মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে খাদ্যাভ্যাসে যেসব পরিবর্তন জরুরি

মাইগ্রেন একটি জটিল স্নায়বিক সমস্যা, যা কখনো কয়েক ঘণ্টা আবার কখনো কয়েক দিন পর্যন্ত ভোগাতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এই যন্ত্রণা চলতে থাকলে শরীর ও মন—দুটোই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এই সমস্যার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এর কোনো স্থায়ী বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে মাইগ্রেনের তীব্রতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঋতু পরিবর্তনের সময়—কখনো ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি, আবার কখনো চড়া রোদের মধ্যে—মাইগ্রেনের সমস্যায় নাজেহাল হন অনেকেই। প্রচণ্ড মাথাব্যথা, সঙ্গে বমি বমি ভাব কিংবা মাথার একপাশ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে গোটা মাথায় ছড়িয়ে পড়া তীব্র যন্ত্রণা, কখনো কখনো জ্বরও—এসব উপসর্গ মাইগ্রেনে আক্রান্তদের কাছে বেশ পরিচিত। কারো ক্ষেত্রে এই ব্যথা কয়েক ঘণ্টায় সেরে গেলেও অনেকের ক্ষেত্রে তা কয়েক দিন ধরে ভোগায়, যা শরীরকে ধীরে ধীরে কাবু করে ফেলে। এই মুহূর্তে মাইগ্রেনের এমন কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, যা এটিকে সম্পূর্ণভাবে দূর করতে পারে। তবে জীবনধারায় কিছু পরিবর্তন এবং খাদ্যতালিকায় কিছু নির্দিষ্ট খাবার যোগ করলে এই যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করা কিছুটা সহজ হয়ে উঠতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শরীরের অনেক সমস্যার সমাধান লুকিয়ে থাকে পানিতেই। মাইগ্রেনের একটি সাধারণ কারণ হতে পারে শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন। তাই মাইগ্রেনের ব্যথা এড়াতে প্রতিদিন নিয়ম করে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, দিনে অন্তত চার থেকে পাঁচ লিটার পানি পান করার চেষ্টা করা উচিত।
কলা খাওয়ার অভ্যাস গড়ুন
দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলে অনেক সময় হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়, যা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং তা থেকে মাইগ্রেনের ব্যথাও শুরু হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পেতে একটি কলা খাওয়া যেতে পারে। ম্যাগনেসিয়ামে ভরপুর এই ফল দ্রুত শরীর সতেজ করে তুলতে সাহায্য করে এবং মাইগ্রেনের সম্ভাবনাও কিছুটা কমিয়ে দেয়।
বাদাম রাখুন খাদ্যতালিকায়
বাদামে থাকা ম্যাগনেসিয়াম মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের সমস্যা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তাই কাজের ফাঁকে মাঝেমধ্যে কাঠবাদাম, কাজুবাদাম বা আখরোটের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।
তেলযুক্ত মাছ খান নিয়মিত
ইলিশ, রুই, কাতলা কিংবা পমফ্রেটের মতো মাছে থাকে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। খাদ্যতালিকায় নিয়মিত এই ধরনের মাছ রাখলে মাথাব্যথার সমস্যা থেকে কিছুটা মুক্তি মিলতে পারে বলে জানান পুষ্টিবিদরা।
শাক ও তাজা ফল খাওয়া জরুরি
তাজা ফল ও শাকসবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বিশেষ করে পালংশাকে থাকে ভিটামিন বি৬, বি১২, ফলিক অ্যাসিড ও ম্যাগনেসিয়াম। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এসব উপাদান মাইগ্রেনের সমস্যা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এই ধরনের শাক রাখা যেতে পারে।
আদা চায়ে চুমুক দিন
মাইগ্রেন শুরু হলে প্রায়ই বমি বমি ভাব ও শরীরে অস্বস্তি দেখা দেয়। এই সমস্যা কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে আদা চা। আদায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক গুণ মাইগ্রেনের সঙ্গে লড়াইয়ে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
এসব খাবার ছাড়াও ডার্ক চকলেট, ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার এবং গ্রিন টি, পুদিনা চা বা ক্যামোমাইল চায়ের মতো পানীয়ও মাইগ্রেনের ব্যথা উপশমে সহায়ক হতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মাইগ্রেনের তীব্রতা কমাতে খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে কারো দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন



