📍 কিশোরগঞ্জ | লোড হচ্ছে...
অর্থনীতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা, চার মাসেও বিতরণে ধীরগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক / কিশোরগঞ্জ জার্নাল ৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেয়ার:
বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা, চার মাসেও বিতরণে ধীরগতি
📷 ছবি: সংগৃহীত
বেসরকারি খাতকে সহায়তা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা স্কিমে চার মাস পরও প্রত্যাশিত গতি দেখা যায়নি। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে তহবিল সংগ্রহে চুক্তি হলেও ঋণ বিতরণে ধীরগতি রয়েছে। তবে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসএমই ও কৃষি খাতে প্রণোদনার ঋণ বিতরণ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তথ্যেও ৬০ হাজার কোটি টাকার ১৫টি লক্ষ্যভিত্তিক অর্থায়ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে যাতে এই সুবিধা পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, প্রণোদনার অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার না হলে পুরো উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। গত মে মাসে বেসরকারি খাতকে সহায়তা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনীতিকে গতিশীল করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে দেওয়ার কথা। এ লক্ষ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে অর্থায়নের জন্য ১৭টি এবং কৃষি ঋণের জন্য ৪৩টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন খাতে সোনালী ব্যাংক সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং রূপালী ব্যাংক ১ হাজার ২৫৯ কোটি টাকার তহবিল গঠনে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। তবে চার মাস পেরিয়ে গেলেও ঋণ বিতরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ১৫টি খাতে প্রক্রিয়াধীন ও বিতরণ করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে অনেক আবেদন চলে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সেগুলো প্রক্রিয়ার মধ্যে রেখেছে এবং বিতরণও শুরু হয়েছে।’ সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে তারা অন্তত ১ হাজার কোটি টাকার ঋণ আবেদন পেয়েছে। আর অগ্রণী ব্যাংক জানিয়েছে, সিএমএসএমই ও কৃষি খাতে প্রায় ৩০০ জনকে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বড় অঙ্কের ঋণের আবেদন এলে প্রস্তাবকারীর ঋণ পরিস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারসোমা আলম বলেন, ‘ঋণগ্রহীতাদের জন্য একটা ভালো একটা সুযোগ। তারা এখন এগিয়ে আসছে, তারা শাখায় যোগাযোগ করছে এবং প্রস্তাব আসছে। আমরা এগুলো যাচাই-বাছাই করে যত দ্রুত সম্ভব আমরা দেয়ার চেষ্টা করছি।’ সোনালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান বলেন, ‘যারা প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের বেশিরভাগই কিন্তু এখনও কিন্তু তাদের ঋণগুলো অনিয়মিত আছে। সেগুলা আগে নিয়মিতকরণ করতে হবে, এরপরে কিন্তু প্রণোদনার আওতায় ঋণ দেয়া যাবে।’ ঘোষিত প্রণোদনা স্কিমে হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি রপ্তানি খাতেও ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, ব্যাংকের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। এ সমস্যা সমাধানে সরকারের নীতি সহায়তা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও গ্রাহকদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের দাবি জানিয়েছেন তারা। টোটালফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক অধ্যাপক মেহেদী রহমান বলেন, ‘নীতিগত কিছু সমস্যা আছে। ত্রিমুখী সমস্যা আছে। এই যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক, কর্মাশিয়াল ব্যাংক এবং গ্রাহকদের মধ্যে মিটিং হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক কি ছাড় দিতে পারে আর কর্মাশিয়াল ব্যাংক কি করতে পারে এবং আমরা কি করতে পারি এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা না হলে কাজটা ভালোভাবে আগাবে না।’ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংকটে থাকা কারখানাগুলোকে কম সুদে নগদ প্রবাহ বাড়াতে এই প্রণোদনা সহায়ক হতে পারে। তাদের মতে, অন্তত ৫০০টি কারখানা পুনরায় চালু করা গেলে প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সুবিধাটি যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরাই পান, সেটি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘যাদের কারখানায় কাজ চলছে, কিংবা টাকার জন্য কাজ বন্ধ আছে তাদের জন্য এটা খুব ভালো হবে।’ বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘কারখানার নামে টাকা নিয়ে সে টাকা যেন পাঁচার না হয় সে বিষয়ে নজরদারি রাখা উচিত।’ অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণ বা প্রণোদনার অর্থ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা না গেলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে না। এতে পুরো উদ্যোগের লক্ষ্যই ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঋণ নেয়ার পর তা যদি কর্মসংস্থান তৈরির পেছনে কাজে না লাগানো যায়, তাহলে তো আর সে ঋণ দিয়ে কোনো লাভ হলো না।’ সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দুর্বল যাচাই-বাছাই এবং ব্যাংকগুলোর কার্যকর তদারকির অভাবে নতুন করে বিতরণ করা ঋণও ভবিষ্যতে খেলাপিতে পরিণত হতে পারে। ফলে প্রণোদনার অর্থ সঠিক খাতে যাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা। সুত্র- আমার সংবাদ ।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন

আরও পড়ুন

আরও খবর →