ইরান-রাশিয়া চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ পেজেশকিয়ানের

ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি ও সমঝোতাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, দুই দেশ নিজেদের অভিন্ন সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সদ্ব্যবহার করে শান্তি, টেকসই নিরাপত্তা ও বহুপক্ষীয় বিশ্বব্যবস্থা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। এ সময় দুই দেশের সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণ, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদার এবং তেহরান-মস্কোর কৌশলগত সম্পর্কের আওতায় সম্পাদিত চুক্তিগুলো নিয়মিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠক ও টেলিফোনে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে পেজেশকিয়ান বলেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা, সেগুলোর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং যৌথ সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাঁর আসন্ন মস্কো সফরে চুক্তিগুলোর বাস্তবায়নে অগ্রগতি অর্জন এবং সম্মত খাতগুলোতে দৃশ্যমান সাফল্য নিশ্চিত করার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট, সরকার ও জনগণের অবস্থান এবং সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় পারস্পরিক সমর্থন অব্যাহত রাখা এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা জরুরি।
বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের বিষয়েও কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
পেজেশকিয়ানের অভিযোগ, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা, সামরিক কমান্ডার, বিজ্ঞানী ও শিক্ষার্থীদের হত্যাকাণ্ড এবং দেশের অবকাঠামোতে হামলার কোনো আইনি বা আন্তর্জাতিক যুক্তি নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইরান সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছিল।
তিনি আরও বলেন, শক্তি প্রয়োগ ও চাপ সৃষ্টি করে কোনো জাতির ওপর নিজেদের ইচ্ছা ও দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ইরান মেনে নেয় না।
পেজেশকিয়ান এমন একটি বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে মত দেন, যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিভিন্ন জাতির অধিকার রক্ষা, গঠনমূলক সহযোগিতা এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। তাঁর মতে, এসব বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গির মিল রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি বলেন, তেল ও গ্যাস, যোগাযোগ ও গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক বিনিময়, পরিবহন, জ্বালানি এবং বিজ্ঞান ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণ দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ইরান ও রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গির মিলের কথা উল্লেখ করে ল্যাভরভ কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
কাস্পিয়ান সাগরবিষয়ক সমঝোতার প্রসঙ্গ তুলে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের স্বার্থ সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক সমন্বয় বাড়াতে যৌথ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, ইরান-রাশিয়া সহযোগিতা সম্প্রসারণ অভিন্ন লক্ষ্য অর্জন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন



