📍 কিশোরগঞ্জ | লোড হচ্ছে...
স্বাস্থ্য

হার্ট অ্যাটাকের ৪ নীরব লক্ষণ: গ্যাস বা দুর্বলতা ভেবে অবহেলা করবেন না যেসব উপসর্গ

নিজস্ব প্রতিবেদক / কিশোরগঞ্জ জার্নাল ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেয়ার:
হার্ট অ্যাটাকের ৪ নীরব লক্ষণ: গ্যাস বা দুর্বলতা ভেবে অবহেলা করবেন না যেসব উপসর্গ
📷 প্রতীকী ছবি (AI)
বুকে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়া—হার্ট অ্যাটাক বলতে সাধারণত এসব লক্ষণের কথাই মাথায় আসে অনেকের। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সব হার্ট অ্যাটাক এমন স্পষ্ট সংকেত দিয়ে আসে না। কখনো কখনো তা আসে বদহজম, গ্যাস কিংবা সাধারণ অস্বস্তির ছদ্মবেশে, যা মানুষ সহজেই এড়িয়ে যান। অথচ এই ধরনের সাধারণ মনে হওয়া উপসর্গও হতে পারে হৃদযন্ত্রের বিপদ সংকেত। তাই গ্যাস বা সাময়িক দুর্বলতা ভেবে অবহেলা না করে হার্ট অ্যাটাকের এই নীরব লক্ষণগুলো সম্পর্কে সবার জানা দরকার। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি বেশি দেখা যায়। হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা শরীর দিয়ে ঠান্ডা ঘাম বের হওয়াকে অনেকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, মানসিক চাপ বা সাধারণ দুর্বলতা মনে করে পাত্তা দেন না। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এগুলোই হতে পারে হৃদরোগের প্রাথমিক সতর্কবার্তা। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারীদের মধ্যে দেখা যাওয়া হার্ট অ্যাটাকের এমন কয়েকটি কম পরিচিত লক্ষণ নিয়ে একটি ভিডিওতে বিস্তারিত জানিয়েছেন চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ। বুকে চাপ বা এক ধরনের অস্বস্তি হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণগুলোর একটি হলো বুকের মাঝ বরাবর ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তির অনুভূতি। তবে এটি সব সময় তীব্র বা কাটাকাটা ব্যথার মতো হয় না—অনেক সময় মনে হতে পারে বুক ভারী হয়ে আছে, কেউ যেন চেপে ধরে রেখেছে, কিংবা বুক ভরে থাকার মতো একটা অনুভূতি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অস্বস্তি শুধু বুকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। নারীদের ক্ষেত্রে প্রায়ই এই ব্যথা চোয়াল, ঘাড়, এক বা দুই হাত, পিঠ, এমনকি পেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে অনেকেই এটিকে হৃদরোগ না ভেবে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা মনে করে ভুল করেন। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট কাজের চাপ বা শারীরিক পরিশ্রমের পর শ্বাস নিতে একটু কষ্ট হওয়া স্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু বিশ্রামে থাকা অবস্থায় কিংবা সামান্য পরিশ্রমেই হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে, বিশেষত অন্য কোনো উপসর্গের সঙ্গে একসঙ্গে দেখা দিলে, বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা ছাড়াই কেবল শ্বাসকষ্ট নিয়েই হার্ট অ্যাটাক শুরু হতে পারে, যা রোগীর জন্য সহজে বোঝা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব বা মাথা ঝিমঝিম করা হঠাৎ শরীর দিয়ে ঠান্ডা ঘাম বের হওয়া, বমি বমি ভাব, বমি হয়ে যাওয়া কিংবা মাথা হালকা ঝিমঝিম করার মতো অনুভূতিও নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে দেখা দিতে পারে। এই উপসর্গগুলো প্রায়ই ফ্লু, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, মানসিক চাপ বা শুধু শরীর দুর্বল লাগা বলে ভুল বোঝা হয়। ডা. কুনাল সুদের মতে, এসব লক্ষণ যদি হঠাৎ করে এবং কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দেখা দেয়, তাহলে বিশেষভাবে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কারণ নারীদের হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ পুরুষদের তুলনায় অনেক সময় অনেক বেশি সূক্ষ্ম ও অস্পষ্ট হয়ে থাকে, যা সহজে ধরা পড়ে না। অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা এই তিনটি উপসর্গের পাশাপাশি চিকিৎসকরা আরও একটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেন—তা হলো হঠাৎ করে দেখা দেওয়া তীব্র ক্লান্তি বা অবসাদ, যার সঙ্গে কোনো স্পষ্ট শারীরিক পরিশ্রমের সম্পর্ক থাকে না। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের আগে কয়েক দিন ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করার নজির দেখা যায়, যা অনেকেই সাধারণ ঘুমের ঘাটতি বা কাজের চাপ ভেবে এড়িয়ে যান। সতর্ক থাকাই শ্রেয় এই লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি দেখা দিলেই যে তা অবশ্যই হার্ট অ্যাটাক, বিষয়টি এমন নয়। একই ধরনের উপসর্গ আরও অনেক সাধারণ শারীরিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। তবে এসব লক্ষণ হঠাৎ শুরু হলে, বিশেষ করে একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে, দেরি না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সেবা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। শরীরের এই ধরনের ইঙ্গিতগুলোকে গুরুত্ব সহকারে দেখাই হতে পারে সময়মতো একটি বড় বিপদ এড়ানোর চাবিকাঠি।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন

আরও পড়ুন

আরও খবর →