📍 কিশোরগঞ্জ | লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় অক্টোবরের শেষে বা নভেম্বরের শুরুতে: গাম্বিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক / কিশোরগঞ্জ জার্নাল ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেয়ার:
রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় অক্টোবরের শেষে বা নভেম্বরের শুরুতে: গাম্বিয়া
📷 ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার রায় আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে অথবা নভেম্বরের শুরুতে ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী দাউদা এ. জালো। বেসরকারি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ২৪-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলায় অপরাধ প্রমাণে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) বিপুল পরিমাণ সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে গাম্বিয়া। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের পরও বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী দেশ কার্যকরভাবে এগিয়ে না আসায় মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর উদ্যোগ নেয় পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১৯ সালে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ওআইসিভুক্ত দেশ গাম্বিয়া। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার মূল শুনানি চলতি বছরের জানুয়ারিতে শেষ হয়। গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল দাউদা এ. জালো জানান, শুনানিতে রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের সরাসরি আদালতে হাজির করে তাদের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট ছবি, জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদন, বেসরকারি সংস্থার রিপোর্ট ও বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্যসহ নানা ধরনের প্রমাণও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার ভাষায়, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বেশ শক্তিশালী এবং রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের সরাসরি বক্তব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রামাণ্য নথিও এতে যুক্ত হয়েছে। মূল শুনানি গত জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার পর গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী জানান, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই মামলাটির রায় ঘোষণা হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন, আর সেটি অক্টোবরের শেষ দিকে অথবা নভেম্বরের শুরুতে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রায়ে মিয়ানমারকে গণহত্যার জন্য দায়ী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের মিয়ানমারের নিজস্ব আইনের আওতায় বিচারের নির্দেশও আদালত দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, বিপুল পরিমাণ প্রমাণ উপস্থাপন করায় তারা আশাবাদী যে আদালত গাম্বিয়ার সঙ্গে একমত হবে এবং মিয়ানমারকে গণহত্যার জন্য দায়ী সাব্যস্ত করবে। রোহিঙ্গাদের জন্য একাধিক প্রতিকারের দাবিও জানিয়েছে গাম্বিয়া, যার মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, নিজ নিজ ভিটেমাটিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার, হারানো সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের সুযোগ এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অধিকার। গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আরও মত দেন, মিয়ানমার যদি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের এই রায় না মানে, তাহলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে আইসিজের এই রায়কে একটি শক্তিশালী আইনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন

আরও পড়ুন

আরও খবর →