📍 কিশোরগঞ্জ | লোড হচ্ছে...
অর্থনীতি

এলপিজির বাজারে সংকট কেন, দাম বাড়ার পেছনে যত কারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক / কিশোরগঞ্জ জার্নাল ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
শেয়ার:
এলপিজির বাজারে সংকট কেন, দাম বাড়ার পেছনে যত কারণ
📷 ছবি: সংগৃহীত
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার, আবার কোথাও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস মিলছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, আমদানিতে অর্থায়নের সংকট এবং দেশের বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়াকে এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এলপিজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকটি কারণে দেশে সিলিন্ডার গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া। গত কয়েক বছরে পাইপলাইনের গ্যাসের প্রাপ্যতা কমে আসায় রান্নার কাজে অনেক গ্রাহক এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়েছেন। একই সময়ে বাজারের কয়েকটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের আমদানি ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ কিংবা ব্যাহত হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও অনিশ্চয়তা, জাহাজভাড়া বেড়ে যাওয়া এবং পরিবহনব্যবস্থায় জটিলতার কারণে আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণের সম্মিলিত প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কোম্পানিগুলোর দাবি, তারা কমিশনের নির্ধারিত দাম অনুসরণ করে সিলিন্ডার বিক্রি করছে। তবে সরবরাহের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে খুচরা পর্যায়ের কিছু বিক্রেতা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধান ৪০০ টাকারও বেশি হচ্ছে। এ পরিস্থিতির জন্য কখনো কখনো মূল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করা হলেও কোম্পানিগুলোর বক্তব্য, তাদের আমদানি ও বিক্রির হিসাব যাচাই করার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে খুচরা বাজার তদারকির দায়িত্বে রয়েছে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা। ওমেরা এলপিজির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাথেন্দ্র ডি যয়োশা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, আমদানি অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং দেশের বাজারে সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত আমদানি কার্যক্রম চালু রেখেছে। তাঁর ভাষ্য, ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতা ও আমদানিতে অর্থায়নের জটিলতার কারণে দেশের কয়েকটি বড় এলপিজি অপারেটর স্বাভাবিক আমদানি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছে না। এতে বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং চাহিদার তুলনায় গ্যাসের প্রাপ্যতা কমেছে। মাথেন্দ্র ডি যয়োশা জানান, আর্থিক সক্ষমতা ও পরিচালনগত প্রস্তুতির কারণে ওমেরা নিয়মিত আমদানি অব্যাহত রাখতে পেরেছে। তবে বাজারের সামগ্রিক সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব সরবরাহব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিইআরসি অক্টোবর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু কিছু খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে এর চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ ভোক্তাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি অননুমোদিত মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগকে সমর্থন করে ওমেরা। বাজার স্থিতিশীল করতে আমদানিকারক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং পরিবেশকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, আমদানির অর্থায়নসংক্রান্ত বাধা দূর করা, আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে ভোক্তাদের জন্য এলপিজির প্রাপ্যতা বাড়ানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক সংকটে বাড়ছে আমদানির চাপ এলপিজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইগ্যাসের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, বাজারে দাম বাড়ার জন্য কোম্পানিগুলোকে দায়ী করার আগে আমদানি ও বিক্রির তথ্য যাচাই করা উচিত। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের পণ্য আমদানি ও বিক্রির হিসাব সংরক্ষিত রয়েছে এবং সেগুলো যাচাই করা সম্ভব। বাজারে সিলিন্ডারের স্বল্পতা প্রসঙ্গে আইগ্যাস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহনের পথেও পরিবর্তন এসেছে। ফলে এশিয়ার দেশগুলোকে জ্বালানি আমদানিতে বেশি প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এলপিজির দাম নির্ধারণ করে সরকারি সংস্থা। তাই বাজারের পরিস্থিতি কোনো একটি কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল নয়। একাধিক প্রতিষ্ঠানের আমদানি ও সরবরাহ কার্যক্রমের ওপর সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি নির্ভর করে। কবে স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি? এলপিজির সরবরাহ ও দাম কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না আইগ্যাস। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি অনেকাংশে উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করছে।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন

আরও পড়ুন

আরও খবর →