📍 কিশোরগঞ্জ | লোড হচ্ছে...
জাতীয়

জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রথম দিনেই ১০ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জানালেন মাহ্দী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক / কিশোরগঞ্জ জার্নাল ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেয়ার:
জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রথম দিনেই ১০ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জানালেন মাহ্দী আমিন
📷 ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরের প্রথম দিনেই ব্যস্ত সময় পার করেছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মোট ১০টি কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ডিপ্লোম্যাট সেন্টারে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে) এক সংবাদ সম্মেলনে সফরের প্রথম দিনের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। জানান, আগে থেকে ঠিক করা ১২টি কর্মসূচির মধ্যে সময়ের অভাবে দুটিতে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী, বাকি দশটিতে সরাসরি যোগ দেন। দিনের শুরুতে জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে আয়োজিত বিশেষ প্রাতরাশে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। দিন শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজেও সস্ত্রীক যোগ দেন তিনি। সাধারণ অধিবেশনের উদ্বোধনী প্লেনারি সেশনেও অংশ নেন তারেক রহমান, সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। মাহ্দী আমিনের ভাষ্যে, এটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত—কারণ এর আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘে দেশের প্রতিনিধিত্ব করলেও এবার একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হয়ে সেই ধারা এগিয়ে নিচ্ছেন তারেক রহমান। কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি, যেখানে সার্ক অঞ্চলে পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনযোগাযোগ বাড়ানোর বিষয় উঠে আসে। এ ছাড়া হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি তারেক রহমানকে নির্বাচনী বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান এবং তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণ দেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতেও গুরুত্বপূর্ণ দুটি বৈঠক হয়েছে—একটি জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে, অন্যটি মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সঙ্গে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রিত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। পরদিন বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে এ নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সাইডলাইন অনুষ্ঠান হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। অর্থনৈতিক আলোচনার মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকটি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও বাজেট সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয় সেখানে। তবে ইউরোপীয় কাউন্সিল ও মেটার সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলেও মেটার ক্ষেত্রে তাঁর মনোনীত একটি প্রতিনিধিদল আলোচনা চালিয়ে যায়, যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি নিয়ে কথা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন

আরও পড়ুন

আরও খবর →