চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেল

২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞান বা ফিজিওলজিতে নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছেন কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান ও গেয়র্গ নাগেল। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিক্স-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে এ বছরের চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল অ্যাসেম্বলির সেক্রেটারি-জেনারেল থমাস পার্লম্যান বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন।
ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেলের গবেষণার ফলে আলো ব্যবহার করে জীবন্ত মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। তাদের কাজের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অপটোজেনেটিক্স বর্তমানে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
নোবেল কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এই গবেষণার ভিত্তি তৈরি হয় ১৯৯০-এর দশকে পিটার হেগেম্যানের শৈবালের আলো শনাক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে। পরে গেয়র্গ নাগেলের গবেষণায় আলো-সংবেদনশীল আয়ন চ্যানেল চ্যানেলরোডপসিন-২ শনাক্ত হয়। কার্ল ডেইসেরথ পরবর্তী সময়ে এই প্রযুক্তি স্তন্যপায়ী প্রাণীর স্নায়ুকোষে প্রয়োগ করেন এবং ২০০৬ সালে ‘অপটোজেনেটিক্স’ শব্দটি প্রচলিত হয়।
অপটোজেনেটিক্সের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষকে আলো দিয়ে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করা যায়। ফলে স্মৃতি, অনুভূতি, আচরণসহ মস্তিষ্কের বিভিন্ন কার্যক্রমে কোন স্নায়ুকোষ কী ভূমিকা রাখে, তা আরও নির্ভুলভাবে গবেষণা করা সম্ভব হয়েছে।
২০২৬ সালের এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার, যা তিন বিজয়ীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে।
১৯০১ সাল থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়ে আসছে। ২০২৬ সালের পুরস্কারটি এ বিভাগে মোট ১১৭তম নোবেল পুরস্কার।
প্রথা অনুযায়ী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নোবেল পুরস্কারের বিভিন্ন বিভাগের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পুরস্কারের পর পর্যায়ক্রমে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি এবং অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
← প্রচ্ছদে ফিরে যানকিশোরগঞ্জ জার্নাল অনলাইন



