📍 কিশোরগঞ্জ | লোড হচ্ছে...
বিনোদন

খাবারের জন্য নাচতেন, ফুটপাতে ঘুমাতেন মিঠুন চক্রবর্তী: ফারাহ খানের ভ্লগে উঠে এলো কঠিন অতীত

নিজস্ব প্রতিবেদক / কিশোরগঞ্জ জার্নাল ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেয়ার:
খাবারের জন্য নাচতেন, ফুটপাতে ঘুমাতেন মিঠুন চক্রবর্তী: ফারাহ খানের ভ্লগে উঠে এলো কঠিন অতীত
📷 সংগৃহীত ছবি
বলিউডের পরিচিত মুখ মিঠুন চক্রবর্তীর ক্যারিয়ার আজ সাফল্যে ভরপুর। চার দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ পেয়েছেন একাধিক সম্মাননা। তবে এই সাফল্যের জায়গায় পৌঁছানোর পথটা মোটেও সহজ ছিল না। ক্যারিয়ারের একদম শুরুর দিকে খাবারের বিনিময়ে পার্টিতে নাচতে হয়েছে তাকে, এমনকি কখনো কখনো রাত কাটাতে হয়েছে খোলা ফুটপাতেই—এমনটাই জানিয়েছেন এই অভিনেতা নিজেই। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি পরিচালক ফারাহ খানের ইউটিউব ভ্লগে অতিথি হয়ে নিজের জীবনের শুরুর দিকের নানা কথা তুলে ধরেন মিঠুন চক্রবর্তী, আর সেখানেই বেরিয়ে আসে তার সংগ্রামের সেই অজানা গল্প। ফারাহ খান জানান, তার চাচা কে কে শুক্লা চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখতেন, আর সেই সূত্র ধরেই মিঠুনের পরিবারের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। ফারাহর ভাষ্যমতে, মিঠুনের বাবা বিভিন্ন পার্টিতে নাচতেন এবং এর বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক না নিয়ে শুধু খাবার নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। তার মতে, মিঠুনকেও তখন পার্টিতে ডেকে নেওয়া হতো, কারণ তিনি খুব ভালো নাচতে পারতেন। নাচের বিনিময়ে তিনিও কোনো টাকা নিতেন না, শুধু রাতের খাবারের সুযোগ পেতেন। ফারাহ খানের মন্তব্য, অনেকেই সহজেই নিজের জীবনের কঠিন সময়কে ‘সংগ্রাম’ বলে অভিহিত করেন, কিন্তু মিঠুনের সেই সময়ের অভিজ্ঞতা ছিল তার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন। নিজের সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, তার সংগ্রাম ছিল প্রচলিত অর্থে ‘সংগ্রামেরও বাইরে’ কিছু একটা। তিনি জানান, জীবনের কঠিনতম সময়ে তাকে রাস্তায় ও ফুটপাতেই ঘুমাতে হয়েছে। তার ভাষায়, কখনো কখনো হাঁটতে হাঁটতে এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়তেন যে ফুটপাতেই ঘুমিয়ে পড়তেন এবং ঘুম ভাঙার পর নিজেকে সেই ফুটপাতেই খুঁজে পেতেন। এমনকি কয়েকবার খোলা বাগানেও রাত কাটাতে হয়েছে বলে জানান তিনি। ফারাহ খান আরও বলেন, একজন জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করে মিঠুন চক্রবর্তীর মতো এত বড় তারকায় পরিণত হওয়ার নজির চলচ্চিত্র জগতে খুব বেশি নেই। উল্লেখ্য, মিঠুন চক্রবর্তীর প্রকৃত নাম গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী। ১৯৭৬ সালে পরিচালক মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক ঘটে তার, আর এই সিনেমার জন্যই তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান অর্জন করেন। এরপর ‘সুরক্ষা’ সিনেমার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার জনপ্রিয়তার এক নতুন অধ্যায়। আশির দশকে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’, ‘ড্যান্স ড্যান্স’, ‘পেয়ার ঝুকতা নেহি’, ‘কসম পয়দা করনে ওয়ালে কি’ এবং ‘কমান্ডো’র মতো একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। চার দশকেরও বেশি সময়ের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে হিন্দি, বাংলা ও বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষা মিলিয়ে ৩৫০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা ও ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত আছেন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেতা। ২০২৪ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ সম্মাননায় ভূষিত করে এবং একই বছর ভারতীয় চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারও। তবে তার এই দীর্ঘ ও ঝলমলে ক্যারিয়ারের পেছনে যে কঠিন সময় ও অনিশ্চয়তা লুকিয়ে ছিল, ফারাহ খানের ভ্লগে উঠে আসা এই গল্পই নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এলো মিঠুন চক্রবর্তীর জীবনের সেই সংগ্রামমুখর শুরুর অধ্যায়কে।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন

আরও পড়ুন

আরও খবর →