জাতিসংঘে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: চুক্তি নয়তো ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান ইস্যুতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অধিবেশনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস বা ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার বিকল্প তার হাতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে রণহুঙ্কার দিলেও তেহরানের সঙ্গে নতুন সমঝোতায় পৌঁছানোর রাস্তা যে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, সেটিও তুলে ধরেছেন তিনি।
ভাষণে ট্রাম্প সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি আসলে কোন পথটি বেছে নেবেন? ইরানকে এমন সুযোগ দেওয়া হবে কি না যাতে তারা পুনর্গঠিত হয়ে আগের চেয়েও শক্তিশালী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, নাকি দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে—সে বিষয়ে তাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক চাপের কারণেই তেহরান আজ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হয়েছে, যা তার ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ নীতির বড় সাফল্য।
কঠোর বক্তব্যের আড়ালে অবশ্য পর্দার পেছনের কূটনীতি থেমে নেই। জানা গেছে, অধিবেশনের ফাঁকেই মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মধ্যস্থতায় প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী পরোক্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নেন, যা সংঘাতের মাঝেও কিছুটা হলেও সম্ভাবনার দুয়ার খোলা রাখছে।
ইরান ইস্যু ছাড়াও বিশ্বমঞ্চে একাধিক আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে শিগগিরই একটি কূটনৈতিক সমাধান আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসারে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র নেতৃত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা হবে। এ সময় এআই-এর বদলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ পরিভাষা ব্যবহারের পক্ষে যুক্তি দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বৈশ্বিক কাঠামোর চেয়ে নিজ দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সামরিক শক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। ভাষণে কিউবা সরকারকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দিলে ক্ষোভ প্রকাশ করে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন কিউবার প্রতিনিধিরা।
কূটনৈতিক এই দৌড়ঝাঁপের মাঝে যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষ করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা নিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গেও একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি সংলাপের ভারসাম্য বজায় রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন কোন পথে হাঁটেন, তাতেই আটকে আছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতির নজর।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন



