মেসি ম্যাজিক, এক গোল ও দুই অ্যাসিস্টে রাজকীয় বিদায়

আন্তর্জাতিক ফুটবলে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচটাও হলো তাঁর বর্ণময় ক্যারিয়ারের মতোই স্মরণীয়। আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে ২১ বছরের পথচলার ইতি টানলেন ফুটবলের এই মহাতারকা। বুয়েনস এইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বিদায়ী ম্যাচে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। বিদায়ের মঞ্চে নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি গোল।
ম্যাচ শুরুর আগেই মেসিকে ঘিরে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। গ্যালারিজুড়ে ছিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, করতালি ও ভালোবাসার প্রকাশ। শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে মেসিকে মাঠে নামতে দেখে আবেগে ভেসে যান আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা।
মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ম্যাচের ১০ মিনিটে খেলা থামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় স্টেডিয়ামের হাজারো দর্শক দাঁড়িয়ে করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে প্রিয় তারকাকে অভিবাদন জানান। মুহূর্তটি হয়ে ওঠে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম আবেগঘন দৃশ্য।
তবে বিদায়ী ম্যাচেও পারফরম্যান্সে কোনো ছাড় দেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ তৈরি এবং সতীর্থদের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে ছিলেন স্বমহিমায়। তাঁর পাস থেকেই নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন।
এরপর আসে মেসির নিজের গোলের মুহূর্ত। ম্যাচের ৭১ মিনিটে বেনিনের বক্সে অগাস্টিন জিয়াই ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট কিকে মেসির সামনে সুযোগ আসে বিদায়ী ম্যাচকে নিজের নামে স্মরণীয় করে রাখার। সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি। শক্তিশালী শটে বল পাঠিয়ে দেন গোলের ওপরের কোণায়। বেনিনের গোলরক্ষক সঠিক দিক অনুমান করতে না পারায় মেসির শট ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি।
গোলের পর সতীর্থরা মেসিকে ঘিরে উল্লাসে মেতে ওঠেন। গ্যালারিতেও ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি মেসির ১২৬তম গোল।
শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। তবে এই জয়কে ছাপিয়ে গেছে মেসির বিদায়ের আবেগ। যে জার্সিতে তিনি বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছেন এবং অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন, সেই জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠ ছাড়ার মুহূর্তটি হয়ে থাকল ফুটবল ইতিহাসের স্মরণীয় এক দৃশ্য।
এক গোল ও দুই অ্যাসিস্টে নিজের বিদায়ী ম্যাচকে আরও মহিমান্বিত করলেন মেসি। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনাকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যাওয়া এই কিংবদন্তি এবার হাসিমুখেই বিদায় জানালেন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন



