সরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয় থেকে নবমে লিখিত পরীক্ষা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ মঙ্গলবার রাতে ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা-২০২৭’ প্রকাশ করে। নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন, ফি গ্রহণ, ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ ও প্রকাশের কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতিটি শ্রেণির প্রতিটি শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা হবে ৫৫ জন। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়সের প্রমাণ হিসেবে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সের সর্বোচ্চ সীমায় অতিরিক্ত পাঁচ বছরের ছাড় দেওয়া যাবে।
প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। একজন শিক্ষার্থী পছন্দক্রম অনুযায়ী সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় নির্বাচন করতে পারবে। তবে দ্বৈত শিফটের কোনো বিদ্যালয়ের উভয় শিফট পছন্দ করলে তা দুটি বিদ্যালয় হিসেবে গণ্য হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে লটারির আয়োজন করবে। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণমান ৫০। এর মধ্যে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ ও গণিতে ২০ নম্বর থাকবে। পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০। এর মধ্যে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ ও গণিতে ৪০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পরীক্ষার সময় দুই ঘণ্টা। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই অনুসারে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হবে। প্রশ্নপত্র মানসম্মত ও শ্রেণি উপযোগী রাখার নির্দেশনাও রয়েছে।
আবেদন ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির জন্য সর্বোচ্চ ১১০ টাকা এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির জন্য সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা রাখা হয়েছে। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
আসন সংরক্ষণ ও কোটা ব্যবস্থায় ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়গুলোর আওতাধীন এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ৬০ শতাংশ আসনে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে।
এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ, সহোদর বা সহোদরা শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ শতাংশ এবং যমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলিজনিত কারণে তাঁদের সন্তানদের ভর্তির জন্য প্রতিটি শাখায় অতিরিক্ত ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক ভর্তি কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি ভর্তি কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ তদারকি করবে।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন



