স্বাবলম্বী হচ্ছেন সুন্দরবনের হাজারো নারী

সুন্দরবনের প্রান্তিক জনপদে একসময় যেখানে জীবিকার সীমাবদ্ধতা ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা, সেখানে আজ আশার নতুন আলো জ্বালাচ্ছে নারীদের স্বপ্ন।
সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ‘প্রেরণা’। সংস্থাটির উদ্যোগে নারীর ক্ষমতায়ন, টেকসই জীবিকা এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে এক সুতোয় গেঁথে এগিয়ে চলেছে।
দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন-সংলগ্ন অঞ্চলের অনেক পরিবার দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কর্মসংস্থানের সংকটে জীবনযাপন করেছে। এসব চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নারীদের ওপর।
তবে ‘প্রেরণা’র সহায়তায় অনেক নারী এখন বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। কেউ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কেউ হস্তশিল্পী, আবার কেউ পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবারের আয়ের নতুন পথ তৈরি করেছেন।
একসময় সুন্দরবনের কোলঘেঁষা লোকালয়ে নারীদের জীবন ছিল বাল্যবিবাহ, নিরাপদ পানির অভাব, স্বাস্থ্যসেবার সংকট ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ঘেরা। ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা আর সামাজিক বৈষম্য ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। সেই বাস্তবতা বদলে দিতে ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠন প্রেরণা নারী উন্নয়ন সংস্থা।
প্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পা গোস্বামী বলেন, ‘পরিবর্তনের জন্য কাজ করা নারীদের অনেক সময় শুধু কাজ দিয়েই নয়, ব্যক্তিগত মর্যাদাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, সত্য, সততা এবং মানুষের আস্থা কোনো অপপ্রচারের চেয়ে অনেক বড়। প্রেরণার পথচলা হাজারো নারীর স্বপ্ন ও সংগ্রামের গল্প। যত বাধাই আসুক, সুন্দরবনের মানুষ এবং নারীর অধিকারের জন্য আমাদের এই পথচলা থামবে না।’
তিনি বলেন, ‘যারা পরিবর্তনের জন্য কাজ করেন, তাদের পথ কখনো সহজ হয় না। একজন নারী নেতৃত্বে থাকলে অনেক সময় তার মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং তাকে পিছনে টেনে রাখার চেষ্টা হয়। তবু আমি বিশ্বাস করি—সত্য, সততা মানুষের বাধার চেয়ে অনেক বড় শক্তি। সেই বিশ্বাস নিয়েই আমরা মানুষের জন্য কাজ করেছি, করছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব।’
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন



