📍 কিশোরগঞ্জ | লোড হচ্ছে...
স্বাস্থ্য

৮ ঘণ্টা ঘুমই কি সবার জন্য যথেষ্ট? মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার আসল উপায় জানালেন নিউরোলজিস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক / কিশোরগঞ্জ জার্নাল ৪ অক্টোবর, ২০২৬
শেয়ার:
৮ ঘণ্টা ঘুমই কি সবার জন্য যথেষ্ট? মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার আসল উপায় জানালেন নিউরোলজিস্ট
📷 ছবি- সংগৃহীত / Ai
মস্তিষ্কের সুস্থতা শুধু স্মৃতিশক্তি বা বয়সের সঙ্গেই সম্পর্কিত নয়। ঘুম, মানসিক চাপ, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং নিয়মিত মানসিক চর্চার মতো দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব বিশেষভাবে স্মৃতি ও মনোযোগে সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন নিউরোলজিস্ট ও নিউরোসায়েন্টিস্ট ডা. ফায়ে বেগেটি। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ভিশন অব হেলথ’ পডকাস্টে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন ডা. বেগেটি। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কাজের চাপ, মানসিক উদ্বেগ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের ঘাটতি মস্তিষ্কের জন্য বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী চাপ ক্ষতি করতে পারে স্মৃতিশক্তির স্বল্পমেয়াদি মানসিক চাপ অনেক সময় সতর্কতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ মস্তিষ্কের আবেগ, স্মৃতি ও মনোযোগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ডা. বেগেটির ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কারণে কিছু মানুষের স্মৃতি ও মনোযোগে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা পরবর্তীতে স্মৃতিভ্রংশের আশঙ্কা তৈরি করে। এর সঙ্গে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রার পরিবর্তনও সম্পর্কিত বলে জানান তিনি। আট ঘণ্টা ঘুম সবার জন্য প্রযোজ্য নয় অনেকের ধারণা, প্রতিদিন ঠিক আট ঘণ্টা ঘুমই সবার জন্য আদর্শ। তবে ডা. বেগেটির মতে, ঘুমের প্রয়োজনীয়তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে—কারও ছয় বা সাত ঘণ্টা ঘুমেই পর্যাপ্ত বিশ্রাম হয়ে যেতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে দশ বা এগারো ঘণ্টা পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে। তার পরামর্শ, প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা, কারণ এতে শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম সঠিক থাকতে সাহায্য করে। সম্ভব হলে সকালে কিছুটা সময় প্রাকৃতিক আলোতে কাটানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি—বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট বাইরে থাকলে তা শরীরের ঘুম-জাগরণ চক্র ঠিক রাখতে সহায়ক হতে পারে। প্রতিদিন অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার পরামর্শ অ্যালকোহল মস্তিষ্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রভাব ফেলতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী সেরিবেলাম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে যুক্ত প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স। ডা. বেগেটি অ্যালকোহলকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন অল্প পরিমাণ অ্যালকোহল গ্রহণও মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এটি নিয়মিত অভ্যাসের বদলে মাঝেমধ্যে গ্রহণ করাই তুলনামূলক নিরাপদ। মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখার গুরুত্ব বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে নতুন কিছু শেখার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন কোনো ভাষা শেখা, ছবি আঁকা, নতুন দক্ষতা অর্জন, শখের কাজ করা এবং নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখার মতো কর্মকাণ্ড মস্তিষ্ককে মানসিকভাবে সতেজ ও সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে। এই ধরনের মানসিক চর্চা ‘কগনিটিভ রিজার্ভ’ তৈরি করতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো একক অভ্যাসই ডিমেনশিয়া প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দেয় না বলে স্পষ্ট করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত মানসিক চর্চা মস্তিষ্কের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলো একা কোনো রোগ প্রতিরোধের গ্যারান্টি দেয় না। সবশেষে ডা. বেগেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করিয়ে দিয়েছেন—সুস্থ থাকার চেষ্টা যেন নিজেই নতুন করে মানসিক চাপের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। তার ভাষায়, মস্তিষ্কের যত্ন নেওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো জীবনকে ভালোভাবে উপভোগ করা, প্রতিটি বিষয় নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা নয়।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন

আরও পড়ুন

আরও খবর →