অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কাটিয়ে মন শান্ত রাখার উপায়

বর্তমান দ্রুতগতির ও ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। পড়ালেখা, ক্যারিয়ার, পারিবারিক কিংবা আর্থিক বিভিন্ন দুশ্চিন্তা আমাদের মনের স্বাভাবিক মানসিক শান্তি কেড়ে নেয়। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকলে তা কেবল মনের ওপরই নয়, বরং শরীরের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তবে কিছু সহজ ও কার্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে শান্ত রাখা এবং দুশ্চিন্তা দূর করা সম্ভব।
দীর্ঘশ্বাসের অনুশীলন বা ডিপ ব্রিদিং (Deep Breathing)
যখনই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা প্যানিক অনুভব করবেন, তখন যেকোনো কাজ থামিয়ে সোজা হয়ে বসুন। নাক দিয়ে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন এবং মনে মনে চার পর্যন্ত গুনুন। কয়েক সেকেন্ড শ্বাস ধরে রেখে মুখ দিয়ে আস্তে আস্তে ছেড়ে দিন। এই প্রক্রিয়াটি অন্তত পাঁচ থেকে সাতবার পুনরাবৃত্তি করুন। বিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘশ্বাসের অভ্যাস সাথে সাথে আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়িয়ে মানসিক চাপ কমায়।
বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দিন (Mindfulness)
অতীতের ভুল কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত ভাবনাই হলো দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ। এই ভাবনা থেকে বের হয়ে আসতে বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করুন। আপনি যে কাজটি করছেন—তা হতে পারে এক কাপ চা খাওয়া, হাঁটা কিংবা বই পড়া—সেটিতে পুরোপুরি নিমগ্ন হোন। এতে অবচেতন মন অহেতুক নেতিবাচক চিন্তা করা থেকে বিরত থাকে।
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও হালকা হাঁটাচলা
যেকোনো ধরনের শারীরিক ব্যায়াম বা হাঁটাচলা মানসিক চাপ কমাতে জাদুকরী ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা শরীরচর্চা করলে শরীরে 'এন্ডোরফিন' নামক ফিল-গুড হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন মন ভালো রাখতে এবং স্ট্রেস দূর করতে চমৎকার কাজ করে। সম্ভব হলে ভোরের দিকে বা প্রকৃতির সান্নিধ্যে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
স্ক্রিন টাইম কমান ও পর্যাপ্ত ঘুমান
শোয়ার আগে মোবাইলে খবর বা সোশ্যাল মিডিয়া দেখার অভ্যাস আমাদের মস্তিষ্কে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে পরদিন মানসিক চাপ দ্বিগুণ হয়ে দেখা দেয়। তাই রাতে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করুন এবং প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
কাছের মানুষের সাথে অনুভূতি শেয়ার করুন
সব দুশ্চিন্তা নিজের মনের মধ্যে জমিয়ে না রেখে বিশ্বাসযোগ্য কোনো বন্ধু, জীবনসঙ্গী কিংবা পরিবারের সদস্যের সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন। অনেক সময় নিজের মনের কথা অন্যকে বলতে পারলে ভেতরের ভার অনেকটা কমে যায়। এছাড়াও, প্রতিদিনের কাজগুলোকে তালিকা আকারে সাজিয়ে নিয়ে একে একে শেষ করলে কাজের মানসিক চাপ অনেকটাই কমে আসে।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন



