কিশোরগঞ্জে রাস্তার পাশে পরিচয়হীন বৃদ্ধের মানবেতর এক বছর!

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পাগলা মসজিদের সামনে ব্যাস্ততম সড়ক। পাশের ফুটপাতে গড়ে উঠেছে দোকান। সেখানে পরিত্যাক্ত একটি দোকানের ভাঙাচালা ও স্যাঁতস্যাতে দেয়ালের পাশে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন এক বৃদ্ধ। পরিচয়হীন প্রায় ৭৫ বছর বয়েসী এই বৃদ্ধ এক বছর ধরে শীত রোদ বৃষ্টি ঝড়ে জীবনের অন্তিম সময় পাড় করছেন।
দিন যায় মাস যায় এভাবে পেরিয়ে যাচ্ছে বছরও। কিন্তু মিলছেনা এ অসুস্থ বৃদ্ধের পরিচয়। ঠিকভাবে কথা বলতেও পারেননা তিনি। প্রশ্ন করলে শুধু বলেন, বাড়ি ময়মনসিংহের বেগুনবাড়ি। বয়সের ভারে হ্রাস পেয়েছে তাঁর শ্রবণ শক্তি। হাতে একটি লাঠি নিয়ে চলেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ক্ষুধার যন্ত্রণা টের পেলেও খাবার দিলে খেতে পারেননা ওই বৃদ্ধ। শুধু তাকিয়ে থাকেন ফ্যাল ফ্যাল করে।
তার এই তাকিয়ে থাকা বলে দেয়, এ যেন অপেক্ষা আপন কাউকে কাছে পাওয়ার। হয়তো জীবনে সবাই ছিল তাঁর। কিন্তু জীবনের শেষ অধ্যায়ে পাশে নেই আজ কেউ।
স্থানীয় দোকানি সাজু মিয়া জানান, "প্রায় এক বছর আগে সকালে দোকান খুলতে এসে দেখি পাগলা মসজিদের সামনে সেতুর ফুটপাতে বসে আছেন এই বৃদ্ধ লোকটি। তারপর পাশেই ভাঙা পরিত্যাক্ত দোকানের নীচে ওনার থাকার ব্যবস্থা করি। দিন রাত এখানেই থাকেন তিনি। শীতে গরমে বৃষ্টিতে ভিজে পরে থাকেন এখানেই। খাবার দিলে খুব একটা খেতেও পারেননা। লোকটা খুব অসুস্থ, তার চিকিৎসা দরকার"
স্থানীয় বাসিন্দা হীরা মিয়া বলেন, "এই বৃদ্ধ মানুষটির স্বজনদের খোঁজ করেও পাওয়া যাচ্ছেনা। এতদিন হয়ে গেল কেউ আসেনি তাঁর খোঁজ করতে। আশা করছি প্রশাসন এই অসুস্থ বৃদ্ধের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি খোঁজ করবেন তার স্বজনদের।"
এ বিষয়টি জানালে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, "একটি টেলিভিশন মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন



