📍 কিশোরগঞ্জ | লোড হচ্ছে...
স্বাস্থ্য

কফি শুধু ঘুম তাড়ায় না, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গেও আছে সম্পর্ক: গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক / কিশোরগঞ্জ জার্নাল ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেয়ার:
কফি শুধু ঘুম তাড়ায় না, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গেও আছে সম্পর্ক: গবেষণা
📷 প্রতীকী ছবি (AI)
সকালের এক কাপ কফি অনেকের দিনের শুরুটা সহজ করে দেয়। কেউ পান করেন ঘুম কাটাতে, কেউ আবার স্রেফ স্বাদ ও অভ্যাসের কারণে। তবে কফির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় কফি পানের সময়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি একটি গবেষণা প্রকাশ করে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্কের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। প্রায় ১০ বছর ধরে অংশগ্রহণকারীদের অনুসরণ করেছিলেন গবেষকরা। গবেষণায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৫২ শতাংশ নিয়মিত কফি পান করতেন। এদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ মূলত সকালে কফি পান করতেন, আর ১৬ শতাংশ দিনের বিভিন্ন সময়ে কফি পানের অভ্যাস রাখতেন। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যারা ভোর ৪টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কফি পান করতেন, তাদের যেকোনো কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি কফি না খাওয়া মানুষদের তুলনায় ১৬ শতাংশ কম ছিল। একই দলের মধ্যে হৃদরোগজনিত কারণে মৃত্যুর ঝুঁকিও দেখা গেছে ৩১ শতাংশ কম। তবে যারা দিনের বিভিন্ন সময়ে কফি পান করতেন, তাদের ক্ষেত্রে এমন কোনো স্পষ্ট সম্পর্ক খুঁজে পাননি গবেষকরা। কফি খেলেই কি স্বাস্থ্য ভালো থাকবে? এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা দরকার—গবেষণাটি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি যে কফি পান করলেই স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। বরং এতে কফি পানের সময় এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে একটি সম্পর্কের আভাস মিলেছে মাত্র। কফি খাওয়ার পরিমাণ, খাদ্যাভ্যাসের ধরন, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুমের রুটিন এবং সামগ্রিক জীবনযাপন—এসবই মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধু কফি পানের অভ্যাসের ভিত্তিতে কারো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দিনে কত কাপ কফি নিরাপদ? এনডিটিভির প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, কিছু গবেষণায় নিয়মিত কফি পানকারীদের মধ্যে বিষণ্নতা ও লিভার-সংক্রান্ত কিছু সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। তার মতে, দিনে দুই কাপ পর্যন্ত কফি পান করা মানুষদের মধ্যে শক্তি, উদ্যম ও মানসিক সন্তুষ্টির মাত্রাও তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তবে এসব পর্যবেক্ষণকে কফির সরাসরি স্বাস্থ্য উপকারিতার প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয় বলে সতর্ক করেছেন তিনি। বিশেষ করে কফিতে চিনি, ক্রিম বা বাড়তি ক্যালরি যোগ করলে এর সামগ্রিক প্রভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া কফিতে থাকা ক্যাফেইন অনেকের ক্ষেত্রে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও তৈরি করতে পারে। তাই একজনের জন্য উপযুক্ত কফির পরিমাণ ও পান করার সময় আরেকজনের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে। সব মিলিয়ে এই গবেষণা কফিপ্রেমীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে—শুধু কতটা কফি পান করা হচ্ছে তা নয়, বরং ঠিক কখন তা পান করা হচ্ছে, সেটিও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হতে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন

আরও পড়ুন

আরও খবর →