মেসির সামনে হাজার গোলের হাতছানি, বাকি মাত্র ৬৪

ফুটবল বিশ্বে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারে এক হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। পর্তুগিজ এই তারকার প্রতিটি গোল ঘিরে সমর্থকদের আগ্রহের কমতি নেই। তবে নীরবে একই মাইলফলকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিও।
এক হাজার গোলের লক্ষ্যে রোনালদোর চেয়ে খুব বেশি পিছিয়ে নেই মেসি। সম্প্রতি ইন্টার মায়ামির কোচ কিলি গন্সালেস আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন, রোনালদোর মতো মেসির পক্ষেও ক্যারিয়ারে এক হাজার গোল করা সম্ভব।
অবশ্য মেসির হাজার গোলের সম্ভাবনা নিয়ে এর আগেও কথা বলেছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি। কয়েক মাস আগে তিনি বলেছিলেন, মেসির পক্ষে এই মাইলফলক স্পর্শ করা মোটেই অসম্ভব নয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে মেসির জোড়া গোলের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আটলান্টা ইউনাইটেডের রক্ষণভাগ ভেঙে দুর্দান্ত দুটি গোল করার পর ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে পেশাদার ক্যারিয়ারে মেসির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩৬। অর্থাৎ ঐতিহাসিক এক হাজার গোলের মাইলফলক ছুঁতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র ৬৪ গোল।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইন্টার মায়ামির কোচ গন্সালেস বলেন, মেসি এক হাজার গোল করবেন বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। তাঁর মতে, মেসি এমন একজন ফুটবলার, যিনি নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে এবং নিজের জন্য নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করতে ভালোবাসেন। ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য প্রায় সব অর্জন ও শিরোপা জয়ের পর হাজার গোলের চ্যালেঞ্জও মেসি জয় করতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।
৩৯ বছর বয়সেও মাঠে মেসির পারফরম্যান্স মুগ্ধ করছে ফুটবলপ্রেমীদের। চলতি এমএলএস মৌসুমে ইতোমধ্যে ২৫ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ইন্টার মায়ামির এই অধিনায়ক।
গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে ১৫টি গোল করিয়েছেন মেসি। ফলে গোল করানো বা অ্যাসিস্টের তালিকাতেও যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন তিনি। এমএলএসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা তিন মৌসুমে অন্তত ১৫টি করে অ্যাসিস্ট করার বিরল কীর্তিও গড়েছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।
ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে টানা ১৩ ম্যাচে গোল অথবা গোলে সহায়তার মাধ্যমে সরাসরি অবদান রেখেছেন মেসি। এটি তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় দীর্ঘতম ধারাবাহিক সাফল্য। একই সঙ্গে টানা তিন মৌসুমে এমএলএসের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস গড়ার পথেও রয়েছেন তিনি।
মেসির এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে বিস্মিত কোচ গন্সালেসও। ৩৯ বছর বয়সে একজন ফুটবলার কীভাবে নিয়মিত এভাবে পারফর্ম করে যেতে পারেন, তা ভেবে প্রতিনিয়ত অবাক হন বলে জানিয়েছেন তিনি। গন্সালেসের মতে, মেসি ফুটবল উপভোগ করছেন এবং মায়ামিতে স্বস্তিতে রয়েছেন। আর এই মানসিক প্রশান্তিই তাঁকে মাঠে নিজের সেরাটা দিতে সাহায্য করছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিলেও ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে মেসির। ফলে তাঁর সামনে এখনো গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ভক্ত-সমর্থক থেকে শুরু করে মায়ামির কোচ—সবারই প্রত্যাশা, ক্যারিয়ারের ইতি টানার আগে হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করবেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন



