পড়াশোনা সহজ করতে শিক্ষার্থীদের জন্য দরকারি ৫টি মোবাইল অ্যাপ

বর্তমান প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের যুগে কেবল বই-খাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে স্মার্টফোনের সঠিক ব্যবহারে পড়াশোনাকে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক করে তোলা সম্ভব। প্রতিদিনের রুটিন তৈরি করা, ক্লাসের গুরুত্বপূর্ণ নোট নেওয়া কিংবা পড়ার সময় মোবাইলের নোটিফিকেশনে মনোযোগ নষ্ট হওয়া বন্ধ করা—এসব কাজের জন্যই এখন রয়েছে বেশ কয়েকটি কার্যকর মোবাইল অ্যাপ। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন পড়াশোনার গতি ও দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক এমন পাঁচটি সেরা অ্যাপের তথ্য তুলে ধরা হলো।
নোট নেওয়া ও তালিকা তৈরির জন্য গুগল কিপ
পড়াশোনা বা ক্লাসের প্রয়োজনীয় বিষয় দ্রুত লিখে রাখার জন্য গুগল কিপ বেশ কার্যকর একটি অ্যাপ। ক্লাসে শিক্ষক গুরুত্বপূর্ণ কিছু বললে তা দ্রুত টাইপ করে কিংবা ভয়েস রেকর্ড করে সংরক্ষণ করা যায় এই অ্যাপে। পাশাপাশি প্রতিদিনের পড়ার তালিকা তৈরি করে কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিক চিহ্ন দিয়ে চেক করার সুবিধাও এতে আছে। যেকোনো ডিভাইসেই এটি সহজে সিংক্রোনাইজ করা যায়, ফলে ফোন নষ্ট বা হারিয়ে গেলেও তথ্য হারানোর ঝুঁকি থাকে না।
মনোযোগ ধরে রাখতে ফরেস্ট অ্যাপ
পড়তে বসলেই বারবার সোশ্যাল মিডিয়া বা নোটিফিকেশন দেখতে ইচ্ছা করে—এমন সমস্যার সহজ সমাধান দিতে পারে ফরেস্ট অ্যাপ। অ্যাপটি চালু করে নির্দিষ্ট সময় (যেমন ২৫ বা ৫০ মিনিট) সেট করলে ফোনে একটি ভার্চুয়াল গাছের চারা রোপণ হয়। সেই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অন্য কোনো অ্যাপে না ঢুকে মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে গাছটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে, আর পড়া রেখে ফেসবুক বা গেমে ঢুকলেই গাছটি মরে যায়। এই গেমধর্মী ফিচারটি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ইংরেজি শেখার জন্য ডুওলিঙ্গো
আন্তর্জাতিক বই পড়া, উচ্চশিক্ষা কিংবা আইইএলটিএস প্রস্তুতির জন্য ইংরেজিতে ভালো দখল থাকা জরুরি। ডুওলিঙ্গো অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় দিয়ে খেলার ছলে নতুন শব্দ, ব্যাকরণ ও বাক্য গঠন শেখা সম্ভব। রঙিন ইন্টারফেস ও সহজ কুইজের কারণে অ্যাপটি সব বয়সী শিক্ষার্থীর কাছেই বেশ জনপ্রিয়।
অল-ইন-ওয়ান স্টাডি প্ল্যানার নোশন
হাইস্কুল বা কলেজ শিক্ষার্থীদের সব বিষয়ের সিলেবাস, ক্লাস রুটিন, অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার তারিখ এবং পরীক্ষার সময়সূচি একসঙ্গে গুছিয়ে রাখার জন্য নোশন একটি দারুণ অ্যাপ। এতে বিভিন্ন রঙে নিজের মতো করে সাজানো স্টাডি প্ল্যানার বা রুটিন তৈরি করা যায়, যা পড়াশোনাকে অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত করে তোলে।
নোট ও বইয়ের ডিজিটাল কপি তৈরিতে ক্যামস্ক্যানার
সহপাঠীর কাছ থেকে নোট সংগ্রহ করা বা বইয়ের নির্দিষ্ট পাতার ছবি তুলে রাখা শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক কাজের অংশ। ক্যামস্ক্যানার অ্যাপ দিয়ে খাতা বা বইয়ের ছবি তুললে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার ও প্রফেশনাল মানের পিডিএফ ফাইলে রূপান্তরিত হয়ে যায়। এর ফলে যেকোনো সময় মোবাইল স্ক্রিনেই স্পষ্টভাবে পড়া যায়, আর প্রয়োজনে প্রিন্ট করাও হয়ে ওঠে অনেক সহজ।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন



