📍 কিশোরগঞ্জ | লোড হচ্ছে...
সারাদেশ

মালয়েশিয়াগামী ৬৫ জনকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার, আটক ১১

নিজস্ব প্রতিবেদক / কিশোরগঞ্জ জার্নাল ২ অক্টোবর, ২০২৬
শেয়ার:
মালয়েশিয়াগামী ৬৫ জনকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার, আটক ১১
📷 ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে প্রতারণার শিকার ৬৫ জনকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ (বানৌজা) খালিদ বিন ওয়ালিদ। এ ঘটনায় একটি বোটসহ মানব পাচারকারী চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিয়মিত টহলের সময় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়। সেন্টমার্টিন লাইট হাউজ থেকে আনুমানিক ৮১ মাইল দূরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত এফভি ক্রিস্টাল-১ নামের একটি বোট সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় একটি ভাসমান কাঠের বোট দেখতে পায়। পরে সেটিকে সহায়তা করতে এগিয়ে গেলে বোটে থাকা কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জানানো হয়। খবর পেয়ে সেন্টমার্টিন ও আশপাশের এলাকায় টহলরত বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান বোটটি উদ্ধার করে। বোটটির ভেতরে পানি ঢুকতে থাকায় নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় খাবার ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জনকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করে আটক করা হয়। বাকি ৬৫ জন মালয়েশিয়ায় যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা অপহরণ করে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রেখেছিল বলে জানা গেছে। পরে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে নেওয়া হচ্ছিল। উদ্ধার করা বোটটি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল। আটক ব্যক্তিদের ও জব্দ করা বোটটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নৌবাহিনীর এই অভিযানে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের আটক করার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কাও এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকির মধ্যে ছিল। দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ৭৬ জনের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানব পাচার ও চোরাচালান দমন এবং সমুদ্রে সংঘটিত অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন

আরও পড়ুন

আরও খবর →