মুক্তাদির—দুজনকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ভিন্ন প্রকৃতির। একজনকে ঘিরে বিমানবন্দরে সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি ও নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের অভিযোগে মামলা হয়েছে, অন্যজনের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত চলছে। এই দুই ঘটনাকে একই রাজনৈতিক সূত্রে দেখা হবে কি না, সেটি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বিষয়। কিন্তু এর বাইরে একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকে যায়—আইন কি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে? রাজনৈতিক নেতা, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর কিংবা সাধারণ নাগরিক—পরিচয় যাই হোক, আইন ভঙ্গের অভিযোগ উঠলে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অভিযোগ উঠলে তারও তথ্যভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগের জবাব দিতে হবে তথ্য দিয়ে, আর মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকলে তার প্রতিকারও হতে হবে আইনসম্মত পদ্ধতিতে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাই ব্যক্তি বা দলবিশেষ নয়; বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা, আইনের শাসন এবং রাজনৈতিক আচরণের মানদণ্ড। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিজ্ঞতার পর দেশ যখন নতুন একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে, তখন উত্তেজনা, ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বয়ানের বদলে তথ্য, আইন, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই হওয়া উচিত রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান পথ।

বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বিমানবন্দর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, হুমকি, আঘাত ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। সেখানে ট্রলি সংকটও দেখা দিয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে নির্বাহী পরিচালককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণে নিষেধ করলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান এর আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের কাছে তিনি এই মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর মির্জা ফয়সল আমিন জানান, নির্বাচিত হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে চান তিনি। এ সময় বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এই আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল আজ, ২৭ সেপ্টেম্বর। এর আগেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১-দলীয় ঐক্য সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল করা যাবে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত, আর সেই আপিল নিষ্পত্তি হবে ৬ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ৮ অক্টোবর। সবশেষে আগামী ২৯ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।

গণতন্ত্র ধ্বংস ও ভোটের অধিকার লুণ্ঠিত করার ষড়যন্ত্র চলছে: কিশোরগঞ্জে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, "গণতন্ত্র ধ্বংস ও ভোটের অধিকার লুণ্ঠিত করার ষড়যন্ত্র চলছে। তারা পালিয়ে গিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। আমরা এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে তাদের ফ্যাসিবাদ ভেঙে দিয়েছি। তাদের কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই অধিকার ও গণতন্ত্রকে নষ্ট করার যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বিএনপি প্রস্তুত।" বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের অপতৎপরতা ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, "আমাদের এই কর্মসূচি নতুন কিছু নয়। আমরা রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছি। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে এনেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পরিবার সারা বাংলাদেশে ঐক্যবদ্ধ আছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা হবে।" তিনি আরও বলেন, "তারা মনে করছে, দুটি বাস পুড়িয়ে আর একটি চক্কর দিয়ে জনগণকে ভয় দেখাতে পারবে। তাদের সতর্ক করে দিতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সৈনিকেরা জনগণকে নিয়ে যেভাবে তাদের দেশ থেকে তাড়িয়েছে, প্রয়োজনে যারা এখনো আছে, তাদেরও দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। তাদের কোনোভাবেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে দেওয়া হবে না।" প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না। বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন। আমাদের মা-বোনদের বুক খালি করেছেন। আসেন, আইনের আওতায় আসেন। জনগণ এই বিচার করবে। সেই বিচারের জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না। এই মুহূর্তেই আপনারা আইনের আওতায় আসবেন।" এর আগে বিক্ষোভ মিছিলটি জেলা শহরের রথখলাস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়। পরে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালীবাড়ি মোড়ের পাশে চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. জালাল উদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আমি যেখানে ফোন করার সেখানে কইরা দেব: ফজলুর রহমান
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, "এই গ্রামের কত ছেলে আছে যারা পরীক্ষা দিয়ে রিটেনে পাস করছে কিন্তু ভাইভায় এলাউ হইতে পারে নাই। চাকরি পায়নি। রিটেনে পাস করার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাডমিট কার্ড আমার কাছে নিয়ে যাইবা। আমি যেখানে ফোন করার সেখানে কইরা দেব।" সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়নের আমিরগঞ্জ-জনতাগঞ্জ বাজারে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে এসব কথা বলেন তিনি। ফজলুর রহমান আরও বলেন, "যখনই রিটেনে পাস করবে, আমি ওই ছেলেটার জন্য যেখানে গেলে চাকরিটা পাবে সেটা বলে দেব।" তিনি আরও বলেন, "আমার নির্দিষ্ট কিছু কাজ আছে, এইগুলো মানবতার কাজ। কিছু মানুষ আছে খুব অসহায়। নিজে অসুস্থ, বউ ছেলে সন্তান অসুস্থ, এইগুলো আমাকে জানাবেন। তাকে আমি ঢাকায় নিয়ে যাবো এবং একদম কম পয়সায় চিকিৎসা করা যায় এমন ব্যবস্থা করবো। কিন্তু কেউ যদি নেতাকে টাকা দিয়ে আমার কাছে সুপারিশ নিয়ে যাও, আর এটা প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি আপনাদের কাজ করবো না।" এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ফজলুর রহমানের সহধর্মীনি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন, সিনিয়র সহসভাপতি ও চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন, সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল হক মোল্লাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আন্দোলনে ভূমিকা রাখা প্রার্থীরাই স্থানীয় নির্বাচনে দলের সমর্থন পাবেন: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
গত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন এবং নির্বাচনে জিতে আসার সম্ভাবনা আছে এরকম প্রার্থীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের সমর্থন পাবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এছাড়াও গত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন এবং নির্বাচনে জিতে আসার সম্ভাবনা আছে সেসব প্রার্থী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের সমর্থন পাবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভোটে জিতে আসার সম্ভাবনা আছে কিন্তু বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে দেখা যায়নি এমন প্রার্থীকে সমর্থন দেবে না বিএনপি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রভাব বিস্তার না করতে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন রয়েছে। মীর শাহে আলম বলেন, পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সব ধরনের সহযোগিতা করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। জ্বালানি সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদল দেশে জ্বালানি সংকটে কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। অথচ তারা যে লংমার্চ করবে তাতে খরচ হবে ১ লাখ লিটার জ্বালানি তেল।