এসআইআর স্থগিতসহ ১০ দফা দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে রাহুল গান্ধী ও বিরোধী জোট

ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে যৌথ রিট আবেদন করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোটের নেতারা। আবেদনে চলমান এসআইআর স্থগিত করা, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের তথ্য প্রকাশ এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বাধীন তদন্তসহ মোট ১০টি প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।
টাইমস টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার রাহুল গান্ধী সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছানোর আগেই তার আইনজীবী এস প্রসাসনার মাধ্যমে আবেদনটি দাখিল করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাহুল নিজে উপস্থিত হতে না পারায় আইনজীবীরাই কাগজপত্র জমা দেন। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে মামলাটি ‘রাহুল গান্ধী বনাম নির্বাচন কমিশন অব ইন্ডিয়া’ নামে তালিকাভুক্ত হয়েছে।
এর আগে মামলাটি বিচারাধীন থাকার কারণ দেখিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানান প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। এরপরই বিরোধী দলগুলো যৌথভাবে আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছে তারা।
বিরোধী জোটের এই কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদবসহ আরও অনেকে।
আবেদনে যে ১০ দফা দাবি তোলা হয়েছে
প্রথমত, এসআইআর-সংক্রান্ত সব নথি, বৈঠকের কার্যবিবরণী, সিদ্ধান্ত গ্রহণের রেকর্ড, আপত্তির কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল ব্যবস্থায় প্রবেশ ও পরিবর্তনের লগ আদালতে জমা দিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। সংবিধানের ১৪, ১৯, ২১ ও ৩২৫ অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত অধিকারের প্রেক্ষাপটে এসব নথি তলবের দাবি জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোর সাংবিধানিক ও আইনগত বৈধতা যাচাইয়ের আবেদন রয়েছে। সংবিধানের ৩২৫ অনুচ্ছেদ, ২০২৩ সালের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগ-সংক্রান্ত আইনের ১৮ ধারা এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রাসঙ্গিক নির্দেশনার আলোকে এগুলো পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। যথাযথ আইনি কর্তৃত্ব ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকলে তা বাতিলেরও দাবি জানানো হয়েছে।
তৃতীয়ত, ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও সংশোধনে সাংবিধানিক বা আইনি বিধান লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ আছে।
চতুর্থত, আবেদনকারীদের তোলা অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে এবং এসআইআর-সংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্ত আইন অনুযায়ী নথিবদ্ধ করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।
পঞ্চমত, অনলাইনে ব্যবহৃত ফর্ম-৬ যেন ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালায় নির্ধারিত ফর্মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। যথাযথ নিয়ম অনুসরণ ছাড়া নির্ধারিত ফর্মে কোনো পরিবর্তন না আনার নির্দেশও চাওয়া হয়েছে।
ষষ্ঠত, এসআইআর চলাকালে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া ও সংশোধনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের রাখার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি ভোটার ডেটাবেসে প্রবেশাধিকার, ইসিনেট ও এরোনেট ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং ইভিএমের প্রযুক্তিগত নকশা ও নীতিমালা পর্যালোচনার দাবিও রয়েছে।
সপ্তমত, এসআইআর প্রক্রিয়ায় তালিকা থেকে বাদ পড়াদের নাম বুথভিত্তিক প্রকাশের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। সঙ্গে নাম বাদ দেওয়ার কারণ এবং বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যান প্রকাশের পাশাপাশি যোগ্য ভোটারদের পুনরায় তালিকাভুক্তির কার্যকর ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
অষ্টমত, আইন অনুযায়ী নোটিশ ও যুক্তিসংগত শুনানির সুযোগ না দিয়ে কোনো ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ না দেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পাঞ্জাবসহ যেসব রাজ্যে নির্বাচন আসন্ন, সেখানে আইননির্ধারিত শেষ তারিখ পর্যন্ত যোগ্যদের নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রাখার দাবিও রয়েছে।
নবমত, মামলার বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের যুক্তি, এতে যোগ্য ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করা যাবে।
দশমত, ভোটাধিকার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা রক্ষায় মামলার তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত যথাযথ মনে করলে অন্য যেকোনো প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারেন—এই আবেদনও জানানো হয়েছে।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন



