‘খুব শিগগিরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ’: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ সমাপ্তির কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি উল্লেখ করেননি। একই সঙ্গে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও নিজের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দেশটির জনগণের উদ্দেশে ২৫ পৃষ্ঠার একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই চিঠিতে মার্কিন ভোটারদের ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরোধিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও চলমান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এবং বিদেশের যুদ্ধে মার্কিন সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করতেও ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। উল্লেখ্য, এসব বক্তব্য ইরানের সামরিক বাহিনীর নিজস্ব দাবি ও রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই এসেছে।
যুদ্ধের উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে কিছুটা পুনরুদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে। বাণিজ্যিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের গড়ের প্রায় ৭৭ শতাংশের সমান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি সরবরাহপথে তেল পরিবহনের এই বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাণিজ্যে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও নৌপথটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। জাহাজ চলাচল ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানও পরস্পরবিরোধী। ইরান প্রণালিটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নৌপথটি সচল রাখতে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যেই ধীরে ধীরে বাড়ছে প্রণালিটি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ।
এদিকে সংঘাতের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা আলাদাভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান, তবে সেই প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।
সব মিলিয়ে একদিকে ট্রাম্পের যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশাবাদ, অন্যদিকে আইআরজিসির মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া রাজনৈতিক বার্তা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার—এই তিনটি বিষয় মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যুদ্ধ শেষ হওয়া নিয়ে আশাবাদী বক্তব্য শোনা গেলেও এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিয়ে এখনো যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন



