📍 কিশোরগঞ্জ | লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ আফ্রিকায় একের পর এক নারীর মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক / কিশোরগঞ্জ জার্নাল ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেয়ার:
দক্ষিণ আফ্রিকায় একের পর এক নারীর মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক
📷 ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকায় ধারাবাহিকভাবে নারীদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক। দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১১ জন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি নতুন করে আরও একজন নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের সবগুলো একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ইকুরহুলেনি পৌর এলাকার একটি খোলা মাঠ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের টহলরত গাড়ির কর্মীরা মরদেহটি প্রথম দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার ব্রেন্ডা মুরিদিলি বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিহত নারীর পরিচয়, বয়স কিংবা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এর একদিন আগে শনিবার একই পৌর এলাকার একটি কবরস্থানের কাছ থেকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় আরেক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাদেশিক পুলিশপ্রধান টমি মথোমবেনি জানান, ওই নারীকে সম্ভবত পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত করা হবে। শনিবারের এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ফলে ধারাবাহিক এই হত্যাকাণ্ডগুলোর ঘটনায় বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকা সন্দেহভাজনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়া নবম নারীর মরদেহের ঘটনায় দুই নারীকে হত্যার অভিযোগে দুজনকে ইতিমধ্যে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার পেছনে সম্পর্কসংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। তবে প্রাদেশিক পুলিশপ্রধান মথোমবেনির ভাষ্যে, নবম হত্যাকাণ্ডটি একেবারে আলাদা একটি ঘটনা বলেই তদন্তকারীদের ধারণা, যদিও বাকি কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সংযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে কিছু মিল খুঁজে পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ মেলেনি যা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দায়ী। জানা গেছে, ইকুরহুলেনি এলাকায় জুলাই ও আগস্ট মাসে মাত্র ছয় কিলোমিটারের মধ্যে তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর চলতি মাসের শুরুতে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে একই এলাকা থেকে আরও ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শনিবারের মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত নিহত সব নারীর বয়স ছিল ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনকে সম্পূর্ণ বা আংশিক নগ্ন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে উদ্ধার হওয়া প্রথম মরদেহটির ক্ষেত্রে ওই নারীকে নগ্ন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল এবং তার শরীর তার দিয়ে বাঁধা ছিল। পরে তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা দীর্ঘদিনের একটি গুরুতর সমস্যা এবং বিশ্বে নারী হত্যার হারের দিক থেকেও দেশটির অবস্থান সবচেয়ে উদ্বেগজনকদের মধ্যে অন্যতম। শনিবার দশম নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। তিনি বলেন, ধারাবাহিকভাবে নারী হত্যার এই ঘটনাগুলো দেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন

আরও পড়ুন

আরও খবর →
দক্ষিণ আফ্রিকায় একের পর এক নারীর মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক | কিশোরগঞ্জ জার্নাল | কিশোরগঞ্জ জার্নাল